জীবনের শেষ দিনটিতেও কবি কালাম আজাদ জ্ঞান বিলিয়ে যাবেন
   21 Oct 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 25 October 2015 সাক্ষাৎকার  (পঠিত : 4003) 

জীবনের শেষ দিনটিতেও কবি কালাম আজাদ জ্ঞান বিলিয়ে যাবেন

জীবনের শেষ দিনটিতেও কবি কালাম আজাদ জ্ঞান বিলিয়ে যাবেন
     

তাসলিমা খানম বীথি:- বাংলাদেশের শেষ সীমা, সিলেট জেলার উপজেলা জকিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ফুলতলী গ্রামে ১৬ আগস্ট ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহন করেন কবি কালাম আজাদ। বাবা মরহুম আলহাজ হবিবুর রহমান খান, মা মরহুমা আয়শা চৌধুরী এষা। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ভাইবোনদের মধ্যে দ্বিতীয় গোলাম মোস্তফা খান (অব.) এ.টি.ও। তৃতীয় বোন রুবিয়া খানম, চতুর্থ সালেহা খানম, পঞ্চম রেহানা সুলতানা, ষষ্ট অধ্যাপক কবি বাছিত ইবনে হাবীব, সপ্তম গোলাম কিবরিয়া খান একটি মেডিসিন কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কাজ করছেন।

সিলেটের সাহিত্যাঙ্গনে প্রিয় একটি মুখ কবি কালাম আজাদ। পুরো নাম মো: আবুল কালাম খান আজাদ। তিনি সবার কাছে কবি কালাম আজাদ নামে পরিচিত। তিনি একাধারে শিক্ষক, কবি, সাহিত্য সমালোচক ও প্রাণবন্ত একজন ব্যক্তিত্ব। যে কোন বয়সে যে কোন মানুষের সাথে সহজে মিশে যেতে পারেন এবং দেখা হলেই হাসিমুখে টেনে নেন কাছে।

কবি কালাম আজাদ ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে ইতিহাসের অধ্যাপক ও ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবে যোগদান করেন। শিক্ষকতা পেশায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। একাধারে ৩৩ বছর এই কলেজে শিক্ষা সেবা দিয়েছেন তিনি। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে কবি কালাম আজাদ অবসরে গিয়েও নিজেকে অবসর দেননি। একই বছর সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহরস্থ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। ২০১০ সালে সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে এরও প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হিসেবে যোগ দিয়ে এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। কবি কালাম আজাদকে বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন সময় সংবর্ধিত করেছে। সর্বশেষ বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচং-এর ইকরাম নন্দপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের খোলা মাঠে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তাঁকে ডা. এ. রসুল সাহিত্য পুরষ্কার ২০১৫ প্রদান করা হয়।

কবি কালাম আজাদ ৫ মে ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে রোকসানা আজাদ রীনা’র সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতি তিন সন্তানের জনক। আয়শা শুচি, নাহিদ সুমি এবং হাসান শাওন। তার তিন সন্তানই প্রতিষ্ঠিত এবং নিজ সংসারে কর্তাকর্ত্রী।

মহৎ কর্মের মাঝেই জীবনের সাফল্য। শেখ সাদী বলেছেন- জীবনের ‘পরিমাপ দৈর্ঘ্যে প্রস্থে নয়, কর্মের মাধ্যমে তার মাপজোক হয়’। কবি কালাম আজাদ শেষ বয়সে এসেও একজন সফল মানুষ। ৬৯ বছর বয়সও শিক্ষকতার মহান পেশায় এখনো নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন তিনি। জীবনের শেষ দিনটিতেও কবি কালাম আজাদ জ্ঞান বিলিয়ে যাবেন।

