28 May 2017 : Sylhet, Bangladesh :

27 September 2011 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 15879) 

দার্জিলিংয়ে চার দিন

দার্জিলিংয়ে চার দিন
     

হারান কান্তি সেন

“দার্জিলিংয়ের দাড়কিনা ভাই পান্শিনৌকা বাও
দাড়কিনা ভাইর বিয়া হইব চিতল মাছ ভাজা খাও”
আমি যখন ক্লাশ ওয়ান কিংবা টুতে পড়ি তখন এই ছড়াটি এক গ্রাম্য রাখাল বালকের মুখে শুনি যে কিনা সম্পূর্ণ নিরক্ষর ছিল। তারপর থেকে ওই দার্জিলিং নামক জায়গাটার প্রতি আমার একটা উৎসাহ জন্মে কখন ওখানে যাব এবং সেই সাধ এত বছর পর পূর্ণ হলো। এখানে বলে রাখা ভাল, চিতল যেমন একটি সু-স্বাদু মাছ তেমনি দাড়িকানা (দাড়কিনা) ও খুব ক্ষুদ্রাকৃত্তির মজাদার মাছ।
শুনেছি কলকাতা যখন ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ছিল তখন ইংরেজ সাহেব আর ধনীক শ্রেনী ও জমিদাররা আরাম করে গরম কালটা কাটিয়ে দেয়ার জন্য হিমালয়ের কোলে দার্জিলিংকে বেছে নেন। এরপর থেকে ওই যায়গাটা দিনকে দিন ভ্রমন বিলাসীদের লীলাভূমিতে পরিনত হয়।
ঢাকা-বুড়িমারী-চেংড়াবান্দা-কুচবিহার-জলপাইগুড়ি হয়ে প্রায় ষোল ঘন্টা লং জার্নি করে ঠিক দুপুর বেলা শিলিগুড়ি শহরের কেন্দ্রস্থলে বৃটিশ বিরোধী অন্দোলনের পুরোধা সূর্য সৈনিক মাষ্টারদা সূর্যসেনের মূর্তি দেখে শ্রদ্ধাবনত: দৃষ্টিতে কয়েক মিনিট চেয়ে থাকি। তারপর চোখে পড়ে দূর থেকে হাতছানি দেয়া দার্জিলিং পাহাড় ঐ পাহাড় আমাদের দীর্ঘ পথ ভ্রমণজনিত অবসাদকে বুঝি মূহুর্তেই কর্পূরের মত বাতাসে মিশিয়ে দেয়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস থেকে নামতেই এই আগষ্ট মাসে শিলিগুড়ির ৩৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রার মাঝে পড়ি। এখানে শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার থেকে ফিরতি টিকেট ও তারিখ কনফার্ম করে লাঞ্চ সারলাম। এরপর দুপুর ২ টায় নেপালী চালকের সুমু জীপে চড়ে আমরা ছ’জন আমি, অমিত, ঢাকার রেডিও টুডের মিঃ আরমান, মিসেস আরমান, মিঃ মিল্টন আর মিঃ জেম্স দার্জিলিং এর পথে যাত্রা করলাম। শিলিগুড়ি শহর ছেড়ে একটু এগিয়ে সুকনা নামক স্থান, যেখানে সেনা ক্যাম্প ওখান থেকে বলতে গেলে পাহাড়ী রাস্তা শুরু, খুব কাছ থেকে দার্জিলিং পাহাড় তার শরীরে অযুত মেঘমালা নিয়ে আমাদের হাতছানি দিচ্ছে। এখন খুব খারাপ রাস্তায় জীপ চলতে শুরু করলো এবং সব সময় চলাচলে সিদ্ধহস্ত নেপালী চালকের কাছে যেন এ রাস্তা খারাপকে ‘এমন কিছুই না’ বলে মনে হচ্ছে। এদেশের করিৎকর্মা (!) গাড়ী চালকরা রাস্তা খারাপকে পুঁজি করে কিভাবে গাড়ী আর যাত্রীর বারোটা বাজানো যায় সেই ধান্দায় থাকে।
পাহাড়ী আকাবাঁকা রাস্তাকে দূর থেকে ফিতার মত পেছানো মানে এমন মনে হচ্ছে যে, একটা দীর্ঘ ফিতা যেন একটির পর একটি পাহাড়কে পেছিয়ে রেখেছে বিনি সুঁতার মালার মতো। নীচ থেকে এই রাস্তাগুলো দিয়ে উপরের দিকে উড্ডীয়মান গাড়ীগুলোকে আমাদের খেলনার পিচ্ছি গাড়ী বলে মনে হচ্ছিল। আমরা সকলেই অবাক হয়ে সেই সব দৃশ্য দেখে দেখে ক্রমশ উপর দিকে উঠছি। হিন্দিভাষী নেপালী চালককে মাঝে মাঝে প্রশ্ন করলে সেও তার উত্তর দিয়ে গাড়ী চালাচ্ছে। এখানের সব ড্রাইভারের মাঝে আমাদের দেশের চালকদের মত তাড়াহুড়ো করে কার আগে কে যাবে সে প্রতিযোগিতা কিংবা সড়ক আইন ভঙ্গ করার কোন প্রবনতাই চোখে পড়লো না। কারণ এখানে গাড়ী চালনায় এক সেকেন্ড অসতর্ক হলে যাত্রী গাড়ী সব পাহার থেকে ছিটকে অন্তত কয়েক হাজার ফুট নীচে পড়তে হবে। চলতে চলতে পাহাড়ের এক জায়গায় এসে পাথুরে ছড়া দিয়ে ঝর্ণার মত আওয়াজ করে নীচ দিকে প্রবাহিত ফেনিল জলধারা আমাদের গাড়ী থামিয়ে দিতে বাধ্য করলো। এখানে ছবি উঠিয়ে আবার চলতে শুরু। রাস্তায় মাঝে মাঝে পাহাড়ী সুসজ্জিত বসতী চোখে পড়লো তার উপর দু’একটি ছোট ছোট বোর্ডিং স্কুলও দেখি। পাহাড়ের এই বসতি আর প্রকৃতি