23 Jun 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 16 May 2017 সাক্ষাৎকার  (পঠিত : 1429) 

প্রতিকুলতাকে জয় করেছেন যে লেখিকা

প্রতিকুলতাকে জয় করেছেন যে লেখিকা
     

তাসলিমা খানম বীথি: ‘পৃথিবীর মানবজাতিকে ছয় ভাগে ভাগ করলে যা দাঁড়ায়, তা হচ্ছে- মানুষ, ভালো মানুষ, অতিমানুষ বা মহামানব, অর্ধমানুষ, অমানুষ ও নামানুষ। আমি আমার ‘নামানুষ’ উপন্যাসটি সাজিয়েছি অর্ধমানুষ, মহামানুষ এবং নামানুষদের নিয়ে।

‘নামানুষ’ হচ্ছে অতি পিশাচ টাইপ অথচ মানুষ বা মহামানব এক বিশুদ্ধ শক্তি আর অর্ধমানুষ লিঙ্গবিহীন এক বিচ্ছিন্ন প্রজাতি। এই তিন মহাজাগতিক ট্রাভেলারদের নিয়ে উপন্যাস ‘নামানুষ’ লজিক এক এন্টিলজিকের খেলা।’ নিজের লেখা ‘নামানুষ’ উপন্যাস সর্ম্পকে কথাগুলো বলছিলেন লেখক মমতাজ খান।

পহেলা বৈশাখের এক ভোরবেলা ১৪৬৯ বাংলা দিনটি ছিলো সোমবার, সেই দিনটিতে চুনারুঘাট উপজেলার মুছাকান্দি গ্রামে, নানাবাড়িতে জন্ম গ্রহন করেন আশির দশকের লেখিকা মমতাজ খান। সেটি ছিলো তরফ অঞ্চলের (দুআলি) জমিদার তরফদার বাড়ি। তার বাবা বক্তে নূর খান, হবিগঞ্জ জেলার পৈল গ্রামের খান সাহেব বাড়ির কট্টর রক্ষণশীল এক ব্যক্তি ছিলেন। মা আজমিনা তরফদার। তার মাও একজন শিক্ষিত এবং রুচিশীল নারী ছিলেন। মমতাজ খানের মায়েরও লেখালেখির অভ্যাস ছিলো। তার মৃত্যুর পর তার লেখা অনেক গল্প কবিতা পাওয়া গেলেও তা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

লেখক মমতাজ খানের বয়স যখন নয় বছর, তখন তার মা মারা যান। ভাইবোন কেউ ছিলো না বলে নি:সঙ্গ অবস্থায় বেড়ে ওঠেন তিনি। পৈল তাদের গ্রামের বাড়ি হলেও বাসা ছিলো হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজার রোডে। তার লেখাপড়া বেড়ে ওঠা হবিগঞ্জ শহরেই। ১৯৭৭ সালে এসএসসি এবং বৃন্দাবন কলেজ থেকে ইন্টার পাশ করে ঢাকায় এসে বিএ দেন। প্রবাসী মোহাম্মদ আলী তালুকদারের সাথে তার বিয়ে হয়। তার স্বামী প্রবাস থেকে ফিরে আসার পর তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি সন্তানদেরকে নিয়ে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

লেখক মমতাজ খান অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজো লিখে চলেছেন মনের আনন্দে। ছাত্র জীবন থেকে লেখালেখি করলেও বিয়ের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। বছর খানেক পর আবার তিনি লেখালেখি শুরু করেন। লেখালেখির বিষয়টি স্বামীর বাড়ির কেউ পছন্দ করতো না বলে লুকিয়ে লুকিয়ে লেখতেন তিনি। পরবর্তীতে তার চুপিচুপি লেখাগুলো আবার সেই ডাকযোগে পাঠাতেন ছোট দেবরের সাহায্যে। বাড়ির সবাই যখন ঘুমের রাজ্যে চলে যেতেন তখন তিনি বসতেন খাতা কলম নিয়ে। তার সেইসব লেখা ছাপা হত সাপ্তাহিক মলিøকা ‘আনন্দ’ বিচিত্রা ইত্যাদি পত্রিকায়। ঢাকায় আসার পর দৈনিক পরিক্রমা, দৈনিক খবর, দৈনিক জনতা, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক জনকন্ঠ, দৈনিক দিনকাল, দৈনিক নয়াদিগন্তসহ অনেক পত্রিকায় নিয়মিত বের হতে থাকে তার লেখা গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ ও উপন্যাস। নিঃসঙ্গতাই লেখক মমতাজ খানকে লেখালেখির প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে।
লেখক মমতাজ খান বৃহত্তর সিলেটের কৃতী সন্তান। কিন্তু সিলেট অঞ্চলের লেখকদের সাথে তার যোগযোগ খুবই কম। অনেকে তার লেখার সাথে পরিচিত হলেও ব্যক্তিগতভাবে পরিচয় কম। ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে দেশের প্রাচীনতম সাহিত্য প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় নবম কেমুসাস বইমেলা। সেই বইমেলায় তিনি তার প্রকাশনা সংস্থা ‘ইলমা’র একটি স্টল দেন। বইমেলা চলাকালে সংসদের বিভিন্ন কর্মসূচীতেও অংশ নেন। তখন সিলেটের প্রথম অনলাইন দৈনিক সিলেট এক্সপ্রেস ডট কম-এর পক্ষ থেকে লেখক মমতাজ খানের একটি সাক্ষাতকার গ্রহণ করা হয়। ৬ এপ্রিল ২০১৬, সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেন সিলেট এক্সপ্রেস-এর স্টাফ রিপোর্টার তাসলিমা খানম বীথি।

