রাগীব আলী : ভাগ্য বিড়ম্বিত এক মহানায়ক
   29 May 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 20 December 2016 ব্যক্তিত্ব  (পঠিত : 71439) 

রাগীব আলী : ভাগ্য বিড়ম্বিত এক মহানায়ক

রাগীব আলী : ভাগ্য বিড়ম্বিত এক মহানায়ক
     

আব্দুল মুকিত অপি:
রাগীব আলী আজ আর শুধু একটি নাম নয়, একটি কিংবদন্তী। এই নামটি মানুষ আজ অনেক ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে। সিলেট নগরীতে পাবলিক যানবাহন যারা নিয়মিত চড়েন, তারা প্রায়ই শুনে থাকবেন‘এই যে যাবে নাকি রাগীব আলী।?’ অর্থাৎ জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে যাওয়ার সহজ পথ-পরিচয়। সন্তানের বড় বায়নাকে অনেক মা-বাবা প্রতিহত করতে গিয়ে বলেন‘তুমিতো আর রাগীব আলীর ছেলে না’। আমার পাড়ার মসজিদে একবার রমজান মাসে ফিতরার পরিমান মুসলøীদের বুঝাতে গিয়ে ইমাম সাহেব বললেন‘আর যারা রাগীব আলীর মতো ধনী তাদের জন্য ...টাকা।’ লোকমুখে প্রচলিত একটি ছড়া আজ নতুন রূপে লোকজন বলে‘হাওর কইলে হাকালুকি / আর সব কুয়া / ব্যাটা কইলে রাগীব আলী / আর সব পুয়া।’
এভাবেই নামটি আজ সিলেট অঞ্চলে একটি কিংবদন্তী হয়ে ওঠেছে।
তার সাথে যারা মিশেছেন, কাছে থেকে তারা দেখেছেন তার হৃদয়ের প্রসারতা। সবসময় তার সঙ্গী যেসব অসহায় শিশু-কিশোরেরা তিনি কখনোই তাদেরকে আলাদা চোখে দেখেন না। নিজের বাসাতে তো বটেই, বাইরে যে কোন অনুষ্ঠানে গেলেও তিনি তাদের নিয়ে একসাথে খাবার গ্রহণ করেন। তার সামনে গেলে অবাক হয়ে শুধু ভাবতেই হয়Ñকী করে এতো বড় একজন মানুষ এতো সাধারণ হয়ে থাকেন। কী করে একটা মানুষ এতো এতো আলো জড়ো করতে পারেন এক জীবনে...
তার কথা বলেছেন দেশ-বিদেশের অনেক নামিদামী ব্যক্তিরা। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি বেøয়ার দানবীর ড.রাগীব আলী সম্পর্কে বলেন You have certainly acted most charitably towards those less fortunate than yourself and a great many people have benifited from your kind and worthwhile endeavours to improve their lives.You set an outstanding example,which I trust that others might follow.
বর্তমান সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার সম্পর্কে একবার লিখেন ‘রাগীব আলীর ব্যবসা সম্বন্ধে আমি তত জানি না কিন্তু সহজেই বুঝি যে তিনি প্রশাসনিক খরচ শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং তাঁর কর্মীদের দক্ষতা বিকাশে বিশেষ নজর দেন। তাঁর আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি দিক আমাকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। তিনি বিনিয়োগ ও ঋণের ভারসাম্য সম্বন্ধে খুবই সজাগ। বাংলাদেশে এই চরিত্রের বিনিয়োগকারীর খুবই দুর্ভিক্ষ রয়েছে। ষাটের দশকের শুরুতে দিনে পঞ্চাশ পাউন্ড রোজগার করা চারটিখানি কথা নয় । আনুষ্ঠানিকভাবে অল্প শিক্ষিত রেস্তোরাঁওয়ালার স্টক মার্কেটে প্রবেশের কাহিনী রুপকথার উপাখ্যানই বটে। রাগীব আলীকে সফল ব্যবসায়ী এবং সম্মানিত সমাজসেবক হিসেবে স্বীকৃতি দেবার অনেক উপাদান বর্তমান।’
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ,বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ড.কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন‘এই বয়সেও তিনি কর্মচঞ্চল। নিরলস পরিশ্রমী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সহজ সরল ও অনাড়ম্বর জীবন যাপন করেন। তিনি কাজের মধ্যে ডুবে থাকতে ভালোবাসেন। রাগীব আলী একজন দানশীল ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি। এরকম লোকের সংখ্যা দেশে যত বাড়বে,দেশের জন্য ততই মঙ্গল। ’
