রাজনগরে মহালের বালু লুট কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
   22 Oct 2017 : Sylhet, Bangladesh :

মৌলভীবাজার 7 October 2017 অন্য পত্রিকার সংবাদ  (পঠিত : 307) 

রাজনগরে মহালের বালু লুট কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

রাজনগরে মহালের বালু লুট
কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
     

রাজনগরে সরকারি বালু মহাল থেকে সরকারদলীয় লোকজনের নেতৃত্বে অধৈভাবে বালু লুট করা হচ্ছে। প্রশাসনের গাফিলতির কারণে গত ৬ বছরেরও বেশি সময় থেকে এসব বালু মহাল থেকে কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ ও বিএনপির কিছু লোকজন মিলে এসব বালু দেদার লুট করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে মোবাইল কোর্ট করলেও থামছে না বালু লুট।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার ৮টি বালু মহালের মধ্যে ৭টি মহাল ইজারা দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০১২ সালে। এরপর একটি পক্ষ মামলা করলে ইজারা বন্দোবস্ত স্থগিত হয়ে যায়। উপজেলার বালু মহালের একেকটির ইজারা মূল্য ৪ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা। কালামুহা বালু মহালে বালু উত্তোলনে উত্তরভাগ চা বাগানের ক্ষতির কারণ দেখিয়ে আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন জেলা প্রশাসক লিজ প্রদান স্থগিত করেছিলেন। কিন্তু সেখানে প্রতিনিয়ত চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। এছাড়াও ধামাইছড়া, মারুয়া ছড়া, জমিলা ছড়া, হাড়ছড়া, উদনাছড়াসহ বাকি বালুমহালগুলো ‘বেলা’র করা মামলায় স্থগিত দেখিয়ে দীর্ঘ দিন থেকে ইজারা বন্দোবস্ত দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে মামলা পরিচালনা না করায় তা অনিষ্পত্তিই রয়েগেছে। আর এই সুযোগে বালু মহালগুলোতে চলছে হরিলুট। গত ৬ বছরেরও বেশি সময়ে এসব বালুমহাল থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে রাজস্ব লুট করছেন। ফলে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। উপজেলার ধামাইছাড়া ও কালামুহা বালুছড়ায় গিয়ে দেখা যায় ছড়াগুলোর উভয় পাশে হাজার হাজার ঘনফুট বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। আশেপাশে মানুষজন নেই। কালামুহা বালুছড়ায় গিয়ে দেখা যায় একটি পিকআপে কয়েকজন শ্রমিক বালু তুলছেন। তাদের পাশে যাওয়ার সময় মুটুকপুর গ্রামের এক ব্যক্তি এগিয়ে আসেন। কারা বালু তুলছে জিজ্ঞেস করলে তিনি স্থানীয় কয়েকজনের নাম বলেন। এরা সকলেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। উপজেলার বালু মহালগুলোর দখলদার হিসেবে নাম উঠে আসে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই খালেদ আহমদের। তিনি বলেন, আগে বালু তুলার সঙ্‌েগ জড়িত ছিলাম। এখন আমি এর সঙ্গে নেই। কারা তুলছে জানতে চাইলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তুলছে বলে জানান।এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, অবৈধভাবে যারা বালু তুলছে তাদেরকে আমাদের ইউএনও এসিল্যান্ড সাহেবরা যেভাবে পারছেন ধরে মোবাইল কোর্ট করছেন জরিমানা করছেন। এখনতো ইউএনও নাই। আর মামলার জবাব আমাদের জিপি সাহেবরা রেডি করে দিলে আমরা তা আদালতে পাঠাই।মানবজমিন আবদুর রহমান সোহেল, রাজনগর (মৌলভীবাজার) থেকে | ৭ অক্টোবর ২০১৭, শনিবার


Free Online Accounts Software