গল্পকার সেলিম আউয়াল’র গবেষনা গ্রন্থ প্রকাশনা ও ৫৪তম জন্মদিন উদযাপিত
   23 Oct 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 11 January 2017 ব্যক্তিত্ব  (পঠিত : 1508) 

গল্পকার সেলিম আউয়াল’র গবেষনা গ্রন্থ প্রকাশনা ও ৫৪তম জন্মদিন উদযাপিত

গল্পকার সেলিম আউয়াল’র গবেষনা গ্রন্থ
প্রকাশনা ও ৫৪তম জন্মদিন উদযাপিত
     

মাহমুদ পারভেজ:
হাসন রাজা আমাদের মরমি সাহিত্যে এক উজ্জ্বল নাম। তার রচনা আমাদের সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে এবং সিলেট অঞ্চলের মর্যাদা সমুন্নত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে তাকে নিয়ে আমাদের ব্যাপক চর্চা প্রয়োজন।

কৈতর সিলেট-এর উদ্যোগে গল্পকার সেলিম আউয়াল’র গবেষনা গ্রন্থ ‘গানের পাখি হাসন রাজা এবং তার পুত্র দৌহিত্র প্রপৌত্র কথা’ প্রকাশনা ও লেখকের ৫৪তম জন্মদিনে বক্তারা একথা বলেন। মঙ্গলবার নগরীর দরগাহ গেইটস্থ দেশের অন্যতম প্রাচীন সাহিত্য প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর কক্ষে লেখকের ৫৪তম জন্মদিনে এ প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) অধ্যক্ষ জুবায়ের সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে ও গল্পকার তাসলিমা খানম বীথির উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রবীন শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ, কবি লে. কর্ণেল (অব) সৈয়দ আলী আহমদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সহ সভাপতি আফতাব চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ বশিরুদ্দিন, দৈনিক জালালাবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আজিজুল হক মানিক, সংগঠক লেখক সাঈদ চৌধুরী, গল্পকার সাঈম চৌধুরী। কবি আবদুল কাদির জীবনের পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৈতর প্রকাশন, সিলেট-এর পরিচালক রোটারিয়ান আব্দুল মুহিত দিদার। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী ইসমাঈল, বিশ্ববাংলা সম্পাদক কবি মুহিত চৌধুরী, শাবিপ্রবির কম্পিউটার সেন্টারের ম্যানেজার খায়রুল চৌধুরী, ছড়াকার এডভোকেট দিলোয়ার হোসেন দিলু, কেমুসাসের সাহিত্য সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সাদেক লিপন, দৈনিক সিলেটের ডাকের সাহিত্য সম্পাদক কবি আবদুল মুকিত অপি, গবেষক মুসা আল হাফিজ, জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া হোমিও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. আব্দুল জলিল চৌধুরী, সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল আহাদ, দৈনিক সিলেটের ডাকের সিনিয়র রিপোর্টার নূর আহমদ, সাঈদ নোমান, লেখক মোয়াজ আফছার, প্রবাসী লেখক আবু সুফিয়ান চৌধুরী, আমিনা শহিদ চৌধুরী মান্না, কবি সিদ্দিক আহমদ, বাংলাদেশ ব্যাংক-এর উপপরিচালক মো: সাজ্জাদুর রহমান, যুগ্ম পরিচালক আমিনুল ইসলাম, যুগ্ম পরিচালক জাবেদ আহমদ, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম চৌধুরী এহিয়া, ছড়াকার কামরুল