দেখে চোখের সামনে ভেসে উঠে যাপিত জীবনে দেখা অগুনতি হিন্দি সিনেমার লোকেশন। এদিকে তখনও শিলিগুড়ির সমতল ভুমিও একটু আধটু দেখা যাচ্ছিল, আর আমরা চলার পথে প্রায়ই পেজা তুলোর মত কখনো কালো কখনো সাদা মেঘমালা গাড়ীর এ জানালা দিয়ে ঢুকে সবার মুখে শীতল পরশ বুলিয়ে ও পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। আমাদের চলা পাহাড়ের অনেক নীচপর্যন্ত মেঘমালা জমে আছে যা উপর থেকে দেখা যাচ্ছে আর এত উচ্চ থেকে যত সাহসী হোক না কেন মনের মাঝে একটু করে হলেও আতংক ভর করা অস্বাভাবিক নয়। আরেকটা কথা বলে রাখা ভালো, বর্ষায় যখন একটানা বৃষ্টিপাত হয় তখন মাঝে মাঝে পাহাড়ে ধ্বস নামে এবং যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়- তবে সাময়িক। এছাড়া ধ্বসের জায়গা বেশী বিপদজনক না হলে যাত্রীরা ঐ জায়গা পায়ে হেঁটে ওপাশে দাঁড়ানো অন্য গাড়ীতে গন্তব্যে যেতে হয়।
এবার আমরা এমনি অতি উচ্চতায় একটি বসতির কাছে একটু দাঁড়িয়ে পড়লাম আর ক্যামেরায় ক্লিক ক্লিক। শিলিগুড়ি থেকে ২টায় রাওয়ানা হয়ে সাড়ে ৩ টা নাগাদ আমরা যেখানে পৌঁছলাম সেখানে ওয়েলকাম টু গুর্খাল্যান্ড সাইনবোর্ড চোখে পড়লো এরপর বেশ সুন্দুর সুসজ্জিত ছোট্ট শহর কার্শিয়াং পৌঁছলাম। শিলিগুড়িতে যে গরমে আমরা প্রায় পর্যুদস্ত ছিলাম এখানে পৌঁছে শীতে দাঁত কট্কট্ করতে লাগলো আমাদের কারো কারো। আর এই কর্শিয়াং এর কথা পড়েছি নানন উপন্যাসে। এর উচ্চতা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে সাত হাজার তিনশো ফুট। এখানে দার্জিলিং এর ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেন ষ্টেশনও রয়েছে। এখন দার্জিলিং শিলিগুড়ি টয় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও দার্জিলিং থেকে কার্শিয়াং পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার টয় ট্রেন চলে। এই ট্রেনে ভ্রমন করলে ভারতের সবচেয়ে উচু স্থান দিয়ে আপনার রোমাঞ্চকর রেল ভ্রমন হবে নিঃস্বন্দেহে।
কার্শিয়াং থেকে কয়েক কিলোমিটার এগিয়ে সাজানো গোছানো পাহাড়ী ছোট্ট শহর টুং পেরুলাম। এরপর সোনাদা পৌঁছলাম এটি টুং থেকে আরো বড় শহর এবং হিন্দি ও ইংরেজীর সাথে বাংলায় ‘সোনাদা’ লিখা দেখে ভালো লাগলো। সোনাদা পেরিয়েই পর পর অনেক গুলো চা বাগান মহারাণী, টারবো নজরে পড়লো। আমি সিলেটের লোক এবং আমাদের চা বাগানগুলোর টিলার এবং উচ্চতা কয়েক’শ ফুট হলেও দার্জিলিং এর চা বাগানগুলোর উচ্চতা হাজার হাজার ফুট।
বিকেল ৫ টায় আমাদের টেক্সি যখন দার্জিলিং টয় ট্রেন ষ্টেশনের সামনে থামলো তখন কনকনে শীত। হেঁটে একটু উপরে উঠে লাডেনলা রোড হোটেল সাগরিকায় উঠলাম এবং এখানে আসতে আমাদের সাহায্য করলো একজন ভাসমান দালাল। আসলে ওখানে এই পেশায় অনেক লোক আছে যারা বোর্ডার এনে দিলে হোটেল থেকে কমিশন পায়। এবং অবশ্যই পয়সা বাচানোর জন্য দালালদের পাত্তা না দেয়া ভাল। তবে আমাদের কাছে হোটেল সাগরিকায় বেশ পছন্দ হলো এবং ভাড়াও খুব বেশী নয়। অবশ্য আমরা অফ সিজনে গেছি বলে কথা তবে পথ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সিজনে ভাড়া আগস্ট মাসের দ্বিগুন হবে। এই হোটেলের ১৫০ গজের মাঝে ষ্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, দার্জিলিং মিউনিসিপ্যালিটি ভবন যার চূড়ায় ক্যাপিটাল ক্লক টাওয়ার থেকে প্রতি ঘন্টায় নগরবাসীকে ঢং ঢং আওয়াজ সময়ের জানান দেয় আর এই মিউনিসিপ্যালিটি ১৮৫০ সালে স্থাপিত হয়। আর এই হোটেলটি শহরের একদম কেন্দ্রস্থলে হয়য়ায় এখান থেকে পায়ে হেঁটেই প্রয়োজনীয় সবকিছু পাওয়া যায়। আর আমাদের জন্য বাড়তি পাওয়া হলো হোটেলে ম্যানেজার প্রদীপ দাসের আদি বাড়ী ছিল ময়মনসিংয়ের মুক্তাগাছায়।
পরদিন সকাল ৯ টায় আমরা ৪ জন আমি, অমিত, ঢাকার মিঃ মিল্টন আর মিঃ জেম্স বেরুলাম স্থানীয় টেক্সি চালক মেঘরাজের গাড়ীতে চেপে।

