ভাগ্যিস বোমাটি ফাটেনি, ফাটলে কবি হতে পারতাম না ..
   21 Aug 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 10 February 2016 সাক্ষাৎকার  (পঠিত : 2481) 

ভাগ্যিস বোমাটি ফাটেনি, ফাটলে কবি হতে পারতাম না ..

ভাগ্যিস বোমাটি ফাটেনি, ফাটলে কবি হতে পারতাম না ..
     

তাসলিমা খানম বীথি:
নব্বই দশকে যে ক’জন কবি সিলেটের কাব্যপাড়াকে মাতিয়ে রেখেছিলেন কবি নুরুস সুফিয়ান চৌধুরী তাদের অন্যতম। তার কবিতার পরতে পরতে মিশে আছে আবহমান গ্রাম, গ্রামীণ জনপদ আর এ জনপদের সহজ সরল মানুষগুলোর সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা আর তাদের চিরায়ত জীবনাচার। তিনি শুধু তার নিপুণ কাব্যঢঙে তাদেরকে কবিতায় তুলে এনে সাধারণ্যে পরিচয় করান না, তাদের ঠোঁটের ভাষাকেও দক্ষ কারিগরের মত উপযুক্ত জায়গায় ঠাঁই দিয়ে নির্মাণ করেন ভিন্ন ধারার স্বনির্মিত এক কাব্যভাষা, যা তাকে অন্যদের থেকে করেছে সম্পূর্ণ আলাদা। “আবুদ্যা”, “বোড়পাড়া”, “গড়গড়ি হুকা”, “বোবা ধরা রাইত”, “চান কপাইল−া বাছুর” কবিতায় অব্যবহৃত এ সকল বিস্মৃত প্রায় শব্দের লোভে তাইতো তাকে হাঁটতে দেখি প্রত্যন্ত গাঁয়ের কোন রাজ আল ভেঙ্গে, কখনও দেখি গোদারার ঘাটে গিয়ে কোন কিছু তালাশ করতে, আবার কখনও বা দেখি বিশাল কোন জলটংগির তামুকের আসরে খোশ গল্পরত পাড়ার সমবয়সীদের সাথে। তার ভাষায় বিস্মৃত এই শব্দগুলো তারই নাড়িছেঁড়া ধন।

কবি নুরুস সুফিয়ান চৌধুরী সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার ইউনিয়নের শাহসিকন্দর গ্রামে ১৮সেপ্টেম্বর ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহন করেন। প্রকৃতির প্রেমিক এই কবি’র পুরো নাম-মোঃ নুরুস সুফিয়ান চৌধুরী। বাবা মরহুম সোলায়মান আলী চৌধুরী ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, মা সৈয়দা জিনাত নাহার। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। তার দ্বিতীয় ভাই মোঃ খায়রুল আফিয়ান চৌধুরী (বিএ), ৬নং লালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের দু,দুবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তৃতীয় ভাই মোঃ সিরাজুল গোফরান চৌধুরী (বিএ) বিলেত প্রবাসী, চতূর্থ বোন মজিদা আক্তার চৌধুরী (একাউন্টেন্ট), কানাডা প্রবাসী, পঞ্চম ভাই মোঃ আমিরুল গিলমান চৌধুরী (বিবিএ), বিলেত প্রবাসী, ষষ্ঠ বোন রাশেদা আক্তার চৌধুরী বিলেত প্রবাসী, ছোট বোন তাহমিদা আক্তার চৌধুরী এমবিবিএস ডাক্তার, আমেরিকা প্রবাসী। বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় রাশেদা আক্তার চৌধুরী এইচএসসিতে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ১৩তম স্থান এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ,অনার্স-এ প্রথম শ্রেণীতে প্রথম অধিকার করেন। কবি নুরুস সুফিয়ান চৌধুরী বাংলা নিয়ে এমএ অধ্যয়ন করেন। তিনি ১৯৯৬ হতে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কর্মরত ছিলেন।
কবি নুরুস সুফিয়ান চৌধুরী স্ত্রী হোস্না চৌধুরী ও সন্তান নিয়ে নিয়ে প্রবাসে সুখি দিনযাপন করছেন। তার স্ত্রী হোস্না চৌধুরী বিলেতের Walsall Metropolitan Borough Council এ planning & transportation officer হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এই দম্পতির দুই পুত্র সন্তানের মধ্যে বড়ো মো: জাহরান চৌধুরী, ছোট মো: দাইয়ান চৌধুরী। তাদের বড় ছেলে জাহরান একজন বাবার মতো একজন লেখক এবং গল্পে তার ভালো হাত রয়েছে।

