20 Nov 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 14 October 2017 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 751) 

সিলেটের শীতল পাটি সম্রাট আওরঙ্গজেবের কাছে পাঠানো হয়

সিলেটের শীতল পাটি সম্রাট আওরঙ্গজেবের কাছে পাঠানো হয়
     

সেলিম আউয়াল:
সিলেট একসময় অপূর্ব চারু ও কারু শিল্প সামগ্রী বিশেষত বাঁশ ও বেতের কাজের জন্য বিখ্যাত ছিল। সিলেটের শীতল পাটির মতো সূ²তা এবং উচ্চমান থেকে অনুমান করা হয় এর পেছনে নিশ্চয়ই উলেøখযোগ্য পৃষ্ঠপোষকতা ছিলো। সিলেট অঞ্চলের সব জায়গায়ই ‘মুর্তা’ নামের এক ধরনের গাছ প্রচুর জন্মাতো। এই গাছের ছাল থেকে বেত তুলে তা দিয়েই বোনা হতো শীতল পাটি। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পের চাহিদা ছিলো সব জায়গায়। বিশেষ করে মুগল দরবারে। সিলেটের সবচে ভালো উৎপাদন সামগ্রী ছিল রূপালী বেতের বোনা শীতল পাটি যা মুর্শিদকুলী খান সম্রাট আওরঙ্গজেবের কাছে উপঢৌকন হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। শীতল পাটির পাশাপাশি সিলেটের বিশেষ ধরনের কাপড়ের (মুগা তসর) খুব চাহিদা ছিলো। মুসলিম শাসনামলে দিলিøর দরবারে সিলেট থেকে ৩১টি মহালের রাজস্বের (২৮৯৬৪ টাকা) পরিবর্তে এই শীতল পাটি এবং মুগা তসর রফতানী করা হতো বলে উলেøখ আছে। ভৌগলিক আনুকুল্যই সিলেটে এ দুটো শিল্পের বিকাশে সহায়ক হয়েছিলো।
একটি পরিসংখ্যানে জানা যায়, ১৯০২-১৯০৩ সালে সুরমা উপত্যকা হতে প্রায় ১,৪০,০০০ মন পাটি রফতানী হয়েছিলো। (কাছাড় ও সিলেট সন্নিবিষ্ট ছিলো সুরমা উপত্যকায়)
ঐতিহাসিক অচ্যুতচরণ লিখেছেন, সিলেটের কারিগররা বেত শিল্পে বিশেষ দÿতা দেখিয়েছেন। শেখঘাটের কারিগরদের বেত দিয়ে বানানো একটি ছোট্ট ঘর ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের একটি প্রদর্শণীতে পাঠানো হয়েছিলো। ঘরটি সবার দৃষ্টি কাড়তে পেরেছিলো এবং পুরস্কারও পেয়েছিলো। সাংবাদিক আবদুল মঈদ চৌধুরী লিখেছেন বালাগঞ্জ উপজেলার তেঘরি গ্রামের একজন শিল্পীর বানানো একটি ফরমায়েশি শীতলপাটি মহারাণী ভিক্টোরিয়ার রাজদরবারে স্থান পেয়েছিলো । এটি সেই সময়ে চারশো টাকায় বিক্রি হয়েছিলো।
দীনেশ চন্দ্র সেন বলেছেন, ‘শ্রীহট্টে’র ‘পাটিয়ারা দাস’ নামক এক শ্রেণীর লোক বেতের পাটি প্রস্তুত করিয়া থাকে। ইহা উৎকৃষ্ট নৈপূণ্যেও পরিচায়ক। জলসুখা, জগন্নাথপুর, জফরগড়, প্রতাপগড়, চাপঘাট প্রভৃতি স্থানে ঐ শিল্প বিশেষ শ্রী সম্পন্ন ছিল। এক একখানি পাটির মূল্য ২০০ টাকা পর্যন্ত হইত। ধুলিজুরার (ইটার অন্তর্গত) শিল্পী যদুরাম দাস ১৯০৬ খৃষ্টাব্দে কলিকাতায় কৃষি প্রদর্শণীতে ৯০ টাকা মূল্যের একখানি পাটি দেখাইয়া স্বর্ণ পদক পাইয়াছিলেন।
১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে আমন্ত্রিত হয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সিলেট আসেন। সিলেট সফরকালে সিলেটের বেত ও বাঁশের বানানো চেয়ার টেবিল ও ব্যাগ ইত্যাদি দেখে অভিভূত হয়ে কয়েক ফর্দ কিনে নিয়ে শান্তি নিকেতনে ব্যবহার করেছেন।
শীতল পাটি সিলেটকে সারা পৃথিবীতে পরিচিত করেছে। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে রোমে অনুষ্ঠিত হস্তশিল্প প্রদর্শণীতে সিলেট বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে রাজনগরের মনিন্দ্র নাথকে আমন্ত্রণ করা হয়েছিলো। এর আগে ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে রাজনগরের প্রবঞ্জয় দাস বিসিক-এর Best craftsman national award লাভ করেন।


Free Online Accounts Software