Sylhet Express : সিলেট এক্সপ্রেস - সিলেটের প্রথম অনলাইন দৈনিক
   24 Oct 2017 : Sylhet, Bangladesh :

জাতীয় 22 December 2011 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 5200) 

বিজয়ের ৪০ বছর আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ক্রম বিবর্তন

বিজয়ের ৪০ বছর
আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ক্রম বিবর্তন
     

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী(অবঃ): স¤প্রতি আমার এক ছাত্রী আমাকে অত্যন্ত নিষ্পাপ একটি প্রশ্ন করেছিল, “Sir, our leaders are supposed to lead us, we are supposed to follow them-learn from them conduct, behavior, manners, antiquate, honesty, dignity and how to respect each others and so many other things. They are supposed to be our role model. What are the things you think we should learn from our present leadership? আমার কাছে এর কোন সদুত্তর তাৎক্ষনিক ভাবে দেয়ার মত ছিল না।শুধু বললাম, ``Take the good ones, if you find any, ignore the others”. আমার কাছে এই প্রশ্নের এর থেকে ভাল কোন উত্তর তখনো ছিল না এখনো নেই।
৪০ বছর দীর্ঘ সময়।সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত রাষ্ট্র হিসাবে এখন আর বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দেয়া যায় না।এতদিনে একটি পরিপক্ক রাষ্ট্র হিসাবেই আমাদের নিজেদের রাজনীতিবিদরা দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে প্রজ্ঞা,দূরদৃষ্টি এবং বিচক্ষণতার সাথে দেশ পরিচালনা করবেন সেটাই পৃথিবীর অন্যান্যদেশ,আন্তর্জাতিক স¤প্রদায় এবং দেশের জনগন প্রত্যাশা করে। কেবলমাত্র বিগত সরকারের উপর দোষ চাপিয়ে নিজেদের অদক্ষতাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া এখন আর গ্রহন যোগ্য নয়-দেশবাসী বা আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের কাছে।বিগত সরকারগুলো রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যার্থ হয়েছিল- সঠিক কাজ করে নাই বলেইতো জনগন বর্তমান ক্ষমতাশীন দল বা মহাজোটকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।বিগত তিন বছর ধরে ‘পুরানো দিনের গান’ শুনে জনগন বর্তমান সরকারের ব্যার্থতা ঢাকার স্থুল কৌশল ইতিমধ্যেই কেবল সচেতন নাগরিকরাই নয় অর্ধশিশিক্ষিত এবং অশিক্ষিত সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ গুলোও ভাল ভাবেই বুঝতে পারে।সেই কৌশল আর কাজ করছে না।বর্তমান সরকারের অর্জন থেকে ব্যর্থতার পাল্লাই ক্রমে ভারী হয়ে উঠছে।মাঝে মধ্যে কিছু কিছু ‘ইমেজ রিপেয়ার’ বা ভাবমূর্তি মেরামতেরর চেষ্টা করছেন।কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা পছন্দ হোক আর নাই হোক চাকুরী রক্ষার খাতিরে তাদের প্রভূদের সন্তুষ্ট রাখতে আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্চ্নে।প্রয়োজনে আইনকে যথাযথ নিরপেক্ষ ভাবে প্রয়োগ না করে মুখ দেখে বা দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বা যুৎসই ভাবে আইনকে সুবিদামত কিছুটা ভিন্ন ভাবে বিশ্লেষন করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাবহার করে হলেও ক্ষমতাশীনদের আস্থাভাজন হওয়ার চেষ্টা অনবরত করে যাচ্ছেন। একসময় একটি কথা কোন একটি সংস্থায় বেশ প্রচলিত ছিল,‘ Show me your face-I will quote you the rule’-অর্থাৎ ‘তুমি কে দেখি -তার উপরই নির্ভর করবে তোমার জন্য কোন আইনটি প্রযোজ্য বা প্রয়োগ করা হবে।’