দীর্ঘদিন প্রবাসে বসবাসরত কবি নুরুস সুফিয়ান চৌধুরী স¤প্রতি তার ‘নাড়িছেড়া মাটির টানে’ এসেছিলেন প্রিয় জন্মভূমি সিলেটে। খুব কম সময়ের জন্যে ছিলো তার এ সফর। এক পর্যায়ে সিলেট এক্সপ্রেস কার্যালয়ে আয়োজন করা হয় তার একক কবিতা পাঠের আসর।

সিলেটের প্রথম অনলাইন পত্রিকা ‘সিলেট এক্সপ্রেস’-এর পক্ষ থেকে গত ২৩ মার্চ ২০১৫ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সাক্ষাতকার গ্রহণের জন্য এ শেকড়সন্ধানী কবির মুখোমুখি হই আমি তাসলিমা খানম বীথি। কবির কাব্যভাবনা, ব্যক্তিজীবন, প্রবাসজীবন, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে তার নিজস্ব ভাবনা ইত্যাদি বহুবিধ বিষয় উঠে এসেছে এ একান্ত সাক্ষাৎকারে। নিচে সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হল-

তাসলিমা খানম বীথি : প্রথমেই আপনার কাছে জানতে চাইব আপনি কবে থেকে লেখালেখি শুরু করেছেন এবং প্রথম লেখা কী ছিল?
নুরুস সুফিয়ান চৌধুরী : ঠিক কবে থেকে লেখালেখির শুরু তা মনে নেই। তবে এটা মনে আছে আমি যখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ালেখা করি তখন নিজ হাতে সেলাই করা আমার লেখালেখির একটি খাতা ছিল। তাতে ‘রাখাল ছেলে’, ‘পাঠশালা’, ‘গাঁয়ের ছেলে’, ‘আমাদের গ্রাম’ এসব শিরোনামে পদ্য টাইপের কিছু লেখা লিখেছিলাম। মূল পড়াশোনায় ক্ষতি হবে ভেবে কিছু বকাঝকা করে আব্বা একদিন খাতাটা ছিঁড়ে ফেলেছিলেন।

বীথি : প্রথম লেখা কোথায় প্রকাশিত হয়?
চৌধুরী : দৈনিক জালালাবাদে।

বীথি : আপনাকে লেখালেখিতে কে বেশি উৎসাহিত করেছেন।

চৌধুরী : সত্যি বলতে কি প্রথম দিকে কারো উৎসাহ পাইনি। পরবর্তীতে লেখালেখিতে যখন মোটামুটি একটা অবস্থান করে নিলাম তখন ধীরে ধীরে পারিবারিকভাবে সমর্থন ও উৎসাহ পেয়েছিলাম। পরবর্তীতে কবি রাগিব হোসেন চৌধুরী, কবি কামাল তৈয়ব আরো পরে কবি মুকুল চৌধুরীসহ যারাই আমার লেখার সাথে পরিচিত হলেন তারাই উৎসাহ দিয়েছেন। বিশেষ করে স্নেহ পরবশ হয়ে আমার প্রতি তাদের একটাই দাবি, আমি যেন লেখালেখি চালিয়ে যাই।

বীথি : আপনার লেখা কতটা বই বের হয়েছে। বইগুলোর নাম কী?

চৌধুরী : কবিতাগুলোকে মোড়কবদ্ধ করার চিন্তা আগে কখনও মাথায় আসেনি। তবে ইদানীং বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রচুর উৎসাহ দিচ্ছেন আমি যেন দ্রুত বই বের করি। এ উৎসাহ থেকেই আগামীতে বই বের করার চিন্তা মাথায় আছে এবং এটা হবে একটি কাব্যগ্রন্থ ও একটি গল্পগ্রন্থ।
আপনি জানেন একসময় আমি ‘বনতুলসি’ নামে একটি লিটল ম্যাগ সম্পাদনা করতাম। ‘বনতুলসি’র মাধ্যমে নতুন লেখকদের উৎসাহিত করে খুব আনন্দ পেতাম। তখন ভাবতাম সম্পাদক হিসেবে ওটাই আমার মূল দায়িত্ব। সে সময় কবি কামাল তৈয়ব সিলেটের নব্বই দশকের বাছাই করা তরুণ কবিদের কবিতা নিয়ে প্রকাশ করেছিলেন ‘দশ আকাশ একশ তাঁরা’। তার এ উদ্যোগে প্রকাশিত ব্যাপকভাবে প্রশংসিত কাব্যগ্রন্থটিতে অন্য নয়জনের সাথে আমারও দশটি কবিতা ছিল। এছাড়া নব্বইয়ের শেষের দিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশন মিলনায়তনে তৎকালীন ‘সেরা দশে’র কবিতা নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল যে পক্ষকালব্যাপী ব্যতিক্রমী কাব্য প্রদর্শনীর (কবিতার বিষয়বস্তু‘র সাথে মিল রেখে কবিতার পাশাপাশি চিত্রকর্ম নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনী)। আয়োজকেরা সেখানেও আমার বাছাইকৃত দশটি কবিতার ঠাঁই দিয়েছিলেন। তখন ভাবতাম এভাবে তো পাঠকদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে তো আর বই প্রকাশের দরকার কী।

বীথি : আপনার শৈশব-কৈশোর কোথায় কেটেছে। শৈশবের কোন দূরন্তপনার কথা...

