18 Dec 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 18 November 2017 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 420) 

নিবৃতচারী কথাসহিত্যিক আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম। জীবন ও কর্ম

নিবৃতচারী কথাসহিত্যিক আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম। জীবন ও কর্ম
     

মো. আব্দুল মালিক:
আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম ষাটের দশকের শক্তিমান কথা সাহিত্যিক।মফস্বলবাসী এ মননশীল লেখক সাহিত্যের সঙ্গে ঘর করেছেন প্রায় অর্ধশতাব্দী। অজ পাড়াগাঁয়ে পড়ে থাকার কারণে তাঁর ভাগ্যে জুটেনি ঈস্পিত খ্যাতি। প্রচার প্রসারের পাদ প্রদীপের আড়ালে পড়ে থাকায় তিনি অনালোচিত থেকে গেছেন জীবদ্দশায়। আত্মপ্রচার বিমুখ হওয়ায় তাঁর প্রতিভার পরিচয় জাতীয় পর্যায়ে তেমন প্রকাশ পায় নি। অন্তর্মুখী এই মানুষটি নিজের সম্পর্কে অনুচার্য থেকে গেছেন বরাবরই।
আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামের জীবন ছিল ঘটনা বহুল। জীবনের বাঁকে বাঁকে সাহিত্য চর্চা ছাড়াও তিনি নানা ধরনের কর্মকান্ডে ব্যাপৃত ছিলেন। বাঙালি জাতির শ্রেষ্ট অর্জন মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সরাসরি অংশ গ্রহণ করেন। তিনি মুক্তাঞ্চল থেকে প্রকাশিত ‘মুক্ত বাংলা’ সাপ্তাহিকীর সম্পাদক ছিলেন। নিজ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেছেন। সক্রিয় রাজনীতি করেছেন দীর্ঘকাল। শিÿকতার মহান পেশায়ও জড়িত ছিলেন,সাংবাদিকতা, সমাজহৈতেষণা ছিল তাঁর জীবনের অনুষঙ্গ। রাজনৈতিক কারণে তিনি দু’বার কারাবরণ করেন। কারাজীবনের অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্যকে করেছে সমৃদ্ধ। দৈনিক ইত্তেফাকের উপদেষ্টা সম্পাদক আখতার উল আলম এর মতে, ‘আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম মরহুম আবুল মনসুর আহমদের মফস্বল সংস্করণ।’
জন্মঃ আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম সিলেট জেলাধীন বিয়ানী বাজার উপজেলার মাথিউরা গ্রামে ২২ নভেম্বর ১৯২২খ্রিষ্ট:ব্দে এক ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম জাফর আলী খান, মাতার নাম জহুরা বেগম। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।

শিক্ষা জীবনঃগ্রামের পাঠশালাতে তাঁর হাতেখড়ি। পরে পিতার কর্মস্থল কলিকাতায় কেটেছে কৈশোর ও যৌবন। কলকাতার মিশনারী স্কুলে ঝঃ. ইঅজঘঅইঅঝ থেকে ১৯৪০ সালে মেট্রিকুলেশন ও লর্ড রিপন কলেজ থেকে ¯œাতক পাস করেন। তিনি শিলচর থেকে গুরু প্রশিÿণ (এঞ) গ্রহণ করেন।