ফাইভ পয়েন্টঃ দার্জিলিং এর দর্শনীয় স্থানগুলোর সমাহারকে এভাবে থ্রী পয়েন্ট ফাইভ পয়েন্ট, সেভেন পয়েন্ট বলা হয়ে থাকে। এই পর্যায়ে যাদুঘর, জাপানীজ টেম্পাল, লালকুঠি (কাউন্সিল হাউস) আভা আর্ট গ্যালারী, ধীরধাম টেম্পলকে নিয়েই এই ফাইভ পয়েন্ট অবস্থিত। তবে আমার কাছে সবচেয়ে দর্শনীয় মনে হয়েছে। জাপানীজ টেম্পলকে।
থ্রী পয়েন্টঃ দার্জিলিং এর সব স্থানই দর্শনীয় তবে থ্রী পয়েন্ট একটু বেশী মাত্রায় দর্শনীয় ও তাৎপর্য পূর্ন।
ক) টাইগার হিলঃ সমুদ্র পৃষ্ট থেকে দার্জিলিং শহরের উচ্চতা ৭০০০ ফুট থেকে ৯০০০ ফুটের মাঝে থাকলেও টাইগার হিলের উচ্চতা কিন্তু ১৫০০০ ফুট। এই পাহাড়ের নামের স্বার্থকতার জন্য বাঘের অস্তিত্বের খবর না জানলেও দার্জিলিং এর একমাত্র এই স্পটেই রাত সাড়ে ৩টা-৪টায় পর্যটক্রা কনকনে শীতের মাঝে ছুটে আসে সূর্যোদয় দেখতে। আর এই সূর্যোদয় যেন তেন নয় এক স্বর্গীয় অনুভূতি এনে দেয় যখন পূর্ব দিগন্তের উদীয়মান লাল সূর্যের আভা হিমালয়ের অন্যতম শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্গার উপর পড়ে। তখন মনে হবে যেন সোনায় মোড়ানো পর্বত। ভ্রমন বিলসীতা শীতে ঠক্ ঠক্ করে কাঁপতে থাকলেও এমন স্বর্গীয় মূহুর্ত ক্যামেরায় বন্দি করতে কার না মন চায়। একটু পর সূর্যের লাল আলো আরো উজ্জ্বলতার হলে এই কাঞ্চনজঙ্গাই তখন রুপালী আলোয় রুপোর থালায় রুপালী পাহাড়ে পরিনত হয়। দার্জিলিং এর একমাত্র টাইগার হিল থেকেই হিমালয় শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্গাকে এমন অপরূপে দেখা যায়। শুধুমাত্র মে ও অক্টোবর মাসে আর বছরের অন্য সময়ে আকাশ মেঘ ও কুয়াশামুক্ত থাকলে হঠাৎ হঠাৎ। শুনেছি এই পাহাড় নাকি ডিসেম্বর জানুয়ারী মাসে বরফাচ্ছাদিত থাকে বলে উপরে উঠাই যায় না।

