17 Dec 2017 : Sylhet, Bangladesh :

9 August 2017 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 2358) 

অভিমানী গল্পকার

  অভিমানী গল্পকার
     

তাসলিমা খানম বীথি:
১. চকচকে ঝকঝকে হাসির অন্তরালে অভিমানী একটি মুখ লুকিয়ে থাকে তার হৃদয়ে। যার প্রচন্ড অভিমান করার ক্ষমতা রয়েছে। তাকে বাইরে থেকে গুছালো মনে হলোও ভেতরে ভেতরে সে খুবই অগুছালো। কারন সে যখনই ঘর থেকে বের হয় তখন মানিব্যাগ না হয়, হাত ঘড়ি ঘরে রেখে দৌড় দেয়। তার মাথার চুল দেখলে মনে হবে পাখির বাসা। চুল আচড়ায় না বলে একদিন তাকে চিরুনি কিনে দিয়েছিলাম। নিজের প্রতি উদাসীন হলে কী হবে। কাছের মানুষদেরকে ঠিকই সে ভালোবাসে, যত্ন নেয়। প্রতি বছরে আমার জন্মদিনটি আসে আবার নীরবে চলেও যায়। কিন্তু ২০১৫ সালে জীবনে প্রথম কোন জন্মদিনে কেক কাটি। আর সেই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছিলো যাকে আমি কখনো ঘন্টু, কখনো নীল, আবার কখনো বাবু বলে ডাকি। জন্মদিনে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের সাহিত্যঙ্গনে আমার সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে কাছের মানুষেরা। সেদিন এতটাই আবেগাপ্লুত হয়েছিলাম যে, চোখের জলে আটকে গিয়েছিলো মনের কথাগুলো।
২.গত ঈদুল ফিতরের আগের দিন তাকে কল করে বলেছিলাম ঈদের দিনে সবাই মিলে বের হবো। আমি জানতাম মোবাইল বন্ধ করে ঘুমিয়ে যাবে সে। সেই জন্য মোবাইলের লাইন কাটার আগে কয়েকবার তাকে বলি- মোবাইল খোলা রাখিস। লক্ষী ভাইয়ের মত সেও জবাব দেয় আচ্ছা খোলা রাখবো, বন্ধ করবো না।
৩.ঈদের দিন সকালে তাকে কল করতেই মোবাইল বন্ধ পেয়ে ভাবলাম হয়তো নামাজের আগে ওঠে যাবে। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মোবাইল বন্ধ রয়েছে। তখন কল করি ছড়াকার দিলওয়ার হোসেন দিলু ও আকরাম ছাবিতকে। তারা বলল- সে তো বাড়িতে যায়নি, রুমে হয় তো আছে। তাদের সাথে কথা বলে বসু (কবি বাশিরুল আমীন) কে কল করি। হ্যালো বলার আগেই কোথায় আছে জিজ্ঞাসা করি। তার বন্ধুর সাথে আছে, সুবিদবাজার পয়েন্টে আসলে পাবো। দ্রত তৈরি হয়ে বাসায় থেকে বের হই। সকাল ১০টায় রিকশা নিয়ে সোজা সুবিদবাজার পয়েন্টে এসে বসুকে সাথে করে মদিনা মার্কেটের দিকে ছুটি। দু’তলা সিড়ি বেয়ে ওঠতেই, বসু বলল-আপা তুমি নিচে দাঁড়াও আমি রুমে গিয়ে দেখে আসি, সে আছে কিনা। ব্যাচেলর বাসায় তো। ঠিক আছে বলে, সিঁড়ির নিচে দাঁড়াই। কয়েক বার কলিং বেল দেবার পর কারো সাড়া শব্দ না পেয়ে বসু এসে বলল- রুমে মনে হয় কেউ নেই। নিচে দাঁড়িয়ে আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেই একজন লোক আমাদের জিজ্ঞাসা করলেন - আপনারা কী কাউকে খুঁজছেন? তার নাম বলতেই তিনি বললেন, আপনি তার কে? আমি তার বোন। লোকটির সাথে কথা বলে, আবারো রিকশা ওঠি দুজনে। বসু জিজ্ঞাসা করছে কোথায় যাবে আপু? বাসায় চলে যাবো। এ কথা শুনে বসু গাল ফুলিয়ে বলে, আমাদের বাসায় না গিয়ে চলে যাবে। না- ঈদের দিন আমার বাসায় যেতেই হবে। কারো মন খারাপ থাকবে তাও আবার ঈদের দিন। সেটি কখনো মেনে নিতে পারি না। তাই বসুর সাথে তাদের বাসার দিকে চললাম। বাসায় যেতে না যেতে রান্না ঘরে ঢুকেই বসু নিজের হাতে করে পিঠার পুরো পাতিলটি নিয়ে হাজির আমার সামনে। তার মা হেসে বলল-পাগল ছেলের কাজ দেখো। আয়েশা, মনির, বসু ও আমি একসাথে বসে লাচ্ছিসহ বিভিন্ন ধরনের পিঠা খাচ্ছিলাম, তখন চোখ যায় বুবুর দিকে (বসুর দাদি) দাদিকে বুবু বলে ডাকে তাই আমিও ডাকি। একি! বুবুকে শাড়ি পড়িয়ে দিচ্ছে মনির। এ দৃশ্য দেখে আমি আর আয়েশা হেসে লুটোপুটি। বাহ! নতুন শাড়িতে বুবুকে দারুণ লাগছে। আমার কথা শুনে মনির লজ্জায় পালিয়ে যায়।
৪.দুপুর পৌনে ১টা তখন। কেন জানি মনে হচ্ছে সে রুমেই আছে। বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে রুমে ভেতর নিশ্চয় ঘুমাচ্ছে। তাকে আবার কল করতে বসুকে বলি। ফোন রিসিভ করতেই বসু বলল, ভাই আপনি কোথায়? আমি তো আপনার বাসার সামনে। খুব বাথরুম পেয়েছে। আমি রুমেই আছি, চলে আসুন। মোবাইলে লাইন কেটে দিয়ে দু’জনে আবার রিকশা নিয়ে মদিনা মার্কেটে তার বাসার কাছে পৌঁছাতে অনুপ্রাণন এর সম্পাদক নাসির উদ্দিন ও লিটল ম্যাগ অটোগ্রাফের সম্পাদক আবদুল কাদের জীবনের সাথে দেখা। আমাদের দুজনকে এক সাথে দেখে বলল কোথায় যাচ্ছি। তাদেরকে বি¯Íারিত বলতেই তারাও আমাদের সঙ্গী হয়। কলিং বেলের শব্দ হতেই সে দরজা খুলে বিস্ময় চোখে প্রশ্ন? তুমি! আমি তো ভাবছি- তার কথা শেষ হবার আগে পেছনে দাঁড়ানো নাসির ভাই, বসু ও জীবনকে দেখতে পেয়ে আরো অবাক। ঈদের দিন এরকম কিছু ঘটবে সে ভাবতেই পারিনি। রাগ না দেখিয়ে দ্রুত তৈরি হতে বলি। আমরা সবাই তার রুমে গিয়ে বসি। এলোমেলো বিছানার উপরে বই পত্র, খাতা কলম দেখে গুছাতে থাকি। টেবিলে উপরে টিফিন বক্স দেখে বুঝতে পারি নিশ্চয় মায়ের হাতে রান্না। টিফিন খুলতেই দেখি পুরোটাই খালি। লাল পাঞ্জাবীতে তোকে নতুন বরের মত লাগছে। চিরচেনা অট্টোহাসি দিয়ে বলল-কি যে বল না আপু। ঈদের দিনে আমাদের ঘুরাঘুরি অভিযান নাসির উদ্দিনের বাসা থেকে শুরু করে, ছড়াকার দেলোওয়ার হোসেন দিলু, গল্পকার সেলিম আউয়াল, কবি জান্নাতুল শুভ্রা মনি। গোধূলী বেলা শেষে আমাদের ফুফু