সাহিত্যক জীবনঃ কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে সাহিত্যাঙ্গঁনেপ্রবেশ। প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘ওজিরে তালিম খেদমতে’- সাপ্তাহিক নওবেলাল ২৪ মে ১৯৫১ খ্রি:।
প্রথম প্রকাশিত গল্প ‘দোয়া’ মাসিক সৈনিক ৬ নভেম্বর ১৯৫৯খ্রিঃ। আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম মূলত গল্পকার। ১৯৫১ থেকে ১৯৯৫ এর মধ্য মার্চ পর্যন্ত তাঁর কলম সক্রিয় থাকলেও ১৯৬৮ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত প্রায় এক যুগ রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় সাহিত্য সাধনা থেকে দূরে থাকেন।
১৯৫১ - ১৯৬৮ খ্রিঃ পর্যন্ত তাঁর সাহিত্য জীবনের স্বর্ণযুগ। এ সময় রাজধানী ঢাকা থেকে প্রকাশিত এমন কোন পত্রিকা খোঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়নি। দৈনিক আজাদ, ইত্তেফাক, সংবাদ, দৈনিক পাকি¯Íান, মাসিক মোহাম্মদী, সওগাত, আল ইসলামসহ মাহে নও, পাকিস্থানী খবর, পাক জমহুরিয়াত, পাক-সমাচার, যুগভেরী, জালালাবাদীসহ আরও অসংখ্য পত্র পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
এ সময় তাঁর অসংখ্য গল্প ও কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। রাজনীতিতে সক্রিয় হবার পূর্বে তাঁর ৪টি গ্রন্থপ্রকাশিত হয়। এগুলো হচ্ছে উপন্যাস ‘নয়া দুনিয়া’ - ১৯৫৩, বড় গল্প ‘নীরবনদী’-১৯৬৫, গল্পগ্রন্থ ‘পঞ্চবিংশতি’-১৯৬৭ এবং নাটক ‘মাটির চেরাগ-১৯৬৯। দীর্ঘ এক যুগ রাজনীতিক কারণে সাহিত্য সাধনা থেকে বিরত থাকলেও ৮০ এর দশকে সাহিত্য সাধনায় আবার সক্রিয় হন এবং ১৯৯৫ সালের মধ্য মার্চ পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।
১৯৮৪ সালে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে তাঁর কিশোর উপন্যাস ‘সাবুর দুনিয়া’। কারা জীবনের স্মৃতি নিয়ে লিখেন ‘বন্ধী জীবনের কিছু কথা’ ১৯৮৭ ও‘কারাগার থেকে বেরিয়ে’- ১৯৮৯। গল্পগ্রন্থ ‘চালচিত্র’-১৯৮৯ ও যুগল উপন্যাস ‘রাÿুসে বন্যা এবং’-১৯৯৭। তিনি প্রায় প্রতিদিন নিয়ম মেনে লিখতেন।
বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামের প্রকাশিত গল্পের সংখ্যা প্রায় ৩৫০টি। অসংখ্যপ্রকাশিত, অপ্রকাশিত কবিতা রয়েছে। এছাড়াও অসংখ্য প্রবন্ধ নিবন্ধ, রম্যরচনা, স্মৃতিচারণ, সাÿাতকারধর্মী লেখাও আছে। তাঁর অপ্রকাশিত পান্ডুলিপির সংখ্যা ছিল ১০টি। মৃত্যুর পর আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামের ভক্ত অনুরক্ত শুভাকাংখীরা ২০০২ সালে বিশাল কলেবরে দু’খন্ডে তাঁর রচনাবলী প্রকাশ করেন। তখন তাঁর অপ্রকাশিত ১০টি পান্ডুলিপি সেখানে স্থান পায়। পরবর্তীকালে তাঁর আরো ৩৬ টি কবিতার একটি পান্ডুলিপি আবিস্কৃত হয়। সেই ৩৬ টি কবিতা ২০০৩ সালে প্রকাশিত আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামস্মারক গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। লেখকের রচনা সমগ্র ও স্মারকগ্রšথ প্রকাশ হওয়ায় তাঁর অর্ধ শতাব্দী ব্যাপী সাহিত্য সাধনা সংরÿণের সুবিধা হয়েছে, তেমনি আগ্রহীরা এ লেখক সম্পর্কে সহজে জানতে পারবেন ।
রাজনৈতিক জীবনঃ পরাধীন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি ছাত্রাবস্থায় সম্পৃক্ত হন। নেতাজী সুভাষ বসু পরিচালিত হলওয়েল মুভমেন্ট আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। দেশ ভাগের পর গ্রামের বাড়িতে এসে লেখা-লেখি, শিক্ষকতার পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেন। ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও দেওয়ান ফরিদ গাজীর প্রত্যক্ষ আহবানে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ। ১৯৬৮-১৯৯০ পর্যন্ত বিয়ানীবাজার থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯০-১৯৯৬ পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষকতা জীবনঃ
আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম সাহিত্য-সংস্কৃতি, সমাজসেবাকে ভালবেসে সরকারী চাকুরীতে না গিয়ে গ্রামে পড়ে থাকেন। এসময় তিনি কিছুকাল মাথিউরা সিনিয়র মাদ্রাসায় ও কসবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবৈতনিক শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। তাঁর উলেøখযোগ্য ছাত্র হচ্ছেন বাংলাদেশের বর্তমান মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি।