খ) ঘূমঃ ঘুম শুনলে করো কারো ঘুম আসতে চাইলেও এখানেই আছে বিশ্বখ্যাত ঘুম মনেষ্ট্রি যা বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের একটি তীর্থস্থান। আর ঘুম রেলওয়ে ষ্টেশন হচ্ছে ভারতের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত রেল ষ্টেশন যা সমুদ্র পৃষ্ট থেকে ৭৪০৭ ফুট উচ্চতায়। দার্জিলি থেকে ঘুম হয়ে নিউ জলপাইগুড়ি ষ্টেশন পর্যন্ত টয় ট্রেন চলার জন্য ন্যারোগেজ রেল লাইন স্থাপনের কাজ বৃটেনের কুশলী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রাংকলিন প্রেষ্টিজ শুরু করে ১৮৭৯ সালে এবং ১৮৮১ সালে নির্মান কাজ সম্পন্ন হলে এই পথে পাহাড়ী ১১ টি ষ্টেশন নিয়ে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে তার যাত্রা শুরু করে। এই রেল লাইনকে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ওয়াল্ড হেরিটেজ খেতাব দেয়। এখান থেকে আমি আর অমিত টয় ট্রেনে উঠি। উল্লেখ্য এই ঘুম এর কথা আমি উপন্যাসেও পড়েছি। এই ষ্টেশনে ‘দার্জিলিং হিমালয়ান ঘুম মিউজিয়াম রয়েছে।