আলম, ছড়াকার শাহ ফয়সল জামাল, কবি ধ্রæব গৌতম, কবি ইসমত হানিফা চৌধুরী, কবি মাসুদা সিদ্দিকা রুহী, শেখ তোফায়েল আহমদ শেপুল, কবি জান্নাতুল শুভ্রা মনি, কবি আহমেদ শামসুদ্দিন, সাংবাদিক এমজেএইচ জামিল, ছড়াকার শাহ মিজান, ছড়াকার মাহমুদ পারভেজ, গল্পকার মিনহাজ ফয়সল, শাহ সরোয়ার আলী, ছড়াকার লুৎফুর রহমান তোফায়েল, শিল্পি এম রহমান ফারুক, গীতিকার সাইয়িদ শাহীন, কবি বাশিরুল আমিন, কবি সৈয়দ মুক্তদা হামিদ, কবি নাঈমা চৌধুরী, ঔপন্যাসিক আলেয়া রহমান, চৌধুরী রাহাত, কবি আলিম উদ্দিন আলম, কবি আব্দুল বাছিত, আহমেদ আরিফ, নাদিরা নুসরাত মাসিয়াত, রাফিদুল ইসলাম চৌধুরী, লাহিন নাহিয়ান প্রমুখ।
অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ বলেন, যিনি তার শত্রæদের কাছে মহৎ তিনি মহান। সেদিকে গল্পকার সেলিম আউয়াল তার শত্রæদের কাছেও মহৎ। মহৎ কিন্তু ক্ষুদ্র ও তুচ্ছকে বিরাট মহৎ করে তোলে। এটা সেলিম আউয়ালের মাঝে রয়েছে। তিনি লেখক হিসেবে পরিণত ও নন্দিত। একজন যুগস্রষ্টা হয়ে মানুষ তৈরীর অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, বইটি আমাকে উৎসর্গ করায় আমার নিজেকে খুব আবেগাপ্লুত মনে হচ্ছে। আমার গল্প লেখার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন গল্পকার সেলিম আউয়াল। প্রেরণা দানের কাজটি সবচেয়ে বড় কাজ। তিনি মননের পথে তা করে যাচ্ছেন।
প্রবীণ সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী বলেন, তিনি একজন বিনয়ী মানুষ। আমাকে যদি কোন একজন বিনয়ী ব্যক্তির নাম উচ্চারণ করতে বলেন তাহলে আমি তার নাম উচ্চারণ করবো। তিনি বলেন, আমাদের সমাজ থেকে শ্রদ্ধাবোধ বিলুপ্ত হতে শুরু করেছে। আমাদেরকে তার মতো বিনয়ী হতে হবে।
কবি লে. কর্ণেল (অব) সৈয়দ আলী আহমদ বলেন, বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনে যাদের কাছ থেকে উৎসাহ ও ভালোবাসা পেয়েছি তিনি আমার দশ বছর জুনিয়র গল্পকার সেলিম আউয়াল। মানুষের সেবা করলে মানুষ মনে রাখে। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য করলে কেউই মনে রাখেনা। আজকের এই অনুষ্ঠানটা সেলিম আউয়ালের জন্য মহৎ পুরষ্কার। তার নাম সিলেটের ইতিহাসে একদিন স্মরণীয় ও বরণীয় মানুষের সাথে থাকবে তা কামনা করি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌছ সুলতান বলেন, জীবনে অনেক বৃদ্ধকে দেখেছি তরুণ থাকতে। সেলিম আউয়াল একজন এভারগ্রীন, সজিব মানুষ। তার দীর্ঘায়ু ভবিষ্যৎ জীবনের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।
প্রবীণ সাংবাদিক মুহম্মদ বশিরুদ্দিন বলেন, গল্পকার সেলিম আউয়াল আমাকে নিয়ে একটা বই লিখেছেন। তার কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। তিনি আমাকে দিয়েও বই লিখিয়ে নিয়েছেন। মহান আলøাহর কাছে তার জন্য কায়মনোবাক্যে দোয়া করি তিনি যেন সুস্থ সুন্দর ও বলিষ্টভাবে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকেন।
