নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে চান খাদিজা
   21 Oct 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 5 October 2017 বিবিধ

নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে চান খাদিজা

নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে চান খাদিজা
     

ওয়েছ খছরু নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে চান সিলেটে নির্যাতিত কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিস। যেখানেই নারীরা নিগৃহ হবে, নির্যাতিত হবে- সেখানেই তিনি ভূমিকা রাখতে চান। পুণ্যভূমি সিলেটকে নারীদের নিরাপদ আবাসভূমিতে পরিণত করতে চান তিনি। চাপাতির আঘাতে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা খাদিজা তার ওপর হামলার এক বছরপূর্তিতে সাংবাদিকদের কাছে একথা জানান। খাদিজা বলেন- ‘আমার ওপর যে নির্মমতা হয়েছে সেই নির্যাতন যেনো আর কোনো মেয়ের ওপর না হয়। এ কারণে আমি নির্যাতিত নারীদের পক্ষে কাজ করতে চাই।’ সুস্থ হয়ে উঠে পড়ালেখা করে নিজেকে পরিপূর্ণ করতে চাই। সিলেটের এমসি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের ওপর নির্মমতা ঘটেছিল এক বছর আগে। এক বছরের মধ্যে খাদিজা এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। নির্মমতার জ্বালা তাকে ধুঁকে ধুঁকে গিলে খাচ্ছে। ডাক্তারের কঠিন নিয়মের মধ্যে চলতে হচ্ছে তাকে। এমসি কলেজের ক্যাম্পাসে ভয়ঙ্কর হামলার পর খাদিজা আর কলেজমুখো হতে পারেননি। সুস্থ না হওয়ার কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে এখনো কলেজে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি। আর ডাক্তাররাও বলেছেন, খাদিজাকে কলেজে যেতে হলে আরো কিছু সময় অপেক্ষায় থাকতে হবে। তবে খাদিজার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আবার কলেজে যাবে। পড়ালেখা করবে। ডিগ্রি পাসের পর ব্যাংকার হওয়ার ইচ্ছা পূরণ করবে। সিলেট শহরতলীর আউশা গ্রামের সৌদি প্রবাসী মাসুক মিয়ার মেয়ে খাদিজা আক্তার নার্গিস। ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে ২০১৬ সালের ৩রা অক্টোবর গিয়েছিল এমসি কলেজের ক্যাম্পাসে। আর ওই দিন প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্পাসের পুকুরপাড়ে প্রকাশ্য দিবালোকে খাদিজার ওপর চাপাতি দিয়ে হামলা চালিয়েছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম। ঘটনার পর বদরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে বদরুলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বদরুল এখন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে। আর দীর্ঘ চিকিৎসা গ্রহণ শেষ হলেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি খাদিজা। এরপরও বদরুলকে নিয়ে স্বস্তিতে নেই সে। বদরুল কারাগারে অন্তরীণ থাকলেও তার পূর্বের আচরণের পরিবর্তন হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে খাদিজা পরিবারের কাছে খবর এসেছে খাদিজার ওপর থেকে রাগ কমেনি বদরুলের। বরং কারান্তরীণ থাকায় তার রাগ আরো বেড়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মওকুফ করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে সে। কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে খাদিজাকে দেখে নেবে- এমন হুঙ্কার ছুড়ছে বলে তার পরিবারের কাছে খবর এসেছে। এতে করে খাদিজার পরিবার কিছুটা শঙ্কিত। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বদরুলের এই হুঙ্কার তারা শুনেছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা ভাবছেন। প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে তারা আইনি প্রক্রিয়া চালাবেন। সৌদি প্রবাসী পিতা মাসুক মিয়া মেয়ের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করছেন। আর্থিক সংকট রয়েছে তাদের। আগামী সপ্তাহে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে যাবেন খাদিজা। ইতিমধ্যে তারা স্কয়ার হাসপাতালের ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেছেন। খাদিজার এক হাত ও এক পা কোনো কাজ করছে না। এখনো অবশ। কিছু সময় হাঁটার পর আর শরীর চলে না। এ কারণে খাদিজার হাতে অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন। এই অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন খাদিজা ও তার পরিবার। সিলেট থেকে | ৫ অক্টোবর ২০১৭, বৃহস্পতিবার


Free Online Accounts Software