17 Dec 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 1 October 2017 সমসাময়ীক লেখা  (পঠিত : 907) 

মায়ানমার রোহিঙ্গা অস্ত্র ছুঁড়েছে বাংলাদেশে

মায়ানমার রোহিঙ্গা অস্ত্র ছুঁড়েছে বাংলাদেশে
     

মোহাম্মদ আব্দুল হক:
নির্যাতিত মায়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা মানব গোষ্ঠী ও অত্যাচারী মায়ানমার সরকার বিষয়ক খবর আজ প্রতিটি দেশের সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত। সারা দুনিয়া জেনে গেছে এই সমস্যার কথা। চলছে রোহিঙ্গা মানুষজনের উপর বার্মার অর্থাৎ বর্তমান মায়ানমার রাষ্ট্রের বৌদ্ধ সন্ত্রাসী সামরিক বাহিনীর কুটকৌশলগত অত্যাচার। একাজে সে দেশের বৌদ্ধ নেতা ও বৌদ্ধ ধর্মের মানুষজনের যে স্বতস্ফুর্ত সমর্থন আছে তা বিশ্ব মানবতার আয়নায় স্পষ্ট হয়েছে। তবে ভৌগলিক কারণেই সকলের জানা আর আমাদের জানা এক নয়। আমাদের বাংলাদেশকে এ নিয়ে শুধু আবেগ নয় বরং বুদ্ধি, কৌশল এবং রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে দক্ষতা দেখানো প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক বহুল আলোচিত এবং নিন্দিত ঘটনা হলো দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বৌদ্ধ অধ্যুষিত মায়ানমারে জাতিগত নির্মূল অভিযান। এই অভিযানে মায়ানমারের সরকার পালিত অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী তারই দেশের এক দুর্বল জাতি গোষ্ঠীকে জঘন্যতম অত্যাচার চালিয়েছে। এ মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক চরম অমানবিক ঘটনা। সেখানে রোহিঙ্গা পুরুষদেরকে জবাই করে, গুলি করে, আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে এবং মারছে। তাদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে মাটির ছাইভষ্মে পরিনত করেছে। আর রাখাইনের যৌবন কন্যাদের উপর শারীরিক যৌন নির্যাতন গত শতাব্দীর আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় পাকিস্তানি আর্মি কর্তৃক বাঙালি নারীদের উপর চালানো পাশবিকতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। ছোট্ট নিষ্পাপ শিশুদের প্রতি অত্যাচার বিশ্ব ইতিহাসের সকল বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। যে মাটিতে এমন অশান্তিপূর্ণ নেতৃত্বের উপস্থিতি সেখানে বর্তমান কোন নেতার শান্তির পুরস্কার থাকতে পারেনা। আমি ওদের নেত্রীর শান্তি পুরস্কার স্থগিত করার আহবান করছি। সেই সাথে চাই সুচি ও তার মিলিটারীর বোধোদয় ঘটুক। বিশ্বের সকল মানবতাবাদী সংগঠন ও দেশকে মানবিক সাহায্যের পাশাপাশি দেশে দেশে রোহিঙ্গা জাতির জন্যে তাদের জায়গার দখল ছেড়ে দিয়ে তাদেরকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান দিতে মায়ানমার সরকারের প্রতি চাপ প্রয়োগের আহবান জানাচ্ছি।

