21 Nov 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 10 May 2017 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 975) 

সিলেটে বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদ্যাপিত বিশ^ শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা

সিলেটে বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদ্যাপিত
বিশ^ শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা
     



সিলেট বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বিদের প্রধান উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা উদ্যাপিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় সিলেটের আখালিয়া নয়াবাজার ব্রাÿণশাসন বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বিশ্ব শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা, ভিÿু পিন্ডদান, মধ্যাহ্ন ভোজ, আলোচনা সভা ও প্রদীপ প্রজ্জলনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুর আড়াই টায় বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলÿে আয়োজিত অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিÿু মহাসভার সাংগঠনিক সম্পাদক পরমানন্দ মহাথের। প্রধান অতিথির হিসেবে ধর্মীয় আলোনা করেন বাংলাদেশ ভিÿু মহাসভার সহকারি মহাসচিব ও অগ্রসর মেমোরিয়াল সোসাইটির অব বাংলাদেশের মহাসচিব সুমিত্তানন্দ থের।
সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সিলেট বৌদ্ধ সমিতির সভাপতি জ্যেতি মিত্র বড়–য়া মিটুল, আহবায়কের বক্তব্য রাখেন বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন কমিটির আহবায়ক অমৃত চাকমা। অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) সুজ্ঞান চাকমা, আজমিরিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা, সিলেট বৌদ্ধ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিকাশ চাকমা, বাংলাদেশ বুড্ডিষ্ট মং সোসাইটির সভাপতি ধর্মপ্রিয় থের, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিÿু মহাসভার সহ-সভাপতি সিলেট বৌদ্ধ বিহারের অধ্যাÿ সংঘানন্দ থের, বাংলাদেশ বুড্ডিষ্ট মং সোসাইটির সহ-সম্পাদক দেব বংশ থের, সিলেট বৌদ্ধ বিহারের আনন্দ ভিÿু। পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন সিলেট বৌদ্ধ সমিতির উপদেষ্টা রামেন্দ্র বড়–য়া। উপস্থিত ছিলেন, উদযাপন কমিটির আহবায়ক অমৃত চাকমা, যুগ্ম আহবায় দেবু বড়–য়া, সদস্য সচিব পাপ্পু বড়–য়া।
বক্তারা বলেন, গৌতম বুদ্ধ বিশ্বের মানুষের দুঃখ-বেদনাকে নিজের দুঃখ বলে হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেন। মানব জীবনের দুঃখ তার দৃষ্টগোচর হলে তিনি সম্পদ, ঐশ্বর্য তথা সংসার জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন এবং জন্ম, জরা, ব্যাধি ও মৃত্যু এ চারটির কারণ উদঘাটন এবং মানুষের শান্তি ও মুক্তির লক্ষ্যে নিমগ্ন হন। বৌদ্ধ ধর্ম কর্মবাদী ধর্ম। এতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক মানুষ তার কাজ অনুসারে ফল পাবে। প্রকৃত কর্মসাধনার মধ্য দিয়ে প্রত্যেক মানুষের পক্ষে বুদ্ধত্ব অর্জন ও নির্বাণ লাভ সম্ভব। মহামতি বুদ্ধ মানুষকে মৈত্রী ভাবনায় ভাবিত হতে বলেছেন, পরের দুঃখে দুঃখী হয়ে, অপরের সুখে সুখী হয়ে উপেক্ষার মনোভাব নিয়ে জীবনযাপনের উপদেশ দিয়েছেন। বিশ্বচরাচরে সকল সত্তা যেন সুখী হয়, এটাই ছিল বুদ্ধের ঐকান্তিক কামনা। বুদ্ধ তার শিক্ষা ও আদর্শ বিস্তারের জন্য গড়ে তুলেছিলেন ‘ভিÿু সংঘ’।
প্রায় আড়াই হাজার আগে বর্তমান নেপালের অন্তর্গত কপিলাবস্তু রাজ্যের শাক্যবংশীয় রাজা শুদ্ধধনের ঔরসে রানী মায়াদেবীর গর্ভে লুম্বিনী কাননে সিদ্ধার্থ গৌতমের জন্ম হয়। রাজপুত্র সিদ্ধার্থ মানুষের দুঃখে বেদনার্ত হয়ে মুক্তির উপায় খুঁজতে রাজ প্রাসাদ ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন সত্যের সন্ধানে। বিভিন্নস্থানে পরিভ্রমণের পর অবশেষে তৎকালীন উপমহাদেশের বিহার রাজ্যের গয়ার ফলগু নদীর তীরে অশ্বত্থ গাছের নিচে বজ্রাসনে বসে কঠোর সাধনায় লাভ করেন বুদ্ধত্ব। বুদ্ধত্ব পরবর্তী দীর্ঘ ৪৫ বছর ধর্ম প্রচার করে কুশিনারা মলøদের শালবনে পরিনির্বাপিত হন। তার জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে হয়েছিল বলে বৈশাখী পূর্ণিমার অপর নাম দেয়া হয় ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’। বিজ্ঞপ্তি।

আরোও ছবি

সিলেটে বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদ্যাপিত
বিশ^ শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা
সিলেটে বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদ্যাপিত
বিশ^ শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা

Free Online Accounts Software