সিলেটের প্রথম অনলাইন দৈনিক সিলেট এক্সপ্রেস ডট কম-এর পক্ষ থেকে কবি কালাম আজাদ’র একটি সাক্ষাতকার গ্রহণ করা হয়। ৩০ জানুয়ারী ২০১৫ সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ তার নিজ কলেজ কার্যালয়। সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেন সিলেট এক্সপ্রেস-এর স্টাফ রিপোর্টার তাসলিমা খানম বীথি এবং আলোকচিত্রী হিসেবে সাথে ছিলো সিলেট এক্সপ্রেসের রির্পোটার মাহমুদ পারভেজ।

বীথি: কবে থেকে লেখালেখি শুরু করেছেন? প্রথম লেখা কী ছিলো এবং কতো সালে?
কালাম আজাদ: ভোর শৈশব থেকে আমার লেখালেখি শুরু। সেই ১৯৬২ সালের দিকে। আমার লেখালেখি শুরু প্রথমে কবিতা দিয়ে। তবে প্রথম প্রকাশিত লেখা ছিলো একটি প্রবন্ধ "ফুলতুলি" আশেপাশে’ নামে আর কবিতা ছিলো ‘একুশের সওগাত’ ১৯৬৪ কিংবা ১৯৬৫ সালের দিকে ছিলো সেই লেখা। মাসিক জালালাবাদ নামের একটি ম্যাগাজিনে আমার প্রথম কবিতাটি বের হয়।

বীথি: লেখালেখিতে কাদের উৎসাহ ছিলো বেশি?
কালাম আজাদ: উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে কবি দিলওয়ার আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। আমি যখন লেখালেখি শুরু করি তখন তেমন কাউকে পাইনি উৎসাহ দিতে। কবি দিলওয়ার আমাকে পথ দেখান। তবে আমার স্কুল শিক্ষকদের মধ্যে আব্দুর রহিম জকি তিনিও উৎসাহ দিয়েছেন।

বীথি: কবি দিলওয়ারের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন ছিলো?
কালাম আজাদ: সাহিত্যিক অর্থে মুর্শিদের মত মানে পীর ফকিরের সাথে যেমন সম্পর্ক ঠিক সেরকম সম্পর্ক ছিলো। তিনি কবিতা লেখে বলেছেন ”কালাম আজাদ তোমার কবিতা চাই, তোমার কবিতা হৃৎপিন্ডের ধ্বনি

বীথি: এই পর্যন্ত কতগুলো বই বের হয়েছে এবং নতুন বই বের করার পরিকল্পনা আছে কী?
কালাম আজাদ: এই পর্যন্ত ৯টি বই বের হয়েছে। তবে কল্পনা আছে পরী নাই। যদি আল্লাহর হুকুম হলে ইনশা আল্লাহ বই বের করব।

বীথি: আপনার শৈশব কৈশোর কোথায় কেটেছে? শৈশবের যে দুরন্তপনার কথা মনে পড়ে কী?
কালাম আজাদ: ফুলতলী গ্রামে আমার শৈশব কৈশোর কেটেছে। সবারই কিন্তু শৈশব কৈশোর মধুর স্মৃতি থাকে। আমারও তেমনি মধুর স্মৃতি রয়েছে। শৈশবে আমি যখন মায়ের সাথে নানা বাড়ি যেতাম। তখন আমার মায়ের মামাতো ভাই শওকত মামা আমাকে তার ঘাড়ে বসিয়ে বাড়িতে নিয়ে যেতেন। এই স্মৃতিটা আমাকে খুব আনন্দ দেয়।

বীথি: কার লেখা বই বেশি পড়া হয়?
কালাম আজাদ: আমি ক্লাসিক বেশি পড়ি। উপন্যাসের মধ্যে তারাশংকর বন্দোপাধ্যায়, সর্বোপরি রবীন্দ্রনাথের সব কিছু। কবিতা, ছোট গল্প ইত্যাদি। আর বাংলাদেশের মধ্যে কবি ও লেখক আব্দুল মান্নান সৈয়দ।