গ) বাতাসীয়া লুপঃ এই যায়গায় ওয়ার মেমোরিয়েল স্মৃতি স্তম্ভের বেদীর উপর ৯ ফুট উচু বীর গোর্র্খাসৈন্যের মূর্তি এবং এই স্তম্ভের চারদিকে ঘুরে পাহাড়ের হাজার হাজার ফুট গভীর খাদের একদম পাশ দিয়ে টয় ট্রেন লাইন গেছে। এই নয়নাভিরাম দৃশ্য নিজের চোখে না দেখলে এর বর্ননা দেয় দুস্কর।

সেভেন পয়েন্টঃ
ক) চিড়িয়াখানাঃ আমি সাধারণত: চিড়িয়াখানা যেতে তেমন উৎসাহ বোধ করি না, কারণ ওখানে জীব যন্তুর দূর্দশা আর উৎকট গন্ধ একটুও ভাল লাগে না। কিন্তু দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় এর ব্যতিক্রম দেখলাম এবং পাহাড়ী মুক্ত পরিবেশে হিমালয়ায় জীবযন্তু গুলো বেশ আছে।
খ ) হিমালয়ান মাউন্টেইনেয়ারিং ইনন্সিটিটিউটঃ হিমালয় পর্বতারোহিরা এই প্রতিষ্ঠানে কাগজে কলমে যে ট্রেনিং গ্রহণ করে তা তাদের কাঞ্চনজঙ্গা, কেটু, মাউন্ট এভারেষ্ট সহ বিভিন্ন শৃঙ্গ জয়ে পাথেয় হয়ে থাকে।
গ ) তেনজিং রকঃ প্রথম এভারেষ্ট জয়ী অভিযাত্রী দলের নেপালী শেরপা তেনজিং এর নামানুসারে এই স্থানটির হাজার ফুট উচু পাথুরে পাহাড়ের খাড়া স্তম্ভ রয়েছে এবং পর্বতারোহীরা তাদের ট্রেনিং এর প্রাথমিক পর্যায়ে এখানে এসে খাড়া পাথুরে পাহাড় উঠতে পরীক্ষায় উত্তীর্ন হতে হয়। আপনার ভাগ্য ভাল হলে এই দৃশ্য দেখেও ফেলতে পারেন।
ঘ ) রুপ ওয়েঃ কয়েক হাজার ফুট উচু পাহাড় থেকে রুপওয়ের মাধ্যমে আপনি এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড় ঘুরে রোমাঞ্চকর এক অভিগ্যতা অর্জন করতে পারেন। তবে কয়েক বছর আসা এই রুপওয়ে দূর্ঘটনায় কয়েকজন পর্যটক নিহত হলে তা বন্ধ হয়ে যায় এবং আনন্দের খবর হলো শীঘ্রই ইহা আরো নিরপদ ও আধুনিকীকরণ করে চালূ করা হবে। এছাড়া সেভেন পয়েন্টে আরো আছে চা বাগান, তিব্বতিয়ান সেল্ফ হেল্প সেন্টার ও দার্জিলিং গোর্খা ষ্টেডিয়াম।
স্পেশাল পয়েন্টঃ থ্রি পয়েন্ট, ফাইভ পয়েন্ট, সেভেন পয়েন্ট ছাড়াও স্পেশাল পয়েন্ট রয়েছে এবং এর আওতায় রক গার্ডেন, গঙ্গামায়া পার্ক, মিরিক লেক, পশুপতি মার্কেট, জরপুকরি রয়েছে।
ক) রক গার্ডেনঃ রকগার্ডেন দার্জিলিং শহরের উপকন্ঠে লম্হি টি গার্ডেন হয়ে প্রায় ৩০০০ ফুট নীচে নেমে পাহাড়ে হাজার ফুট উপর থেকে কয়েক ধাপে গড়িয়ে পড়া এক ঝর্ণার অবতরণ ভূমি। এখানে এমনভাবে সিড়ি আর ব্রীজ করে রাস্তা বানানো হয়েছে যে, আপনি হাঁটতে হাঁটতে ঝর্ণা পতনের একদম উৎপত্তি স্থলে পৌছে যাবেন এবং জীবনে এই অভিজ্ঞতা হয়তো যে কারো খুব কম হয়ে থাকবে। এখানে ২০ রুপি খরচ করল নেপালী ঐতিহ্যবাহী পোষাক পরে আপনি ফটোসেশন করতে পারবেন আর এই যায়গায় সারাদিন থাকলেও আপনার খারাপ লাগবেনা। উল্লেখ্য, গঙ্গামায়া পার্ক অনিবার্য কারনে পর্যটকদের জন্য বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
