চিরসবুজ সজীব বিদ্যাপীঠ
   22 Oct 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 13 August 2017 শিক্ষা  (পঠিত : 2513) 

চিরসবুজ সজীব বিদ্যাপীঠ

চিরসবুজ সজীব বিদ্যাপীঠ
     

ইমরান ইমন:
সিলেটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়ে তাদের বেশিরভাগেরই পছন্দের ক্যাম্পাসের তালিকায় এম সি (মুরারিচাঁদ) কলেজ।
শতশত শিক্ষার্থী মনে হাজারও স্বপ্ন লালন করে প্রতিবছর ভর্তি হয় এই ক্যাম্পাসে।
ক্যাম্পাসে ঢুকতেই প্রধান ফটকে বিশালাকারে লেখা আছে মুরারিচাঁদ কলেজ, সিলেট।
সবুজে সুবুজে ঘেরা চারপাশ। বলা চলে গাছপালায় মোড়ানো একটি ফুলের তোড়াবাঁধা ক্যাম্পাসটি।
প্রধান ফটকে ঢুকে বায়ে একটু উঁচুভূমি মাড়িয়ে কলেজটির তথ্যকেন্দ্র। তথ্যকেন্দ্রটির পাশে ছাত্রী মিলনায়তন।

আর ডানের দিকে চলেছে অন্য রাস্তাটির পাশেই আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ এবং একটু সামনে যেতেই অডিটোরিয়াম, সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগ।

অনেকটা পথ হেটে কতগুলি সিঁড়ি মাড়িয়ে যেতে হয় অধ্যক্ষের কার্যালয়ে। চতুর্দিকে সবুজ গাছপালার মধ্যখানেই কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবন। যা কলেজের সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত।
কিছুটা উঁচুতে কলা ভবনে গণিত বিভাগ। গণিত বিভাগের পেছনেই রয়েছে রোভার স্কাউট ডেন। বাস্কেটবল ফিল্ড।

জ্ঞানবিজ্ঞান আর সাহিত্যচর্চায় এগিয়ে আছে কলেজটি। কলেজের বিশাল গ্রন্থাগার তারই প্রমাণ। হাজার হাজার বই দ্বারা সাজানো। গ্রন্থাগারে একই সাথে অনেক ছাত্র ছাত্রী একত্রে বসে পড়াশোনা করতে পারে এবং গ্রন্থাগারের পাশেই ইংরেজি বিভাগ। ছোটছোট পাথর দিয়ে অত্যন্ত সুন্দর করে লেখা ডিপার্টমেন্ট অব ইংলিশ।
ইংরেজি বিভাগের পাশেই ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণ করে নির্মিত শহিদ মিনার। শহিদ মিনারটির দুই পাশে গাছের সাড়ি বিদ্যমান। যা শহিদ মিনারটির সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে দ্বিগুণ।

ছাত্রমিলনায়তনে কেউ ক্যারাম। কেউ বা আবার টেবিলটেনিস খেলছে। কেউ সুর তুলছে গানে। হৈ হৌল্লর বিদ্যমান প্রতিনিয়ত। প্রাণবন্ত আড্ডাচলে অবিরাম। এই মিলনায়তনের সামনে ক্যাম্পাসের অন্যতম সৌন্দর্যরূপের প্রাণ পুকুরটি অবস্থিত। পুকুরপাড়ে গাছের ছায়ায় বসে শিক্ষার্থীরা আদানপ্রদান করছে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। এমনকি ক্লাসের পড়াশোনাও।

কিছুটাপথ হেঁটে ছোট ব্রিজটি পাড়ি দিয়ে গোলচত্বর এবং বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট চোখেপড়ে।
এর পূর্বে বলতে হয়, ছোট ব্রিজটি হওয়ার কারণ। ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে চলেছে প্রবহমান ছড়া। যার বুকে জলের খেলা বারোমাস। বর্ষায় নদীর মত বুক ফুলে উঠে ছড়াটির। সৃষ্টি করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। মাছ ধরতেও ব্যস্ত হয় ছোটবড় অনেকেই।

ছড়া পাড়ি দিয়ে কিছুটা সামনে গিয়ে রসায়ন বিভাগ এবং ডানে পদার্থবিদ্যা বিভাগ। আর বায়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন। পাশেই উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগ।
আর এর পেছনেই একাডেমিক কাম পরীক্ষা ভবন। পাঁচতলা বিশিষ্ট। যার নিচতলায় ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলে এবং দ্বিতীয় তলায় ইতিহাস বিভাগ, তৃতীয় তলায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ আর চতুর্থ তলায় বাংলা বিভাগ। আর পঞ্চমতলা নির্মাণাধীন।

ছোটছোট টিলায় ঘেরা চারপাশ। গাছপালায় মোড়ানো একটি ফুলের তোড়া। এম সি কলেজের মোট আঙিনা একশত চব্বিশ একর। এর ভেতরে বিশাল খেলার মাঠ, ছাত্রছাত্রীদের জন্য আলাদা আলাদা থাকার হোস্টেল। মূল ক্যাম্পাসের পুকুরপাড়েই মসজিদ অবস্থিত।

সংস্কৃতি, খেলাধুলা, জ্ঞানবিজ্ঞানে এগিয়ে এম সি কলেজ।
সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মধ্যে মোহনা সাংস্কৃতিক সংগঠন। সিলেটের মধ্যে সবচেয়ে বড় আয়োজনে বসন্তবরণ করে থাকে। বর্ষাবরণ ও রক্তদান কর্মসূচি। এছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সামাজিক কার্যক্রম করে থাকে এই সংগঠনটি। একঝাঁক সৃজনশীল তরুণের হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে মোহনা। এগিয়ে যাচ্ছে এম সি কলেজ।

আছে থিয়েটার মুরারিচাঁদ। যাদের সৃষ্টিশীল কাজে মুগ্ধ না হলেই নয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় যারা থিয়েটারের মাধ্যমে পৌঁছে দিচ্ছে এম সি কলেজকে।

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য মুরারিচাঁদ এডভেঞ্চার ক্লাব।
আর সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য জাতীয় কবিতা পরিষদ। যারা ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রতিবছর আয়োজন করে বইমেলার।

আর্তমানবতার সেবায় ও যে কোন অনুষ্ঠানে রোভার স্কাউট এবং ক্যাডেট তো আছেই।
শীঘ্রই যাত্রা করতে যাচ্ছে এম সি কলেজ প্রেস ক্লাব।

১৮৯২ সালে এই বিদ্যাপীঠটির যাত্রা। বর্তমানে ১২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। একশো পঁচিশ বছরের ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্পাসটি বাংলাদেশের বুকে সপ্তম আশ্চর্য বিদ্যাপীঠ। এই বিদ্যাপীঠ তৈরি করছে মেধাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। সুযোগ্য নাগরিক। দেশ প্রেমিক। যেখানে পড়তে পেরে শিক্ষার্থীরা গৌরবান্বিত।
বাংলাদেশের বুকে এম সি কলেজ একটি অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বাক্ষর রাখবে চিরকাল।

আরোও ছবি

চিরসবুজ সজীব বিদ্যাপীঠ
চিরসবুজ সজীব বিদ্যাপীঠ

Free Online Accounts Software