18 Dec 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 30 November 2017 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 342) 

কবি হাসনাইন সাজ্জাদী : বিজ্ঞান কবিতার স্বপ্নপুরুষ

কবি হাসনাইন সাজ্জাদী : বিজ্ঞান কবিতার স্বপ্নপুরুষ
     

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল:
হাসনাইন সাজ্জাদী বিজ্ঞান কবিতার প্রবর্তক। তিনি কবি সমাজচিন্তক ও সংগঠক। বর্তমানে বাংলা কবিতায় বিজ্ঞানমনষ্কতা নিয়ে আসার পাশাপাশি আরো বহু দিকে তার কর্ম বিস্তারিত রয়েছে। তবে কবিতায় বিজ্ঞানবাদই তাকে আকর্ষণ করেছে বেশি। তিনি প্রবলভাবে ঝুঁকে পড়েছেন বিজ্ঞান কবিতার দিকে। বাংলাসাহিত্যে ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞান কবিতা আন্দোলন শুরু করেন। কবিতায় বিজ্ঞানবাদ লালন করে এগুতে থাকেন তখন থেকেই। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে পুরোদমে উৎসর্গ করেন বিজ্ঞান কবিতার আন্দোলনে। ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ১৩ ডিসেম্বর জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্ট্যাডিজে ‘বিজ্ঞান যুগে বিজ্ঞান কবিতা’ থিয়োরি উপস্থাপন করে তিনি কবিতার ইতিহাসে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। কবিতার নানাদিকে যে বিজ্ঞান আছে তা তিনি প্রমাণ করেছেন। কবিতার উপমা, রূপক, উপমান, উৎপ্রেক্ষা, চিত্রকল্প ইত্যাদিতে বিজ্ঞানের ব্যবহার বিস্তারিত আলোচনা করেন। হাসনাইন সাজ্জাদী অত্যন্ত সুন্দর করে দেখিয়েছেন যে কবিতার এ প্রধান উপাদানগুলোর ভেতরে বিজ্ঞানমনষ্কতা আছে।
কবিগণ মূলত কবিতার চর্চা করেন সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে। শিল্পসাহিত্যকে মানুষের ভাগ্য ও চরিত্রের পরিবর্তনের উপলক্ষ করতে চান। বিজ্ঞানমনষ্ক একটি সমাজ ও বিজ্ঞানমনষ্ক জাতি গঠনের জন্য বিজ্ঞানবাদ। ধরা যাক একটি রাজনৈতিক দর্শনের কথাÑসেখানে সমিতিভিত্তিক অর্থনীতির একটি রাষ্ট্র থাকলে সকলের অধিকার যেখানে সমান হবে। আর এ হিসেবেই বিজ্ঞানবাদ থেকে বিজ্ঞানকাব্যতত্তে¡ কাজ করছেন কবি হাসনাইন সাজ্জাদী। ৬ দফার বিজ্ঞানকাব্যতত্তে¡ এমন একদল কবি তৈরির স্বপ্ন তিনি দেখেন; যারা বিজ্ঞান সমাজ গঠনের জন্য পরিবেশ তৈরি করবে। এ কাজটি আমাদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতারই ভীত তৈরি করবে। আসলে আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতাই বড়। নিজেদের জন্য সুন্দর পৃথিবী এবং প্রজন্মের জন্য সুন্দর আবাস গড়ার জন্যেই এই দায়বদ্ধতা। এর জন্যেই কবিতায় বিজ্ঞানচর্চার কথা বলা হচ্ছে, বিজ্ঞান কবিতা আন্দোলন যাত্রা শুরু হয়েছে। নিজের