বীথি: কবে থেকে লেখালেখি শুরু করেছেন?
মমতাজ খান: অষ্টম শ্রেণী থেকে আমার লেখালেখি শুরু হয়েছে।

বীথি: প্রথম লেখাটি কী ছিলো এবং সেই লেখাটি কোথায় প্রকাশিত হয়?
মমতাজ খান: প্রথম লেখা ছাপা হয় ঢাকার একটি কিশোর পত্রিকা ‘নবারুনে’। কবিতার নাম ছিলো ‘এগিয়ে চল’, সম্পাদকের নাম কে জি মোস্তফা। এরপর আমার লেখা প্রায় নিয়মিতভাবে মাসিক নবারুন এবং পূর্বাচল পত্রিকায় ছাপা হত।

বীথি: লেখালেখির ক্ষেত্রে কাদের উৎসাহ বেশি পেয়েছেন?
মমতাজ খান: লেখালেখির ক্ষেত্রে প্রথম জীবনে কারো সহযোগিতা অথবা উৎসাহ পাইনি, অনেক ক্ষেত্রে পেয়েছি কটুক্তি। আমার একমাত্র ছেলে লেখালেখির ব্যাপারে উৎসাহ দিয়ে আসছে। উৎসাহ প্রদানের ক্ষেত্রে তারপর যুক্ত হলো ছেলের প্রাইভেট টিচার আব্দুল্লাহ আল মাসুম। সে আমার বহু লেখা অনেক পত্রিকায় পৌছে দিয়েছে। তার উৎসাহ এবং সহযোগিতায় আমার প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নীল কলংক’ প্রকাশিত হয় ঢাকার বাড পাবলিকেশন থেকে ১৯৯৬সালে। পরের বছর ১৯৯৭ সালে ‘নীড় ভাঙ্গা ঝড়’ নামের একটি উপন্যাস একই প্রকাশনী থেকে বের হয়। এরপর বিভিন্ন প্রকাশকের চাহিদাতেই বিভিন্ন বই প্রকাশিত হতে থাকে। যেমন শোভা প্রকাশ থেকে ‘নীল পরী’, ঐশী প্রকাশ থেকে ‘সবুজ পরীর দেশে’, জ্ঞান বিতরণী থেকে ‘ছোটদের স্বপ্নের নায়ক নবাব সিরাজদৌলা’, মঙ্গল গ্রহের গোয়েন্দা’ ‘নষ্ট নারী’, সাহিত্য মালা থেকে ‘দীপ নেভা রাতে’, বঙ্গজ পাবলিকেশন্স থেকে ‘ফুল কন্যা’, শিরিন পাবলিকেশন্স থেকে ‘তুমি এমন কিছু বলনা’। বর্তমানে আমার নিজের প্রকাশনী ইলমা পাবলিকেশন্স থেকে অনেক বই প্রকাশিত হচ্ছে।