এই প্রক্রিয়ায় নিজ দলের লোককে খুশী রাখার পরিকল্পনা হিসাবে দেশ পরিচালনা করার জন্য প্রশাসনের প্রায় সর্ব ক্ষেত্রেই ব্যাপক ভাবে দলীয় করন করা হচ্ছে।দলীয় ক্যাডারদের সরকারী ভাবে নিরাপত্তা দিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় বিরোধী দলের বিরুদ্ধে সহিংস আক্রমন পরিচালনা করার মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটছে। এবং তা প্রকাশ্য রাজপথেই করা হচ্ছে।গত ১লা ডিসেম্বরের হরতাল চলাকালিন সময়ে সদ্য সাবেক ঢাকা মেয়র জনাব সাদেক হুসেন খোকা প্রাণভয়ে আতঙ্কিত হয়ে জজ কোর্টের ভেতর কোন এক আইনজীবির কক্ষে নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় নেয়া সত্বেও পুলিশ কিভাবে জোর করে টেনে হিচড়ে গ্রেপ্তোরের নামে বন্দী করে তাকে বের করে নিয়ে যায় তা আমরা একাধিক টিভি চ্যানেলে প্রত্যক্ষ করেছি।তারচেয়েও ভয়াবহ হচ্ছে বন্দী অবস্থায় তাকে বাইরে অবস্থানরত ক্ষমতাশীন দলের মদদ পুষ্ট সসস্ত্র সন্ত্রসীদের হাতে তুলে দেয়া হয় বা আক্রমনের সুযোগ করে দেয় সয়ং পুলিশ। পুলিশ হেফাজতে থাকাকালিন নিরাপত্তার বদলে তাকে নিষ্ঠুর ভাবে পেটানোর সুযোগ করে দেয় পুলিশ-তিনি ছুরিকাহত হন এবং বর্তমানে চিকিৎসারত আছেন।একজন জনপ্রতিনিধি এবং একজন নির্ভিক বীর মুক্তিযুদ্ধাকে যে ভাবে গ্রেফতারকৃত অবস্থায় দলীয় সন্ত্রাসীদ্বারা অত্যাচার করার সুযোগ করে দেয়া হল তা কোন ক্রিমিন্যালকেও এমনি করে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দ্বারা অত্যাচার করার সুযোগ দেয়ার নজির পৃথিবীর কোন সভ্য দেশে কল্পনাও করা যায় না।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সবসময়ের মত এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দেবন বা বলবেন তদন্ত করে দেখবেন-এই পর্যন্তই।সে তদন্ত আদৌ হবে না বা হলেও কিছুই করা হবে না দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে-সেটা দেশবাসী ভাল করেই জানে।সাধারন মানুষ মনে করে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পুলিশের পক্ষের লোক-জনগনের নন- কোন কিছু ঘটলেই প্রথমে তিনি পুলিশের পক্ষ অবলম্বন করেন। একাধিকবার তা প্রমানিতও হয়েছে।
১ লা ডিসেম্বরের ঘটনা নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত আরো একটি ছবি অত্যন্ত মর্মাহত ও স্থম্ভিত করেছে। কোন এক ব্যাক্তিকে পুলিশ রশি দিয়ে গরু ছাগলের মত কমরে বেঁধে (যাতে সে পালিয়ে যেতে না পারে) দলীয় ক্যাডারদের হাতে তুলে দিয়েছে এবং প্রকাশ্য রাজপথে শতশত লোকের সামনে পেটানোর জন্য ধরে রেখেছে আর দলীয় সন্ত্রাসীরা তাকে পেটাচ্ছে।কি নির্মম এই পশুসুলভ আচরন!আমাদের বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয় যে আমরা একটি সভ্য দেশের নাগরিক।