19 Feb 2018 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 1 February 2018 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 2735) 

একটি মনোরম মসজিদ এবং সুইট ভাইয়ের কথা

একটি মনোরম মসজিদ এবং সুইট ভাইয়ের কথা
     

সেলিম আউয়াল:
মিজান আজিজ চৌধুরী সুইট। তাকে সেই শৈশব থেকে চিনি, ‘ডেঞ্জার মাস্টার সুইট’নামে। বিশালকারের মোটরসাইকেলের দুটো সাইলেন সারখুলেভটভট শব্দ তুলে পথঘাট কাঁপিয়ে মোটরসাইকেল চালাতেন। সবচেয়ে ভয়াবহ ছিলো পানির কুয়ার মতো কাঠ দিয়ে কুয়ায় তিনি মোটরসাইকেল চালাতেন। এটা আসলে লিখে বুঝানো যাবেনা, মাটিতে স্টার্ট দিয়ে তারপর ভীষণ স্পিডে মোটরসাইকেল চালিয়ে উপরে উঠতেন। কাঠের কুয়াটা তখন ভীষণ কাঁপতো। সেই কুয়ায় মোটর সাইকেল চালাতে চালাতেহাত ছেড়ে দিতেন। আরোক তোকী!
তারপর অনেক দিন দেখা নেই সুইট ভাইয়ের সাথে। বছর তিনেক আগে সাংবাদিক-আইনজীবী মুহম্মদ তাজ উদ্দিনের মাধ্যমে তার সাথে আবার দেখা। শুনলাম সুইট ভাই নিজের টাকায় আমাদের এই শহরের অনেক গুলো মসজিদের নির্মাণ, সংস্কার, সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করছেন। তাকে অনুরোধ করলাম এই নগরীর শেখঘাটে দেশের সবচেয়ে বড়ো কুষ্ঠহাসপাতালের ছোট্ট জরাজীর্ণ মসজিদটির একটু কাজ করে দিতে। একদিন তাকে নিয়েও গেলাম মসজিদে। তখন মসজিদে আরো বেশ কয়েকজন কুষ্ঠ রোগী নামাজ পড়ছিলেন। তাদের পায়েঘা। পায়েব্যান্ডেজ। অনেকের পা বেয়ে রক্ত ঝরছে। এ ধরনের দৃশ্য দেখবেন সুইট ভাই ভাবতে পারেননি। তার মনটা দূর্বল হয়ে যায়। তারপর ইতি
নিহাসপাতালের কুষ্ঠ রোগীদের জন্যে ক্যারম বোর্ড, লুডুসহ খেলারসামগ্রী দিলেন। রোগীদের গোসলের জন্যে কুষ্ঠহাসপাতালের পুকুরপুন:খননকরলেন, পুকুরের দুইপারে দুটো পাকাঘাট করে দিলেন এবং হাত দিলেন সেই ছোট্ট মসজিদের গায়ে।
খুব ছোট্ট করে বললে বলতে হয়, মসজিদটি হয়তো আকারেআমাদের নগরী ছোট্ট মসজিদের একটি, কিন্তু অপরূপ সুন্দর। মসজিদটির চালটিনের, কিন্তু রাঙানো হয়েছে লাল রং দিয়ে। সবগুলো ওয়ালে চমৎকার আরবিক্যালিগ্রাফি। ফ্লোরে দামী টাইলস। জানালায় থাই, টাইল্স বসানো অজুখানা, বারান্দায় নকশীকা টাগ্রিল। নগরীর শেখঘাটে প্রতিষ্ঠিত প্রায় সোয়াশ’বছরের পুরনো দেশের বৃহত্তম কুষ্ঠহাসপাতাল-এরমসজিদ পুন:নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজ-এর সমাপ্তিউপলক্ষ ছোট্ট একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো। অনাড়ম্বর সেই অনুষ্ঠানে প্রধানঅতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. ইহতেশামুলহক চৌধুরী দুলাল। তিনি আবার সুইট ভাইয়ের বন্ধু। হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্যোগে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশুলালরায় এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য ) ডা. মো. ইসমাঈল ফারুক, সিলেট সিটি কর্পোরেশনেরপ্যানেল মেয়র এডভোকেট সালেহ আহমদ চৌধুরী, ইনস্টিটিউটঅব হেলথ টেকনোলজি, সিলেট-এরপ্রিন্সিপালডা. নাসির উদ্দিন ভূইয়া, কাউন্সিলর মো. সিকন্দর আলী এবং মসজিদের কাজে অর্থায়ন কারী মিজান আজিজ চৌধুরী সুইট। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুষ্ঠহাসপাতাল সিলেট-এর ভারপ্রাপ্ত জুনিয়র কনসালটেন্টডা. রুবিনা ফারজানা এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় অফিসসহকারী কল্যাণ সমিতি-এর কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যানএম. গৌছ আহমদ চৌধুরী, অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মুহাম্মদ সুফিমিয়া।
অনুষ্ঠান শেষে সুইট ভাই বললেন, বিশলা খটাকা খরচ হয়ে গেছে। জানালেন মসজিদের কাজ শেষ হয়নি পানির জন্যে আন্ডারগ্রাউন্ডট্যাং কি হবে, অজুখানায় শেড করবেন এবং সময় বলে দেবে আর কি কি করতে হবে।
তারপর আন্ডারগ্রাউন্ডট্যাং কি বানানোর কাজ শেষ হয়েছে। এখন পুরনো দেয়াল ভাংগা হবে, নতুন করে বানানো হবে।
আমরা অপেক্ষায় থাকলাম মসজিদটির আরো অপরূপ রূপ দেখার জন্যে।
সুইট ভাইয়ের জন্মদিনে কামনা করিমহৎ এই কাজের প্রতিদান আল্লাহ তাকে দান করুন। আমিন



Free Online Accounts Software