ঔপন্যাসিক আলেয়া রহমানের বাসায়। ফুফু আমাদেরকে নাস্তা দিতেই সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে। কারণ দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও কারোর লাঞ্চ করা হয়নি। সবার একটু বেশি ক্ষিধা পেয়েছিল তখন। তাই ফুফু যা দেয় সব শেষ। খাওয়ার সাথে চলে আমাদের আড্ডাবাজী আর ফেইসবুকে আপলোডিং। ফেবুতে ছবি দেখে ইছমত আপা কল করে বললেন. যে করেই হোক আমরা যেন তার বাসায় যাই। ফুফুকে সাথে নিয়ে কবি ইছমত হানিফা বাসায় যাই। পরে ইছমত আপাকে সাথে নিয়ে সবাই মিলে কাজিবাজার সেতু গিয়ে জড়ো হতেই কবি মাসুদা সিদ্দিকা রুহি ও কবি ধ্রুব গৌতম এসে যোগদেন। সেতুতে দাঁড়িয়ে হলুদিয়া আলোয় ২০১৬ সালে ঈদের চাঁদের সাথে সেলফিতে বন্দি হই আমরা।
৫. এতক্ষন আমি যার কথা বলছিলাম। যাকে কেন্দ্র করে ঈদের দিনটি আমাদের জম্পেশ আড্ডায় মধ্যে দিয়ে দিন কাটলো তিনি আর কেউ না। সিলেটের সাহিত্যঙ্গনে সবার পরিচিত প্রিয়মুখ তরুণ গল্পকার মিনহাজ ফয়সল। তার সাথে পরিচয় হবার আগে প্রথমে তার কবিতার সাথে পরিচয় ঘটে প্রিয় কর্মস্থল সিলেট এক্সপ্রেসের মাধ্যমে। তারপর প্রথম দেখা কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসরে। তার হাসিমুখ, বিনয় আচার আচরণ যে কাউকে মুগ্ধ করবে।
৬. ফেব্রয়ারি মাস আসলেই বইমেলাকে কেন্দ্র করে লেখকদের ভেতরে একটি উৎসব চলে আসে। ২০১৭ সালে গল্পকার মিনহাজ ফয়সলের ‘মানুষ হাসতে জানে’ গ্রন্থটি হাতে পাওয়ার আগেই ফেইসবুকে দেখি বইয়ের প্রচ্ছেদ। গত ৭ ফেব্রুয়ারি সিলেটে শুরু হয় প্রথম আলো বন্ধু সভার উদ্যোগে বইমেলায়। সন্ধ্যায় সেই বইমেলা গিয়ে নাগরী স্টলে ঢুকি তার নতুন গ্রন্থটি দেখার জন্য। ‘মানুষ হাসতে জানে’ বইটি হাতে নিতেই উৎসর্গ লাইনগুলোতে চোখ আটকে যায়। চার বোনকে উৎসর্গ করেছে সে। এই চারবোনের সাথে তার রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও আছে, আত্মার সম্পার্ক। হৃদয় আর আত্মার যে ভালোবাসা সৃষ্টি হয় সেই ভালোবাসাকে কখনো আলাদা করা যায় না। সেই চার বোনের মধ্যে আমি হচ্ছি দ্বিতীয়। বইটি উল্টেপাল্টে দেখার আগেই চোখে কোনে জল টলমল করতে থাকে। টপ করে জল পড়ার আগেই চোখের কোনটা মুছে নেই। স্টলে বাইরে দাঁড়িয়ে তখন কয়েকজনকে অটোগ্রাফ দিচ্ছে মিনহাজ। বইটি হাতে নিয়ে তার দিকে বাড়িয়ে দেই অটোগ্রাফের জন্য। মুখের দিকে তাকাতেই দেখে আমি। তুমি! কিনলে কেনা? আমি তো এমনি তোমাকে গিফট করতাম। তাকে কথা না বাড়িয়ে বললাম-অটোগ্রাফ দিবি কিনা বল। তারপর খসখস করে লিখে দিলো ‘প্রিয় ¯স্নেহময়ী আপু তাসলিমা খানম বীথি, এতো ¯স্নেহ কেন তোমার মনে? সবটুকুই আমার চাই। মিনহাজ ০৭/০২/১৭।