মুক্তিযুদ্ধ ও আকাদ্দস সিরাজঃবাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ট অর্জন মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা অর্জন। দেশ মাতৃকার টানে এই মহান মুক্তিযুদ্ধে আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন। তিনি এলাকার যুব সমাজকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য সংগঠিত করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের করিমগঞ্জ থেকে তাঁরই সম্পাদনায় ‘মুক্ত বাংলা’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হতো। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার অপরাধে তাঁর পরিবারের উপর নেমে আসে অবর্ণনীয় দূর্ভোগ। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের সহায়তায় পুড়িয়ে দেওয়া হয় তাঁর বাড়িঘর। পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাঁর সাড়া জীবনে গড়ে তোলা ব্যক্তিগত লাইব্রেরী। যেখানে ছিল শতশত দুষ্প্রাপ্য বই।

কারাজীবনঃরাজনৈতিক কারণে আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম দু’বার কারাবরণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর তৎকালীন সরকার তাঁকে কারাগারে নিক্ষেপ করে। দু’বারে প্রায় দেড় বছর বিনা বিচারে কারাভোগের পর উচ্চ আদালতে রীট করে তিনি বেকসুর খালাস পান।

সমাজ কল্যাণে অংশগ্রহণঃসদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে বিজয়ীর বেশে ফিরে আসলে আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামকে মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। এসময় তিনি মাথিউরা ইউনিয়নসহ পুরো থানা পূণর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি চেয়ারম্যান থাকা কালে দÿিণ মাথিউরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন।


সাংবাদিকতাঃআকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম, বেতনভোগী বা কার্ডধারী কোন সাংবাদিক ছিলেন না। কিন্তু তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকি¯Íান এবং পরে স্বাধীন বাংলাদেশে ঢাকা ও সিলেট থেকে প্রকাশিত এমন কোন পত্রিকা নেই যেখানে তাঁর লেখা উপসম্পাদকীয় বা গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ছাপা হয়নি। তাই তিনি সংবাদপত্র জগৎ ও সাধারণ্যে সাংবাদিক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। বলা যায় বিয়ানীবাজার থানায় তিনি ছিলেন সাংবাদিকতার পথিকৃত। তাঁরই আন্তরিক প্রচেষ্টায় ১৯৮১ সালে থানা পর্যায়ে প্রথম, বিয়ানীবাজারে প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বিয়ানীবাজার থেকে ৫টি সাপ্তাহিক ও ৭ টি অনলাইন পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে এবং প্রতিটি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার প্রতিনিধি রয়েছেন।

স্বীকৃতিঃএই গুনী ব্যক্তিকে বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পুরষ্কার ও সংবর্ধনায় ভূষিত করেছে। তম্মধ্যে -ক) ‘জালালাবাদ যুব ফোরাম’ সিলেট কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতা দিবস সাহিত্য পুরষ্কার প্রদান - ১৯৯১ খ্রিষ্ট:।
খ) ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল স্টুডেন্টস এওয়ার্ড ইউকে’ কর্তৃক স্বর্ণ পদক প্রদান ১৯৯৮ খ্রিষ্ট:।
গ) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ত্যাগী নেতার স্বীকৃতিস্বরূপ ক্রেষ্ট প্রদান ১৯৯৯খ্রিষ্ট:।
ঘ) প্রথম দিনের সূর্য ‘সাংস্কৃতিক সংগঠন সিলেট’ কর্তৃক সংবর্ধনা প্রদান ১৯৯৯খ্রিষ্ট:।
ঙ) জীবন সদস্য, কেন্দ্রিয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেট।