চৌধুরী : আমি এখন প্রবাসী। যতদিন দেশে ছিলাম শৈশব-কৈশোরের পুরো জীবনটাই কাটিয়েছি আমার গ্রামের বাড়িতে। শৈশবে খুব একটা দূরন্ত প্রকৃতির ছিলাম না। তবে মাঝে মাঝে অদ্ভ‚ত কিছু খেয়াল মাথায় চাপতো। যেমন ক্লাস ফাইভে থাকাকালে কলেরা রোগের ঔষধ আবিস্কারের চেষ্টা করেছিলাম ‘চালতা’র রস দিয়ে। সম্ভবত ক্লাস সেভেনের পাঠ্যতে ছিল আনবিক বোমা। এ বোমার ধ্বংসক্ষমতা, হিরোশিমা-নাগাসাকিতে এর ব্যবহার বিশেষ করে বোমাটির আবিষ্কারের কাহিনী পড়ে আমিও উৎসাহিত হলাম এ জাতীয় কিছু একটা আবিষ্কারের। শুকনো মরিচ, পিঁয়াজ, আদা, পাকা ঘর তৈরীর কাজে ব্যবহৃত বালু, আয়না ভেঙে বানানো টুকরো কাঁচ এসবের সংমিশ্রণে অদ্ভুত এক চেষ্টাও করেছিলাম সেদিন। ভাগ্যিস, বাড়ির পেছনের পুকুর পাড়টাতে গিয়ে লুকিয়ে যখন বোমাটির পরীক্ষা করতে গেলাম, তখন ফাটেনি। নইলে আমি এখন কবি হতে পারতাম না, হতাম বোমার জনক।

বীথি : (হাসতে হাসতে) তো এতকিছু থাকতে আপনি পিঁয়াজ, মরিচ, আদা এসব মসলাকে বেছে নিলেন কেন?
চৌধুরী : ভেবেছিলাম এসবের ঝাঁঝ আছে, এ ঝাঁঝে বোমাটি ফাটবে ভাল।

বীথি : কার বই বেশি পড়া হয়? কী ধরনের বই পড়েন?
চৌধুরী : আপনাকে বিশ্বাস করানো কঠিন হবে, আমার বই পড়া খুব কমই হয়। যদি কিনে পড়ি তো গল্পের বই।

বীথি : আপনার পরিবার ও ছেলেমেয়ে সম্পর্কে কিছু বলুন।
চৌধুরী : দেশে আমার আম্মা আছেন। আব্বা মারা গেছেন আজ প্রায় ১১ বৎসর। এক ভাই তার পরিবার নিয়ে আম্মার সাথেই আছে। অন্য ভাইবোন আমরা সবাই দেশের বাইরে। স্ত্রী এবং দু’সন্তান নিয়ে বিলেতে আমার ছোট্ট সংসার। আলহামদুলিল্লাহ খুব সুখেই আছি।

বীথি : আপনার সাংগঠনিক জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন।
চৌধুরী : দেশে থাকতে বেশ কিছু সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথেও জড়িত ছিলাম। সে সবের মধ্যে যেটার কথা বলতে হয়, আমি ‘কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে’র জীবন সদস্য। বিলেতের মাটিতেও শত ব্যস্ততার মাঝে চেষ্টা করছি সামাজিক সংগঠনগুলোকে সময় দিতে। বিশেষ করে বলতে হয়, লালাবাজার ইউনিয়নের শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নে কাজ করা সংগঠন ‘লালাবাজার ইউনিয়ন এডুকেশন ট্রাস্ট’ এ বর্তমানে আমি সেক্রেটারীর দায়িত্বে আছি। রাজনৈতিকভাবে আমি একটা আদর্শিক সংগঠনের সাথে ছিলাম দেশে থাকাকালে, এখনও তাদের প্রতি আমার সমর্থন আছে।