পশ্চিমবঙ্গের বরেণ্য লেখক-ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেন‘একজন রাগীব আলীর কথা শুনে আমি মুগ্ধ ও বিস্মিত হয়ে পড়ি। এ যুগেও এমন আশা সম্ভব? চতুর্দিকে ঈর্ষা,ক্ষুদ্রতা,লোভ ও স্বার্থপরতার নানান কদর্য রুপ দেখতে দেখতে একসময় মানুষ সম্পর্কে নৈরাশ্য এসে যায়। হঠাৎ এরকম কোনো মানুষের কথা শুনলে আবার আশা জাগে।’
এরকম মূল্যায়ন নিয়ে ইতোমধ্যে প্রায় সত্তরটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে বিশিষ্ট লেখক মোঃ ফোরকান আহমদের ৯৩২ পৃষ্ঠার গ্রন্থ ‘রাগীব আলী : কর্মই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে’ অন্যতম। বাংলাদেশে কোনো দানশীল-উদ্যোক্তাকে নিয়ে এতো বৃহৎ বই বা এতো অধিক বই প্রকাশ পায়নি। বইগুলোতে সুধীজন-লেখকেরা একজন রাগীব আলীকে নানামাত্রিক অভিধায় অভিষিক্ত করেছেন। রাগীব আলী তার সারাজীবনের অর্থ-বিত্তকে কখনোই নিজ ভোগ-বিলাসিতায় ব্যবহার করেন নি। অতি সাধারণ পোষাক তিনি নিয়মিত পরেন,কথা বলেন অতি সাধারণ একটি মোবাইল ফোন দিয়ে। সমাজে যারা মোটামুটি বিত্তবান,যদি কোন প্রয়োজনে তাদের কাছে যেতে হয় দেখা যায় ওই ব্যক্তির সাত কুটুরি-তেরো দরোজা পাড়ি দিতে হয়। অথচ রাগীব আলীর কাছে যাওয়া খুবই সহজ। এই চার-পাঁচ বছর আগেও মালনীছড়ায় তার বাসভবনের মূল ফটকে কোনো প্রহরী ছিলো না। যার যখন ইচ্ছে,যে যখন পারতো তার কাছে চলে যেতো। এখন অবশ্য কিছুটা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাগীব আলী কখনোই তার কোন অনুষ্ঠানের আড়ম্বর প্রচার কামনা করেন না। বরং নীরবে বেশী কাজ করে যাওয়াই তার ধ্যান-ধারণা। যেখানেই অনুষ্ঠানে যান,সেখানকার এতিম-অবহেলিত শিশু-কিশোরদের তিনি নগদ কিছু না কিছু উপহার দিয়ে আসেন। আমি একবার তার সফরসঙ্গী হয়ে কমলগঞ্জে গিয়েছিলাম। দেখেছি প্রখর খরতাপ উপেক্ষা করে তিনি গরীবদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন নগদ অর্থ। রাগীব আলী সবসময়ই সৃজনশীল মানুষদের ভালোবাসেন,শ্রদ্ধা করেন। লেখক-কবিদের প্রতি তার রয়েছে অগাধ ভালোবাসা। গণমানুষের কবি দিলওয়ারকে প্রায় বিশ বছর আগে সম্মান জানিয়ে তার বাংলোয় দাওয়াত করে নিয়েছেন, সারাদিন একসাথে কাটিয়েছেন। এবছরের সাতাশ ফেব্রুয়ারি রাগীব-রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার ও একুশে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলা সাহিত্যের বর্তমান অন্যতম প্রধান কবি আসাদ চৌধরীকে প্রধান অতিথি করে এনেছেন। সাথে ছিলেন সঙ্গীতঙ্গ ইন্দ্রমোহন রাজবংশী। লেখক-কবিদের নিজ মাতৃভূমি দেখাতে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেন নিজ গ্রাম কামালবাজারের রাগীবনগরে। ১৯৯৮ সাল থেকে রাগীব-রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কারের মাধ্যমে দানবীর ড.রাগীব আলী বৃহত্তর সিলেটের লেখক-কবিদের সম্মান জানিয়ে আসছেন। এপর্যন্ত ৩৪ জন কৃতী লেখক-কবি-সাহিত্যিক এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন জাতীয় অধ্যাপক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ,অধ্যাপক শাহেদ আলী,গণমানুষের কবি দিলওয়ার,বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম। ২০১০ সাল থেকে একুশে সম্মাননা প্রবর্তনের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা কৃতী মানুষদের সম্মান জানাচ্ছেন তিনি। এ পর্যন্ত ৪৫ জন কৃতী ব্যক্তিত্ব এই সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্যশিল্পী সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ,মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী, সঙ্গীতঙ্গ হিমাংশু বিশ্বাস,শিল্পী অরবিন্দ দাশগুপ্ত,স্থপতি শাকুর মজিদ।