বীথি: এপর্যন্ত আপনার কতগুলো বই বের হয়েছে? বইগুলো নাম কী?
মমতাজ খান: এপর্যন্ত আমার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা পয়ত্রিশটি। এছাড়া প্রকাশের অপেÿায় রয়েছে দশটি বই। প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে উপন্যাসÑনন্দিত নীল কলংক, সেই রাতে, নীড় ভাঙ্গ ঝড়, তুমি এমন কিছু বলনা, বিষন্ন জোছনায় তুমি, দীপ নিভা রাতে, নষ্ট নারী, চন্দ্রমুখী, একজন নাসীর আলী, ফুলকন্যা, নামানুষ। গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে সুরমা পাড়ের মেয়ে, গানের বই জানি একদিন চলে যাব, প্রবন্ধÑহাসন রাজার জীবনের গল্প, মহামানবদের গল্প, আলোকিত পৃথিবী চাই, কবিতার বই নষ্ট হওয়া কষ্টগুলো, হংস বালিকা, শিশুতোষগ্রন্থ হচ্ছেÑ ফুলে ফলে বাংলাদেশ, নীলপরী, পিংকু বিড়াল, একুশের বই মেলায় নীল পরী, সবুজপরীর দেশে, মঙ্গল গ্রহের গোয়েন্দা, ছোটদের স্বপ্নের নায়ক নবাব সিরাজ দৌলা, ছোটদের বিশ্বনবী, ভুতের নাম গঙ্গা রাম, রাক্ষুসী রাণী, ভয়ংকর পেতিœ, পাতালপুরীর রাজকন্যা, রাতের ট্রেনে, ফুল পাখি এবং ঝিনুক মালা, দৈত্য এবং রাজকুমার, পাখির নাম হীরামন। প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে নারী বিগ্রহ, গহীনের নারী, ইসলাম এবং নারী (প্রবন্ধ), কাজল কুয়াশার রাত (কবিতা), উপন্যাস সমগ্র, প্রেম মানে মানসিক রোগ (উপন্যাস), কবিতা সমগ্র, সময় বড় দু:সময় (ছড়া), তুলি ভীষণ ভাল মেয়ে, রাজকন্যার টিয়া পাখি (শিশুতোষ)।

বীথি: ‘নামানুষ’ উপন্যাসে আপনি ‘নামানুষ’ বলতে কী বুঝিয়েছেন?
মমতাজ খান: ‘নামানুষ’ মানে যে মানুষের তালিকার মধ্যেই পড়েনা। খারাপ মানুষ এক সময় ভালো হয় কিন্তু ‘নামানুষের’ কোন পরিবর্তন নেই। ইলমা পাবলিকেন্স-এর বিক্রয় তালিকার শীর্ষে ছিলো ‘নামানুষ’।

বীথি: ‘নামানুষ’ নামটি বাছাই করার কারণ কী?
মমতাজ খান: ‘না’ একটি কঠিন শব্দ, তেমনি নামানুষ অপরিবর্তনশীল চুড়ান্ত খারাপকেই কেবল না বলা যায়।

বীথি: আপনার লেখার মধ্যে এমন কোন চরিত্র আছে যা পাঠকের মনে দাগ কেটেছে?
মমতাজ খান: পাঠকের মনে দাগ কাটার মতো একটি চরিত্র মজনু, অতিমানব চরিত্র। এই চরিত্রটি চন্দ্রমুখীতে ছিলো, নাসির আলী উপন্যাসে ছিলো, নামানুষে ছিলো। আমি তার পুর্ণাঙ্গ রূপ দিয়েছি। মজনু পাঠকের মনে দাগ কেটেছে, আমি যতদিন বেঁচে থাকব মজনু থাকবে।

বীথি: কাদের লেখা পড়ে বা কোন লেখকের লেখা পড়ে আপনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন লেখালেখির ক্ষেত্রে?
মমতাজ খান: আমার প্রিয় লেখক শরৎচন্দ্র, নিহার রঞ্জন গুপ্ত এবং হুমায়ুন আহমেদ। আমি তাদের লেখা পড়ে সবসময় অনুপ্রাণিত হই। রবীন্দ্রনাথ এবং কাজী নজরুল ইসলাম আমাকে আন্দোলিত করেন, আলোড়িত করেন।

বীথি: শৈশবের যে দুরন্তপনা স্মৃতি আপনাকে তাড়িয়ে বেড়ায়?
মমতাজ খান: শৈশবের অনেক স্মৃতি যা লেখতে গেলে একটা বই হয়ে যাবে। নানাবাড়ির স্মৃতিই বেশী। পুকুরে ঝাপাঝাপি বড়শি দিয়ে মাছধরার স্মৃতি এখনও খুব উজ্জ্বল। তবে আমি দুরন্ত ছিলাম না। ছোট বেলা থেকেই খুব শান্ত প্রকৃতির। জন্ম হয়েছিলো নানা বাড়িতেই, পহেলা বৈশাখের প্রচন্ড এক ঝড়ের মধ্যে ভোরবেলা। তাই বোধ হয় জীবনে অনেক ঝড় অতিক্রম করতে হয়েছে।