৭. রক্তের সর্ম্পক থাকলেই আপন হওয়া যায় না, আপন হতে হলে প্রয়োজন আত্মার সর্ম্পক। আর সেই আত্মার সর্ম্পক রয়েছে যে সকল ভাইয়েদের সাথে। যাদের হৃদয় নিড়ানো ভালোবাসা পাচ্ছি তাদের মধ্যে গল্পকার মিনহাজ ফয়সল অন্যতম। আমাদের ভাইবোনের মধ্যে রাগ অভিমানে পালা বদল চলতেই থাকে। আমার উপরে যত অভিমানই থাকুক না কেন? তাকে কোন কাজে ফোন করলে হ্যালো বলার আগেই কথা বলা শুরু হলে আর শেষ হবে না। কয়টা গল্প লেখছে, গল্পের বিষয়বস্তু কী ইত্যাদি। যেন আমার জন্যই সব জমা করে রেখেছে। তাকে কখনই পর মনে হয় না। সত্যি সত্যি যেন দুজনে একই মায়ের সন্তান।
৮. ‘মানুষ হাসতে জানে’ বইটির সর্ম্পকে কিছু কথামালা-
মানুষের জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে কত অজানা অচেনা গল্প লুকিয়ে থাকে। যেমনটি দেখা যায় সাদা এপ্রোন গল্পটিতে- অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঘর থেকে বের হলো শাওন। উদ্দেশ্য তিন্নিকে সারপ্রাইজ দেবে। প্রচন্ড ভালোবাসে তাকে। তিন্নিও ভালোবাসে শাওনকে। তিন্নির জন্যই শাওন তার অগুছালো জীবনকে সাজাতে পেরেছে। যার ভালোবাসার চোখে জীবন যুদ্ধের সফল হবার শক্তি পায়। আসলে ভালোবাসা একটি শক্তি, একটি প্রেরণা। ভালোবাসাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, অমর করে রাখে। পৃথিবীতে নিজেকে তখনি সবচেয়ে সুখী মনে হয়, যখন ভালোবাসার মানুষটি ভালোবেসে পাশে থাকে..!! আর তখনি নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হয়, যখন ভালোবাসার মানুষটি বিশ্বাস দিয়ে বিশ্বাস রাখে।
বইয়ের প্রতিটি পাতায় যে জীবন দেখতে পাই তা আমাদের কারো অচেনা নয়। প্রতিমুহুর্তে ঘটে যাওয়া আমাদের জীবনে প্রেম, বিরহ, আবেগ, ভালোবাসা, স্বপ্ন, সংগ্রামী জীবনের কথা ফুটে ওঠেছে এই গ্রন্থটিতে। যা সহজে পাঠকের মনে দাগ কাটবে। আমাদের জীবনের ঘটে যাওয়া বাস্তবতা প্রতিটি দৃশ্য বন্দি হয়েছে ‘মানুষ হাসতে জানে’ গল্পগুলোতে।
৯. প্রতিটি নারী হৃদয়ে লালিত থাকে একটি স্বপ্ন। ফুটফুটে এক সন্তানের মা হবার স্বপ্ন। আর সেই নারী ছেঁড়া ধনের মুখে সারাক্ষণ মা ডাকটি শুনবে। যে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে মায়ের সব কষ্টগুলো দূর হয়ে যাবে। ঠিক তেমনি একটি সন্তানের প্রতিক্ষায় প্রতিটি প্রহর কাটে নীলিমার। চোখের নোনা জলে বুক ভাসে তার। ‘ক্রন্দনে হাসি’র গল্পটিতে একজন নি:সন্তান জননীর কথা উঠে এসেছে।