স্বকীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি, তবে তা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে। বিজ্ঞান কবিতায় আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও ভাবনাকে নিয়ে এসছেন। যেমন ছোট ক্যানভাসে বড় উপমা ৬ দফার একটি। আমেরিকার কবিরাও এখন ছোট কবিতা লিখছেন। বিজ্ঞানমনষ্ক ভাবনায় কবিতা লিখছেন। আপনি যখন দেশের বাইরে থাকবেন তখন আপনার ভাবনায় যে দেশ থাকবে তা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেই থাকবে। কবিতাও এমন একটি আন্তর্জাতিকতাবাদ যা দেশে বসে লিখলেও আপনার চেতনায় বিশ্ব ভাবনা থাকবে, থাকতে হবে। আপনি যখন স্বাদেশিকতার ঊর্ধ্বে উঠবেন তখন কোন বিপত্তি থাকবে না। দেশপ্রেমকে বিশ্ব প্রেমের ক্যানভাসে নিয়ে যান। নিজের সমস্যাকে বৈশ্বিক ভাবনায় তুলে ধরুন। তাতে আরো মহৎ কাব্য সৃষ্টি হবে। কবিতায় সমাজ সচেতনতার বিষয়টি সমাজ বিবর্তনের ধারায় চলে আসছে। আমরা গুহা থেকে এখন বহুতল ভবনে বাস করছি। নিজের সাধনায় মানুষ আজ এই জায়গায়। কিন্তু আমরা অলীক কল্পনায় ডুবে থাকি। আমরা ভাগ্য নিয়ে চর্চা করি। এখান থেকে বের করে মানুষকে বিজ্ঞানচেতনায় নিয়ে আসার অর্থ মানুষকে আত্মশক্তিতে বলিয়ান করা। বিজ্ঞানবাদের প্রচেষ্টা হলো মানুষ তার নিজের শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে সবার কথা ভাবুক, এই মনোভাব তৈরি করা। এটা শুধু কাল চেতনা নয়, পুরো বিবর্তনবাদের চেতনা। বিজ্ঞান কবিতায় একটি দফা আছে বিজ্ঞান যুগকে কবিতায় ধরে রাখা। এটাই কাল চেতনা। তবে এই কাল চেতনা বিজ্ঞান কবিতার এক ষষ্ঠমাংশ মাত্র। আরো দফা আছে এবং জীবন একটি বিবর্তন ধারার নাম। কবিতায় এই পুরো বিবর্তন চেতনার প্রতিফলন ঘটবে বিজ্ঞানবাদে।
বিজ্ঞান কবি হাসনাইন সাজ্জাদী ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে ১ মার্চ মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার গবিন্দপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতামহ আমির সাধু ছিলেন একজন খ্যাতিমান লোকসাহিত্যিহিক। তার বাবা মোহাম্মদ সাজ্জাদ মা বখতুন্নেছা চৌধুরী। শৈশব থেকে তিনি ছিলেন লেখাপড়ার প্রতি গভীর মনোযোগী। তার মেধার প্রখরতা তখন থেকেই অভিভাবকদের আন্দোলিত করেছিল। সহপাঠীদের মধ্যে ছিলেন বুদ্ধিমান ও দুরন্ত স্বভাবের অধিকারী। গ্রামের মকতব ও প্রাইমারি স্কুলে সহপাঠীদের মধ্যে তিনি মেধাবীদের দলে থাকতেন। ‘মানিক সিংহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ থেকে তার প্রাথমিক শিÿার হাতেখড়ি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ থেকে স্নাতক সম্মাননা লাভ করেন। বিজ্ঞান কবি হাসনাইন সাজ্জাদী ১১৯৯ খ্রিস্টাব্দে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার স্ত্রী রুবিনা সাজ্জাদী একজন আদর্শ গৃহিণী। পারিবারিক জীবনে তিনি এক কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জনক। সাংস্কৃতিক পরিমÐলে বেড়ে ওঠা এই আদর্শ পরিবারের প্রত্যেক সদস্য এক সম্ভবনাময় প্রাণ।
