16 Aug 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 16 February 2017 ব্যক্তিত্ব  (পঠিত : 1080) 

আজ বঙ্গবীর আতাউল গণি ওসমানীর মৃত্যু দিবস

আজ বঙ্গবীর আতাউল গণি ওসমানীর মৃত্যু দিবস
     

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: আজ ১৬ই ফেব্রুয়ারি। আমাদের জাতীয় জীবনে একটি শোকাবহ দিন। এই দিনটি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর আতাউল গণি ওসমানীর মৃত্যুদিবস। ১৯৮৫ সালের আজকের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ওসমানী ১৯১৮ সালের পয়লা সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দয়ামীর গ্রামে। একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে অপরিসীম কর্মে সাধনায় হয়ে ওঠেছেন মহীরূহ। তাঁর সমর নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালিত হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটে এই ক্ষণজন্মা ব্যক্তিটি ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। সব চেয়ে বড় কথা, তিনি একাত্তরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে জাতিকে উপহার দিয়েছেন হাজার বছরের প্রত্যাশিত নতুন ভূ-খন্ড স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। আজকের এই দিনে আমরা তার স্মৃতির প্রতি জানাচ্ছি গভীর শ্রদ্ধা।
এটাই স্বাভাবিক যে, মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণের পর তার কর্মই এক সময় তাকে বড় করে তুলে। বঙ্গবীর ওসমানী তাঁর কর্ম দিয়ে স্মরণীয় হন, বরণীয় হন। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ওসমানীর অবদানকে অস্বীকার করা মানে স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করা। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সামরিক নেতৃত্ব দেন। অসাধারণ বীরত্ব আর কৃতিত্ব প্রদর্শন করে তিনি পশ্চিমাদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেন। এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন আজীবন গণতন্ত্রী; সেই সঙ্গে ধার্মিকও। একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবে তাঁর ছিলো অনন্য সাধারণ পরিচিতি। তাঁর নামটি বাদ দিলে আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস রচনাই থেকে যাবে অসম্পূর্ণ। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হচ্ছে, বঙ্গবীর ওসমানীকে নানাভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে; দেশের জন্য তাঁর যে অবদান রয়েছে তা ধূলিস্যাৎ করার অপচেষ্টা অব্যাহত আছে।
মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী ১৯৩৯ সালে ভারতের মুসলিম আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় ব্রিটিশ-ভারত সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ মেজর হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। মাত্র ২৩ বছর বয়সে একটি ব্যাটালিয়নের প্রধান হয়ে তিনি গৌরবময় রেকর্ড অর্জন করেন। ওসমানী ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। তখন তিনি ল্যাফটেনেন্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠনে তিনি পালন করেন অগ্রণী ভূমিকা। তিনি কর্নেল পদে উন্নীত হন ১৯৫৭ সালে। আর অবসর গ্রহণ করেন ১৯৬৭ সালে। ওসমানী পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগদান করে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেন। সেই ধারাবাহিকতায় তাঁর ওপর অর্পিত হয় স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব। যুদ্ধ পরিচালনায় তিনি একজন সফল ও কৃতিত্বপূর্ণ সমরনায়কের পরিচয় দেন। মোট কথা, তাঁর সমস্ত জীবনই ছিলো সততা, নিষ্ঠা, ত্যাগ ও তিতিক্ষায় পূর্ণ উজ্জ্বল এবং সংগ্রামমুখর। কায়েমী স্বার্থবাদীদের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ছিলো সুস্পষ্ট। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন ভোগ বিলাস ও স্বার্থচিন্তা থেকে অনেক দূরে। তাই অকৃতদার ওসমানী তাঁর জীবদ্দশায়ই জীবন্ত কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছিলেন।
যাঁর অসাধারণ সমর নেতৃত্বে আমরা একটি পতাকা, একটি স্বাধীন ভূ-খন্ড লাভ করেছি; যিনি জাতির ক্রান্তিলগ্নে নি:স্বার্থ দেশপ্রমিকের ভূমিকা রেখেছেন, সেই মহান ব্যক্তিত্বকে আমরা কীভাবে মূল্যায়ন করছি? আমরা গভীর বেদনার সঙ্গে লক্ষ করছি যে, বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালনে বঙ্গবীর ওসমানীর নামটাও উচ্চারণ করতে অনেকে কুন্ঠিত হচ্ছেন। এদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যেমন চলছে ষড়যন্ত্র, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস রচনার ঘৃণিত অপচেষ্টাও থেমে থাকেনি। স্বাধীনতা যুদ্ধসহ অন্যান্য সময়ে জাতির ক্রান্তিকালে ওসমানীর অবিস্মরণীয় অবদানকে খাটো করার অপচেষ্টা চলছে। আমরা মনে করি, বঙ্গবীর ওসমানীকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে কিংবা সব ধরনের বিতর্ক থেকে উর্ধ্বে রাখা উচিত। রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হোক ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যু দিবস। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি। আমরা আজকের এই দিনে বঙ্গবীর ওসমানীর রূহের মাগফেরাত কামনা করছি।


   অন্য পত্রিকার সংবাদ  অভিজ্ঞতা  আইন-অপরাধ  আত্মজীবনি  আলোকিত মুখ  ইসলাম ও জীবন  ঈদ কেনাকাটা  উপন্যাস  এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল  কবিতা  খেলাধুলা  গল্প  ছড়া  দিবস  দূর্ঘটনা  নির্বাচন  প্রকৃতি পরিবেশ  প্রবাস  প্রশাসন  বিবিধ  বিশ্ববিদ্যালয়  ব্যক্তিত্ব  ব্যবসা-বাণিজ্য  মনের জানালা  মিডিয়া ওয়াচ  মুক্তিযুদ্ধ  যে কথা হয়নি বলা  রাজনীতি  শিক্ষা  সমসাময়ীক বিষয়  সমসাময়ীক লেখা  সমৃদ্ধ বাংলাদেশ  সাইক্লিং  সাক্ষাৎকার  সাফল্য  সার্ভিস ক্লাব  সাহিত্য-সংস্কৃতি  সিটি কর্পোরেশন  স্বাস্থ্য  স্মৃতি  হ য ব র ল  হরতাল-অবরোধ