আমরা সংবাদ মাধ্যমে জানতে পাই, জাতিসংঘের তদন্তের প্রতিবেদন অনুসারে রোহিঙ্গারা মায়ানমারের ভিতরে অতি-জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধদের দ্বারা ঘৃণা এবং ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার শিকার হচ্ছে। একই সাথে মায়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক বিচার বহির্ভূত হত্যা, অবৈধ গ্রেফতার, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং অপব্যবহার শিকার হওয়ার পাশাপাশি তাদের জোরপূর্বক শ্রমেও বাধ্য করছে। জাতিসংঘের মতানুসারে, গত ২৫ আগস্টের পর থেকে রোহিঙ্গাদের উপর চলা এ নির্যাতনকে মানবতা বিরোধী অপরাধ হিসেবে বলা যেতে পারে। এসব কথা চলছে, চলুক। কিন্তু আমাদের কি করণীয়। রোহিঙ্গারা এখন আমাদের বাড়িতে। তারা বদ্ধ উম্মাদ শাসক গোষ্ঠীর দ্বারা মরতে মরতে আমাদের দ্বারে এসেছে প্রাণটুকু নিয়ে। আমরা মানুষ তাই মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে ওদেরকে সাময়িক আশ্রয় দিয়েছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শান্তির জন্যে নোবেল না পেয়েও তার এবারের জাতিসংঘের সভায় বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন সারা বিশ্বকে মানুষের জন্যে প্রকৃত ভালোবাসা তাঁর আছে। সীমান্তে বিভিন্ন ধরনের উস্কানিমূ্লক মহড়া দেখানো হচ্ছে। আমাদের সরকারের পরিস্কার ঘোষণা, আমরা মানবতার খাতিরে সাময়িক আশ্রয় ও খাদ্যের ব্যবস্থা করেছি, কিন্তু রোহিঙ্গা সংকট মায়ানমারের সৃষ্টি, এর সমাধান মায়ানমারকে করতে হবে, রোহিঙ্গাদেরকে ফিরিয়ে নিতে হবে।আমরা সাধারণ মানুষের কথাই আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। আমাদের সরকার আছে, নিরাপত্তা বাহিনী আছে। আমাদের প্রশিক্ষিত বাহিনী বিশ্বের অনেক দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিগত দাঙ্গা নির্মূলে সাহসীকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের স্বাধীনতা ও শান্তির প্রয়োজনে ওরাই সঠিক ভূমিকা রাখবে। আমরা ভীতু নই। তবে পরদেশী হুমকির জবাব দিবার সময় এসে গেছে মনেকরি। আমার দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতা আমি বলতে চাইনা, মানতে চাইনা, শুনতে চাইনা। দেখতে চাই দ্রুত বিচক্ষণ পদক্ষেপ আমাদের সরকার থেকে।

মানুষ মানুষের সমস্যায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে। ঠিক আছে। কিন্তু কতোটা ? আমাদের পুরো দেশ যদি একটি মানুষ হয়, তবে এই এক মানুষের পক্ষে কতোজনকে একার পক্ষে তার শরীরাংশে বহন করা সম্ভব হবে, এই প্রশ্নটি সামনে নিয়েই মানবিকতা কতোটুকু দেখানো যায় বা সম্ভব তার বিশ্লেষণ প্রয়োজন। ভারতের শরীর আমাদের তুলনায় অনেক বড়। তবু সে একা একা বেশী দিন পারেনি উনিশ'শ একাত্তর খ্রীষ্টিয় সালে। আজ আমাদের পক্ষে কিছুতেই মায়ানমারের শরীরের চাপ বহন করা সম্ভব নয়। আমাদের গায়ের উপর তোমাদের হাত পড়েছে, আমি তোমাকে বলছি, তুমি তোমার অঙ্গত খানি আমার শরীরের উপর থেকে নিজে থেকেই সরিয়ে নিয়ে ' সরি ' বলো। অন্যথায় এই আমরা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হবো। কেনো আমাদেরকে বারবার প্রতিবেশী সন্ত্রাসীদের চাপ সহ্য করেই যেতে হবে। মায়ানমারের বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গাদেরকে অস্ত্র হিসাবে ঠেলে পাঠিয়েছে। মায়ানমার নেত্রী সুচি ও তার দেশের মিলিটারি বুদ্ধিতে কম নয়। এই সংকট সৃষ্টির পিছনে দলমত নির্বিশেষে তাদের গভীর ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা থাকা স্বাভাবিক। আমি বিশ্বাস করতে চাই এই রোহিঙ্গারা হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব, আমাদের সামরিক সামর্থ্য, মেধা ও ষোল কোটি বীর বাঙালির জন্যে তাদের পাঠানো হুমকি। তাই আমাদেরকে আবেগাপ্লুত হয়ে দরদী হয়ে কেবল বুকে আগলে আর গাল পেতে দিয়ে প্রতিবেশী বৌদ্ধ সন্ত্রাসবাদ সয়ে গেলে বাংলাদেশের গৌরব বীর বাঙালির অহংকার একেবারেই থাকেনা।।
লেখক মোহাম্মদ আব্দুল হক
সভাপতি, অনুশীলন সাহিত্য পরিষদ, সিলেট।


Free Online Accounts Software