18 Dec 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 7 October 2017 সমসাময়ীক লেখা  (পঠিত : 1140) 

ঘোমাও শুভ্র সাধু ! সফেদ রোমাল তলে শারাবান তাহুরার ! মোহে !!

     

আহমাদ শামসুদ্দীন:
সাধু সাজা বৌদ্ধ দানব গুলো তাদের কমলা থানের ভেতরে কতটা হিংস্রতা আর মুসলিমদের প্রতি কতটা বিদ্বেষ লুকিয়ে রেখেছিল তা তাদের এই বর্বর জঘন্যতা না দেখলে বুঝারই উপায় ছিল না। ভোঁতা ভোঁতা নির্বোধ চেহারা গুলো সুযোগ পেলে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে তা সকল অনুমান কেই হার মানিয়েছে, পৃথিবীর শত সহস্রাব্দের ইতিহাস খুঁজলেও এত নিষ্ঠুর নিশংসতা,বিকৃত বর্বরতা,এত হিংস্র হত্যাযজ্ঞ,মানুষের প্রতি মানুষের এরকম বিকৃত বিদ্বেষের নজীর আর দ্বিতীয়টি পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ।

নজীর বিহীন এই বিকৃত বর্বর হত্যাযজ্ঞের অসহনীয় দৃশ্য গুলো দেখে সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষের হৃদয় কেপে উঠলো, অস্ফুটে কাঁদলো, যে যার অবস্থান থেকে আকুতি কাকুতি করে প্রতিবাদ জানালো,সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টায় এগিয়ে এলো,(যা মূল সমস্যার সমাধান নয়) সাধারণ মানুষের এর-চে বেশি করার খুব একটা সুযোগ ছিল না।

সবার তীব্র প্রত্যাশা ছিল আর যাই হোক পৃথিবীর বুকে এত মানবতা বাদী প্রোএকটিভ মোড়ল সংস্থা থাকতে রোহিঙ্গাদের উপর সৃষ্ট বর্বরতা হয়ত বেশীদূর গড়াবে না , অন্তত ন্যুনতম মানবতার সীমানা অতিক্রম করবে না।
কিন্তু আমরা মুর্খ মানুষেরা নির্বোধ রয়েই গেলাম !! (বোধোদয় হতে আর কত কাল???) মানবতার মুনিব যারা! যারা মানবতার সংজ্ঞা নির্ধারণ করেন,তাদের সে সংজ্ঞার আওতায় (আয়লান বিজ্ঞাপন,মালালা বানিজ্য, আফগান মানবতা পড়লেও) রোহিঙ্গা দের পোড়া দেহ, টুকরো টুকরো দেহাংশ, জলে ভাসা নিষ্পাপ শিশুদের লাশ পড়ে কি না সেটা আগে ভাববার বিষয় ছিল। বার্মায় তো মানবতা নয় , বিশৃঙ্খল মুসলিম প্রজাতি নিধন হচ্ছে, হোকনা !! লেন্স পরিস্কার করে ব্যপারটা বিস্তারিত বুঝতে বুঝতে কিছুটা সাফ হয়ে যাক। এটি আর নতুন কি? বিশ্ব জুড়ে মুসলিম নিধন অভিযানের ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।

শুধু আরাকান কেন? ইরাক,আফগান, ফিলিস্তিন সর্বত্রই একই অভিযান চলছে, মানবতা নয় , মুসলিম নিধন হচ্ছে।।

উৎরে ওঠা একজন ( এরদোগান) এগিয়ে এলেন, এলেন তাঁর পত্নীও, অনেক সমালোচনা পর বিলম্বে হলেও বেশ আবেগ নিয়ে এগুলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রীও, বাংলাদেশর সাধারণ জনগণ মন উজাড় করে পাশে দাঁড়াতে শুরু করলো নিপীড়িত মানুষগুলোর,(যদিও রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশের একার নয়, বাংলাদেশের ভৃখন্ড,অর্থনীতি সে ভার বহনেও পর্যাপ্ত নয়,এবং এটি উপযুক্ত সমাধানও নয় ) অনেক ক্ষতি হয়ে যাওয়ার পর চীনও একটু ধমক দিল , তাতেই অনেক হল, মুখ খুলল রক্তবাজ হিংসুটে মহিলা সুচী'র।

অথচ যে জবাবটি বিশ্ব মাতব্বরদের তরফ থেকে শক্তভাবে সুচীর কছে চাওয়ার কথা ছিল যে কেন বর্মায় গন হত্যা হচ্ছে? কেন নির্বিচারে মানুষ পোড়ানো হচ্ছে?কেন সুচী এই হত্যা লিলায় মেথে উঠেছেন? এককালে এই জনপদে রাজত্বকরা জনগোষ্ঠীকে কেন মেরে তাদের নিজ ভূমি থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছেন? কেন সর্বক্ষেত্রে তাদেরকে বৈষম্য করছেন??? মুসলিম ধর্মের হওয়াটা এতোই বড়ো অপরাধ! !?? কেন ধর্ম নিয়ে এত বৈষম্য???