বীথি : আপনার জীবনের সবচেয়ে মধুর মূহুর্তে কথা বলুন।
চৌধুরী : খুব বেশি মনে পড়ে এবং সব সময়ই চোখের সামনে ভাসে-আব্বা যখন হবিগঞ্জে চাকরি করতেন, তখন সপ্তাহ শেষে বাড়ী ফিরতেন। আমি প্রতি শনিবার (তখন রোববার ছিল সাপ্তাহিক ছুটি) আমার ছোট ভাইটিকে কোলে নিয়ে (সম্ভবত আমি তখন ছিলাম ৪ বছরের) সন্ধ্যের দিকে ঘরের বারান্দার এক কোণে মাদুর বা চাটাইয়ে বসে পথের দিকে চেয়ে চেয়ে অপেক্ষায় থাকতাম আব্বা কখন আসবেন, আর আম্মার শেখানো কথাগুলো ছড়ার মত করে অনবরত জপতাম-‘পাখিরে পাখি, ডালো বইছনি/আল্লাহর গ্যাছে দোয়া কর, আমার আব্বা আইবানি।’ আমার মনে হয়, ছোটবেলার এ ‘রাইম’টাই আমাকে কবিতার প্রতি ঝোঁকতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

বীথি : জীবনের কোন অনাকাঙ্খিত মুহ‚র্তের কথা বলেন যা আপনাকে কষ্ট দেয়।
চৌধুরী : আব্বা যেদিন মারা যান, সেদিন সকাল থেকেই তাঁর শরীরটা ছিল খুবই খারাপ। আম্মা আমাদের ভাইবোনদের বললেন, বাইরে কোথাও না যেতে। আমি আছরের নামাজে গ্রামের মসজিদে যাবার বেলাও আম্মা তাড়না দিলেন, নামাজ শেষে যেন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরি। নামাজ শেষ করে যখন বাড়ি ফিরছিলাম, গ্রামের একটি লোক (তিনি এখন পৃথিবীতে নেই) পথে আমাকে আটকালো, তার ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কথা শোনানোর জন্য। আমি জানি, আমার বাড়ি ফেরা জরুরী। আবার লোকটির কথা না শুনলেও সে আঘাত পাবে। আমি তার কথাই শুনছিলাম। এমন সময় আমার এক চাচাতো ভাই আমাকে দৌঁড়ে এসে খবরটা দিলেন- আব্বা নেই! আজও এ মুহ‚র্তটা আমাকে পীড়া দেয়। লোকটিকে সময় না দিয়ে আমি যদি আম্মার কথামতো বাড়ি ফিরে যেতাম, তাহলে বিদায়কালে আব্বা আমাকে কাছে পেতেন, আর আমিও আব্বার এ চির বিদায়ের কালে কাছে থেকে দোয়া-দরূদ পড়ে, বিদায় জানানোর সুযোগটা পেতাম। না পারার এ বেদনাটা আজও আমাকে কষ্ট দেয়!

বীথি : প্রিয়জনকে নিয়ে কোন কবিতা লিখেছেন?
চৌধুরী : শুধু কবিতা না, প্রিয়জনকে নিয়ে যাই লিখতে যাই, আবেগটা এত প্রবলভাবে চলে আসে যে, কোন কিছু লিখতে যেয়ে আর লেখা হয় না।

বীথি : কার আদর্শে অনুপ্রাণিত হন?
চৌধুরী : অবশ্যই আমার জান্নাতবাসী আব্বার। আব্বা চেয়েছিলেন আমরা লেখাপড়া করে মানুষ হই, সেজন্য তিনি ত্যাগ স্বীকার করেছেন প্রচুর, আমরা বড় হবার পরও তিনি নিজ হাতে বাজার করেছেন, যতদিন সুস্থ শরীরে ছিলেন আমাদেরকে বাজারে যেতে দেননি। তিনি বলতেন দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ভাল জায়গা মসজিদ, আর সবচেয়ে খারাপ জায়গা হলো বাজার।
তাঁকে প্রায়ই দেখতাম গাড়ী থেকে নেমে রিকসায় না চড়ে তিনি পায়ে হেঁটে তার কর্মস্থলে যেতেন। ফেরার পথে একইভাবে রিকসার বদলে পায়ে হেঁটে গাড়ী পর্যন্ত আসতেন। তিনি কষ্ট করে এ রিকসা ভাড়াটা বাঁচাতেন আমাদের বই-খাতা বাঁধাইয়ের জন্য, তাছাড়া তাঁকে কখনও দামী জুতা পরতে দেখিনি। অথচ আমাদেরকে ঠিকই বছরে একবার বাটার জুতা (তখন বাটার জুতাই ছিল উন্নতমানের) কিনে দিতেন। এভাবে অসংখ্য উদাহরণ আছে যা চলতে ফিরতে আমাদের অনুভবের অলিন্দে আজো ঠোকা মারে। তাঁর সততা, তাঁর কর্তব্য নিষ্ঠা, তাঁর নির্লোভ ও নির্মোহ জীবন এক কথায় তাঁর চরিত্রের সবগুলো বৈশিষ্ট্যই আমাদের জীবনের আদর্শ। আমরা ভাই-বোনেরা আমাদের আব্বার জন্য গর্ববোধ করি। আল−াহ যেন তাঁকে জান্নাত দান করেন।