পারিবারিক জীবনঃস্ত্রী তাজিন ইসলাম ও চার পুত্র এবং তিন কন্যার জনক তিনি। প্রথম পুত্র আলমগীর জাফরী কুয়েত প্রবাসী। দ্বিতীয়পুত্র খালেদ সাইফু্িদ্দন জাফরী প্রধান শিÿক ও বিয়ানী বাজার উপজেলা প্রাথমিক শিÿক সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, লেখক ও সাংবাদিক। তৃতীয় পুত্রজাকারিয়া মুরাদ জাফরী প্রথম জীবনে কুড়ার বাজার কলেজের প্রভাষক বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী। চতুর্থ পুত্র শিবলী মুরাদ জাফরী ব্যবসায়ী। তিন কন্যা সুফিয়া আখতার লেবু, শুভ্রা আখতার শেফা নীলিমা আখতার নিলু গৃহিনী।

মৃত্যুঃ ২রা আগস্ট ২০০০খ্রিষ্ট:বুধবার ভোর সাড়ে ৬ টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নিজ বাড়িতেই ইন্তেকাল করেন। ঐ দিন বাদ আসর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়। পরদিন স্থানীয় দৈনিক সিলেটের ডাক, দৈনিক জালালাবাদ, দৈনিক যুগভেরী, দৈনিক মানচিত্র এবং জাতীয় দৈনিক উত্তেফাক, জনকণ্ঠ, যুগান্তর, ভোরের কাগজ, ডেইলি স্টার, দিনকাল, প্রথম আলো,বাংলার বাণী, ইনকিলাব, আজকের কাগজ, সংবাদ, বাংলাবাজার। তাছাড়া যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রে সচিত্র মৃত্যু সংবাদ ছাপা হয়।

শোক প্রকাশঃআকাদ্দস সিরাজুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সংবাদপত্রে বিবৃতি প্রদান করেন বিভিন্ন ব্যাক্তি ও সংগঠন। তম্মধ্যে উলেøখযোগ্য হচ্ছেন স্পীকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ, নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, দেওয়ান ফরিদগাজী এমপি, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এমপি, সিলেট প্রেস ক্লাব, দেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদসহ অসংখ্য ব্যাক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্টান।
শোক সভাঃ আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামের মৃত্যুতে বিভিন্ন সংগঠন শোক সভার আয়োজন করে। এর মধ্যে উলেøখযোগ্য হচ্ছে-
ক) কেন্দ্রিয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেট ।
খ) বিয়ানী বাজার থানা মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ড, সিলেট।
গ) বড়লেখা প্রেসক্লাব, মৌলভীবাজার।
ঘ) বিয়ানী বাজার সমিতি, যুক্তরাষ্ট্র।
ঙ) সামাজিক সংগঠন ‘প্লাবন’ আছিরগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, সিলেট ইত্যাদি।



আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম বিষয়ক লেখাঃ কথা সাহিত্যিক আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন ব্যাক্তি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা, সাময়িকী, ম্যাগাজিন ইত্যাদিতে ৩৫/৩৬ টি লেখা নিজেদের মত করে লিখেছেন। এর মধ্যে উলেøখযোগ্য হচ্ছেন চৌধুরী হারুন আকবর, সৈয়দ মোস্তফা কামাল, শাকুর মজিদ, সৈয়দ মুস্তফা কামালম¯Íই, ফকির ইলিয়াস, শামসুল করিম কয়েস, কবি দিলওয়ার, এডভোকেট তবারক হোসাইন, মহিউদ্দিন শিরু, আল-আজাদ, তাজুল মোহাম্মদ,পুলিন রায়, আব্দুল মালিক ফারুক, আজিজুল পারভেজ, ফারুক যোশী প্রমুখ।