বীথি: সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে অনলাইন পত্রিকা কতটুকু ভূমিকা রাখছে বলে আপনি মনে করেন?
মমতাজ খান : প্রচারের ক্ষেত্রে অনলাইনের ভুমিকা যথেষ্ট, তবে সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে নয়।

বীথি: বিশ্বমানের লেখক হতে হলে তরুণ লেখকদের কী ধরনের বই পড়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
মমতাজ খান: অশ্লীলতা বর্জিত সবধরনের বই পড়া উচিত। ভাল লেখতে হলে প্রচুর পড়তে হবে। জানতে হবে বা¯তবতাকে। উপলব্দি করতে হবে মানুষের সুখ দু:খ যন্ত্রণা। তা নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে।

বীথি: আপনার লেখার মাধ্যমে পাঠকদের কাছে কী মেসেজ পৌছাতে চেয়েছেন?
মমতাজ খান: পাঠকের কাছে সত্যিকার মানুষ হবার বার্তা পৌছে দিতে চাই। আমার বই থেকে একজন পাঠক যেন মানবিক মুল্যবোধ শিখতে পারে। মুক্ত চিন্তায় উপনীত হতে পারে।

বীথি: প্রথম লেখার অনুভূতি কেমন ছিলো?
মমতাজ খান: প্রথম লেখা অনুভুতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

বীথি: অবসরে কী করেন?
মমতাজ খান: অবসরে লেখি, গান শুনি, বইপড়ি।

বীথি: জীবনে কী হতে চেয়েছিলেন?
মমতাজ খান: ডাক্তার হতে চেয়েছিলাম, হয়েছি লেখক। এটাও মন্দ না, ভালই লাগে।

বীথি: লেখালেখির জন্য কোন সময়টা বেছে নেন? লেখালেখি ছাড়া আর কী করেন? বর্তমান সময় কী নিয়ে ব্য¯Í রয়েছেন?
মমতাজ খান: একসময় রাতে প্রচুর লেখতাম। রাত শেষ হয়ে যেত তবু লেখতাম। এখন পারিনা। ফজরের নামাজ পড়ে লেখতে বসি। যতক্ষণ ভাল লাগে লেখি। সমাজের প্রতি মানুষের কিছু দায়বদ্ধতা থাকে। আমারও আছে। বহু সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। নিজেরও একটা সংগঠন ছিলো ‘মমতাময়ী সেবা সংঘ’ নামে একসময় বিরামহীন কাজ করেছি, এখন এতটা সম্ভব হয়না। স্বামী মারা গেছেন নয় বছর হলো, সংসারও আছে। একটাই ছেলে, ছেলের বৌ, একটা নাতি, মেয়ের দিকের নাতিরা আসে, তাদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। তাছাড়া প্রকাশনীর কিছু কাজকর্ম করি আর লেখালেখিতো আছেই।

বীথি: কার আর্দশে অনুপানিত হন?
মমতাজ খান: মা বাবা দুজনের আদর্শেই।

বীথি: একজন লেখক হিসেবে নিজেকে কতটুকু সফল ভাবেন?
মমতাজ খান: একজন পাঠক যখন বলে, আমার লেখা তার ভীষণ ভাল লাগে কিংবা আমার উপন্যাসের ঐ অংশটুকু তাকে দারুণভাবে নাড়া দিয়েছে নিজেকে সফল মনে হয়। এবারের একুশে মেলা চলার সময় একজন পাঠক আমাকে ফোন করে বললেন, আমার ‘সেই রাতে’ উপন্যাসটা তার জীবনের সাথে মিলে গেছে। উপন্যাসটা তার এতো ভাল লেগেছে যে, সে একটিবার আমাকে দেখতে চায়। আমার কোন বইয়ে আমার ছবি নেই কেনো, এটা তার দু:খ। আরেকবার এক মেয়ে আমাকে ফোন করে বলল, ‘তুমি এমন কিছু বলনা’ বইটা পড়ে তার সংসারটা টিকে গেছে তার স্বামীকে ডিভোর্স দিতে গিয়েও দেয়নি। আরেক পাঠক একদিন ফোন করে বলল, আপনার ‘নীড় ভাঙ্গা ঝড়’ বইটার প্রতিরাতে অন্তত একটা পাতা না পড়লে আমার ঘুম হয়না বইটা আমার এতো প্রিয়। এসব কথা যখন পাঠকদের কাছ থেকে শুনি তখন মনে হয় একজন মানুষের জীবনে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে।