কবি হাসনাইন সাজ্জাদী পেশাগত জীবনে একজন ব্যবসায়ী পরিশ্রমী সাংবাদিক ও সৃজনশীল লেখক। লেখালেখিতে রয়েছে তার এক ব্যতিক্রমী সত্তা। তিনি বিজ্ঞান কবিতার স্বপ্নপুরুষ। সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় রয়েছে তার সরব বিচরণ। বিশেষ করে তিনি কবিতা লিখতে এবং কবিতার বিজ্ঞানধারায় কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এ পর্যন্ত তার অনেকগুলো গ্রন্থ বেরিয়েছে। এর মধ্যে উলেøখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থ হলো এখানে একদিন (কাব্যগ্রন্থ : ১৯৮৮), দুই বাংলার চলচিত্র (নির্বাচিত প্রবন্ধ : ১৯৯৮), সাফল্যের রাজপুর টমি মিয়া (জীবনীগ্রন্থ : ২০০০), টমি মিয়ার ভিন্ন স্বাদের রান্না (রেসিপি : ২০০৪), সময় বদলে গেছে (কাব্যগ্রন্থ : ২০০৮), সিলেটের লোকসাহিত্য ব্যক্তিমানস সমাজ (লোকসাহিত্য : ২০০৮), ভালবাসার বড় কিছু (কাব্যগ্রন্থ : ২০১১), একশ’ কোটি তেজস্ক্রিয়তা (কাব্যগ্রন্থ : ২০১২), জালালপুর সাব-সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ (মুক্তিযুদ্ধ : ২০১২), সাংবাদিকতার অ, আ, ক, খ (সংবাদ বিষয়ক : ২০১৩), বিজ্ঞান কবিতার রূপরেখা (গবেষণাগ্রন্থ : ২০১৪ এবং ২০১৫), জাপানে বঙ্গবিদ্যা ও বাংলাদেশের বিজ্ঞান কবিতা (গবেষণাগ্রন্থ : ২০১৬), বিজ্ঞান যুগের সাংবাদিকতা (সংবাদ বিষয়ক : ২০১৬), আকাশজুড়ে বন্ধু (ছড়াগ্রন্থ : ২০১৭), ছোটদের বিজ্ঞানবাদ (শিশুতোষ : ২০১৭), হে স্বপ্ন হে বিজ্ঞান কবিতা ( কাব্যগ্রন্থ : ২০১৭) প্রভৃতি।
কবি হাসনাইন সাজ্জাদী শুধুমাত্র লেখন নন তিনি একজন ভালো সংগঠক ও সমাজসেবী। এপার বাংলা ওপার বাংলাসহ দেশে-বিদেশের কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে রয়েছে তার সুসম্পর্ক। মানুষের কল্যাণে কাজ করার দায়িত্বজ্ঞান থেকে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাÐের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। স্থানীয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজের স্বীকৃতি ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। মানবদরদী এই লেখক অতি অল্প সময়ে মানুষকে কাছে টেনে নেন। তার মিষ্টভাষী ব্যবহার ও জ্ঞানগর্ভ কথাবার্তা যে কাউকে মনোমুগ্ধ করে তোলে। তিনি যেসব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম হলোÑবিজ্ঞান কবিতা আন্দোলন-সভাপতি, আন্দোলন কন্ট্রাক্ট পার্সন-ইউআরআই সায়েন্স পোয়েট্রি বাংলাদেশ সিসি (এসপিবি), বিজ্ঞানবাদ চর্চাকেন্দ্র-সভাপতি, বিজ্ঞানবাদী পার্টি বাংলাদেশ-চেয়ারম্যান, সাপ্তাহিক খোঁজখবর ও মাসিক পূর্বাপর-সম্পাদক।
