স্বাধীনতা পেয়েছি- মুক্তি আজো অধরা
   21 Oct 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 6 June 2017 শিক্ষা  (পঠিত : 899) 

স্বাধীনতা পেয়েছি- মুক্তি আজো অধরা

স্বাধীনতা পেয়েছি- মুক্তি আজো অধরা
     

অধ্যক্ষ মুজম্মিল আলী:আমাদের জাতির জনকের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা , বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতা সমসাময়িক বিশ্ব নেতাদের ছাড়িয়ে গিয়েছিল । তিনি স্বমহিমায় রাজনীতির উজ্জ্বল এক মহা জ্যোতিষ্ক । রাজনীতির মহাকবি । A great poet of politics . রাজনীতির বিশ্ব কবি বলা যায় তাকে । ‘এবারের সংগ্রাম- স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম-আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’। রাজনীতিতে এর চে’ বড় কবিতা আর কে, কোনদিন আবৃত্তি করে শুনাতে পেরেছে ? আজ পর্যন্ত পারেনি । ভবিষতে ও পারবে কীনা-সন্দেহ হয় ।

কাব্যে এরচে’ বড় উচ্ছাস আর কোনটি ? রাজনীতির কবিতায় এত বড় আবেগ আগে কেউ কোনদিন সৃষ্টি করতে পারেনি । সে আর কারো পক্ষে তখন সম্ভব ও ছিলনা। কোনদিন সম্ভব হবে কীনা-বলা কঠিন । রাজনীতির মহাকবি একাত্তরের সাত মার্চে তার দীর্ঘ কবিতার শেষ পংক্তিমালায় জাতির আশাকে পরিপূর্ণ করে দেন । জাতির স্বপ্নকে নিয়ে যান ভিন্ন আরেক ব্যঞ্জনায় । আশাহত এক জাতি বিভোর হয়ে সোনালী এক স্বপ্ন দেখে ।

এ স্বপ্নের কেবল শুরু ছিল। শেষ ছিল না । এটি জাতির হাজার বছর জেগে দেখা এক মধুর স্বপ্ন । ভারতের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ও বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী এ,পি,জে আব্দুল কালামের সে স্বপ্নের মতো- ‘স্বপ্ন তাই নয়, যা মানুষ ঘুমিয়ে দেখে। স্বপ্ন তা-ই , যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না ।’

বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) ময়দানে সেদিন আমাদের নতুন করে দু’টি স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন । একটি স্বাধীনতার স্বপ্ন, অন্যটি মুক্তির । প্রথমটি অর্জন যতটুকু সহজ ছিল দ্বিতীয়টি ততটুকু ছিল না । আজও নয় । প্রথমটির তাগিদ তাৎক্ষনিক ছিল । প্রথম স্বপ্নটি সার্থক ও সফল করতে দ্বিতীয়টি অপরিহার্য ছিলো । আজও তাই আছে । রাজনীতির মহান দার্শনিক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মাত্র ন’ মাসে বাঙ্গালি প্রথম কঠিন স্বপ্নটি বাস্তবে রুপায়ন করতে পারলেও বহু বছর আমাদের দ্বিতীয় স্বপ্নটি অধরা থেকেছে ।

বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যমন্ডিত ভাষণটি বিশ্বের এক সেরা ভাষণ। কেবল বাঙালি নয়, গোটা বিশ্ববাসীর জন্য অনন্য এক দিক নির্দেশনা স্বরুপ। স্বাধীনতা ও মুক্তির যোগসুত্র খুঁজে পাবার মহান এক রাজনৈতিক মতাদর্শ। এ মতাদর্শটি বঙ্গবন্ধুকে এরিস্টটল, প্লেটো, অধ্যাপক গার্ণার প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মর্যাদায় সেদিন নিয়ে যায়।

আমাদের দুর্ভাগ্য যে, এ মহান রাজনীতিবিদ দার্শনিককে আমরাই হত্যা করি । সে সাথে তার দ্বিতীয় স্বপ্নটি ও ।

মার্চ আমাদের অস্তিত্বের একান্ত আপন একটি মাস । সাত মার্চ, সতের মার্চ, পঁচিশ মার্চ, ছাব্বিশ মার্চ-মার্চের প্রতিটি দিন যেন একেকটি স্ফুলিঙ্গ । মার্চ স্বাধীনতার মাস । আমাদের জাতীয়তাবাদের আসল ঠিকানা।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে আমাদের মুক্তির স্বপ্নটি ধুলিস্যাত করে দেয়া হয় । ভাগ্যিস, বেঁচে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা । আমাদের আজকের প্রধানমন্ত্রি । গণতন্ত্রের এ মানসকন্যা বেঁচে আছেন বলে বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় সংগ্রামটি পুনর্বার শুরু করা গেছে। জঞ্জাল সাফ করতে করতে তারও অনেক বেলা বয়ে গেছে । এ দেশে আজও হাজার হাজার মানুষ ফুটপাতে এক খন্ড ইটের উপর মাথা বিছিয়ে ঘুমোয় । রেলস্টেশনে ছিন্নমুল মানুষের চেহারাগুলো যে কোন মানুষকে ব্যথিত করে । ন্যূনতম জীবন মান নেই তাদের । প্রায় একই সময়ে স্বাধীনতা অর্জন করে সিঙ্গাপুর এখন আমাদের পঞ্চাশ বছর পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে । আমাদের স্বাধীনতার পঁয়তাল্লিশটি বছর হেলায় হেলায় কেটে গেছে । এখন বঙ্গবন্ধুর সাহসী কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির সংগ্রামটি এগিয়ে যাক- আজকের স্বাধীনতা দিবসে এ অঙ্গিকার হউক আমাদের সবার ।

মুজম্মিল আলী: অধ্যক্ষ, চরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, কানাইঘাট, সিলেট

লেখক মেলা  এর অন্যান্য লিখাঃ

21 October 2017  অংকে আমি কাঁচা

20 October 2017  প্রিয়তমা

20 October 2017  আমার মা

12 October 2017  পরপারে তুমি উত্তীর্ণ হও

10 October 2017  কেন তুমি চলে গেলে


Free Online Accounts Software