এর জন্য কোন তদন্তের প্রয়োজন পড়ে না -বিচার করার ইচ্ছা থাকলে ঐ একটি ছবিই যতেষ্ট- সবাইকে সনাক্ত করা যাবে-তবে ইচ্ছাটা থাকতে হবে-সেখানেই আমাদের যত সন্দেহ।পুলিশ আর দলীয় সন্ত্রাসীরা যদি একযোগে যৌথ অভিযান এবং অত্যাচার নির্যাতন চালায় বিরোধী মতবলম্বীদের বিরুদ্ধে আর প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে তাহলে দেশে আইনের শাসন আছে বলে দাবী করার কোন যৌক্তিকতা থাকবেনা।অসহিষ্ণু, আচরন নির্যাতন আর অত্যাচার অব্যাহত থাকলে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন এবং প্রতিবাদ হয়ত দীর্ঘ দিন ধরে শান্তিপূর্ণ থাকবে না।সহিংস রূপ নেবে।
আজ বিজয়ের ৪০টি বছর পর আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং গতি প্রকৃতিতে যে অধঃপতন হয়েছে তা নিয়ে গর্ব করার মত খুব বেশী কিছুই নেই। গনতান্ত্রিক মূল্যবোধে উল্লেখযোগ্য অবক্ষয় লক্ষণীয়।বিরোধী মতামতকে একেবারে অবজ্ঞা করা এবং গুরুত্বহীন মনে করা বর্তমান ক্ষমতাশীন দলের জন্য স্বাভাবিক আচরন হয়ে পড়েছে।দেশের মৌলিক সমস্যাগুলোর কোন উল্লেখযোগ্য সমাধানের কৃতিত্ব এখনো দেখাতে না পারলেও বিরোধীদের দমনপীড়নের নীতি অনুসরন করা হচ্ছে। যা গনতন্ত্রের মূল ধারনার পরিপন্থী। জনগন পাঁচ বছরের জন্য ভোট দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পন করেছে তাই বলে অন্য কোন দলের বা মতাবলম্বীদের মতামতকে ঔদ্ধত্বপূর্ণ ভাবে প্রত্যাখ্যান বা উপেক্ষা করা সুস্থ গনতন্ত্র বিকাশের প্রধান অন্তরায়।বর্তমানে রাজনীতির এক অসুস্থ ধারা আমাদের জাতীয় জীবনের উপর কালো ছায়া ফেলেছে।সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রবীন সাংবাদিক জনাব এ বি এম মুসা বর্তমান সরকারের আচরন কে ,“Parliamentary Dictatorship” বা “সংসদীয় স্বৈরাচার” বলে উল্লেখ করেছেন।নির্বাচিত সরকার যদি সংসদে দুই তৃতীয়াংশ বা তারো বেশী আসন লাভ করে তা হলে জাতীয় পর্যায়ে যে কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একক ভাবে গ্রহন করতে হয়ত পারে কিন্তু দেশের সাধারন মানুষের মতামতকে সন্মান দেখিয়ে এবং অন্যান্য দলমতকে সংগে নিয়ে আলোচনা করে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহন করলে দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে- পরিবর্তন স্থায়ীত্ব লাভ করবে।অন্যথায় একই দল যেহেতু অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকবেনা-এটা একটি ধ্রুব সত্য- তাই অন্য রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসলেই এই সবই আবার পরিবর্তিত হবার সম্ভাবনাটাই বেশী।আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাবার সম্ভাবনা ক্রমেই বাঁধাগ্রস্থ হবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিহিংসা আর প্রতিশোধ গ্রহনের রাজনীতি বলেই সাধারন মানুষের কাছে প্রতিয়মান হচ্ছে।নিজেদের নেতাকে সর্বোচ্চ আসনে স্থাপন করার জন্য অন্যান্য জাতীয় নেতাদের,যারা এখন প্রয়াত, তাদের কে অপমানিত এবং লাঞ্চিত করতে হবে এই অসুস্থ ধারনাটা শুধু যে উদ্ভট তাই নয় এটা অত্যন্ত নীচু মানের হীনমান্যতার পরিচায়ক।