ছড়ারপাড়ে প্রতিবন্ধী যুবককে দফায় দফায় অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
   21 Oct 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 13 August 2017 মিডিয়া ওয়াচ  (পঠিত : 295) 

ছড়ারপাড়ে প্রতিবন্ধী যুবককে দফায় দফায় অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

ছড়ারপাড়ে প্রতিবন্ধী যুবককে দফায়
দফায় অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
     

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট নগরীর ছড়ারপাড়ে রুমেল আহমদ নামে এক প্রতিবন্ধী যুবককে নিয়ে নির্মম খেলায় মেতে উঠেছে একটি চক্র। আর ওই যুবককে হত্যা করতে দফায় দফায় হামলা ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে নগরীর ছড়ারপাড় এলাকার সাবু মিয়ার পুত্র নির্যাতনের শিকার রুমেল আহমদ এ অভিযোগ করেন। এছাড়া সন্ত্রাসীদের ভয়ে মা-বাবা, ভাই-বোন, সন্তান-সন্ততিদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে রুমেল আহমদ বলেন, নগরীর কালিঘাট লালদীঘির পাড় এলাকার নানা অপকর্মের হোতা সওদাগর ওরফে পলিথিন সওদাগর এবং তার সশস্ত্র সহযোগীরা ২০১৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে আমাদের পিছু লেগেছে। তখন শিশুদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে আমার মা-বাবা, ভাই-বোনদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা করে। এ মামলার বিষয়টি পুলিশ এবং আদালত বুঝতে পারায় আমরা হয়রানি থেকে রÿা পাই। এরপর থেকে কারণে অকারণে সওদাগর নানাভাবে হয়রানি করে আসছে আমাদেরকে। দু’দিন পর পর সে কোথা থেকে পুলিশ নিয়ে আসে আমাদের বাসায়। আমাদেরকে ভয় ভীতি দেখায়। তৎকালিন ওসি সুহেল আহমদকে বিষয়টি অবগত করায় কয়েকদিন পুলিশি হয়রানি বন্ধ ছিল। অতি সম্প্রতি সে আমাদের পেছনে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়েছে। তারা গত বেশ কয়েকদিন যাবত আামদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তাদের দাবি কলোনি ব্যবসা চালাতে হলে তাদেরকে এক লাখ টাকা দিতে হবে। গত ৭ মে সন্ধ্যায় আমি যখন আমাদের কলোনির ভাড়া বাবদ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে ফিরছিলাম তখন আমার বাসার পাশে আসা মাত্র তার লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসী আমিনুল, দিবাকর, কালাম, রিংকু, সওদাগুর ও তার সহযোগীরা আমার উপর হামলা চালায়। এবং আমার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এসময় আমি বাধা দিতে চাইলে আমার গলা ও বুকের বাম পাশে এবং পিঠের মধ্যখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে যায়। পরে আশপাশ লোকজন আমাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে আমাকে ভর্তি করা হয়, আমার আঘাতের স্থানে ৫টি সেলাই দেয়া হয়। আমি তখন ভয়ে মামলা করিনি। এমতাবস্থায় গত ২৯ জুন দুপুরে আমি পাইলট স্কুলের সম্মুখ থেকে বাসায় ফেরার পথে তারা আমার রিকশার গতিরোধ করে দাড়ায়। এসময় আমিনুল তার সঙ্গে থাকা সহযোগীদের বলে ‘কুত্তার বাচ্চারে গাড়িতে তুলে ফেল’ তখন তার সহযোগীরা গাড়িতে তুলে আমার হাত-পা বেধে ফেলে। তারা গাড়ির ছিটের নিচে শুয়াইয়া বুকে চাপদিয়ে ধরে রাখে। এসময় আমাকে হত্যার চেষ্টা চালায়, আমার চিৎকার এবং ধ¯Íাধ¯িÍর ফলে আমিনুল আমাকে গাড়ি থেকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। তখন স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নেন। সেখানে আমি দুইদিন চিকিৎসাধীন ছিলাম। এঘটনায় আমি বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়লী থানায় গত ৫ জুলাই মামলা দায়ের করি। যার নং- ০৫। এঘটনার পর র‌্যাব ও পুলিশ পৃথকভাবে তাদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। জামিন না হওয়াতে তারা আামার বাবা-মা সহ আমার উপর নানা চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। এক পর্যয়ে গত ২৩ জুলাই সওদাগর আমিনুল ও দিবাকরের সহযোগীরা আমাকে আদালত পাড়ায় ঘিরে ধরে এক রকম জোর করে কোমরে অস্ত্র ঠেকিয়ে এজলাসে নিয়ে যায়। এবং আসামীদের জামিন প্রদানে আমার কোন আপত্তি নেই মর্মে জোর করে আমার বক্তব্য প্রদান করায় এবং স্বাÿর নেয়। এমতাবস্থায় আমি প্রাণ ভয়ে কোন শোর-চিৎকার করতে পরিনি। এসময় তারা এমন ভাবে ঘিরে রাখে যেন দুর থেকে মানুষ আমাকে তাদের বন্ধু ভাবেন। আমাকে ঘিরে ধরে তারা টাকার একটি বান্ডিল হাতে দিয়ে ছবি তুলে।
এসব ঘটনার পর আমি ঘর থেকে বের হতে পারছিনা। সেদিন একটু বেরিয়েছিলাম বাসার পাশে। তখন পুলিশ পরিচয়ে দুই ব্যক্তি জোর করে আমাকে মোটর সাইকেলে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। তারা বলে তোর বিরুদ্ধে এক নারী মামলা করেছে। তোকে থানায় যেতে হবে। সাদা পোষাকে এ কান্ড ঘটানোর সময় আমি চিৎকার দিলে আমার মা বাবা সহ এলাকার লোকজন তাদের কাছ থেকে আমাকে উদ্ধার করেন। ঐ দুইজনকে আটকে রাখেন। পরে তাদেরকে ছাড়িয়ে নেন আরেক সহযোগী। এসব কান্ডে আমরা ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে পড়েছি। এরা যেকোন সময়ে আমাদের জানমালের ÿতি করতে পারে। মিথ্যা মামলায় জড়াতে পারে। পুলিশ-র‌্যাব বা আইন শৃংখলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খোঁজ নিলে বা তদন্ত করলে এসব সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে আরো অবগত হতে পারবেন। সংবাদ সম্মেলনে রুমেল আহমদের মা-বাবা এবং ছেলে রাফি উপস্থিত ছিলেন।


Free Online Accounts Software