বীথি : কবিতা বলতে আপনি কী বোঝেন? কবিতায় প্রেম কতটা জরুরী।
চৌধুরী : উত্তরটার ব্যাপকতা এমন যে, এক কথায় বুঝিয়ে বলাটা মুশকিল। সংক্ষেপে কবিতা হল, সমাজ বদলের এক শৈল্পিক অস্ত্র। আর কবিতায় প্রেম ততটাই জরুরী যতটা জরুরী তরকারিতে লবণের।

বীথি : আপনার কবিতার মধ্যে প্রেম কতটুকু আছে? কবিতা ছাড়া আর কী লেখেন?
চৌধুরী : শুধু মানব-মানবীর প্রেমইতো আর প্রেম না। সে হিসেবে আমার কবিতার পুরোটাই প্রেমময়। যেমন-কবি আফজাল চৌধুরী ‘দশ আকাশ একশ তারা’ কাব্যগ্রন্থে’র কাব্য সমালোচনায় আমাকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, আমার কবিতায় নাকি প্রলেতারিয়েতের দুঃখ-বেদনা উঠে এসেছে অত্যন্ত নিপুণ হাতে। যদি তাই হয়, এ দুঃখ-বেদনাবোধটাতো আসে প্রেমিক হৃদয় হতে। তাছাড়া মানব-মানবীর যে প্রেম তা-ও আমার কিছু কবিতায় হাল্কাভাবে এসেছে। কবিতা ছাড়াও আমি গল্প লেখার চেষ্টা করি।

বীথি : আজকের অবস্থান থেকে পেছন পানে চাইলে কী কথা মনে পড়ে?
চৌধুরী : আমার একটা কবিতার কিছু পংক্তি দিয়ে এর উত্তরটা দেই-
হেলায় হেলায় কাটিয়ে বেলা, এসে সন্ধ্যাপারে
দিন হারিয়ে দিন গুনছি, পাব কি আর তারে!

বীথি : বাংলাদেশকে আপনি কেমন দেখতে চান?
চৌধুরী : আর দশটা নাগরিক যেমন চায়, আমার চাওয়াও তেমনি। তবে ‘কবি’র ভাষায় বলতে গেলে বলব-‘সবুজ ঘাসের বুকে শেফালীর হাসি’র মত যেন হাসতে থাকে আমার বাংলাদেশ।

বীথি : একজন নতুন লেখকের জন্য আপনার পরামর্শ কি?
চৌধুরী : নিজের পড়াশোনাটা খুবই কম মনে হয়, তবুও নতুন লেখকদের বলব, যখনই সময় পাওয়া যাবে বই পড়তে হবে এবং বই পড়তে কোন বাছ-বিচারের দরকার নেই। এটা অমুকের, ওটা তমুকের এভাবে করে নিজেকে ঠকিও না, আর দলবাজি থেকে থাকো নিরাপদ দূরত্বে।

বীথি : একজন ভাল লেখক হতে হলে কী গুণ থাকতে হবে?
চৌধুরী : অবশ্যই প্রচুর পরিশ্রমী হতে হবে।

বীথি : প্রবাসে সাহিত্যচর্চা সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?
চৌধুরী : প্রবাস জীবন সর্বদাই ব্যস্ততায় ভরা। এ ব্যস্ততার মধ্যেও যারা লেখালেখি করছেন, বলতে হবে তাদের সাহস আছে।

বীথি : জীবনে কি হতে চেয়েছিলেন?
চৌধুরী : নির্দিষ্ট কোন ‘এম্বিশন’ ছিল না।

বীথি : আপনার শুভাকাঙ্খী বা পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন কী?
চৌধুরী : আমি যা বিশ্বাস করি তাই,লেখার চেষ্টা করি। জোড়াতালি দিয়ে কিছু লিখে পাঠকদের প্রতারিত করতে চাইনা-এটুকু বলতে পারি নির্দ্বিধায়। শুভাকাঙ্খী-পাঠকদের বলব আমার লেখা পাঠের পর তাদের ভাল-মন্দ মন্তব্যটাই আমাকে আরো লিখতে উৎসাহ যোগায়।

