20 Jan 2018 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 9 January 2018 আইন-অপরাধ  (পঠিত : 456) 

দুই গ্রামের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র শহরতলির তেমুখি পয়েন্ট: ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত ১০

দুই গ্রামের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র শহরতলির তেমুখি পয়েন্ট: ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত ১০
     

সিলেট শহরতলির তেমুখি পয়েন্টে দুই গ্রামের সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যান, পুলিশসহ ১০জন আহত হয়েছেন। এসময় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক, তেমুখি-বাদাঘাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল ছুড়াছুড়িতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শর্টগানের ফাকা গুলি ছুড়ে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় সালিশী ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মঙ্গলবার দুপুরে তেমুখি পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়- সম্প্র্রতি ঘোপাল এলাকায় একটি ষাড়ের লড়াই থেকে কুমারগাঁও গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহজাহানের মোটরসাইকেল চুরি হয়। আর এই মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুরে কুমারগাঁও এবং সাহেবের গাঁও গ্রামের লোকজন স্থানীয় তেমুখি পয়েন্টে দেশীয় লাটিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ থামাতে এসে ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন স্থানীয় টুকের বাজার ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ আহমদ। মাথা ফেটে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত হন। পরে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে জালালাবাদ থানার দুই পুলিশ সদস্য রাহুল, সোহাগ ও হামলায় কুমারগাঁওয়ের সুমন, সাহেবের গাঁওয়ের নাজমুলসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এর মধ্যে সুমনের অবস্থা গুরুতর। তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কুমারগাঁও গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহজাহান জানান- গত ২ জানুয়ারি ঘোপাল ছিদ্দেক আলী লন্ডনীর বাড়ির ফটকের সামনে থেকে তার মোটরসাইকেল চুরি হয়। পরে তিনি বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন জাঙাইল বাবুর বাড়িতে চোররা অবস্থান করছে। সেখানে তিনি পুলিশ, স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ ওই বাড়িতে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পিছনের দরজা দিয়ে চোররা পালিয়ে যায়। পরে ওই বাড়ির লোকজনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানায়- সাহেবের গাঁওয়ের নাজমুল মোটরসাইকেল চুরি করেছে। এসময় সেখানে সাহেবের গাঁওয়ের শামীমও যায় বলে তিনি জানান। এরপর থেকে নাজমুলকে খোঁজা হচ্ছে জানিয়ে শাহজাহান জানান- আজ আমরা জানতে পারি নাজমুল এলাকায় অবস্থান করছে। পরে তাকে তেমুখি এলাকা থেকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর জের ধরে তার ভাই জুবের আহমদ সুমনকে তেমুখি বাইপাস এলাকা থেকে নাজমুলের চাচা আকমল, শামীমসহ সংঘবদ্ধ দল হামলা চালিয়ে মোটরসাইকেল ও নগদ ৪৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সুমনের উপর হামলার খবর শুনে গ্রামের লোকজন এগিয়ে গেলে তাদেরও উপরও হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ইউসুফ আলী, আব্দুল মজিদ, সালেহ আহমদ, ইব্রাহিম, তাজ উদ্দিন, আব্দুল খালিক, রফিক আহমদ এবং তিনি নিজেসহ আরো অনেকে ইট-পাটকেলের আঘাতে আহত হন। এদের মধ্যে সুমনের অবস্থা গুরুতর বলে তিনি জানান।

নাজমুলের চাচা আকমল জানান- নাজমুল মোটরসাইকেল চুরি করে থাকলে এবং প্রমাণ মিললে মোটরসাইকেল ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে আমি শাহজাহানের ভাই সুমনকে আশ্বাস দিয়েছি। কিন্তু তার কোন প্রমাণ না দিয়ে আমার ভাতিজা নাজমুলকে শাহজাহানসহ সংঘবদ্ধ দল ধরে নিয়ে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। আমি এগিয়ে আসলে আমাকেও ধাওয়া করে গ্রামের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। আমার দোকানের সামনে থেকে ছেলের এবং আমার দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া হামলায় ভাতিজা নাজমুলসহ অনেক মানুষ আহত হয়েছেন।

এদিকে এ ঘটনায় তেমুখি এলাকায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে ওঠে। এমন অবস্থায় উভয় পক্ষকে শান্ত করতে টুকেরবাজার ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ আহমদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, আবুল হাসনাতসহ অনেকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বৃষ্টির মতো উভয় দিক থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ হতে থাকে। এসময় ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ আহমদ। মাথা ফেটে রক্তঝরা শুরু হলে উভয় পক্ষ কিছুটা পিছু হটে। পরে পুলিশ এসে ফাকা শর্টগানের গুলি ছুড়লে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

পরে সালিশী ব্যক্তিত্ব মকবুল হোসেন মখল, কান্দিগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, অধ্যাপক শফিকুর রহমান, একেএম তারেক কালাম, আব্দুল মালেকসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উভয় পক্ষকে সালিশে রাজি করান।

জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান- উভয় পক্ষকে শান্ত করতে পুলিশ ফাকাগুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় দুই পুলিশ সদস্যও আহত হন।

তিনি জানান- তেমুখি পয়েন্টে বার বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হামলার সাথে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ এ সল্ট মামলা করবো। কোন অবস্থাতেই আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হতে দেওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে আমরা আরো কঠোর হবো।

এদিকে সংঘর্ষে আহত চেয়ারম্যান শহীদ আহমদকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে আসেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, একেএম তারেক কালামসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।


Free Online Accounts Software