বীথি: কবিতা বলতে কী বুঝেন?
কালাম আজাদ: কবিতা বলতে মহাকালের চিত্র বুঝি। আমার কবিতার কয়েকটি লাইন দিয়ে বলি কবি তুমি, জেনে রাখ,
শুনে রাখো ইতিহাস বলে
কবিতায় মহাকাল পায় নিজ দেহের আকার
তোমার কবিতা এই অকালেরই মহান উদ্ধার।

বীথি: লেখালেখির ক্ষেত্রে কোন বিষয় লিখতে স্বাচ্ছন্দ্য মনে হয়?
কালাম আজাদ: প্রেম ও প্রকৃতি নিয়ে লিখতে স্বাচ্ছন্দ্য লাগে।

বীথি: আপনার কবিতার মধ্যে প্রেম কতটুকু আছে?
কালাম আজাদ: মানুষ ছাড়া আর কারও ভাষা নেই কেন? মানুষের ভাষা সৃষ্টি ও স্রষ্টার প্রতি তার প্রেম প্রকাশের জন্য। আমার কবিতার প্রতিটি শব্দ মানুষের প্রতি আমার প্রেমের অভিজ্ঞান। আমি প্রেমের জন্যই যুদ্ধে বিশ্বাসী। কবি হিসেবে ব্যর্থ হলেও মানুষের জন্য আমার একটি শব্দ আমি, আপনাকে, তোমাকে, তোকে এবং তাকে ভালোবাসি।

বীথি: আপনার কবিতার বিষয়বস্তু সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়েছে কী?
কালাম আজাদ: সময়ের সাথে আমার কবিতা অবশ্যই পরিবর্তিত হয়েছে। প্রত্যেক কবি তার সময়ের চিত্রকর। মানসিকতা সময়েই নির্ধারন করে দেয়। চিরকালিনতা আত্মার বিষয় ঐতিহ্য হিসেবে নির্ধারন করেছেন।

বীথি: কবি না হলে কী হতেন?
কালাম আজাদ: এখনকার জীবনে আমার আনন্দ। তবে সমাজ আর ফুলের চাষ এর অর্থ কী? অর্থ হচ্ছে আমি চিরকালের একজন কৃষক, কবি হলেও কৃষক না হলেও তাই। কারন আমি আমার জীবনে সেই প্রাচীনতম কৃষককেই বহন করে চলেছি।

বীথি: কবি হিসেবে নিজেকে কতটুকু সফল ভাবেন?
কালাম আজাদ: কবি হিসেবে সফল ভাবার মত কিছ্ইু করতে পারিনি। যারা কবির অভিধা দিয়েছেন তারাই এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারবেন।

বীথি: আপনি একজন শিক্ষক এবং কবি কোন পরিচয় দিতে আপনার ভালো লাগে?
কালাম আজাদ: কী মুশকিল! আমার কবিতায় শিক্ষক সত্তা বড় হয়ে এসেছে। শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিতি বেশি। কিন্তু কবির সুনামটাই বেশি কাম্য। তাই না..।

বীথি: শিক্ষকতা পেশার ক্ষেত্রে কোন দায়িত্বটা আপনাকে সবচেয়ে বেশি তাড়িত করে?
কালাম আজাদ: ক্লাশ করেছি ২ বছর। ৩৮ বছর প্রিন্সিপাল। ক্লাসে আনন্দ পাই। পড়াশোনাকে আনন্দ হিসেবে উপভোগ করি।

বীথি: কিসের তাড়না আপনাকে কবিতা লেখতে বাধ্য করে?
কালাম আজাদ: এক ধরনের অতিন্দ্রিয় অনুভূতি যার সঠিক ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব নয়। বলা যায় কোন একটি চিন্তার অভিঘাত যা প্রকাশ না পেলে স্বস্তি দেয় না।

বীথি: জীবনের প্রথম কবিতা লেখার অনুভূতি কেমন ছিলো?
কালাম আজাদ: স্বর্গীয় অনুভূতি ছিলো।