বীথি : একজন কবি হিসেবে আপনার অনুভব কেমন বলবেন কী?
চৌধুরী : প্রথমতঃ বলি, নিজেকে কখনও কবি ভাবিনি। ভাবি কাব্যপ্রেমিক। যে টুকটাক লেখালেখি, তার বিনিময়ে পেয়েছি মানুষের অফুরন্ত ভালবাসা। ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে। এখানে একটির কথাই বলি তখন আমি সুনামগঞ্জে চাকরি করতাম। অফিসে আমার এক কলিগ ছিলেন, নতুন কিছু লিখলে তাকে প্রায়ই পড়ে শোনাতাম। ধীরে ধীরে সে আমার লেখার এতটা ভক্ত হয়ে গেল যে, একবার দাওয়াত দিল তার বাড়িতে বেড়াতে যেতে। তার বাড়িতে গিয়েতো আমি অবাক! সাধারণ সাইজের থেকে একটু বড় একটা হাতপাখা ঘরের একটা দেয়ালে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা। তাতে রঙিন সুতোয় লেখা-
‘আমার গলিত লাশের সন্ধানে কেউ না এলেও জানি
জিয়ারতে আসবে তুমি ঘুরলে বছর খানি
যদি না কেউ দেয় ছিটিয়ে একটু গোলাপজল
সমাধিটায় পড়বে জানি তোমার চোখের জল!’
জানেন, এটা আমার একটি কবিতার প্রথম চার পংক্তি। আমার কবিতাটি তার স্ত্রীর নাকি এতটা ভাল লেগেছিল, নিজ হাতে তৈরি বেতের পাখায় তা লিখে রেখেছিল। বলুনতো কবি হিসেবে সাধারণের কাছ থেকে এর চেয়ে বড় পাওনা আর কী হতে পারে।

বীথি : দেশে কিছু করার ইচ্ছে আছে কী?
চৌধুরী : অনেক কিছুইতো করার ইচ্ছে। দরকার সাধ আর সাধ্যের সংমিশ্রণ।

বীথি : আপনার জীবনে অপরিপূর্ণ কোন কিছু আছে কী?
চৌধুরী : তেমন বড় কিছু কোনদিন চাইনি। যে কারণে আমার চাওয়া আর পাওয়ার ব্যবধানটা একেবারেই শূন্য। অতএব একটা পরিতৃপ্ত জীবন নিয়েই আমি বেঁচে আছি।

বীথি : আলাদীনের চেরাগ পেলে কী করবেন?
চৌধুরী : আগেই বলেছি, আমার তেমন কিছু চাওয়ার নেই। তবে ঐ চেরাগটা যদি আপনা-আপনি ধরা দেয়, মানুষের কল্যাণেই তা কাজে লাগাব।

বীথি : আপনি কী এখনো নিজেকে মনের দিক থেকে সুখী মনে করেন?
চৌধুরী : আমি অসুখী-এ কথা বলা মানে নিজ প্রতিপালকের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। আলহামদুলিল্লাহ্, আমি শতভাগ সুখী।

বীথি : লেখালেখির ক্ষেত্রে কোন বিষয় নিয়ে লিখতে স্বাচছন্দ্যবোধ করেন?
চৌধুরী : গ্রামীণ পটভূমিই মূলতঃ আমার লেখার উপজীব্য।

বীথি : কিসের তাড়নায় আপনি কবিতা লেখতে বাধ্য হন?
চৌধুরী : প্রথমদিকে নিতান্তই শখের বশে কবিতা লেখা। এখন অবশ্য ভাবি, রাজনীতিবিদরা হাজার-হাজার মানুষ জড়ো করে তাদের সামনে বক্তৃতা দেবার সুযোগ পায়। আমিতো আর রাজনীতিবিদ না, মানুষ জড়ো করে নিজে যা ভাবি তা ব্যক্ত করার সুযোগ আমার নেই। যদি ভাবনাগুলো কবিতায় ফুটিয়ে তুলি, আর পাঠকেরা পড়ে তা থেকে উপকৃত হয়, ওখানেই আমার সার্থকতা। এক কথায়, মনের তাড়না থেকে কবিতা লেখা।

বীথি : প্রথম কবিতা লেখার অনুভ‚তি কেমন ছিলো?
চৌধুরী : আগের অনুভ‚তিটা ঠিক মনে নেই। তবে লেখার পরে লেখাটি বার বার পড়ছিলাম, আর কাউকে দেখানোর জন্য উসখুশ করছিলাম।

বীথি : বর্তমান সময়ে কার লেখা পড়ে আপনি আনন্দ পান।
চৌধুরী : কবিতায় আবু হাসান শাহরিয়ার। গল্পে তেমন নির্দিষ্ট কেউ না।

