পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিতে হলে শিক্ষার্থীদেরকে বিজ্ঞানের চর্চা করে এগিয়ে যেতে হবে ---স্বপন কুমার রায়
   22 Oct 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 16 September 2017 শিক্ষা  (পঠিত : 1092) 

পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিতে হলে শিক্ষার্থীদেরকে বিজ্ঞানের চর্চা করে এগিয়ে যেতে হবে ---স্বপন কুমার রায়

পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিতে হলে শিক্ষার্থীদেরকে
বিজ্ঞানের চর্চা করে এগিয়ে যেতে হবে
---স্বপন কুমার রায়
     

মো. আব্দুল বাছিত:
বাংলাদেশে প্রথমবারের মত বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এমসি কলেজ, সিলেট-এর উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর- এর সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ বোটানিক্যাল সোসাইটির আয়োজনে বাংলাদেশ বোটানি অলিম্পিয়াড ২০১৭ সিলেট বিভাগীয় অনুষ্ঠান শনিবার সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় পতাকা ও বাংলাদেশ বোটানি অলিম্পিয়াড -এর পতাকা উত্তোলন, মশাল প্রজ্জ্বলন ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী ঘোষণা করেন প্রধান অতিথি। পরে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ কলেজের প্ল্যাকার্ডসহ কলেজের অভ্যন্তরে র‌্যালি বের করে। সিলেট বিভাগের ২৭ টি কলেজের প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর- এর মহাপরিচালক স্বপন কুমার রায়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আজিজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যলয়ের উদ্ভিদবিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আজিজুর রহমান, মাউশি সিলেট অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. হারুনুর রশীদ, বাংলাদেশ বোটানিক্যাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. শেখ শামীমুল আলম। এমসি কলেজ, সিলেট-এর অধ্যক্ষ প্রফেসর নিতাই চন্দ্র চন্দ'র সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এমসি কলেজ, সিলেট-এর উদ্ভিদবিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও বাংলাদেশ বোটানি অলিম্পিয়াড ২০১৭ সিলেট বিভাগের আহবায়ক প্রফেসর ড. মো. নেছাওর মিয়া। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এমসি কলেজ, সিলেট-এর উদ্ভিদবিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহনাজ বেগম। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বোটানি অলিম্পিয়াড ২০১৭, সিলেট বিভাগের সদস্য সচিব প্রফেসর মাজহারুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর-এর মহাপরিচালক স্বপন কুমার রায় বলেন, পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিতে হলে শিক্ষার্থীদেরকে বিজ্ঞানের চর্চা করে এগিয়ে যেতে হবে। শিক্ষার্থীদেরকে বিজ্ঞান মনস্ক করে তুলার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত রাখার জন্য এই অলিম্পিয়াড মাইলফলক হয়ে থাকবে। উদ্ভিদ বিজ্ঞানকে জানা এবং গবেষণায় সমৃদ্ধ করার জন্য আত্মপ্রত্যয়ী হতে হবে। সভার পরে অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে অডিটোরিয়ামে একটি প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেন প্রফেসর ড. মো. আব্দুল আজিজ, প্রফেসর ড. মো.আজিজুর রহমান, প্রফেসর ড. শেখ শামীমুল আলম। পরে ফলাফল ঘোষণা করেন বাংলাদেশ বোটানিক্যাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. শেখ শামীমুল আলম। অলিম্পিয়াডে বিজয়ী মোট দশজন শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করেন অতিথিবৃন্দ।বিজয়ীদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন মৌলভীবাজারের বিএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার্থী মাহদী বিন জাহিদ, দ্বিতীয়- একই কলেজের নয়ন দেবনাথ, তৃতীয়- একই কলেজের আব্দুল মুমিন রেদোয়ান, চতুর্থ- মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের সৌমিক পাল জিসান, পঞ্চম- এমসি কলেজের আব্দুল গফুর, ষষ্ট- একই কলেজের শ্রাবনী সরকার মম, সপ্তম- বিএফ শাহীন কলেজের সিদ্দিকুর রহমান, অষ্টম- সিলেট সরকারী কলেজের মো. টিপু সুলতান, নবম- বিএফ শাহীন কলেজের প্রসেনজিত নাগ, দশম- সিলেট সরকারী কলেজের তানভীর অাহমদ সৌরভ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. আবুল কাশেম, প্রফেসর ড. জসীম উদ্দিন, মদনমোহন কলেজ, সিলেট-এর অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, সিলেট সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী আতাউর রহমান, সিলেট সরকারী আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর আলী আহমদ, প্রফেসর মোহাম্মদ আজিজুর রহমান লস্কর, প্রফেসর আশফাক আহমদ, প্রফেসর ড. নূরুল ইসলামসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ এবং অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন উদ্ভিদবিজ্ঞান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আব্দুর রহমান আখঞ্জী এবং গীতা পাঠ করেন একই বিভাগের শিক্ষার্থী বৃষ্টি রাজ ঋতু।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো. আব্দুল আজিজ বলেন, বিজ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদেরকে আগ্রহী করে তুলার জন্য এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আগামীতে উদ্ভিদ বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করে শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখবে। নতুন নতুন উদ্ভিদ এবং এর গুণাগুণ আবিষ্কার করে দেশের জন্য কাঙ্খিত ফলাফল বয়ে আনবে।
প্রফেসর ড. মো. আজিজুর রহমান বলেন, উদ্ভিদ বিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদেরকে জ্ঞান অর্জন করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আনার জন্য কাজ করবে। বর্তমান বাংলাদেশে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পেছনে উদ্ভিদ বিজ্ঞাণীদের অবদান অনস্বীকার্য।
সভাপতির বক্তব্যে এমসি কলেজ, সিলেট-এর অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ্র চন্দ বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন করার জন্য সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ শিক্ষার্থীরা আরো বেশি উৎসাহিত ও উজ্জ্বীবিত হবেন। ভবিষ্যতে ও এই অনুষ্ঠানের ধারা অব্যাহত থাকবে।


Free Online Accounts Software