সিলেটে সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়ে তার মাধ্যমেই সব বড় বড় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। একদিন প্রয়াত লেখক-গবেষক সৈয়দ মোস্তফা কামালকে আমি প্রস্তাব করেছিলাম দানবীর রাগীব আলীকে তিনি বলে যেন একটা সুযোগ করেন মালনীছড়া চা বাগান ভ্রমণে লেখক-কবিদের সুযোগ দিতে। মোস্তফা কামাল আমার হাতের ফোন নিয়েই সাথে সাথে প্রস্তাবটা করেন। রাগীব আলী বিনা বাক্য ব্যয়ে সম্মতি প্রকাশ করেন। এরই আলোকে ২০১০ সালের ১৬ জানুয়ারি মালনীছড়ার কোম্পানী বাংলোয় আয়োজিত হয় সিলেট লেখক ক্লাবের পচিশ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে লেখক সম্মিলন ও কবিতা পাঠের আসর। লেখক- কবিরা বাগানে ঘুরে, ঐতিহাসিক হাড়ুং -হুড়ুং পরিদর্শন করে খুবই রোমাঞ্চ অনুভব করেন । সেই উৎসব ও আনন্দ এখনো তাদের মনে আনন্দ দিয়ে যায়। পরবর্তীতে একই বছরের পহেলা বৈশাখে মালনীছড়ায় আরেকটি মিলনমেলা বসে। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি মিলনমেলা-গ্রন্থ প্রকাশনা-কবিতা পাঠের আসরের আয়োজন করা হয়। ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রæয়ারি রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন একুশে সম্মাননা,প্রকাশিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও কবিতা পাঠের আসরের আয়োজন করা হয়। ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রæয়ারি রাগীব-রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার (২০১০-১৪) ও একুশে সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে আরেকটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সবগুলো অনুষ্ঠানেই ছিলো সবুজের সাথে লেখক-কবিদের মধুর কোলাহল । এভাবে লেখক-সংস্কৃতিকর্মীদের মনের গভীরে দিনে দিনে রাগীব আলী একটি স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।
শিক্ষার উন্নয়নে রাগীব আলী সিলেটে পথিকৃৎ হয়ে আছেন। সিলেটে প্রথম বেসরকারী মেডিকেল কলেজ,বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় তার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছে । দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আছে বিভিন্ন ট্রাস্ট। এপর্যন্ত তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ৬২ টি প্রতিষ্ঠান, ৫টি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদপত্র, ৩৯ টি ট্রাস্ট।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন । সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি পাকা ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন । তার এই উদ্যোগ এখনো চলমান । আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি লন্ডনে থেকে একজন সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন । প্রতিবছর বেশ ক’জন অসচ্ছল মানুষকে পবিত্র হজ্বব্রত পালন করতে পাঠান । মোটকথা,সমাজের জন্য যা কিছু সুন্দর,যা কিছু কল্যাণকর তা-ই করার চেষ্টা করেন তিনি ।
এসব কৃতিত্বপূর্ণ কর্মকান্ডের জন্য তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পেয়েছেন ২১টি সম্মাননা ও পদক। এর মধ্যে আছে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী পুরস্কার ২০০৩-০৪,লÐন থেকে পর্যাদাসম্পন্ন হুজ হু এওয়ার্ড-২০১২। দেশ-বিদেশে এপর্যন্ত কয়েকশ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে নগরীর আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে ২০১৩ সালের বিশাল নাগরিক সংবর্ধনা অন্যতম।
