25 Jun 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 10 May 2017 আইন-অপরাধ  (পঠিত : 1361) 

ব্লগার অনন্ত হত্যা মামলা থেকে সাংবাদিক ইদ্রিসকে অব্যাহতি-সে যেভাবে গ্রেফতার হয়েছিলো

ব্লগার অনন্ত হত্যা মামলা থেকে সাংবাদিক ইদ্রিসকে অব্যাহতি-সে যেভাবে গ্রেফতার হয়েছিলো
     

ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলার চার্জশীট আদালতে গৃহীত হয়েছে। সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধা গত সোমবার ৬ আসামীর বিরুদ্ধে এ মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন। চার্জশিট থেকে ফটো সাংবাদিক ইদ্রিসসহ ১০ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ফটো সাংবাদিক ইদ্রিসকে যেভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিলো


জানতে চাইলে সাংবাদিক ইদ্রিছ আলী বলেন, ‘৭ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে আমাকে সেলফোনে কল করে দেখা করতে বলেন সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী। আমি নাইওরপুল পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করি। তিনি আমার কাছ থেকে জানতে চান পত্রিকায় প্রকাশিত ছবিটি কে তুলেছেন এবং একটি শার্ট দেখিয়ে বলেন, এটা কি তোমার শার্ট? মেডিকেল গিয়েছিলে? ঘটনার সময় কোন্ সময় গিয়েছিলে? আমি তাকে জানাই ঘটনার সময় আমি আমার বোনের বাড়িতে ছিলাম। খবর পেয়ে বেলা পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে যাই এবং দেরি হয়ে যাওয়ায় আর হাসপাতালে যাইনি বলে তাকে জানাই। এরপর তিনি বলেন, অন্য সাংবাদিকরা বলছে এই শার্ট তোমার। এভাবে আমাকে প্রায় দুই ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন তিনি। এরপর আমাকে তাদের গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যান। এরপর জানতে পারি আমাকে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলায় সন্দেহজনক ভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আমি এতে বিষ্মিত ও স্তম্ভিত হই। আমাকে পরের দিন সিলেটের আদালতে হাজির করা হলে আমি মাননীয় বিচারককে নির্বিঘেœ জানাই আমি নির্দোষ, এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা।’
ফটো সাংবাদিক ইদ্রিছ আলী'র জড়িত বিষয়টি নিয়ে। যোগাযোগ করা হলে সেসময় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ হেল বাকী বলেছিলেন, স্থানীয় একটি পত্রিকায় ব্লগার অনন্ত হত্যকান্ডের যে ছবি ছাপা হয়েছে সেটা ইদ্রিছ আলীর তোলা বলে স্থানীয় ভাবে জানা গেছে। এছাড়া স্থানীয়দের দেয়া কিছু তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের এক মাস সাতদিন আগেই তিনি বিয়ে করেছেন। এরইমধ্যে আটক হয় সিলেটের কানাইঘাট থেকে পূর্ব ফালজুর গ্রামের মান্নান ইয়াহিয়া ওরফে মান্নান রাহিকে। রিমান্ড শেষে আদালতে জবানবন্দিতে সে ঘটনার সাথে জড়িত বলে জানায় এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দেয়। এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এ ঘটনার সঙ্গে ইদ্রিছ আলীর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। দীর্ঘ ১৪৩ দিন কারাগারে থাকার পর সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর আলী মৃধার আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান ফটো সাংবাদিক ইদ্রিছ আলী। সবশেষে দীর্ঘ তদন্তের পর সিআইডি জানতে পারে ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ফলে প্রথম ও সম্পূরক অভিযোগপত্রে ইদ্রিছ আলীকে অব্যাহতি চেয়ে প্রতিবেদন দেয় সিআইডি, যা সোমবার আদালতে গৃহীত হয়।
ইদ্রিছ আলী বলেন, ‘আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ, যারা ন্যায়ের পক্ষে ছিলেন। আমি সিআইডি নয়, সেইসব দুস্কৃতিকারীদের বিচার চাই, যারা ভুল তথ্য দিয়ে আমাকে ফাঁসাতে চেয়েছিল। তাদের কারণে জীবন থেকে আমার ১৪৩ দিন বঞ্চিত হয়েছে। আমার কি অপরাধ ছিল, কেন আমি এ ষড়যন্ত্রের শিকার? আল্লাহ যাতে তাদের বিচার করেন।’


গত সোমবার আদালত আগামী ২৩ মে ব্লগার অনন্ত হত্যা মামলা চার্জ গঠনের তারিখ ধার্য্য করেন।

সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট মফুর আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চার্জশিটভুক্ত আসামীরা হচ্ছে-আবুল হোসেন(২৫), ফয়সাল আহমদ(২৭), মামুনুর রশীদ(২৫), মান্নান ইয়াইয়া ওরফে মান্নান রাহী ওরফে এবি মান্নান ইয়াইয়া ওরফে ইবনে মঈন(২৪), আবুল খায়ের রশীদ আহমদ(২৫), সাফিউর রহমান ফারাবী ওরফে ফারাবী সাফিউর রহমান (৩০)।

গত ১৮ জানুয়ারি অনন্ত বিজয় হত্যা মামলার সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডি’র অর্গানাইজড ক্রাইমের পরিদর্শক আরমান আলী। চার্জশিটের ওপর শুনানীশেষে আদালত গত সোমবার বিকালে তা গ্রহণ করেন।

২০১৫ সালের ১২ মে সিলেট নগরীর সুবিদবাজার নুরানী দীঘিরপারে নিজ বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় পূবালী ব্যাংক কর্মকর্তা ও মুক্তমনা লেখক অনন্ত বিজয় দাশকে। হত্যার একদিন পর তার বড় ভাই রতেœশ্বর দাস বাদী অজ্ঞাত চার আসামীর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি’র অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট।

|

   অন্য পত্রিকার সংবাদ  অভিজ্ঞতা  আইন-অপরাধ  আত্মজীবনি  আলোকিত মুখ  ইসলাম ও জীবন  ঈদ কেনাকাটা  উপন্যাস  এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল  কবিতা  খেলাধুলা  গল্প  ছড়া  দিবস  দূর্ঘটনা  নির্বাচন  প্রকৃতি পরিবেশ  প্রবাস  প্রশাসন  বিবিধ  বিশ্ববিদ্যালয়  ব্যক্তিত্ব  ব্যবসা-বাণিজ্য  মনের জানালা  মিডিয়া ওয়াচ  মুক্তিযুদ্ধ  যে কথা হয়নি বলা  রাজনীতি  শিক্ষা  সমসাময়ীক বিষয়  সমসাময়ীক লেখা  সমৃদ্ধ বাংলাদেশ  সাইক্লিং  সাক্ষাৎকার  সাফল্য  সার্ভিস ক্লাব  সাহিত্য-সংস্কৃতি  সিটি কর্পোরেশন  স্বাস্থ্য  স্মৃতি  হ য ব র ল  হরতাল-অবরোধ