বীথি: এ পর্যন্ত কী কী পুরস্কার পেয়েছেন?
মমতাজ খান: ছোট ছোট কয়েকটা পুরস্কার পেয়েছি, বলার মতো তেমন কিছু না তবুও বলছি। বিপিন পলি স্মৃতি পুরস্কার। ‘নীড় ভাঙ্গা ঝড়’ উপন্যাসের জন্য নজরুল সাহিত্য পুরষ্কার, ‘চন্দ্রমুখী’ উপন্যাসের জন্য লীলা ললিত কলা স্মৃতি পদক, জেনেসিস সাহিত্য পদক ইত্যাদি।

বীথি: ভালো লেখক হতে হলে কী গুণ থাকতে হবে?
মমতাজ খান: একজন ভাল লেখকের সবচেয়ে বড় গুণ, সত্যবাদিতা, সততা, সৎ সাহস, সুন্দর ইচ্ছাশক্তি এবং মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকতে হবে।

বীথি: ইলমা পাবলিকেশন এটি আপনার নিজস্ব প্রকাশনী? প্রকাশনায় কীভাবে আসলেন?
মমতাজ খান: লেখালেখি করতে গিয়ে বই বের করতে গিয়ে প্রকাশদের কাছে আমি উপযুক্ত মূল্যায়ন পাইনি। প্রত্যেকটি লেখার রয়েলিটি পাবার কথা, কিন্তুু সেখানে রয়েলিটি দেয় না। আমরা মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে লেখালেখি করি কিন্তুু সেখানে বই প্রকাশকরা প্রাপ্য মূল্যায়ন করে না। তখন আমি ভাবলাম আমার মত যারা নারী, যারা লেখালেখি করে তাদের কথা ভেবে আমি ইলমা প্রকাশনা শুরু করি।

বীথি: আপনার প্রকাশনা থেকে কতগুলো বই বের হয়েছে?
মমতাজ খান: এই পর্যন্ত ৭৫ টি বের হয়েছে।

বীথি: নারী প্রকাশক হিসেবে নিজেকে কতটুকু সফল মনে করছেন?
মমতাজ খান: প্রকাশক হিসেবে নারী লেখকদের জন্য আমি কিছু করতে পারবো মনে হয়। প্রকাশকের কাছে গিয়ে তারা উপযুক্ত মূল্য পায় না। আমি যদি তাদের জন্য কিছু করতে পারি তাহলে নিজেকে সফল মনে হবে।

বীথি: মুক্তিযুদ্ধ কোন স্মৃতি আছে কী?
মমতাজ খান: মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স মাত্র নয় বছর। তখন মা মারা গেছেন। শুধু কষ্ট আর কষ্ট। তেমন কোন স্মৃতি নেই।

বীথি: বাংলাদেশ নিয়ে আপনার ভাবনার কথা বলেন?
মমতাজ খান: বাংলাদেশ একদিন পাপমুক্ত হবে। গুম খুনের রাজনীতি বন্ধ হবে। কথায় নয়, এ দেশ কাজে বড় হবে। সাত খুন এবং সাগর রুনীর মতো হত্যার ন্যায় বিচার হবে। এই স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে আছি।

বীথি: লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত চিন্তাভাবনা কী?
মমতাজ খান: জীবনের শেষদিন পর্যšত যেনো লিখে যেতে পারি মানুষকে যেনো ভালো কিছু দিতে পারি। আমার বই পড়ে পাঠক আত্মশুদ্ধ হবে। কিছু শিখতে পারবে এটাই আমার চিšতা ভাবনা এবং প্রত্যাশা।

বীথি: আপনাকে সিলেট এক্সপ্রেসের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ?
মমতাজ খান: আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

|

   অন্য পত্রিকার সংবাদ  অভিজ্ঞতা  আইন-অপরাধ  আত্মজীবনি  আলোকিত মুখ  ইসলাম ও জীবন  ঈদ কেনাকাটা  উপন্যাস  এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল  কবিতা  খেলাধুলা  গল্প  ছড়া  দিবস  দূর্ঘটনা  নির্বাচন  প্রকৃতি পরিবেশ  প্রবাস  প্রশাসন  বিবিধ  বিশ্ববিদ্যালয়  ব্যক্তিত্ব  ব্যবসা-বাণিজ্য  মনের জানালা  মিডিয়া ওয়াচ  মুক্তিযুদ্ধ  যে কথা হয়নি বলা  রাজনীতি  শিক্ষা  সমসাময়ীক বিষয়  সমসাময়ীক লেখা  সমৃদ্ধ বাংলাদেশ  সাইক্লিং  সাক্ষাৎকার  সাফল্য  সার্ভিস ক্লাব  সাহিত্য-সংস্কৃতি  সিটি কর্পোরেশন  স্বাস্থ্য  স্মৃতি  হ য ব র ল  হরতাল-অবরোধ