১৯৩৮ সালের ১০ অক্টোবর জন্ম নেওয়া এই মানুষটি আজ বার্ধ্যক্যে উপনীত। তবু সব বাধাকে উপেক্ষা করে নিয়ত ছুটে চলেন মানুষের কল্যাণে। ব্যক্তিজীবনে তিনি নিজে এককভাবে যতো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সবই তাকে দিয়েছে বিপুল বিত্ত-বৈভব, যশ-সম্মান। বলা হয় তিন যাতেই হাত দিয়েছেন সেটাই সোনা হয়ে ওঠেছে,একসময়ের মৃতপ্রায় মালনীছড়া চা-বাগান তার হাতে পড়ে নতুন জীবন লাভ করে। প্রায় বন্ধ হতে চলা দৈনিক সিলেটের ডাক তার মালিকানায় আসার পরে হু হু করে বাড়তে থাকে এর প্রচার সংখ্যা। শেষ বয়সে এসে তার বার্ধক্যের সুযোগকে অনেকেই নিজেদের ফায়দা হাসিলের পথে ব্যবহার করেছেন। এই সময়ের অনেক যৌথ সিদ্ধান্ত তার অনেক ক্ষতির কারণ হয়েছে। তবু তিনি হাসিমুখে সবকিছু মেনে নিয়েছেন, ক্ষতিকরদের ফেলে দেননি আস্তকুঁড়ে।
ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের শিকার হয়ে তিনি আজ কারাগারের অন্ধ কুটুরিতে বসবাস করছেন। সঙ্গে তার প্রাণাধিক প্রিয় একমাত্র পুত্র আব্দুল হাই। নিজের বার্ধক্যের দুর্বলতা আর ছেলের অসুস্থতা চিন্তায় তার বিচলিত চেহারার কথা একবার ভাবলে মনটা ভার হয়ে যায় । বিচারের রায় ঘোষণার আগেই প্রায় আশি বছর বয়েসি একজন মানুষ শীতের এই দিনরাত কাটাচ্ছেন জেলে। কিন্তু তিনি যদি আজ কারাগারের বাইরে থাকতেন, তাহলে আমরা জানি দেশের কয়েক হাজার মানুষের শরীর উষ্ণ হতো রাগীব আলীর দেয়া কম্বলের উত্তাপে। এইসব মানবিক বিষয় ভেবে সিলেটের সাধারণ বিবেকবান মানুষ এ ঘটনায় খুবই মর্মাহত। রাগীব আলীর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে পড়ে শত শত ডাক্তার হয়েছেন,আইনজীবি হয়েছেন,শিÿক-ব্যাংকার হয়েছেন । তাদের হৃদয়ে অবশ্যই তিনি শ্রদ্ধার আসন জুড়ে আছেন ।
যে মামলার কারণে তিনি আজ জেলে, তার বিচার সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না আসল অপরাধী কে । আদালত কর্তৃক সাব্যস্থ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না যে, তিনি জালিয়াতি করেছেন । আমরা দিব্যচোখে দেখি, তিনি এই সমাজকে আধুনিক ও উন্নত করতে অপরিসীম অবদান রেখেছেন । তার জড়ো করা আলোর কাছে ছিঁটেফোটা অন্ধকার ¤øান হবে বলে আমাদের বিশ্বাস ।
রাগীব আলীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো এখন বিচারাধীন । তিনি খুনের মামলার আসামী নয় । তিনি রাষ্ট্রদ্রোহীও নয় । হলমার্ক-ডেসটিনির মতো বিশাল কেলেঙ্কারিও করেন নি তিনি ।
রাষ্ট্রকে তিনি কী দিয়েছেন সে হিসেব কেউ কষছে না একবারও। জামিনের প্রাপ্য সুযোগটাও এখন পিতা-পুত্রের কাছে নিদারুণ দুঃস্বপ্ন । অবশ্য একই মামলার অভিযুক্ত আসামী পংকজ গুপ্ত জামিন পেয়েছেন জেল না খেটেই ।
এ কথা দৃঢ়ভাবে বলা যায় যে, রাগীব আলীর জীবনের ব্যাপ্তি যতো বিশাল হবে, এ অঞ্চলের মানুষের কল্যাণ হবে ততো বেশী। কারাগারের অন্ধ কুটুরিতে নির্বাসিত স¤্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের মতো তার শেষ পরিণতি হোক এটা কারোই কাম্য নয় । যদি সেটা হয়েই যায়,জাতি হিসেবে আমরা খুব ছোট হয়ে যাবো ।
লেখক : কবি ও আইনজীবি ।





   অন্য পত্রিকার সংবাদ  অভিজ্ঞতা  আইন-অপরাধ  আত্মজীবনি  আলোকিত মুখ  ইসলাম ও জীবন  ঈদ কেনাকাটা  উপন্যাস  এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল  কবিতা  খেলাধুলা  গল্প  ছড়া  দিবস  দূর্ঘটনা  নির্বাচন  প্রকৃতি পরিবেশ  প্রবাস  প্রশাসন  বিবিধ  বিশ্ববিদ্যালয়  ব্যক্তিত্ব  ব্যবসা-বাণিজ্য  মনের জানালা  মিডিয়া ওয়াচ  মুক্তিযুদ্ধ  যে কথা হয়নি বলা  রাজনীতি  শিক্ষা  সমসাময়ীক বিষয়  সমসাময়ীক লেখা  সমৃদ্ধ বাংলাদেশ  সাইক্লিং  সাক্ষাৎকার  সাফল্য  সার্ভিস ক্লাব  সাহিত্য-সংস্কৃতি  সিটি কর্পোরেশন  স্বাস্থ্য  স্মৃতি  হ য ব র ল  হরতাল-অবরোধ