18 Nov 2017 : Sylhet, Bangladesh :

2 November 2017 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 560) 

কিশোরী ভাবনা...

 কিশোরী ভাবনা...
     

তাসলিমা খানম বীথি:
১. ছোটদের ‘শরৎ চন্দ্র’ বইটি হাতে নিতেই নিজেকে তখন কিশোরী মনে হয়েছিল। ভেবেছিলাম তিনি হয়তো অন্য কোন বই হাতে তুলে দেবেন। যাই হোক গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ এর সাহিত্য আসর উপস্থাপনা শেষ করে লাইব্রেরীতে গিয়েছিলাম বইয়ের জন্য। বই পড়া অভ্যাস সেই ছোটবেলা থেকেই ছিল। টিফিনের জন্য আব্বা যে টাকা দিত সেই টাকা জমা করে বই কিনতাম। একটি বই হাতে নেবার পর শেষ না করে বন্ধ করতাম না। একদিন ভাত চুলায় বসিয়ে আম্মা নামাজে বসার আগে আমাকে বলেছিল, ভাতটা দেখার জন্য। কিন্তু বইয়ের মধ্যে ডুবেছিলাম তাই সেদিকে খেয়াল না থাকায় ভাত সেদিন ঝাউ হয়েছিল। এরপর থেকে আম্মার চোখের সামনে যাতে না পরি তাই মাঝে মধ্যে বাথরুমে গিয়ে বই পড়তাম। ভালো লিখতে হলে বেশি করে বই পড়তে হবে। জানি এবং বিশ্বাস করি। কিন্তু চোখের যন্ত্রনার কারনে এখন একটানা বই না পড়লেও চেষ্টা করি পড়ার।
২. কেমুসাসের জীবন সদস্য হয়েছি অনেক আগেই। কিন্তু লাইব্রেরী থেকে বই নেবো নেবো বলে আর নেওয়া হচ্ছিলো না। বইয়ের সেলফের সামনে যেতেই বস এসে হাজির (গল্পকার সেলিম আউয়াল)। জিজ্ঞাসা করলেন কী বই নিচ্ছি। এখনো নেইনি। বই দেখছি। আপনি বলেন কী বই নেবো। এ কথা বলতেই সাথে সাথে তিনি তুলে দিলেন ‘ছোটদের শরৎ চন্দ্র’ বইটি। শরৎচন্দ্রের শৈশবে সোনালী দিনগুলো কথা পড়তে খুব ভালো লাগছিল। কিন্তু না। জীবনে প্রতিটি পরতে তাকে কষ্ট পেতে হয়েছে। সংগ্রাম করতে হয়েছে। শেষ বয়েসে যে সুখ পেয়েছিলেন তা তার সৃষ্টিশীলতার জন্যই।
৩. কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে হুগলির দেবানন্দপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পাড়া গাঁয়ে মাছ ধরে, ডোঙা ঠেলে, নৌকা বেয়ে দিন কাটা, গামছা কাঁদে নিয়ে নিরুদ্দেশ যাত্রায় বের হয়ে আবার বাড়ি ফিরে আসা। এসব ছিল শরৎচন্দ্রের শৈশবে দুরন্তপনা। সহপাঠীদের সাথে প্রতিযোগিতা করে তিনি সংকল্প করলেন লেখাপড়া মনোযোগি হতে হবে। পিছনে পড়ে থাকলে চলবে না। শীঘ্রই ছাত্র মহলে মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত হলেন। ১৮৯৫ সালে শরৎচন্দ্র এন্ট্রান্স পরীক্ষা পর অবসর সময়ে তিনি ‘বাসা’নামে একটি উপন্যাস লেখেন। মন্দির, বড়দিদি, রামের সুমতি, কাশীনাথ, বাল্যস্মৃতি, পথের দাবী তার উলেøখ্যযোগ্য লেখা। এছাড়াও ‘পলøী সমাজ, দত্তা, দেনা পাওনা, দেবদাস, বিরাজ বৌ, প্রভূতি গ্রন্থের নাট্যরূপ দিয়েছেন শরৎচন্দ্র নিজেই। ১৯৩৮ সালের তিনি পরলোকগমন গমন করেন।
সবশেষে বলব- জীবনকে সুন্দর করতে বই পড়া কোন বিকল্প নেই। আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞাতা জানাচ্ছি শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি সাংবাদিক গল্পকার সেলিম আউয়ালকে।
২ নভেম্বর ২০১৭


Free Online Accounts Software