18 Dec 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সুনামগঞ্জ 3 June 2017 সমসাময়ীক লেখা  (পঠিত : 986) 

অকালবন্যা ও জলাবদ্ধতায় নাইন্দার হাওরের ফসল রক্ষার্থে দুটি পদক্ষেপ জরুরী

অকালবন্যা ও জলাবদ্ধতায় নাইন্দার হাওরের
ফসল রক্ষার্থে দুটি পদক্ষেপ জরুরী
     

আব্দুল হামিদ:

সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার বৃহত্তম একটি ইউনিয়নের নাম নোয়ারাই ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নেই জন্ম নেন আধ্যাতিœক জগতের নক্ষত্র, জ্ঞানের সাগর কবি দূর্বিণ শাহ, শাহ রমিজসহ অনেক সূফী-সাধক। ইউনিয়নটির দক্ষিণ পার্শে বহমান দেশের নদীকুলের মাতা- সুরমা নদী । ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার অর্ধশত গ্রাম বেষ্টিত বিশাল এলাকা নিয়েই নাইন্দার হাওরের অবস্থান। সিলেট অঞ্চলের মাঝারী-বড় হাওরগুলোর সাথে নাইন্দার হাওরের নামটিও পরিচিত। হাওরের চতুর্পারে রয়েছে ছাতক শহরের নোয়ারাইসহ একাধিক এলাকা এবং নোয়ারাই ও দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের অর্ধশত গ্রাম। ছাতক পৌরসভা সৃষ্টি হলে দ্বি-খন্ডিত হয়ে যায় নোয়ারাই ইউনিয়ন। প্রাক্তন ইউনিয়নে গড়ে ঊঠেছিল দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় সিমেন্ট উৎপাদন প্রতিষ্ঠান ছাতক সিমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড। পরবর্তীতে পৌরসভার অংশে প্রতিষ্টিত হয় এশিয়ার বৃহত্তর সিমেন্ট কারখানা লাফার্জ-সুরমা সিমেন্ট। কিন্তু নিজ
ইউনিয়নে অবস্থিত হলেও কখনো ছাতক সিমেন্ট কোম্পানীর সিমেন্ট’র ছোঁয়া লাগেনি এলাকায়। আদিকাল থেকে বঞ্চিত যোগাযোগ ব্যবস্থায় সম্প্রতি অনেকটাই ঘটছে উন্নতি। সময়োপযোগী পরিকল্পার অভাবে প্রতি বছর বিশাল নাইন্দার হাওরপারের ফসলহারা মানুষের ফসল রÿায় কাজে আসছেনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্বল্পকালীন ফসল রক্ষা বাঁধ। সেজন্যে নি¤েœাক্ত দু’টি পদক্ষেপ নিলেই লাগব হবে নাইন্দার হাওরের ফসলহানীর।

প্রথম কারণঃ- হাওরের দক্ষিণ পার্শে সুরমা নদীর সাথে সংযোগ খালের নাম লক্ষীভাউর খাল। পাহাড়িয়া ঢলে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে লক্ষীভাউর খাল দিয়ে হাওরে পানি ঢুকে বোরো ফসল সম্পুর্ণ নষ্ঠ হয়ে যায়। তাই প্রতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে লক্ষ-লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়ে স্বল্পকালীণ মাটির বাঁধ নির্মাণ করেও রক্ষা করা যাচ্ছেনা হাওরের ফসল।
দ্বিতীয় কারণঃÑ পানি নীচের দিকে সব সময় প্রবাহমাণ তা চিরন্তন সত্য। প্রাকৃতিকগত কারণেই হাওরগুলোর অবস্থান সব সময় নীচু ভ’মি।আর নাইন্দার হাওরের উজানে রয়েছে উচু এলাকা। অতি বৃষ্টিজনিত কারণে বৃষ্টির সমগ্র পানি নীচের দিকে গড়ায়। দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের উচু এলাকার বৃষ্টির পানি খুদখাল হয়ে নোয়ারাই ইউনিয়নের ছনখাইড়, কুরিয়াখাল হয়ে মাগুরা গাং দিয়ে নাইন্দার হাওরের গোয়ালকই অংশে জমা হয়ে সমগ্র হাওর পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। ঘোলাদাইড়, তেলিখাল হয়ে হয়ে অতিবৃষ্টির পানি নাইন্দার হাওরে জমা হয়। ইহাতে নাইন্দার হাওরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এবং বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে সম্পুর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এ জলাবদ্ধতা নিস্কাশনের একমাত্র অবলম্বন লক্ষীভাউর খাল। কিন্তু এসময় লক্ষীভাউর খালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত স্বল্পকালীন ফসলরক্ষা বাঁধ থাকায় জলাবদ্ধতায় সৃষ্ট পানি নদীতে নিস্কাশন হতে পারেনা। জলাবদ্ধতায় ক্ষয়-ক্ষতি রোধে হাওরের ফসল রক্ষার্থে উপরোক্ত চিহ্নিত এ দু’টির সমাধান করতে যা প্রয়োজনঃ- নাইন্দার হাওর পাড়ের ফসলহারা মানুষের কান্না নিবারণে “হাওর উন্নয়ন মহাপরিকল্পনায়” অন্তর্ভুক্ত করে ঘোলাদাইড়, তেলিখাল ও মাগুরা গাঙ্গের নাইন্দার হাওরের প্রবেশ মূখ হইতে বাঁধ দিয়ে খাল খনন করে সাহেবখালের সাথে সংযোগ করে দিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি অতি বৃষ্টিজনিত পানি হাওরে প্রবেশ না করে সুরমা নদীতে প্রবাহিত হবে। পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি হলেও সাহেবখাল দিয়ে সুরমা নদীর পানি আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে নাইন্দার হাওরে প্রবেশ করে। এই সময়ের অনেক আগেই শেষ হয়ে যায় বোরো ধান কাঁটার মৌসুম।
লক্ষীভাউর খালে প্রতি বছর রক্ষ-লক্ষ টাকা খরছ করে মাটির বাঁধ না দিয়ে সুইস গেইট নির্মাণ করলে সুরমা নদীর পানি নাইন্দার হাওরে প্রবেশ করবেনা এবং প্রয়োজন মূহুর্তে হাওরের জলাবদ্ধ পানি ব্যবস্থা হবে টেকসই। ফলে নাইন্দার হাওরপারের মানুষের সম্ভবপর হবে অকালবন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে নাইন্দার হাওর ফসল রক্ষা । উপকৃত হবেন ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার নাইন্দার হাওরপারের
কৃষকগণ।


লেখক- উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা
উপজেলা কৃষি অফিস
ছাতক, সুনামগঞ্জ
মোবাইল ০১৭৪০৮৪২৪১২


Free Online Accounts Software