20 Nov 2017 : Sylhet, Bangladesh :

13 November 2017 ব্যক্তিত্ব

কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৯তম জন্মদিন আজ

 কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৯তম জন্মদিন আজ
     

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৯তম জন্মবার্ষিকী আজ। সত্তর দশকের শেষভাগ থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। আধুনিক বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের পথিকৃৎ এবং নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে সমাদৃত এই ব্যক্তিত্বের জন্মদিন উপলক্ষে আজ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।গতকাল রাত ১২টায় কেক কেটে তার জন্মদিন উদযাপন করেছেন স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। আজ ভোরে হুমায়ুন আহমেদের নিজ হাতে গড়া নুহাশ পল্লীতে যাত্রা এবং এতিমখানায় খাবার পরিবেশন করা হবে পারিবারিকভাবে। এ ছাড়া চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়েছে ‘হুমায়ূন মেলা’।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নেত্রকোনা মহুকুমার কেন্দুয়ার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মা আয়েশা ফয়েজ। হুমায়ূন আহমেদ বিংশ শতাব্দীর বাঙালি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম। তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাপরবর্তী শ্রেষ্ঠ লেখক গণ্য করা হয়। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার। বলা হয়, আধুনিক বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের তিনি পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও তিনি সমাদৃত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। তার বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। তার গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা তুলনারহিত। তার সৃষ্ট হিমু ও মিসির আলি চরিত্রগুলো বাংলাদেশের যুবকশ্রেণিকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে। তার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো পেয়েছে অসামান্য দর্শকপ্রিয়তা। তার টেলিভিশন নাটকগুলো ছিল সর্বাধিক জনপ্রিয়। সংখ্যায় বেশি না হলেও তার রচিত গানও জনপ্রিয়তা লাভ করে।তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। লেখালেখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে একপর্যায়ে অধ্যাপনা ছেড়ে দেন।

২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার অন্ত্রে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর চিকিৎসাধীন যুক্তরাষ্ট্রে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই কোটি বাঙালিকে কাঁদিয়ে মৃত্যুবরণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। ২৪ জুলাই তাকে নুহাশ পল্লীর লিচুতলায় দাফন করা হয়।

হুমায়ূন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে, একুশে পদক (১৯৯৪), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), মাইকেল মধুসূধন দত্ত পুরস্কার (১৯৮৭), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) ইত্যাদি। দেশের বাইরেও সম্মানিত হয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। জাপানের 'এনএইচকে' টেলিভিশন তাকে নিয়ে 'হু ইস হু ইন এশিয়া' শিরোনামে পনের মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি প্রচার করে।


Free Online Accounts Software