Sylhet Express : সিলেট এক্সপ্রেস - সিলেটের প্রথম অনলাইন দৈনিক
   27 May 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 31 July 2012 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 3616) 

অর্থনৈতিক সংস্কারক হিসাবে হযরত মুহাম্মদ (সঃ)

অর্থনৈতিক সংস্কারক হিসাবে হযরত মুহাম্মদ (সঃ)
     

নাজমুল হক;--সৃষ্টির সেরা জীব সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, নবীকুলের শিরোমনি, বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত, পথহারা পথিকের পথ প্রদর্শক, ক্ষণজন্মা এক মহান পুরুষ, অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক সংস্কারক হযরত মুহাম্মদ (সঃ)।
সমস্ত পৃথিবীতে যখন সত্য-মিথ্যার, পাপ-পূণ্যের, বিবেক-বুদ্ধির অন্ধ বিশ্বাসের জ্বালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছিল, ঠিক সেই মুহুর্তে মহান আল্লাহরতালা ঐশী বানী নিয়ে সংস্কারক হিসাবে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) পৃথিবীতে আগমন করেন। অর্থনীতির সকল েেত্র তিনি সংস্কারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। সকল েেত্র তিনি অর্থনৈতিক মুক্তি সাধিত করেছেন। মাত্র ২০ বছরে তার দুরদর্শীতা দিয়ে তিনি সভ্যতা বিবর্জিত কুসংস্কারচ্ছন্ন, পৌত্তলিক আরব জাতিকে এক সুসভ্য জাতিতে পরিণত করেছেন। তাঁর সম্পর্কে ঐতিহাসিক রেমগুলার্জ বলেছেন, "The Founder of Islam is in fact, the promoter of the first social and International revolution of which listory gives mention."
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, মহান আল্লাহর প্রিয় বান্দা শেষ নবী ও রসুল হযরত মুহাম্মদ (সঃ)। তিনি ৫৭০ খ্রীষ্টাব্দে বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হিসাবে পৃথিবীতে আগমন করেণ। তাঁর পিতার নাম আব্দুল্লাহ, মাতার নাম অমিনা। তিনি জন্মের পূর্বেই তার পিতা মারা যান। তিনি বিশ্ব নবী, মহান আল্লাহতালার বন্ধু। তিনি মাত্র ৪০ বছর বয়সে নবুয়াতপ্রাপ্ত হন। তিনি সফল রাষ্ট্রনায়ক।
সংস্কারক ও হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ঃ- কবির ভাষায় বলতে হয়--
দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে যারা দুর্জয়ে করে জয়
তাহাদের পরিচয় লিখে রাখে মহাকাল
হযরত মুহাম্মদ (সঃ) একজন মহান সংস্কারক ছিলেন। তার হাতের পরমে মুুহুর্তেই পাল্টে যায় আরবের চির চেনা দৃশ্য। আরবের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক দুরবস্থা তাকে স্পর্শ করে নি। বরং একটি সুসংহত সরকার গঠন এবং সুষ্ঠ ও সুন্দর জীবন ধারণ সম্পর্কে তাদের পথ প্রদর্শক হিসাবে কাজ করেন। হত্যা, লুণ্ঠন, ব্যবিচার ছিল তাদের নিত্য কাজ। তারা মানুষ হত্যা করে আনন্দ পেত। সে সময় আরবদের কোন প্রকার কৃষ্টি, সাংস্কৃতি, সু ধর্মীয় অনুভূতি ছিল না। তাই সেই যুগকে আইয়্যামে জাহিলিয়া যুগ বলা হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে Philip Kounie Hitti e‡j‡Qb, " The tern Jajiliyah usually rendered time of Ignorance or barbarism in reality means the period in which Arabia had no dispensation, no revealed Book." এই যুগে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আরব বিশ্বে যে অর্থনৈতিক সংস্কার সাধন করেন তা পরবর্তীতে বিশ্বের অর্থনীতিবিধদের নিকট আদর্শ হয়ে থাকে। ইসলামী অর্থনীতি ব্যবস্থা প্রচলন করে তিনি সমাজ ব্যবস্থাকে পাল্টে দিয়েছেন।
