18 Jan 2018 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 28 December 2017 ব্যক্তিত্ব  (পঠিত : 4694) 

মমতাময়ী বীথির জন্য অনেক শুভ কামনা

মমতাময়ী বীথির জন্য অনেক শুভ কামনা
     

এম এ আসাদ চৌধুরী:
সিলেট শহরের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে বীথি। তার পুরো নাম তাসলিমা খানম বীথি। বাবা-মা আর বোন নিয়ে তাদের পরিবার। তিন বোনের মধ্যে সে মেঝো। তার কোনো ভাই নেই। পড়ালেখা শেষ করে সিলেটে প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টালের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করছে। সিলেট এক্সপ্রেসের কাজের পাশাপাশি সে সাহিত্য নিয়েও কাজ করছে। সাহিত্যের প্রতি টান থেকেই তার লেখালেখি। এখন কাজই তার একমাত্র নেশা ও পেশা। সেই সাথে সাহিত্যের নিবিড় পরিচর্যা তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বীথি খুব সাদা মনের একটি মেয়ে, অতি সহজেই যে কারো সাথেই মিশতে পারে, যে কাউকেই আপন করে নিতে পারে। সিলেটের কোনো এক লেখক সংগঠনের একটি প্রোগ্রামে তার সাথে আমার দেখা। অবশ্য এর আগেও অন্য কোনো প্রোগ্রামে দেখা হয়েছিলো, সেখানে আমার একটা বইও তাকে দিয়েছি, কিন্তু তখন এতোটা কথা হয়নি তার সাথে। অপরিচিতদের সাথে কথা খুব কমই করে থাকি আমি। তবে যদি কেউ নিজে থেকে কথা বলতে চায়। তার সাথে সহজেই সঙ্গ দেই। সেদিন সে প্রোগ্রামের অরগ্যানাইজদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আমার একটি লিখা সিলেটের বেশ কয়েকটি পত্রিকায় দেই। বীথির অনলাইনেও সেই একেই লেখাটি দেই। তার পত্রিকায়ও যায় লিখাটি। গত ডিসেম্বর হাসন রাজা উৎসবে অনুষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন বুথে আমার দায়িত্ব ছিলো, সেখানে বীথিও ছিল । আমি হলের বারান্দা থেকে খুলা আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পিছন থেকে আওয়াজ আসলো "আসাদ ভাই আপনার লিখাটা আমাদের অনলাইন পোর্টালে দিয়েছি দেখে নিবেন"। পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখলাম বীথি। এরপর তার নিউজ লিংকে গিয়ে লেখাটি দেখলাম। লেখাটি ফেসবুকে শেয়ার করলাম। আমাদের প্রোগ্রামটি সকাল ৯:০০ থেকে রাত ৯:০০ পর্যন্ত ছিলো। সেই সুবাধে দীর্ঘক্ষণ আলাপের সুযোগ হয় তার সাথে। সেদিন একি দায়িত্বে শাকিল,শামিম,এমদাদ,সালেহ সহ আমরা সকলেই ছিলাম। সবাই মিলে খুব মজা করি, অনুষ্ঠান শেষে আমি শাকিল, জুবায়ের, ও বিথী একটি রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া ফাঁকে অনেক্ষণ আড্ডা দেই। কাজের ফাঁকে বিথী কে যতটুকু জানলাম, সদা সহাস্যমুখ একটি মেয়ে বিথী। সফেদ, সজ্জন, স্বভাবকবিত্ব ফুটে উঠে তার প্রতিটি কথার ফাঁকে। কথা মাধুর্যে নিবৃত প্রেমময়ী ছোঁয়া। চলার ধাচে এক মহীয়সী ভাব। তার পরিবারে ভাই নেই, ভাইয়ের অভাব টুকু পুরনে তার সকল প্রচেষ্টা। সে চায় সবাই কে ভালো রাখতে, হাসিয়ে রাখতে, বিপরীতে অনেকেই ভুল বোঝে তাকে। স্বাভাবিকত যে মানুষ গুলো অন্যকে খুশি রাখতে চেষ্টা করে কিন্তু হিতে বিপরীত হয় তারা মানসিক ভাবে খুবই কষ্ট পায়। বীথির একটি লেখা 'কচি' ম্যাগাজিনে পথকলি শিশুদের নিয়ে একটি লেখা পড়েছিলাম। লেখাটা অত্যান্ত যুগোপযোগী। সমাজের অবহেলিত মানুষের প্রতি চরম মমত্ববোধ জেগে উঠেছে তার লেখায়। যে কোনোজন যদি সামান্য তম কমনসেন্স নিয়ে লেখাটি ভাবনায় স্থাপন করে, তবে মনুষ্যত্বের চেতনায় উৎকর্ষতার ছোঁয়া পাবে। এরকম একটি শুধু তারাই লিখতে পারে, যাদের মধ্যে অবহেলিত মানবতার জন্য মমতার ঢের থাকে। আর তারাই এনে দিতে পারে অবহেলিত "শাওনের জন্য একপশলা বৃষ্টি" শুধুই বৃষ্টিই নয় সুখের বৃষ্টি। আমার একটি ধারনা "মেয়েরা জীবনভর তিনটি শিখলে আবদ্ধ! বাবা,স্বামী ও ছেলের ঘর" এ কথাটি আমি সহজে মানতে পারিনা, কারন মেয়েরা যদি তার ধর্মীয় মৌলিকতা বজায় রেখে চলতে চায় তবে এধারা তাকে মানতেই হবে। তবে, কিছু মহীয়সী নারী সীমার ভেতরে থেকেই স্বাধীনতার মুক্ত স্বাদে মুগ্ধতার পরশপান। আর তারাই সফল। আমি বীথির বেলায়ও সীমারেখায় স্বাধীনতার মুগ্ধকর মুক্ত হাওয়া কামনা করবো। কারন মমতাময়ী বীথিদের কন্ঠে বিরহাচ্ছাদিত "ভেঙ্গে মোর ঘরের চাবি, নিয়ে যাবি কে আমারে" শুনতে আমি চাই না। আজ তার জন্মদিন। অনেক অনেক শুভ-কামনা বীথির জন্য।


Free Online Accounts Software