বীথি: একজন ভালো লেখক হতে হলে কী গুণ থাকতে হবে?
কালাম আজাদ: আমি নিজেই তো ভালো লেখক না। তো কী করে বলি ভালো লেখকের গুনাবলি। ধীবরের ধৈর্য্য আর বিশাল ব্যাপ্ত অধ্যয়নের মাধ্যমে একজন ভালো লেখক হওয়া যায় বলে বিশ্বাস করি।

বীথি: নতুন লেখকের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
কালাম আজাদ: নতুন লেখকের জন্য আমার পরামর্শ হলো অধ্যয়ন আর অধ্যয়ন এবং লেগে থাকা।

বীথি: আপনার একটি গুনের কথা বলেন যা সবাই জানে না?
কালাম আজাদ:আমি সত্যিকার্থে একজন বে-গুন মানুষ। কিন্তু বেগুন তরকারিও আজকাল ৮০টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। কিছু ভালো মানুষ আমাকেও ৮০ টাকা দামে কিনে ফেলেন। রহস্যটা কী তা আমি আজও জানি না। একটা গোপন কথা বলি আমি আমার স্ত্রীকে প্রচন্ড ভালোবাসি। সে সেটা জানে না বিশ্বাসও করে না। এক গোপন গুনের কথা বললে আমার সে গুনটি নাম ভালোবাসা।

বীথি: আপনার পরিবার সর্ম্পকে কিছু বলুন?
কালাম আজাদ: পরিবার বলতে আমি আর রীনা আমাদের তিন সন্তান। তিন জনই নিজস্ব সংসারের কর্তাকর্ত্রী। দুই মেয়ে এক ছেলে। তারা এখন সবাই প্রতিষ্ঠিত।

বীথি: দেশের উন্নয়নে লেখকরা কী ভূমিকা রাখতে পারে?
কালাম আজাদ: আমার ধারনা আপনারা যে বাংলাদেশ দেখছেন সেটির মূল স্রষ্টা এদেশের লেখকরা। যে অগ্রগতি দেখছেন সেটির ৮০ শতাংশ লেখকদের অবদান। আর ভবিষ্যতে যেটুকু ঘটবে তাও ওদের কল্যানে হবে। মনে রাখবেন কবিরাই ভবিষ্যত পৃথিবীর দ্রষ্টা। লেখকরাই জগতের অলিখিত আইন প্রণেতা। শেক্সপিয়র, মিলটন, রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ সকলেই আপনাদের সৃষ্টি। আপনারা না পড়লে কেউ কবি হতে পারতেন না। ধরে নিচ্ছি আপনারা অনেকেই সিলেটের মানুষ। আপনারা কী জানেন সিলেটের একজন কবি পৃথিবীকে নির্দেশ দিয়েছেন ‘ হে পৃথিবী নিরাময় হও’ অথবা ‘বলিও আমার প্রেম ঈশ্বরের ভস্ম নয় ভূমা’। আরেকজন বলেছেন, ‘ পৃথিবী স্বদেশ যারা আমি তার সঙ্গী চিরদিন’। আমাকে নাই পড়ুন সিলেটের কবি আফজাল চৌধুরী ও কবি দিলওয়ারকে দয়া করে অবশ্যই অবশ্যই পড়ুন .......প্লিজ পড়ুন।

বীথি: বাংলাদেশ নিয়ে আপনার স্বপ্নের কথা বলেন?
কালাম আজাদ: বাংলাদেশের সকল কিছু নিয়ে আমি আশাবাদী শুধু রাজনৈতিক ছাড়া। আমার বন্ধু হেলাল হাফিজের উক্তিটা এখানে নিজের বলে চালিয়ে দিতে চাই ‘আমাদের ধর্ম ও রাজনৈতিক দুটোই এখন ভুল মানুষের হাতে’।

বীথি: আপনার কেন মনে হচ্ছে বাংলাদেশ ভুল মানুষের হাতে?
কালাম আজাদ: প্রতিশোধের আগুনে একটা জাতিকে পুড়িয়ে মারার প্রতিযোগিতা যখন হয় তখন রাজনৈতিক কুশিলবদেরকে ভুল মানুষ বলে উপায় আছে।