বীথি : কবিতাকে পাঠকের কাছে নিয়ে যাবার জন্য কবিতা কেমন হওয়া উচিত?
চৌধুরী : জীবন ঘনিষ্ঠতাও একটু সহজবোধ্যতা এ দু’য়েরই প্রয়োজন আছে বেশি।

বীথি : কী খেতে ভালবাসেন?
চৌধুরী : আম্মার হাতে বানানো আচার আর কড়কড়ে মুড়ির লাডডু।

বীথি : এত খাবার থাকতে মুড়ির লাড্ডু পছন্দ করেন কেন ?
চৌধুরী : লাড্ডুটা পৃথিবীর মতই গোল। আর তার মধ্যকার যে মিঠা তাতো পৃথিবীর মোহময়তারই অন্যরূপ। লাড্ডুর প্রতি আকর্ষণের কারণ হয়ত এটাই।

বীথি : প্রিয় পোশাক?
চৌধুরী : নির্দিষ্ট কোন পোশাকে আমার আকর্ষণ নেই। তবে ঘরে থাকলে লুঙ্গি আর কোর্তা।

বীথি : কি অপছন্দ করেন?
চৌধুরী : মানুষের ভন্ডামী আর ভাঁড়ামি।

বীথি : আপনার শখ?
চৌধুরী : চিরায়ত বাংলার ছায়া সুনিবিড় গ্রামগুলো ঘুরে ঘুরে দেখা।

বীথি: এ পর্যন্ত কতগুলো গ্রামে ভ্রমন করেছেন। বিশেষ জায়গা বা গ্রামের কিছু স্মৃতি কথা বলুন?
চৌধুরী : প্রায় ১০হাজার গ্রাম নিবিড়ভাবে ঘুরে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। গ্রামগুলোকে নিয়ে অনেক অনেক মধুময় স্মৃতির একটা কথাই বলি এখানে। মৌলভীবাজার এর কুলাউড়া উপজেলার সিংগেরপুঞ্জি গ্রাম। মূলত এটি খাসিয়া পল্লী। এ পল্লীরই প্রধান (স্থানীয়রা ডাকে মন্ত্রী বলে) বড়দিন উপলক্ষে আমাকে নিমন্ত্রণ করলেন তাদের ওখানে যাবার জন্য। ২০০০ সালের ঘটনা এটি। আমি আমার ছোটবোন ও এক তহশিলদার বন্ধুকে নিয়ে দুপুরের দিকে উপস্থিত হই ওই গ্রামে। তারা আমাদেরকে নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ল। কয়েকটা ছোট ছোট পাহাড়কে ঘিরে সুন্দর ছিমছাম গ্রাম এটি। সারাটা গ্রাম ঘুরে ঘুরে দেখালো তারা। পানের বরজ, কাছের চা বাগান থেকে নিয়ে গ্রাম ও তার আশপাশের উল্লেখযোগ্য সবকিছু। এক সময় নিয়ে গেল তাদের বড়দিনের মূল অনুষ্ঠানস্থলে অতিথি হিসেবে। এমনকি তাদের প্রসাদ বিতরণটা আমাকে দিয়েই উদ্বোধন করালো। তারা জানত আমাদের তখন রোজার মাস। আমরা রোজা বলে আমাদের কিছু খাবার জন্য বলেনি তখন। ইফতারের আগেই মৌলভীবাজার পৌঁছাতে হবে বলে আমরা যখন আসার কথা বললাম, তখনতো তারা একেবারে অস্থির-আরে বলেন কি? আমরা যে আপনাদের জন্য এখানেই ইফতারের আয়োজন করেছি। এখানে এসেছেন আর না খেয়ে যাবেন তা কি করে হয়। ইত্যাদি ইত্যাদি।
ইফতার খেতে বসতেই আমাদের চক্ষু চড়কগাছ। ছোলা, পিয়াজু, খেজুর থেকে নিয়ে সব আইটেমই আছে এখানে। এমনকি কাছের ব্রাম্মণবাজারের নামকরা মিষ্টির দোকানের মিষ্টি জিলাপিও ছিল এ ইফতারিতে। তারা আমাদের জন্য মুসলমান মহিলা দিয়ে পাকের আলাদা ব্যবস্থা করেছিল সেদিন। খেতে খেতে মন্ত্রী (পুঞ্জীর প্রধান) জানালেন এসব। তিনি অনুরোধ করছিলেন আমরা যেন পুরো রাতটা ওখানে কাটাই এবং তাদের রাতের অনুষ্ঠানটা ও উপভোগ করি। আসলে আমরা সেভাবে প্রস্তুত হয়ে যাইনি বলে খাবার পর পরই চলে আসি। খুবই অনুরোধ করছিল উপস্থিত সবাই। কিন্তু যখনই জানালাম তারাবী পড়তে হবে মৌলভীবাজার গিয়ে তখন আর থাকার জন্য জোর করেনি। আসার বেলা মন্ত্রী তার পরিবারের পক্ষ থেকে যে গিফটা দিলেন, ওটাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ গিফট হিসেবে মনে করি। আমাকে এত খাতির যত্ন করার কারণ কি জানেন? আমার এক গণশিক্ষার শিক্ষকের কাছ থেকে মন্ত্রী (পুঞ্জীর প্রধান) জেনেছিলেন আমি একজন কবি। মূলত তাই। বাংলাদেশের ১০ হাজারের মত গ্রাম ঘুরে দেখা এটা দেশ ভ্রমণের চেয়েও আমার কাছে বিরাট এক অর্জন। যদি সুযোগ হত, বাকী গ্রামগুলোও এভাবে ঘুরে ঘুরে দেখতাম।