মূল্যায়নঃ আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামের সাহিত্য ও কর্মময় জীবনকে মূল্যায়ন করে অনেক গুনীজন অনেক মন্তব্য করেছেন। তাঁকে জানা এবং বুঝার জন্য এসব মন্তব্য একান্ত প্রয়োজন। এখানে বিশেষ কয়েক জনের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করছিঃ

১) আখতার-উল-আলম, উপদেষ্ঠা সম্পাদক, দৈনিক উত্তেফাক -“আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম যেনমরহুম আবুল মনসুর আহমদের মফস্বল সংস্করণ ...। বয়সের বিরাট ব্যবধান সত্তে¡ও যে আমরা একান্ত বন্ধু হয়েছি সেটা অদ্ভুত এই কারণে যে, রাজনীতিতে উনি সে সময় বিশ্বাস করতেন আওয়ামীলীগ কে, আমি বিশ্বাস করতাম মুসলিম লীগ কে কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বের মধ্যে কোন ধরনের বিরোধ ছিল না। আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম গোটা বাংলাদেশের এবং আমি মনে করি তার এই লেখা বিশেষ করে কোন কোন ছোট গল্প কোন কোন উপন্যাস এবং কোন কোন নাটক যদি ভাল ভাবে ট্রান্সলেশন করা যেতে পারে তবে বিশ্ব সাহিত্যের মর্যাদায় দাঁড়াতে পারবে। আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম সিলেটি ভাষা বলছেন, লিখছেন ও কিন্তু আমি রংপুরের লোক, আমার সেটা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না । আমার মনে হয় বাংলাদেশের কোন মানুষের হবে না। এটা একজন লেখকের মস্তবড় ক্ষমতা।” আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম নিবৃত গ্রামে বসে লোকচক্ষুর আড়ালে রাজনীতি করেছেন। সামাজিক ভাবে তিনি নেতা ছিলেন এবং স্থানীয় লোকের তিনি শিক্ষক ছিলেন। ... তিনি চারণ লেখকের ভ‚মিকাই পালন করে গেছেন;
২) বরেণ্য বুদ্ধিজীবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন,‘আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামের ছোট গল্প সত্যিকার ভাবে ছোট এবং সেগুলির মধ্যে চুম্বকের মত একটাবিষয় আছে, একটা আর্কষণ আছে এবং তাঁর কাঠামো খুবই পরিপূর্ণ কাঠামো বলে আমার মনে হয়েছে তাঁর তিনটি বিষয় আমার মনে হয়েছে কথা শিল্পী হিসেবে তাঁকে অনেক বড় আসনে প্রতিষ্ঠিত করবে। প্রথমটি হচ্ছে তাঁর চরিত্রগুলি খুবই জীবন্ত, দ্বিতীয়টি হচ্ছে সময় সচেতনতা ও তৃতীয়টি হচ্ছে আধুনিক মন মানসিকতা’’।
৩) বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক আব্দুলøা আবু সায়ীদঃ অধ্যাপক আব্দুলøা আবু সায়ীদ আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম সম্পর্কে বলেন, “এই মানুষটি হৃদয়ের দিক থেকে খুবই বলিষ্ট, সজীব সপারক, সাবলীল এবং খুব স্বতঃস্পূর্ত ছিলেন। তাঁর গল্প বলার ভঙ্গি ‘খুবই চিত্তাকর্ষক’ এমনকি নাটকের যে গতি সেটা অত্যন্ত সাবলীল এবং আমার মনে হয় যে তিনি একজন ভাল লেখক। যিনি তার যুগের ছবি খুব সাবলীল ভাবে একেঁছেন।”
৪) মাননীয় শিÿামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদে বলেছেন, “তাঁর (আকাদ্দস সিরাজের) সবচেয়ে বড়গুণ যা সব সময় আমাকে প্রভাবিত করেছে তা হলো মানুষের প্রতি ভালবাসা এবং বিশ্বাস। তাঁরছিল অফুরন্ত দেশপ্রেম। সমাজের প্রতি দ্বায়িত্ববোধ ও অঙ্গীকার। এসবই প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর চিন্তায় কর্মে এবং লেখায়।”
৫)সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ বলেছেন, “আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম ভয়ভীতি প্রলোভনের কাছে কখনও বিচ্যুত হননি। আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এক অনুকরণীয় পুরুষ”।
৬) রম্য লেখক গবেষক সৈয়দ মোস্তফা কামাল বলেন,- “সিলেটের কথা সাহিত্যের দুনিয়ায় যে দু’জন লেখককে শাহান শাহ্ বলে উলেøখ করা হয়তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন অধ্যাপক শাহেদ আলী, অপরজন আকাদ্দসসিরাজুল ইসলাম।”
৭) বিশিষ্ট নাট্যকার অধ্যাপক শহীদ মুনীর চৌধুরী ‘মাটির চেরাগ’ নাটক পড়ে লিখেছেন,- “ আপনার নাটক পড়েছি। ভালই হয়েছে। চেতনাহীন বেদরদীসমাজে অভাবগ্রস্থ আর্দশবাদী সাহিত্যিকের জীবন কত দুঃখের হতে পারে তার করুণ চিত্র আপনি তুলে ধরতে পেরেছেন।
৮) লেখক গবেষক আব্দুল হামিদ মানিক বলেছেন- “আকাদ্দস সিরাজের কথাসাহিত্য, নাটক, স্মৃতিচারণ এমনকি কবিতাতেও দেখি তার পরিবেশ ও কাল কথা বলছে।” কথা সাহিত্যে আকাদ্দস সিরাজকে কবি জসীম উদ্দিনের সহচর বলা যায়। একজন পদ্যে অন্যজন গদ্যে।’’
এভাবে অনেক বিদগ্ধজন, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ,শিক্ষক আকাদ্দসসিরাজুল ইসলাম সম্পর্কে মূল্যায়ন করেছেন। যা এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে সংযোজন করা সম্ভব হয়নি।

আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামের রচনার কিঞ্চিত উদ্ধৃতি:
লেখকের প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘ওজিরে আলম খেদমতে’র দুটি চরণ-
“সুন্দর বন্দোব¯Í করেছ এটা ভারি চমৎকার
মূক দেশবাসী কিছুনা বুঝে করে শুধু চিৎকার”।
- সাপ্তাহিক নওবেলাল ২৪ মে ১৯৫১ খ্রিষ্ট:।
প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘নয়া দুনিয়া’র প্রতিপাদ্য হচ্ছে - আশরাফ-আতরাফভেদাভেদ ও জমিদার শ্রেণির অবিচার জুলুম তথা অবহেলিত এবং সামাজিক ভাবে নির্যাতিত গরীবদের জীবনালেখ্য। উপন্যাসটির ভূমিকা লিখেছেন বিশিষ্টি সাহিত্যিক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবুল ফজল। প্রকাশ কাল ১লা জুন ১৯৫৩ খ্রিষ্ট:।
আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামের মত বার্ণট্য জীবনের অধিকারী ব্যাক্তিত্ব সম্পর্কে এতো অল্প সময়ে ও অল্প পরিসরে আলোচনা করা সম্ভব নয় তবুও আমি আমার ক্ষুদ্র চিন্তা চেতনা থেকে এ মহান ব্যক্তি কে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চেষ্ঠা করছি। নুতন গবেষকগণের প্রতি আমার অনুরোধ আপনারা আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামকে নিয়ে গবেষণা করবেন এবং নতুন প্রজন্মের সামনে তা তুলে ধরবেন । - আমীন
#১৮/১১/২০১৭ইং



Free Online Accounts Software