17 Dec 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 16 January 2017 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 1181) 

আমরা যতবেশি শেকড়সন্ধানী হবো ততবেশি সমৃদ্ধ হবো


আমরা যতবেশি শেকড়সন্ধানী
 হবো ততবেশি সমৃদ্ধ হবো
     

মাহমুদ পারভেজ:
আমাদের শেকড় নিয়ে আমরা যতবেশি অনুসন্ধানী হবো ততবেশি সমৃদ্ধ হবো। নতুন লেখকদেরকে শেকড় সন্ধানী হতে হবে। লেখক আবু সুফিয়ান চৌধুরীর লেখায় শেকড়ের ঘ্রাণ পাওয়া যায়। সুদুর প্রবাসে থেকে তিনি এদেশের মানুষের কথা তার লেখার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। এর ফলে দেশী বিদেশী পাঠকদের মনের খোরাক তিনি জোগাতে পারবেন। কৈতর সিলেট-এর উদ্যোগে বিলেতের শেকড় সন্ধানী লেখক আবু সুফিয়ান চৌধুরীর ৩টি গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে বক্তারা একথা বলেন। গ্রন্থ তিনটি হচ্ছে স্মৃতিগ্রন্থ বাংলাঘর, কাব্যগ্রন্থ জীবনের পথে ঘাটে, ভিন্নধর্মী কলাম সংকলন অসমাপ্ত চিঠি।

গতকাল রোববার নগরীর দরগাহ গেইটস্থ দেশের অন্যতম সাহিত্য প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর কক্ষে এ প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়।

গল্পকার ও সংগঠক সেলিম আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ বশিরুদ্দিন, দৈনিক জালালাবাদ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আজিজুল হক মানিক, মদন মোহন কলেজের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান হোসনে আরা কামালী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী ইসমাঈল, বিশিষ্ট সমাজসেবী শিক্ষাবিদ আবু হুরায়রা সাদ মাস্টার।

গল্পকার তাসলিমা খানম বীথির উপস্থাপনায় ও কবি আব্দুল বাছিতের পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন লিটল ম্যাগ পলিমাটি সম্পাদক কবি বাশিরুল আমিন।

এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেনদয়ামির কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সাব্বির আহমদ, দৈনিক সিলেটের ডাকের সাহিত্য সম্পাদক কবি আবদুল মুকিত অপি, অনলাইন সংবাদ মাধ্যম সিলেট এক্সপ্রেস সম্পাদক আবদুল বাতিন ফয়সল, প্রভাষক কবি মামুন সুলতান, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম চৌধুরী এহিয়া, ছড়াকার এখলাছুর রহমান, কবি সিদ্দিক আহমদ, শিক্ষাবিদ আজিজুর রহমান বকুল, শিক্ষাবিদ মকসুদ আহমদ, মাইল এন্ড মাদ্রাসা ইউকের খতিব মাওলানা হাফিজ নজির উদ্দিন, দারুল হিকমা ফাউন্ডেশনের পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহিম, মোয়াজ আফসার, নজমূল হোসেন চৌধুরী, নিউহাম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব লাকি মিয়া, মো: আলী লাহিন, স. ম আলী নূর রশীদ, হাফিজ নাছির উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি আমিনা শহিদ চৌধুরী মান্না, শিক্ষিকা নাছিমা বেগম, আনোয়ারা আক্তার, কবি সৈয়দ মুক্তদা হামিদ, প্রকৌশলী আব্দুস শহিদ মাটি, ফতহুল করিম, সাব্বির আহমদ তুষার, মো: এম ইমরান চৌধুরী, আনোয়ার আক্তার ও অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন গণসংগীত শিল্পী মিছবাহ উদ্দিন ও তানভীর আহমদ।

মুহম্মদ বশিরুদ্দিন বলেন, লেখকের প্রকাশিত তিনটি বইয়ের নাম খুব চমৎকার। প্রচ্ছদ দেখেই চোখ জুড়িয়ে যায়। তিনি একজন জাত কবি। যারা আসলেই জাত কবি তাদেরকে কেউই দমিয়ে রাখতে পারেনা। কবিতা লেখার প্রতিভা হচ্ছে খোদার দান। সময় নিয়ে তার চর্চা করতে হয়।

শিক্ষাবিদ আবু হুরায়রা সাদ মাস্টার বলেন, সাহিত্য মনের খোরাক জোগায়। সেই খোরাক জোগানোর জন্য আমাদেরকে লেখা উপহার দিয়েছেন লেখক আবু সুফিয়ান চৌধুরী। শেকড়সন্ধানী এই লেখককে তার তিনটি বইয়ের জন্য স্বাগত জানাই।

কবি আবদুল মুকিত অপি বলেন, যারা বই ভালোবাসেনা তারা লেখক হতে পারেনা। ভালো লেখক হতে হলে একজন লেখককে বারবার তার লেখা সম্পাদনা করতে হবে। আজকের অনুষ্ঠানের লেখক গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে ধরে রাখার প্রয়াস চালিয়েছেন তার লেখায়।
লেখক অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আবু সুফিয়ন চৌধুরী বলেন, দেশ মাতৃকার টান কেমন হয় যারা প্রবাসে থাকেন তারা বলতে পারবেন। এজন্য সবসময় আমার লেখার মাঝে দেশের কথা বলতে চেয়েছি। বিলেতের সর্বত্র আমার দেশের মানুষকে প্রতিনিয়ত খুঁজেছি। দেশের কথা কখনো ভুলতে পারিনা। আমার লেখা পড়ে কেউ যদি বিন্দুমাত্র উপকৃত হন তবেই আমার লেখক জীবন স্বার্থক হবে।

সভাপতির বক্তব্যে গল্পকার ও সংগঠক সেলিম আউয়াল বলেন, প্রবাসীরা সবসময় আমাদের সকলের সুখে দুখে এগিয়ে আসে। আমরা অনেকে তাদের সাহায্য সহযোগিতার জন্য আশায় চেয়ে থাকি। কিন্তু তারা যখন আমাদের দেশে আসেন তখন রাষ্ট্র থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে আমরা তাদেরকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারি না। মোট কথা প্রবাসীদের দেশে আসার অনুকুল পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।


Free Online Accounts Software