বীথি: খাসিয়া পল্লীর প্রধান কী গিফট করেছিলেট আপনাকে?
চৌধুরী : দুর্লভ পাহাড়ী ব্যংঙের ছাতা। যেটি মন্ত্রী (পুঞ্জীর প্রধান) তার শোকেসে যতœ করে রেখেছিলেন বহূ বছর।

বীথি : কাকে সবচেয়ে বেশি মিস করেন?
চৌধুরী : আম্মাকে। আব্বা নেই, স্মৃতি শুধুই পোড়ায়।

বীথি : আপনার সাথে কথা বলে যতটুকু বুঝলাম আপনার কথায় কোন মারপ্যাঁচ নেই। সোজাসাপ্টা কথা বলেন। আপনার স্পটবাদিতা আমাকে মুগ্ধ করেছে।
চৌধুরী : সত্যি বলতে কি। আমার স্পটবাদিতা আমাকে অনেক ভুগিয়েছে, তারপরও আমি বিশ্বাস করি-মুখোশ পরে যারা চলাফেরা করে তারা কাপুরুষ।

বীথি : অবসর সময় কী করেন?
চৌধুরী : প্রবাসের জীবনের সাথে ‘অবসর’ শব্দটা একেবারেই বেমানান। কতটা অবসর পাই আপনাকে বোঝাবার জন্য বলি- সকালে আমাকে ঘুমে রেখে স্ত্রী যায় কাজে। পথে সন্তানদের স্কুলে গাড়ি দিয়ে নামিয়ে দিতে হয়। সকাল ১০/১১ টার দিকে ঘুম থেকে উঠে ধর্মকর্মসহ প্রাত্যহিক কাজেই সময় পার। বিকেলে স্কুল থেকে বাচ্চাদের এনে তাদেরকে খাইয়ে দাইয়ে নিজে কাজের জন্য তৈরি হওয়া। স্ত্রী কাজ থেকে ঘরে ফেরার সাথে সাথে বাচ্চাদের তার হাতে সঁপে দিয়ে নিজে কাজে বেরুনো। রাত যখন ৩/৪টা (কখনো কখনো ভোর ৬টায়) ঘরে ফিরি, বউ-বাচ্চারা তখন গভীর ঘুমে। বলুন তো এখানে অবসরটা কোথায়।

বীথি : অনেক কথা হল। কষ্ট করে সময় দেয়ার জন্য সিলেটের প্রথম অনলাইন পত্রিকা ‘সিলেট এক্সপ্রেস’র পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।
চৌধুরী : আপনাকেও ধন্যবাদ। সেই সাথে আপনার মাধ্যমে সিলেট এক্সপ্রেসের সকল পাঠক, লেখক, শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ।



   অন্য পত্রিকার সংবাদ  অভিজ্ঞতা  আইন-অপরাধ  আত্মজীবনি  আলোকিত মুখ  ইসলাম ও জীবন  ঈদ কেনাকাটা  উপন্যাস  এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল  কবিতা  খেলাধুলা  গল্প  ছড়া  দিবস  দূর্ঘটনা  নির্বাচন  প্রকৃতি পরিবেশ  প্রবাস  প্রশাসন  বিবিধ  বিশ্ববিদ্যালয়  ব্যক্তিত্ব  ব্যবসা-বাণিজ্য  মনের জানালা  মিডিয়া ওয়াচ  মুক্তিযুদ্ধ  যে কথা হয়নি বলা  রাজনীতি  শিক্ষা  সমসাময়ীক বিষয়  সমসাময়ীক লেখা  সমৃদ্ধ বাংলাদেশ  সাইক্লিং  সাক্ষাৎকার  সাফল্য  সার্ভিস ক্লাব  সাহিত্য-সংস্কৃতি  সিটি কর্পোরেশন  স্বাস্থ্য  স্মৃতি  হ য ব র ল  হরতাল-অবরোধ