18 Jan 2018 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 3 January 2018 অন্য পত্রিকার সংবাদ  (পঠিত : 627) 

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড় নাবিলের দায় এড়ানোর চেষ্টা

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়
নাবিলের দায় এড়ানোর চেষ্টা
     

ওয়েছ খছরু দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা সিলেটের নাবিল রাজার। নিজের ফেসবুকে এ নিয়ে নাবিল সরব। তিনি নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সিলেট মহানগর ছাত্রদল নেতা আবদুল হাসনাত শিমু খুনের ঘটনার পর থেকে নাবিল রাজার নামটি ছাত্রদলের ভেতরে আলোড়িত হচ্ছে। ওই সময় ঘটনাস্থলে থাকা কয়েক জন ছাত্রদল নেতা মূল ঘটনাকারী হিসেবে নাবিল রাজার নামটি উচ্চারণ করেছেন। তারা এই খুনের ঘটনার জন্য নাবিল রাজাকে দায়ী করেন।
এর প্রেক্ষিতে গতকাল নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন নাবিল। স্ট্যাটাসের শুরুতেই তিনি লিখেছেন, ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমার ভাই সিলেট মহানগরের ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত শিমু ভাই খুন হয়েছেন।’ ‘আজ বাদ আছর শাহী ঈদগাহে উনার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আমার ব্যাড লাক শুধু পলিটিক্যাল অবস্থানের কারণে আমার ভাই হত্যার অভিযোগ আমার দিকে উঠেছে।’ এ স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন- ‘ শিমু ভাই বেঁচে থাকলে এটা কখনও হতো না, উনার সঙ্গে আমার রিলেশন কেমন তা সবার ক্লিয়ার। এই প্রোগ্রামে অর্গানাইজেশন নিয়ে মিরবক্সটুলা দু’দিন আগে আমাদের গ্রুপ মিটিং এ আমার পাশে বসা নিয়ে শিমু ভাই বলছেন- আমার ভাই ওর ধারে বইছি। ভাই আজ শুধু পলিটিক্যাল স্বার্থে কিছু মানুষ তোমার খুনের মামলায় আসামি করতে চাইছে আমাকে? জানাযায় না থাকতে পারলে দোয়া থাকবে ভাই। আল্লাহ আমার ভাইকে বেহেশত নছিব করুন।’ ফেসবুক স্ট্যাটাসের শেষ লাইনে তিনি সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে তার পর সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সিনিয়রদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। সিলেট ছাত্রদলের মিরবক্সটুলা গ্রুপের নেতা ছিলেন নিহত সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত শিপু। আবার নাবিল রাজাও হচ্ছে ওই গ্রুপের আরেক নেতা। একই গ্রুপে থাকলেও তারা দুটি উপ-গ্রুপের নেতা ছিলেন। উপ-গ্রুপের একটি মাহবুব গ্রুপ নামে পরিচিত। ওই গ্রুপের বর্তমান নেতা হচ্ছে লিটন। লিটনের সঙ্গে রাজনীতি করতেন নিহত আবুল হাসনাত শিপু। আর মিরবক্সটুলা গ্রুপের আরেক নেতা কাজী মেরাজ। সিলেট মদন মোহন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতা কাজী মেরাজের অংশের মূল নেতা হচ্ছেন নাবিল রাজা। ছাত্রদল সূত্র জানায়- একই গ্রুপে থাকলেও দুই উপ-গ্রুপের বিরোধ ছিল তুঙ্গে। এই বিরোধের জের ধরেই আবুল হাসনাতকে খুন করা হয়েছে। তবে শিমুর রাজনৈতিক সহকর্মী খোকন পূর্ববিরোধটি মানতে নারাজ। তিনি বলেন- পূর্বের কোনো বিরোধ ছিল না। ওইদিন মিছিলের সামনের কাতারে যাওয়া নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ঠেলাঠেলি হয়। আর ঠেলাঠেলিতে ছুরিকাঘাত করা হলে খুন হন আবুল হাসনাত শিমু। গ্রুপের প্রধান সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি লিটন আহমদ জানিয়েছেন- ‘আমরা মিছিলে ছিলাম। জুনিয়রদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে শুনেছি। শিমু খুনে কারা জড়িত সেটি আমরা তদন্তের মাধ্যমে বের করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’ শিমু খুনের ঘটনায় সিলেট ছাত্রদলে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। শিমু ছিল প্রাণচাঞ্চল্য এক যুবক। সে অনেক আগে থেকেই ছাত্রদল করছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালিতে এমন ঘটনা ঘটবে সেটি ঘুণাক্ষরে টের পাননি রাজনৈতিক সহকর্মীরা। তারা বলেন, যখন ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় তখন দূরে ছিলেন শিমু। তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে এসেছিলেন। কিন্তু এসেই হন ছুরিকাঘাতের শিকার। তারা জানান- নাবিল রাজা হচ্ছে বেপরোয়া। সে এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। কয়েক মাস আগেও সে কারাগারে ছিল। নগরীর দর্শন দেউরী ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণ করে নাবিল রাজা। বর্তমান সরকারের সময় একাধিবার আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে কয়েক মাস আগে দর্শন দেউরী এলাকায় কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। একটি ফার্মেসিতে হামলা চালানো হয়। এর আগে স্থানীয় বিরোধে কয়েক জনকে আহত করা হয়। আর এসব ঘটনার হোতা ছিল নাবিল রাজা। এ কারণে দর্শন দেউরী, সুবিদবাজার এলাকায় ঘটনা ঘটলেই উঠে আসে তার নাম। সিলেটের পুলিশের তালিকায়ও রয়েছে নাবিল রাজার নাম। এদিকে কোর্ট পয়েন্টে ছুরিকাঘাতে নিহত ছাত্রদল নেতা আবুল হাসনাত মনির লাশের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। বাদ আসর তার জানাযার নামাজ শাহী ঈদগাহ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, শিমু খুনের ঘটনায় রাতে তারা মামলা দায়ের করবেন। মানবজমিন ৩.১২.১৭


Free Online Accounts Software