ইসলাম শব্দের অর্থ শান্তি, নিরাপত্তা ও মুক্তি। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ইসলামী অর্থনীতি হল এই পূর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থারই একটি অংশ। ইসলামী জীবন ব্যবস্থা কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও ইবাদাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের পার্থিব জীবনে আদান-প্রদান, আয়-ব্যয়, ব্যবসা-বানিজ্য প্রভৃতি এর অর্ন্তভূক্ত। মানুষ কিভাবে অর্থ উপার্জন করবে, কিভাবে ব্যয় করবে, কিভাবে ব্যয় করবে, ভোগ করবে সে সম্পর্কে ইসলামে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হিসাবে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) পবিত্র কোরআর ও হাদীসের আলোকে অর্থনীতির সংস্কার করেন।
অর্থনৈতিক সংস্কারক হিসাবে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ঃ- জাহেলিয়া যুগে আরবদেশে কোনরূপ সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ছিল না। বেশির ভাগ মানুষ পশুপালন ও লুটতারাজ করে জীবন নির্বাহ করত। চড়া হারে সুদ প্রথা প্রচলন ছিল। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ধন-বৈষম্য দূর করে সঞ্চয় ও বন্টনের সামজ্ঞস্য বিধান করেন। রাস্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পদে যাতে জনসাধারনের অধিকার ও ভোগ করার সুযোগ থাকে তার জন্য তিনি পাঁচ প্রকারের রাজস্বের প্রবর্তন করেন। এছাড়াও তিনি নিন্মোক্ত অর্থনৈতিক সংস্কার করেন।
১. আল-গনিমাহ ঃ- যুদ্ধলব্ধ দ্রব্যদি, যথা-অশ্ব, উট, রসদ-পণ্য, অস্ত্র-শাস্ত্র প্রভৃতি। এগুলো নিয়মানুযায়ী মুজাহিদদের মধ্যে বন্টন এবং রাজকোষে বা বায়তুলমালে জমা দেয়া হত।
২. যাকাত ঃ- যাকাতের আবিধানিক অর্থ পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা, পরিশুদ্ধি। শরীয়তের পরিভাষায়, মুসলমানদের ধন-সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ বছর পূর্তিতে আল্লাহর নির্ধারিত খাতসমূহে প্রদান করাকে যাকাত বলে। যাকাত অস্বীকার করা আল্লাহকে অস্বীকার করার শামিল। যাকাত দানের মুখ্য উদ্দেশ্য হল গরীবদের অব্সথার পরিবর্তন করা, যাতে তারা আর্থিকভাবে সচ্ছলতা লাভ করতে পারে, অভাব থেকে মুক্তি পায়।
৩. খারাজ ঃ- খারাজ অর্থ ভূমিকর। খারাজ অমুসলমানদের নিকট থেকে ভূমিকর আদায় করার প্রক্রিয়া। আরবে যারা অমুসলমান ছিলেন তারা নিয়মিত ভূমিকর দিতেন না। যার যার ইচ্ছামত যায়গা নিতেন। ফলে মহানবী (সঃ) খারাজ আদায় করে অর্থনৈতিক সমতা বিধান করেন।
৪. জিজিয়া ঃ- জিজিয়া অর্থ বিনিময়। অমুসমানদের নিকট থেকে যাকাতের রূপ বছরে একবার অর্থ নেওয়া, নিরাপত্তা কর। তিনি তৎকালীন আরবের নিরাপত্তা কার্যে নিয়োজিত সদস্যদের জন্য অর্থ ব্যয় কারার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতেন এবং নিরাপত্তা কাজে ব্যায় করতেন।
৫. আল-ফে ঃ- রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হতে আদায়কৃত অর্থ আল-ফে নামে পরিচিত ছিল। এই অর্থ গরীব জনগণ ও রাষ্ট্রের মঙ্গলের কাজে ব্যয় করা হত।
