18 Jan 2018 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 11 January 2018 অন্য পত্রিকার সংবাদ

সিলেটে লাপাত্তা শিপু ও তানিমের ঘাতকরা

সিলেটে লাপাত্তা শিপু ও তানিমের ঘাতকরা
     

ওয়েছ খছরু পরপর দুটি রাজনৈতিক খুনের ঘটনায় টালমাটাল সিলেট। ক্ষোভ-বিক্ষোভ বিরাজ করছে সর্বত্রই। এরপরও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি ঘাতকরা। খুনের ঘটনাগুলোর পর থেকে পুলিশ অভিযানে থাকলেও ঘাতকদের সন্ধান পাচ্ছেন না। এতে করে নিহতদের স্বজনের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। আর সহপাঠীরা রয়েছেন আন্দোলনে।
১লা জানুয়ারি সিলেটের রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করে ছাত্রদল। ক্ষমতায় থাকাকালে অন্তর্কোন্দলে লাশ পড়লেও ক্ষমতাহীন অবস্থায় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এ খুনের ঘটনা নাড়া দিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের। প্রকাশ্য রাজপথে বুকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত শিমু। তিনি ছিলেন সিলেট ছাত্রদলের শাহী ঈদগাহের লিটন গ্রুপের সিনিয়র নেতা। ওই দিন ছাত্রদলের দুর্ধর্ষ ক্যাডার নাবিল রাজাসহ কয়েকজনের হাতে সে নির্মমভাবে খুন হয়। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও গতকাল বিকেল পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে- ছাত্রদল নেতা শিমুর খুনিদের গ্রেপ্তার ও ফাসির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে বৃহত্তর শাহী ঈদগাহবাসী। মঙ্গলবার দুপুরে বৃহত্তর শাহী ঈদগাহের শত শত মানুষ খুনিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। তারা ঘোষণা দিয়েছে- খুনিদের গ্রেপ্তার না করলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবে। নিহত শিমুকে যারা খুন করেছিল তারা ছিল ছাত্রদলের কাজী মেরাজ গ্রুপের সদস্য। এ ঘটনায় কাজী মেরাজকেও আসামি করা হয়েছে। আর মূল হোতা ছিল নাবিল রাজা। এই সরকারের শাসনে নাবিল রাজা সিলেটে কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছে। কয়েক মাস আগে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। ছাত্রদলের লিটন গ্রুপের নেতা লিটন আহমদ গতকাল বিকেলে জানিয়েছেন- আবুল হাসনাত শিমু ছিল ছাত্রদলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। দলের দুর্দিনে আন্দোলন সংগ্রামে তার অবদান ছিল বেশি। তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। রাজনীতিতে ঘাতকদের কোনো স্থান দেয়া উচিত নয়। নতুবা রাজপথের রাজনীতিতে অনিরাপদ হয়ে উঠবে কর্মীরা। তিনি খুনিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান। সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসি গৌসুল হোসেন গতকাল বিকেলে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন- প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে খুনের ঘটনার পর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় রোববার রাতে নগরীর টিলাগড়ে খুন হয়েছে সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা তানিম খান। ৪ঠা জানুয়ারি সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের আজাদ গ্রুপ ও রঞ্জিত গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে গুলিবিনিময়, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওইদিন নগরীর টিলাগড় এলাকা রণক্ষেত্র পরিণত হয়। এই সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরে টিলাগড়ে আজাদ গ্রুপের কর্মীরা নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করে রঞ্জিত গ্রুপের কর্মী তানিম খানকে। এই খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে আন্দোলনে রয়েছে ছাত্রলীগের রঞ্জিত গ্রুপের কর্মীরা। গতকালও তারা সিলেটের এমসি কলেজ, সরকারি কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বিক্ষোভ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন করবে। এ খুনের ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে টিলাগড়ের আজাদ গ্রুপের দুর্ধর্ষ ক্যাডার ডায়মন্ডকে গ্রেপ্তার করেছে। ডায়মন্ড ইতিমধ্যে কয়েকটি ঘটনার জন্ম দিয়েছে টিলাগড়ে। এ কারণে পুলিশ ভোররাতে চিরুণি অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে- এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে আজলাসহ অন্যরা। পুলিশ তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। সিলেটের শাহপরাণ থানার ওসি আক্তার হোসেন জানিয়েছেন- তানিম খুনের ঘটনায় তারা ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল নিহতের পরিবারের সদস্যরা এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুল ওয়াহাব বিকেলে জানিয়েছেন, তানিম খুনের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত মামলা দেয়া হয়নি। মামলার পরপরই পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করবে।মানবজমিন ১১.১.১৮


Free Online Accounts Software