খ) মিরিকঃ দার্জিলিং থেকে মিরিক এর দুরত্ব ৪৫ কিলোমিটার। ঘুম রেলষ্টশনকে ডানদিকে রেখে পাহাড় থেকে নীচের দিকে নেমে নেমে মিরিক যেতে হয়। এটি দার্জিলিং জেলারই একটি শহর। এখানে মিরিক লেক রয়েছে এবং ওখানে গিয়ে লেক দেখার আনন্দের চেয়ে যাবার পথে হাজার হাজার ফুট উচ্চতায় চা বাগানের যে নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখা যায় তা দেখ চোখ ফেরানোর উপায় নেই, মিরিক লেকের পাড়ে লাঞ্চ করলাম ভারতের পাহাড়ী অঞ্চলের এক ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মম’ দিয়ে। আরেকটা কথা বলি মিরিক থেকে শিলিগুড়ি যেতে মাত্র দু’ঘন্টা সময় লাগে।
গ) পশুপতি ফটক / নগরঃ মিরিক থেকে ফেরার পথে দার্জিলিং থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে ভারতীয় পশুপতিফটক আর নেপালের পশুপতি নগর বর্ডারে আমরা পৌছলাম। দু দেশের যোগাযোগের জন্য পাকা রাস্তা দিয়ে উভয় দেশের নাগরিকরা পায়ে হেঁটে এপার ওপার করছে শুধু আমাদের মনে বিদেশীদের ওদের মত যেতে নিষেধ। পশুপতি নগর থেকে কাঠমুন্ডু বাসে যেতে সময় লাগে ১৫ ঘন্টা।
ঘ ) সীমানা আর মানেভঞ্জনঃ দার্জিলিং থেকে সীমানার দুরত্ব ২৫ কিলোমিটার ওখানে গাড়ী থেকে নেমেই কোন বর্ডার রক্ষী না থাকায় আমরা রাস্থা থেকে যে সেমিট্রি বা কবর এরিয়ায় পা রাখলাম ওই যায়গাটাই নেপাল। সীমানার রাস্তাটা শুধু ভারতের আর (মিরিক যেতে) রাস্তার ডান দিকের বাড়ীঘর দোকানপাট সব নেপালে পড়েছে। ওখানে দাঁড়িয়ে কয়েক হাজার ফুট নীচে ছবির মত নেপালের ছোট্র শহর মানে ভঞ্জন চোখে পড়ে।
ঙ) জর পুক্রীঃ দার্জিলিং থেকে ২২ কিলোমিটার পর ছোট শহর সুকিয়া পুক্রী পেরিয়ে কয়েক হাজার ফুট উপরে জর পুক্রী মহদেব ধাম পার্ক। এখানের এক পাশে শ্রীশ্রী মহাদেব মন্দির রয়েছে। আর কৃত্রিম লেকের ঠিক মাঝখানে পাঁচটি কিং কোবরা সাপকে একত্রে ফনা তুলে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশটি সিমেন্ট বাঁধাই করা হয়েছে। জয় পুক্রীতে একটি রেষ্ট হাউস ও আছে। দুপুর বেলা আমরা যখন ওখানে পৌঁছলাম তখন কি সুন্দর রোদেলা নিরালা দুপুর, কিন্তু মিনিট পনের পরে কোথা থেকে একরাশ মেঘমালা এসে পুরো পার্কটাকে গ্রাস করলো সাথে সাথে আমারও। কন্কনে শীতের মাঝে মনের আনন্দে আমরা এখানে বেশ কিছুক্ষন থাকলাম এবং গলা ছেড়ে গান গাইতেও ভুললাম না।

