16 Dec 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 17 June 2017 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 1132) 

'মরা গাঙের জল' সাধারণ মানুষের জীবন্ত কথা

'মরা গাঙের জল' সাধারণ মানুষের জীবন্ত কথা
     

তারেক মুনাওয়ার:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন-
"ছোট প্রাণ ছোট ব্যথা, ছোট দুঃখ ছোট কথা
নিতান্ত সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতিরাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারটি অশ্রু জল।
নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা,
নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।
জগতের শত শত অসমাপ্ত কথা যত,
অকালের বিচ্ছিন্ন মুকুল,
অকালের জীবনগুলো, অখ্যাত কীর্তির ধুলা,
কত ভাব, কত ভয় ভুল-"।
না, এখানে রবি ঠাকুর অালোচ্য বিষয় নহে। অালোচ্য বিষয় কথাসাহিত্যিক, গল্পকার সেলিম অাউয়াল রচিত 'মরা গাঙের জল'। যে বইটি বারোটি জীবন্তগল্প দিয়ে সাজানো হয়েছে। কিছু গল্প অাছে যে,অাপনার টনক নড়াবেই। কোথাও না কোথাও আপনার চোখ থামাতে বাধ্য করবেই। গল্পগুলোতে নাগরিক জীবন, বিচিত্র পেশার মানুষ, জীবনের দ্বন্দসংঘাত ও হাসিকান্নার অপরূপ সুষমায় মূর্ত হয়ে উঠেছে।
গল্পগুলোতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিক ফুটে উঠেছে। তবে তার গল্পের একটি অসাধারণ বিষয় এই , তিনি মানুষকে কখনো অমানুষরূপে চিত্রিত করেনি। ( যে বিষয়টি কথাশিল্প ও' হেনরি গল্পের মূল বিষয় ছিল।) তার গল্পের নায়ক নায়িকা সবাই সাধারণ স্তরের মানুষ। গল্পগুলো পড়লে মনে হয় আমাদের চারপাশের মানুষদের নিয়ে লেখা। ঐ বইয়ে সবচেয়ে বিচিত্রময় গল্প হচ্ছে 'বখতিয়ার এসেছেন'। যে গল্পটি কথাসাহিত্যিক শাহেদ অালীর 'জিব্রাইলের ডানা' গল্পের কথা মনে করিয়ে দেয়। সামান্য তুলে ধরছি,
"মধ্যরাত পেরিয়ে রাত অারো গভীর হচ্ছে। সন্ধ্যার অাবছা অন্ধকার। এখন জমাট বেধে গাছপালা, ঘরবাড়ি সবকিছু একাকার করে ফেলেছে। বিশাল দালানের জানালাগুলো বন্ধ, ভেতরেও লাইট নেভানো। একটি শিশুর কান্না নেই, রাতজাগা বুড়োরাও উঃ আঃ শব্দ করছে না। বাতাস বন্ধ, গুমোট গরম, বৃষ্টি অাসবে এমন মনে হচ্ছে না। ঝি ঝি পোকাগুলো অবিরত ডেকে ডেকে রাতের নিঃস্তদ্ধতাকে ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। "
এখানে কিছু গল্প অাছে যে, আপনাকে কাঁপুনি দিয়ে তুলবে। 'রিং' গল্পটা পাঠক হৃদয় ট্যাচ করবে না, এটা বলা অসম্ভব।



Free Online Accounts Software