কবি হাসনাইন সাজ্জাদী বাংলাদেশে বিজ্ঞান কবিতার মূল প্রাণস্রোত। তার প্রচেষ্টায়ই অগ্রসর হচ্ছে বিজ্ঞান কবিতা আন্দোলন। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানবাদ কবিতা আন্দোলনে বাংলাসাহিত্যের বিজ্ঞানবাদী কবি হিসেবে তিনি সুপরিচিত। তার কাব্যতত্তে¡ নারী-পুরুষ লিঙ্গ বৈষম্যের দিক অন্যতম। আমাদের সমাজে ইসলামি অনুশাসনের প্রয়োগ না-থাকার কারণে পুরুষ সবসময় নারীর উপর আধিপত্য বি¯Íার করছে। এই আধিপত্য নারীর প্রতি অনধিকার চর্চার অন্তর্ভুক্ত। নারীদের এই বঞ্চনা থেকে উদ্ধার করতে হবে। মানুষ হিসেবে আমরা সকলই যে এক ও অভিন্ন এই বিজ্ঞান চিন্তাকে জাগ্রত করতে হবে। কবি হাসনাইন সাজ্জাদীর বিজ্ঞানবাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষের মৌলিক দিকগুলো তোলে ধরা। মানুষকে সচেতন করে ধনী গরিবের ব্যবধান কমানো, লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। তিনি মনে করেন এই কাজগুলো বিজ্ঞান কবিতা আন্দোলনের মাধ্যমেই সম্ভব। তিনি বলেন কবিরা এ কাজ অনায়াসেই করতে পারেন। কবিগণ সমাজের সবচেয়ে ক্রিয়েটিভ শ্রেণির লোক। তারা যে কবিতা লিখেন মনের আবেগ দিয়ে, হৃদয়ের গভীরতম অনুভ‚তি দিয়ে তাদের এই আবেগ আর অনুভূতিতে বিজ্ঞানমনষ্কতার মিশ্রণ ঘটলেই পাঠকরা মানসিকভাবে পুষ্ট হবে। তখনই বিজ্ঞানবাদ সফলভাবে মানুষের চিন্তায় প্রবেশ করবে। এজন্য বিজ্ঞান কবিতা আন্দোলন অত্যন্ত জরুরি এবং বিজ্ঞানবাদী কবি সৃষ্টি করা প্রয়োজন। আর তখনই সমাজে পরিবর্তন শুরু হবে।
কবি হাসনাইন সাজ্জাদীর ধারণা বিজ্ঞানচিন্তাই সমাজসেবার মূল সৌধ। মানুষের ভেতরে বিজ্ঞানচিন্তা থাকলে সমাজের অসঙ্গতি দুঃখ দুর্দশা দেখলেই মনে আঘাত লাগবে। এ বোধটা বিজ্ঞানমনষ্কতাকে অগ্রসর করবে। তিনি এই চিন্তাভাবনা থেকে ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে ১৪ এপ্রিল ‘বিজ্ঞানবাদ চর্চা কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং উদ্দিষ্ট লÿ্যে অগ্রসর হতে থাকেন। তিনি মনে করেন শিল্পসাহিত্য থেকে মানুষের জীবন গড়ে উঠবে। তিনি মনে করেন গল্প, কবিতা, নাটক, উপন্যাসসহ সাহিত্যের নানা শাখাকে বিজ্ঞানসমাজ গঠনে অনুসরণ করা হবে। এতে মানুষের মৌলিক জীবন বোধ তৈরি হবে। বিজ্ঞানসমাজ আমাদের প্রচলিত সমাজব্যবস্থার মূলোৎপাটন করে নতুন ধরনের সমাজ প্রতিষ্ঠা করবে। একদিন বিজ্ঞান কাব্যতত্ত¡ ও বিজ্ঞানবাদ গণমানুষের দৃষ্টি আর্কষণ করতে অবশ্যই সÿম হবে। সেদিন সমাজ ভাবনা অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। কবি হাসনাইন সাজ্জাদীর বিজ্ঞানবিষয়ক কবিতার মধ্যে উলেøখযোগ্য কবিতা হচ্ছে : পারমাণবিক বিস্ফোরণের ভয়াবহতা, সময় ও গতিপথ, আরেকটি রাসায়নিক জুস, রোবটিক অস্ত্রোপাচার, জলবায়ু পরিবর্তনে অতীত, কতটা জল দরকার, হিমঝড়, অটিস্টিক শিশুদের জন্য, জল হাওয়া পরিবর্তন, হারিয়ে যাবে সুন্দরবন, অটিজম, ফাস্টফুড ছন্মবেশী বিষ, প্রকৃতি ও সংগ্রাম, দুর্যোগের জন্য প্রশিÿণ, ভয়, কলঙ্ক, পরাশক্তি, হে স্বপ্ন হে বিজ্ঞান কবিতা ইত্যাদি।
কবিকে মানুষের মুক্তির জন্যই লিখতে হবে। যে কবিতা বা মতবাদে মানুষ অবহেলিত তা মানুষ গ্রহণ করেনি। যেখানে মানুষের কথা নেই সেখানে কোন বিশুদ্ধতা নেই। যেখানে মানুষের সমস্যার সমাধানের দিঙ্নির্দেশনা নেই, সেখানে কোনো কল্যাণ নেই। সেখানে মানুষ যাবে কেন? নজরুল ইসলাম মানবতার মুক্তির গান গেয়েছেন, তাঁর কবিতায় উঠে এসেছে বঞ্চিত-পীড়িত মানুষের কথা। এভাবে বাংলাহিত্যের বিশাল অংশ জুড়ে আছে ব্রাত্য মানুষের কথা। সুকান্তের কবিতায় এসব পীড়িত মানুষের কথা প্রতিবাদী শব্দে জ্বলছে। শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, সৈয়দ শামসুল হক, নির্মলেন্দু গুণ সহ অনেক কবির কণ্ঠ থেকে বেরিয়েছে সাধারণ মানুষের যাতনার কবিতা। এজন্য তারা অবশ্যই কবিতায় বেঁচে থাকবেন। বেঁচে থাকবেন বাঙালি মননের কথা বলার জন্যে। বিজ্ঞান কবিতাও নারী-পুরুষ, শাদা-কালো, ধনী-গরিব সকল বৈষম্য দূরীভূত করে মানুষের মুক্তি স্বপ্ন দেখছে, এই স্বপ্নের মৃত্যু নেই। কল্পনার বিজ্ঞানভিত্তিক ভাষিক উদ্ভাসন থাকলে বিজ্ঞান কবিতাও থাকবে। বিশ্বায়ন সমস্যার বিজ্ঞান ভিত্তিক চিত্রায়ন ও এর সমাধানে বিজ্ঞান কবিতাও বিশ্ববাসীকে বুকে টেনে নিবে আর এভাবেই তা স্থায়িত্ব পাবে।
কবি হাসনাইন সাজ্জাদী বিজ্ঞান কবিতার যে নতুন আন্দোলন শুরু করেছেন, তার এই আন্দোলনে প্রত্যেক সমাজ সচেতন কবিকে অংশগ্রহণ করা আবশ্যক। কবিগণ এই আন্দোলনের সহযাত্রী হলে সাহিত্যে এবং সমাজে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পরস্পর সম্প্রীতি সমৃদ্ধ হবে, সমাজের হীনম্মন্যতা দূরীভ‚ত হবে। বিজ্ঞানের বিস্তারে সমাজ থেকে মুছে যাবে সকল অন্ধকার ও কলঙ্ক। তখন একসঙ্গে সবাই ধর্মীয় মরমীবাদকে আনন্দে-সাগ্রহে লালন করতে পারবেন। আর বিজ্ঞানই এই মানবতাবোধ ও মমত্ববোধের পথ খোলে দেয়। কবি হাসনাইন সাজ্জাদীকে তার এই অভিনব চিন্তাধারার এবং কর্মকাÐের জন্য অভিনন্দন। কবির কর্ম সফল ও সার্থক হোক। কবি ও কবিতা জগতের কাজে আসুক, কবিতা হোক মানুষের জন্য। আমরা কবির সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি।
লেখক : প্রাবন্ধিক, প্রকাশক ও সংগঠক


Free Online Accounts Software