‘কাঁঠাল লাগবে কাঁঠাল’ বাবার কাঁধে উঠে প্রতিটি সন্তানেরা খেলে। এ গল্পটি পড়লে যে কোন পাঠক তার শৈশবে ফিরে যাবে। আরো জানতে পারবে একজন মা কিভাবে সংগ্রাম করে দুটি সন্তানকে বড় করে তুলে। পৃথিবীতে একজন সন্তানের কাছে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে তার মা বাবা। সন্তানের জন্য মায়েরা নিজের জীবন দিতে পিছপা হয় না। এরকম ঘটনা আমাদের চোখের সামনে অনেক আছে। ‘অসীমের কষ্ট’ গল্পে তেমনি একজন সংগ্রামী মায়ের কথা বলা হয়েছে।
‘মানুষ হাসতে জানে’ গ্রন্থেটিতে যে গল্পটি আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে, ‘একজন দর্জির স্বপ্ন যখন ফ্যানে ঝুলে’। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া নওমির বাবা একজন দর্জি। একমাত্র মেয়ের স্বপ্ন পূরনের জন্য দিনের পর রাত, রাতের পর দিন সেলাই মেশিনে পা চালিয়েছেন। তিলতিল করে গড়ে তোলা স্বপ্ন যখন এগিয়ে যাচ্ছিলো, ঠিক তখনই নওমির জীবনে আসে কালবোশেখী ঝড়। চারদিকে সেই ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় দর্জিওয়ালা বাবার স্বপ্ন। মিনহাজ ফয়সল এ গল্পে একজন বাবার স্বপ্নকে কিভাবে গলাটিপে হত্যা করা হয় এবং আমাদের সমাজের বর্তমান প্রেক্ষাপটকে চৎমকারভাবে তার কলমের কালিতে ফুটে তুলেছেন।
১০.তাঁর গল্পগুলো শেষ পর্যন্ত আপনাকে হাসাবে এবং কাঁদাবে। যে কোন বয়সের মানুষের জন্য মিনহাজ ফয়সলে গ্রন্থের ১৪টি গল্প সুখপাঠ্য হবে বলে আমার বিশ্বাস। মানবিক আবেগের পাশাপাশি আমাদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের বাস্তবতা উঠে এসেছে ‘মানুষ হাসতে জানে’ গ্রন্থের বিভিন্ন গল্পে। তার গল্পের শুরুতে ভালো লাগা সৃষ্টি হয়। তবে শেষের দিকে কোথায় যেনো একটা তাড়াহুড়া প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। লেখার প্রতি লেখকের আরো যত্নশীল হতে হবে। কারণ শান্তিতে থাকার জন্য ভালোবাসতে হয় আর শান্তিতে থাকার কিছু সার্বজনীন উপায় আছে, তা মেনে চলতেই হয়। হৃদয়ের সমস্ত জিঞ্জির থেকে, সমস্ত অশান্তি ও অতৃপ্তির জাল থেকে, সমস্ত ঘৃণার কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে থাকার অসহায়ত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে বই।
সবশেষে বলব-যে প্রজন্ম টিভি, কম্পিউটার, গেম নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তাদের হাতে একটি বই তুলে দিয়ে আমাদের ভালোবাসাটা চারপাশে ছড়িয়ে দেই।
একজনরে-
বইয়ের নাম- মানুষ হাসতে জানে
লেখক-মিনহাজ ফয়সল
প্রকাশক- নাগরী
প্রচ্ছদ- ওয়ালিউল ইসলাম
প্রকাশকাল- অমর একুশে বইমেলা ২০১৭
মূল্য-১৪০ টাকা
পৃষ্টা সংখ্যা- ৬৩।






Free Online Accounts Software