৬. বায়তুলমাল ঃ- জাহিলিয়া যুগে কোন সরকারি কোষাগার ছিল না। একটি দেশের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি নির্ভর করে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর। তিনি আরবের যাবতীয় অফিস আদালত সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য বায়তুল মাল বা সরকারি অর্থ তহবিল গঠন করেন। তখন যে কোন অসহায় ব্যক্তির বা রাষ্টীয় প্রয়োজনে এ তহবিল থেকে অর্থের যোগান দেওয়া হত।
৭. সুদমুক্ত অর্থনীতি ঃ- জাহিলিয়া যুগে সুদ গ্রহণ ছিল তাদের নিত্য ব্যাপার। সুদ বা রিবা বলতে কোন পারিশম না করে অর্থ শোষণ করা। এবং মানুষের অসহায়তার সুযোগ দিয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করা। মানুষের অভাব ও অসহায়তা ইসলাম সমার্থন করে না। তাই ইসলামী অর্থ ব্যবস্থা ব্যবসায়কে হালাল করেছেন। আর সুদকে হারাম করেছেন। ৮. অবৈধ উপার্জন নিষিদ্ধঃ- মহানবী (সঃ) সকল প্রকার অবৈধ উপার্জন নিষিদ্ধ করা হয়। ইসলামে অবৈধ উপার্জনের কোন স্বীকৃতি নেয়। এজন্য ইসলামে সুদ, ঘুষ, মদ, কালোবাজারি, মুনাফাখোরি, মজুতদারী, প্রভৃতি অবৈধ ও অন্যায় পথে অর্থ উপার্জন সম্পূর্ন হারাম করা হয়েছে। মহান আল্লাহতালা বলেছেন, “ তোমরা উত্তম ও পবিত্র বস্তু খাও, যা আমি তোমাদের জীবিকারূপে দান করেছি”। ( সূরা আল্ বাকারা : ১৭৭)
৯. শ্রমের মর্যাদা ঃ- মহানবী (সঃ) শ্রমের মর্যাদা বিশেষ ভাবে দিয়ে শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করেছেন। ইসলামে শ্রমিক শোষণ নিষিদ্ধ। মহানবী (সঃ) বরেছেন, “ শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার পূর্বেই তার মজুরি পরিশোধ কর”। শ্রমিকের অধিকার সংরণ করে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে মহানবী উচ্চ স্থানে নিয়ে গিয়েছেন।
১০. সম্পদের ন্যায্য বন্টন ঃ- ইসলামী অর্থনীতিতে সম্পদের ন্যায্য বন্টনের ব্যবস্থা রয়েছে। মহান আল্লাহতালা বলেছেন, “সম্পদ যেন মুষ্টিমেয় কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীয়ভূত না হয়”। ( আল-কুরআন )
অত্যন্ত নিপুনতার সাথে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) দুর্ধর্ষ পৌত্তলিক আরবদের একটি সুশৃঙ্খল, সুসভ্য ও দিগি¦জয়ী জাতিতে পরিণত করে। ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে তিনি অর্থনীতি সংস্কার করেছেন। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আরোকে এবং ইসলামী শরীয়তের ভিত্তিতে মানুষের সকল অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়।Philip Kounie Hitti e‡j‡Qb, " With in a brief span of mortal life Muhammad (sm) called forth out of unpromising material a nation never united before in a country that was hither to but a geographical expression".
লেখক : রোভার স্কাউট ও কলাম লেখক, ০১৭২০৫৪৮৮৪৭



   অন্য পত্রিকার সংবাদ  অভিজ্ঞতা  আইন-অপরাধ  আত্মজীবনি  আলোকিত মুখ  ইসলাম ও জীবন  ঈদ কেনাকাটা  উপন্যাস  এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল  কবিতা  খেলাধুলা  গল্প  ছড়া  দিবস  দূর্ঘটনা  নির্বাচন  প্রকৃতি পরিবেশ  প্রবাস  প্রশাসন  বিবিধ  বিশ্ববিদ্যালয়  ব্যক্তিত্ব  ব্যবসা-বাণিজ্য  মনের জানালা  মিডিয়া ওয়াচ  মুক্তিযুদ্ধ  যে কথা হয়নি বলা  রাজনীতি  শিক্ষা  সমসাময়ীক বিষয়  সমসাময়ীক লেখা  সমৃদ্ধ বাংলাদেশ  সাইক্লিং  সাক্ষাৎকার  সাফল্য  সার্ভিস ক্লাব  সাহিত্য-সংস্কৃতি  সিটি কর্পোরেশন  স্বাস্থ্য  স্মৃতি  হ য ব র ল  হরতাল-অবরোধ