চারদিন এক অন্য গ্রহে স্বর্গীয় অনুভুতিতে কাটানোর পর এবার ফেরার পালা। আজ অন্য এক রাস্তায় চা বাগানের মধ্য দিয়ে বেশ ভালো পাহাড়ী আকাঁ-বাকাঁ পথে গুরুদুয়ার বাজার হয়ে শিলিগুড়ি ফিরি। তবে মনে একটা দুঃখ রয়ে গেল দার্জিলিং থেকে সিকিম যাবার পথে এক ঘন্টার রাস্তা পেরুলেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রিয় জায়গা মংপুতে যাওয়া হলো না; ওখানে নাকি কবিগুরুর একটি কটেজ রয়েছে। আর পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী প্রদেশ অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঘেরা সিকিম রয়েছে। ওখানে পকিস্তান, বাংলাদেশ, চীন মায়ানমার সহ ৭টি দেশের পর্যটকদের প্রবেশাধিকারে নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ অনুমোদন সাপেক্ষে বাংলাদেশীরা যেতে পারবে বলে শুনেছি।
E-Mail : apxn.haran68@yahoo.com Cell : 01819-867388

আরোও ছবি

দার্জিলিংয়ে চার দিন দার্জিলিংয়ে চার দিন দার্জিলিংয়ে চার দিন দার্জিলিংয়ে চার দিন দার্জিলিংয়ে চার দিন দার্জিলিংয়ে চার দিন দার্জিলিংয়ে চার দিন

|

   অন্য পত্রিকার সংবাদ  অভিজ্ঞতা  আইন-অপরাধ  আত্মজীবনি  আলোকিত মুখ  ইসলাম ও জীবন  ঈদ কেনাকাটা  উপন্যাস  এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল  কবিতা  খেলাধুলা  গল্প  ছড়া  দিবস  দূর্ঘটনা  নির্বাচন  প্রকৃতি পরিবেশ  প্রবাস  প্রশাসন  বিবিধ  বিশ্ববিদ্যালয়  ব্যক্তিত্ব  ব্যবসা-বাণিজ্য  মনের জানালা  মিডিয়া ওয়াচ  মুক্তিযুদ্ধ  যে কথা হয়নি বলা  রাজনীতি  শিক্ষা  সমসাময়ীক বিষয়  সমসাময়ীক লেখা  সমৃদ্ধ বাংলাদেশ  সাইক্লিং  সাক্ষাৎকার  সাফল্য  সার্ভিস ক্লাব  সাহিত্য-সংস্কৃতি  সিটি কর্পোরেশন  স্বাস্থ্য  স্মৃতি  হ য ব র ল  হরতাল-অবরোধ