ইতিহাস বিকৃতি নিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেক কথাই বলেছেন-কিন্তু এখন কি হচ্ছে? এখনতো জাতীয় অন্যান্য নেতাদের জাতীয় নেতা হিসাবে স্বীকৃতিটুকুও দেয়া হচ্ছেনা।তাদের ছবি দলীয় সন্ত্রাসীরা টেনে হিচড়ে ছুড়ে ফেলছে বিভিন্ন অপিস থেকে।অন্ততঃ জনাব আব্দুল হামিদ খাঁন ভাসানী বা জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর মত সর্বজন শ্রদ্ধেয় জাতীয় নেতাদের জন্য নিশ্চই এই অপমান প্রাপ্য ছিল না! শ্রদ্ধা বা সন্মান জোর করে আদায় করা যায় না,স্থাপনাগুলোর নাম পরিবর্তন করে বা অন্যান্য নেতাদের অবদানকে খাটো করে দেখলে নিজেদের নেতার সন্মান বৃদ্ধি পাবে এই ধারনাটাও সঠিক নয়।ইতিহাস বিকৃতি এখনও হচ্ছে।আমাদের নতূন প্রজন্ম এক চরম ঐতিহাসিক বিভ্রান্তির মধ্যে বেড়ে উঠছে।তারা এখনো ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না কোন ঐতিহাসিক তথ্যটি সঠিক আর কোনটি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে প্রচার করা হচ্ছে ।
বিরোধী দলগুলোকে ঘায়েল করার এমনকি নিশ্চিহ্ন করার যতরকম কৌশল অবলম্বন করা যায় তার সবগুলোই করা হচ্ছে বলে সাধারন ভাবে জনগন মনে করছে।এই ধারনা যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে মোটেই তা দেশ ও জাতীর জন্য মঙ্গলজনক নয়।আমাদের রাজনৈতিক শীর্ষস্থানীয় কোন কোন নেতারা ইদানিং যে ভাষায় এবং অঙ্গভঙ্গিতে একে অপরকে অশালীন ভাষায় আক্রমন করেন এমন কি পবিত্র জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়েও যে ভাবে একে অন্যকে শুধূ নীতিগত বা রাজনৈতিক বিষয়ে নয় ব্যাক্তিগত বিষয় নিয়েও রীতিমত অশালীন ভাষায় আক্রমন করেন তা আমাদের নতূন প্রজন্মের জন্য একটি খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে।তাই তারা যখন প্রশ্ন করে, “আমরা আমাদের নেতাদের কাছ থেকে কি শিখব?” আমাদের কাছে কোন উত্তর থাকে না-আমরা দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হই।
বেশ কয়েকবারই শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হয়েছে সুশীল সমাজের অনির্বাচিত লোকরা বাইরে থেকে সরকারের কেবল সমালোচনাই করেন জনগনের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা তাদের নেই-আসলেও কিন্তু ঠিক তাই -বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে সুশীল সমাজের রুচিশীল বরেণ্য ব্যাক্তিরা খাপ খাওয়াতে পারছেন না।রাজনীতি এখন “রাজনৈতিক বাণিজ্যে” পরিনত হয়েছে নির্বচনে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করতে হয় আর নির্বাচিত হলে সেই বিনিয়োগকৃত অর্থ সুদেআসলে সৎ বা অসৎ পথে উদ্ধার করার জন্য চেষ্টা করতে হয়।সুশীল সমাজের সৎ মানুষগুলোর সেই সামর্থ বা যোগ্যতা কোথায়? তাই তারা গনমাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করে থাকেন কেবল মাত্র দেশপ্রেমে উদ্বোদ্ধ হয়ে নিজের বিবেকের তাড়নায়-কোন প্রাপ্তির আশায় নয়।গনমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা বা বিভিন্ন জাতীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রেও সরকার খুবই অসন্তুষ্ট।একবার স্পষ্ট ভাষায়ই বলা হল যারা বিদ্যুৎ নিয়ে সমালোচনা করেন পি ডি বি যেন তাদের বিদ্যুতের লাইনই কেটে দেয় যাতে তারা বুঝতে পারেন বিদ্যুৎহীন জীবন কেমন!