জানি বিশ্ববিবেকর চোখে এই ধর্মান্ধতা পড়বে না, কারণ এটা আফগান জংগী নয় জীব রক্ষক বৌদ্ধ সাধুদের হালকা রক্ত বিলাস মাত্র ।

এদিকে বাংলাদেশের সীমান্ত অন্ঞ্চলে বার্মার আশ্রিত মানুষ গুলো করূন দিনানিপাত করছে, বাংলাদেশর সর্বস্তরের মানুষ দেশী বিদেশী আনেক সংগঠন নিজ উদ্যোগে সাধ্যাতীত সাহায্যের চেষ্টা করে চলেছে, বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনী যথেষ্ট দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন।কিন্তু এটাই কি সুরাহা??
এটুকুতে কি দেশহারা নির্যাতিত মানুষ গুলোর সকল সমস্যা,সকল কষ্টের লাঘব করা যাবে??? এদের আশ্রয় কোথায় হবে? জীবীকা কি হবে ? শিশুশিক্ষা , চিকিৎসা আরো অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের কি সুরাহা হবে???

এতোক্ষণে একান্ত প্রয়োজন ছিল বিশ্ব মোঢ়লেরা যারা দুনিয়ার সকল সমস্যায় নাক গলান, বার্মার এই অমানবিক তান্ডব কে রুখে দাঁড়ানো ,সুচী কে ডেকে বসা এবং ঐকবদ্ব চাপ প্রয়োগ করে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে দেয়া, সেখানে তাদের ন্যায্য সব অধিকার আদায় করে দেয়া,

কিন্তু বাস্তব চিত্র যে সম্পূর্ণ ভিন্ন, ওনারা দুনিয়ার দূ-আনি , চার-আনি সকল সমস্যায় ব্যাপক নাক গলালেও রোহিঙ্গাদের এই আলোচিত লোমহর্ষক ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের ব্যাপারে নির্বিকার, মঝে মধ্যে অচল পয়সার মতো দায়সারা দু'এক কথা বলছেন যা কোন কাজেই আসছে না। কেন এমন আচরণ?? রোহিঙ্গারা মুসলিম বলে???
সুচীর প্রতিপ্রতিবাদ করবেনও বা কেন?ওনারা যা চান সুচী তা-ইতো বাস্তবায়ন করছেন।

কিন্তু , অফসোস !!! পোড়া কপাল আমাদের, হাজার বছর আগেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে "আল কুফরু মিল্লাতুন ওয়াহিদাহ" সকল কুফুরি শক্তি একই আদর্শের, একে অন্যকে বুঝে, কিন্তু আমারা মুসলিমরা অন্য মুসলিমের দুঃখ বুঝিনা, কুফুরের করূণার ধারস্হ হই,গুলামী করে সুখ পাই, ঈমান কে বিক্রি করি, কিন্তু ঈমানের জোরে বলীয়ান হতে পারি না।
শুধু বার্মায় কেন সারা বিশ্বজুড়েই মুসলমানদের হত্যা,নির্যাতন,মিথ্যা অপবাদ ও বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে, অথচ পৃথিবীর বুকে সফেদ শুভ্র বেশধারী এত এত খানদানী খানদানী মুসলিম রাষ্ট্র থাকতে বার্মার মত একটা ছিচকে রাষ্ট্র মানবতার উপর , মুসলমানের উপর এতো বে-বেপরোয়া বর্বর নির্যাতন চালাচ্ছে, অথচ ওনারা মূখে কূলূখ এঁটে বসে আছেন, যেন শয়তান ওনাদের মূখে হিসু করে দিয়েছে, ওনারা বেচে আছেন নাকি মৃত তাও বুঝা মুশকিল, নিজেদের সব থাকা সত্বেও ক্ষমতা লিপ্সা আর তাগুতের উপাসনায় মত্ব হয়ে পা-চাটা গুলামের মত মূর্দা লাশ হয়ে আছন।
আর মহানবী(স:)এর বাণী:দুনিয়ার সকল মুসলিম একটি দেহের মত, যার এক অগ্ঙে আঘাত পেলে অন্য আগ্ঙ যেন তার কষ্ট অনুভব করে।
আমরা ভুলে গেছি রাসুলুল্লাহর(সঃ)সেই কথা।।

আজ যদি মুসলিম বিশ্ব তাদের নূন্যতম ঈমানী দায়িত্ব হিসাবে একটু ঐক্য বদ্ধ হয়ে হালকা চোখ রাঙাঁতো তবে শুধু বার্মায় ন্য় দুনিয়ার কোথাও কোন উম্মতে মুহাম্মদীর উপর কেউ কোন নির্যাতন চালানোর সাহস পেত না, বার্মায় এতো মুমিনের দেহ আগুনে পুড়ত না , ক্ষত বিক্ষত মুসলমানদের দেহাংশে লাশের নদী বইত না।

পহেলা মহররম
সিলেট।


Free Online Accounts Software