সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে চা শ্রমিক সন্তানদের জন্য পৃথক ৫ শতাংশ কোটার দাবী
   21 Oct 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 13 October 2017 সার্ভিস ক্লাব  (পঠিত : 412) 

সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে চা শ্রমিক সন্তানদের জন্য পৃথক ৫ শতাংশ কোটার দাবী

সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে চা শ্রমিক সন্তানদের জন্য পৃথক ৫ শতাংশ কোটার দাবী
     

সিলেট এক্সপ্রেস ডেক্স চা শ্রমিক সন্তানদের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথক ৫ শতাংশ কোটা দাবিতে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে সিলেট চা জনগোষ্ঠী ছাত্র-যুবকল্যাণ পরিষদ ।
এর আগে সোমবার (০৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন সিলেট চা জনগোষ্ঠী ছাত্র-যুবকল্যাণ পরিষদ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,সিলেট বিভাগে ১৫৮টি চা বাগান রয়েছে। এসব চা বাগানের নিরীহ শ্রমিক জনগোষ্ঠী সেই ব্রিটিশ শাসনামল থেকে শোষিত হয়ে আসছে। বাগান কর্তৃপক্ষ মুনাফা অর্জন করলেও শ্রমিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার মধ্যম আয়ের দেশ ঘোষণা করলেও চা বাগানের শ্রমিকরা বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী হিসেবেই আছে। চা বাগানের শ্রমিকরা ৮৫ টাকা মজুরি ভিত্তিতে কাজ করে, যা দুই কেজি চাল কেনার ও মূল্য নয়, মৌলিক চাহিদা পূরণতো স্বপ্ন। এই আয়ের বিপরীতে চলে ৪/৫ জন চা শ্রমিকের সংসার।
এ অবস্থায়একজন শ্রমিকের সন্তান কি করে উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন দেখতে পারে? প্রশ্ন রেখে স্মারকলিপিতে বলা হয়, সরকার হয়তো নিজ স্বার্থে তাদের ভোটাধিকার দিয়েছে, কিন্তু অধিকার দেয়নি। অন্যের জমিতে বসবাসকারী পরাধীন জাতি চা শ্রমিকরা সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে নিজ সন্তানদের ভর্তির স্বপ্ন দেখা অবাস্তব।
এ ছাড়া চা বাগানের মালিক সমিতি কখনোই চায়না শ্রমিক সন্তানেরা ন্যূনতম শিক্ষায় শিক্ষিত হোক। বর্তমানে সভ্য সমাজের ছোঁয়ায় চা শ্রমিকদের সন্তানেরা শিক্ষাক্ষেত্রে কিঞ্চিৎমাত্র এগিয়ে আসছে। বাকিরা সুশিক্ষার অভাবেপথ ভ্রষ্ট হয়েপড়ছে। অথচ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে বিভিন্ন ধরণের কোটা থাকলে ও চা শ্রমিকদের সন্তানরা ভর্তির স্বপ্ন দেখতে পারছেনা। ফলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের পথ মসৃণ করতে, স্বপ্ন বাস্তবায়নে শাবিপ্রবি সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথক কোটা পদ্ধতি চালুর দাবিজানাচ্ছি।
এতে স্বাগত বক্তব্য প্রদানকরেনসিলেট চাজন গোষ্ঠী ছাত্র ও যুবকল্যাণ পরিষদ এর সহ-সভাপতি আতাউর রহমান শামীম।মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সিনিয়রসহ-সভাপতি বরুন সিং ছত্রী।
সিলেট চা জনগোষ্ঠী ছাত্র ও যুবকল্যাণ পরিষদ এর সভাপতি দিলিপ রঞ্জন কুর্মী’র সভাপতিত্বে সাধারন সম্পাদক সুজিত বাড়াইক এর সঞ্চালনায় সংহতি প্রকাশ করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন সিলেট শাখার সাধারন সম্পাদক আব্দুল করিম কীম, গনসাহিত্ব্য কেন্দ্র সিলেটএর সম্বনয়ক আহমেদ সোহেল, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম এর কার্যকরী সদস্য নারায়ন কুর্মী, স্বপ্নকুড়ি সমাজকল্যান সংস্থা এর নির্বাহী পরিচালক বিজয় রুদ্র পাল, দলদলি চাবাগান পঞ্চায়েত সভাপতি মিঠন দাশ, বিশ্ববিদ্যালয় চা-ছাত্র সংসদের সহসভাপতি প্রদীপ দাশ, সিলেট চা জনগোষ্ঠীছাত্র ও যুব কল্যাণ পরিষদ এর নারী ও শিশু সম্পাদিকা ঊষারানী দাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদএর প্রচার সম্পাদক থেকে দেবাশীষ যাদব প্রমূখ।
অন্যান্যদের মধ্যে সংগঠনের পÿ থেকে উপাস্থিত ছিলেন রাজকানু, দিলিপপাশী, রাজকুমার দেশোয়ারা সাগর কুমার চাষা, রাজনরায়, মনোরঞ্জন দাশ, অপুদাশ, হামিদ হোসেন, কিশোর সিং ঘাটোয়ার, মিটন চন্দ, বিক্রমরায়, নিপেনরায়, মনিশংকর দাশ, তাপসনায়েক, রঙ্গিলা মুন্ডা, রাজেনগঞ্জু, রঞ্জননায়েক, লিটন লোহার, সুজন লোহার প্রমূখ।


Free Online Accounts Software