অদ্ভুত দেশের অদ্ভুত কান্ডকারখানা!তারপর হয়ত শুনা যাবে পানি নিয়ে সমালোচনা করলে পানির লাইনই বন্ধ করে দেয়া হবে-আশ্চর্য্য হবার কিছুই নাই। সদ্য মন্ত্রীত্ব প্রপ্ত একজন মন্ত্রী এক সময় নাকি বলে ছিলেন তিনি বঙ্গ ভবনের ‘অক্সিজেন’ বন্ধ করে দেবেন! শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এমন সব অসংলগ্ন স্থুল কথাবার্তা আর হুমকি ধমকির মধ্যে দেশে গনতন্ত্র থাকলেও কে সাহস করে সরকারের সমালোচনা করার স্পর্ধা দেখাবে? আর সমাজের জ্ঞানীগুনি ব্যাক্তিদের সমালোচনা ও পরামর্শ ছাড়া সরকারের ভূলভ্রান্তি কে তুলে ধরবে?বিরোধী দলতো সেই কবে থেকেই সংসদ বর্জন করে চলেছে।
বর্তমান রাজনীতিতে দুর্নীতি দমন কমিশন,নির্বাচন কমিশন ইত্যদি সংস্থাগুলো কতটা স্বাধীন তা তাদের সা¤প্রতিক কর্মকান্ডে সহজেই অনুমান করা যায়। ভোট নিয়ে সংসদে দুই তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে ক্ষমতায় গেলেই যে সাধারন মানুষের মতামতের তোয়াক্কা না করেই স্বৈরাচারী হওয়া যায় সে ধারনাটা একেবারেই ভূল।সবাইকে নিয়ে সবার মতামত ও পরামর্শ নিয়ে দেশ পরিচালনা করাটাই পরিপক্ক রাষ্ট্রনায়ক এবং সফল রাজনীতির পরিচায়ক যা আমাদের সকলের কাম্য।‘চোর বাটপারদের সাথে আবার কিসের কথা? ওদের সাথে কিভাবে বসবো?’ এই মনোভাব নিয়ে রাজনীতি হয়ত করা যায় তবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।গনতান্ত্রিক ব্যাবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আলাপঅলোচনা,একেঅন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, উদারতা,ধৈয্য,সহনশীলতা,দূরদৃষ্টি, পরস্পরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সর্বোপরি শিষ্টাচার আর শালীতা উদার রাজনৈতিক নেতাদের সফল ভাবে রাষ্ট্রপরিচালনার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখে।সাধারন ভাবে প্রতিয়মান হয় যে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এই গনতান্ত্রিক পথ ও মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে।আমাদের রাজনীতি সঠিক পথ হারিয়ে ফেলেছে।আজ বিজয়ের ৪০ বছর পরও আমরা রাজনীতির সঠিক পথের দিশা খুঁজে বেড়াচ্ছি।আগামী দিন গুলোতে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির উত্তরোত্তর উন্নয়ন হোক দেশের জন্য সবাই মিলে একসাথে কাজকরার পরিবেশ সৃষ্টি হোক এই প্রত্যাশাই আমাদের মহান বিজয় দিবসের ।
বিজয়ের দিনে আমাদের প্রানপ্রিয় জন্মভূমিকে স্বাধীন করতে যারা চরম আত্মত্যাগ করেছিলেন তাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বরন করছি।এই জাতীয় বীররা এখন সংকীর্ণ দলীয় স্বর্থের ও নোংরা রাজনীতির অনেক উপরে। তাদের সকলের প্রতি আমাদের অভিবাদন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী(01716686141 লেখক স্কলার্সহোমের অধ্যক্ষ।

আরোও ছবি

বিজয়ের ৪০ বছর
আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ক্রম বিবর্তন
বিজয়ের ৪০ বছর
আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ক্রম বিবর্তন

Free Online Accounts Software