বীথি: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোন স্মৃতি মনে পড়ে কী?
কালাম আজাদ: মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। বলতে হত দারুল ওলুমে পড়ি তালেবুল ইলেম। জকিগঞ্জে প্রথম ব্যক্তি যার পিঠে চাবুক পড়েছিল। ফেরার ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার সাহস ছিল না। জাতিসত্তার প্রসব কালে .....বেদনার অংশীদার হিসেবে গৌরব আর লজ্জা দুটো অনুভব করি। শান্তনা এই যে স্বাধীনতার মহাকাব্যটি রক্তে আকড়ে লেখা হয়েছে আমাদের চোখের সামনে।

বীথি: যে স্বপ্ন আপনাকে ঘুমাতে দেয় না?
কালাম আজাদ: ডাক্তারদের কাছ থেকে প্রিয় রেসিপি গুলো খাওয়ার অনুমতি।

বীথি: নিজেকে কতটুকু সুখি মানুষ মনে হয়?
কালাম আজাদ: পাগল নাকী। যাদের মন আছে। তারা কী সুখী মানুষ হতে পারে। আমার সুখ সে কবিতার সুখ। মদ্য, মাংস ক্ষমতার আগুনে পুড়ছি না এটিই আমার সুখ, এটিই আমার শান্তনা।

বীথি: আজকের অবস্থান থেকে অতীতের দিকে তাকালে কী কথা মনে পড়ে?
কালাম আজাদ: আমি হিসেব করতে চাই না। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলি, যা পেয়েছি সেই টুকুতেই খুশি আমার মন।

বীথি: আগামী প্রজন্মকে কেমন দেখতে চান?
কালাম আজাদ: আমি আশাবাদী। আপাতত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে বর্তমান প্রজন্ম কিছুটা হলেও বিভ্রান্ত। কিন্তু দুরাশা সহসাই কাটবে। বর্তমান প্রজন্মরা চৌকোসমান, দূঃসাহসী এবং দূর্বার।

বীথি: জীবনে কী কখনো প্রেম করেছেন?
কালাম আজাদ: প্রেম আমি করেই চলেছি। আপাতত চারজন প্রেমিকা। সেই প্রেমিকারা হচ্ছে আমার স্ত্রী রীনা, নাতনী আনুশকা, অন্বেষা আর রায়া।

বীথি: কী খেতে ভালোবাসেন?
কালাম আজাদ: বলব না। কারন কবিরাজরা সব প্রিয় খাদ্যগুলো নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন (যেমন-গরুর কলিজা)।

বীথি: প্রিয় লেখক?
কালাম আজাদ: জীবনানন্দ দাশ।

বীথি: শখ?
কালাম আজাদ: বাগান করা, টিভি দেখা আর গান শোনা।

বীথি: কার গান শুনেন?
কালাম আজাদ: হেমন্ত মুখোপাধ্যয় ও মেহেদী হাসানের গজল।

বীথি: প্রিয় পোশাক?
কালাম আজাদ: প্রফেশনাল ড্রেস।

বীথি: জীবনে কী হতে চেয়েছিলেন?
কালাম আজাদ: একজন ভালো মানুষ কিন্তু এখনো হতে পারেনি।

বীথি: কেন হতে পারেননি?
কালাম আজাদ: কতিপয় ঘোড়া রোগের জন্য।

বীথি:অবসরে কী করেন?
কালাম আজাদ: আপাতত নাতি নাতনিদের সাথে খুনসুটি করতে ভালোবাসি। তবে সব সময়ের জন্য পড়াশোনা।

বীথি: সিলেট এক্সপ্রেসের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।
কালাম আজাদ: তোমাকে ও সিলেট এক্সপ্রেসকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ।







আরোও ছবি

জীবনের শেষ দিনটিতেও কবি কালাম আজাদ জ্ঞান বিলিয়ে যাবেন
জীবনের শেষ দিনটিতেও কবি কালাম আজাদ জ্ঞান বিলিয়ে যাবেন

Free Online Accounts Software