সংগঠক লেখক সাঈদ চৌধুরী বলেন, একটা ভালো বন্ধু সারা জীবনের জন্য কতটা উপকারী তা আজকের অনুষ্ঠানে এসে মনে হচ্ছে। সেলিম আউয়াল এক দুর্বার সৈনিক। সে উত্তাল সাগরের মতো। তিনি সামনের দিকে ধাবমান। তাকে কখনো ক্লান্ত হতে দেখিনি। আমরা যারা নিজেদেরকে খুব দাতা মনে করি তাদেরকে হার মানিয়ে অনেক দুর তিনি এগিয়ে গেছেন। তিনি আমাদের গর্ব। এমন বন্ধুর জন্য আমি আবেগে আপ্লুত। তিনি আমাদের হারিয়ে যাওয়া মানুষদেরকে সামনে এনে একত্রিত করে একটি সেতুবন্ধনের সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের মাঝে একটা গোলাপের মতো। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি খুব ভালোবাসার মানুষ, শ্রদ্ধার পাত্র।
আজিজুল হক মানিক বলেন, অনেক বিশেষ ব্যক্তিকে নিয়ে গল্পকার সেলিম আউয়াল অনেক বই লিখেছেন। তার বইগুলো পড়লে পাঠকরা অনেক উপকৃত হবেন। তিনি আসলেই একজন সমাজসেবী। আমাদের সমাজে তার মতো সমাজসেবী খুব বিরল। আমাদের সাহিত্যাঙ্গনের সাহিত্য আসর আয়োজনে তিনি খুব ভুমিকা রাখেন। তার সার্বিক জীবনের সফলতা কামনা করছি।
কবি মুহিত চৌধুরী বলেন, তিনি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন ও স্বপ্ন দেখান। তিনি মানুষকে বড় করে দেখেন ও সম্মান দেন এটা তার বড় গুণ। তিনি অনেক সাংবাদিককে জন্ম দিয়েছেন যারা নিজেরা আলোকিত হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের মুখকে উজ্জল করেছেন। তিনি যেন আরো বেশি মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারেন সেজন্য দোয়া করি।
গল্পকার সাঈম চৌধুরী বলেন, একজন লেখক তার জন্মদিনে অন্য একজন লেখককে নিয়ে লিখেছেন এরজন্যই তিনি আলাদা। বই পড়ে কেউই দেউলিয়া হয়না, বরং আমার দেখা মতে অনেকেই আউলিয়া হয়ে গেছেন। তিনি বলেন আমাদেরকে সম্পাদক হবার চেয়ে লেখক হবার দিকে মনোযোগী হতে হবে।
কবি আবদুল মুকিত অপি বলেন, সেলিম আউয়ালের জন্ম না হলে এই অনুষ্ঠানে আসা প্রায় শতকরা ৯৭ ভাগ লেখক হওয়ার সম্ভাবনা ছিলোনা। তিনি তার সবগুলো ভালোবাসার দুয়ার আমাদের জন্য খুলে দিয়েছেন। এজন্য তিনি সকলের কাছে প্রিয়। আমাদেরকে তার মতো আরো বেশি লেখক তৈরীতে অবদান রাখতে হবে। এতে দেশ ও জনগণ উভয়ই উপকৃত হবে।
গবেষক মুসা আল হাফিজ বলেন, তিনি কতগুলো প্রতিভাকে কুড়িয়ে এনে ছড়িয়ে দিয়েছেন আমাদের মাঝে। তিনি এমন এক জায়গায় নিজেকে নিয়ে গেছেন যাকে দেখে তার শিষ্যরা বলে, আপনি এক চাঁদ, যার আলোয় আলোকিত আমরা।

অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে গল্পকার সেলিম আউয়াল বলেন, আমাদের প্রত্যেককে পরষ্পরের জন্য কল্যাণকামী হতে হবে। অন্যের জন্য উপকার করলে তার প্রতিদান অবশ্যই পাবেন। তিনি বলেন, সকলের এতো প্রশংসার ভীড়ে মঞ্চে বসে ছিলাম কী করে ভাবতেই কেমন জানি লাগছে। একটু বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ছিলাম মনে হয়েছিলো। যারা এতোবেশি প্রশংসা করেছেন তাদের কাছে দোয়া প্রত্যাশা ছাড়া কিছুই চাইনা।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ জুবায়ের সিদ্দিকী বলেন, গল্পকার সেলিম আউয়াল আমার দৃষ্টিতে একজন চমৎকার সংগঠক ও উপস্থাপক। তার সাথে আমার শুধুমাত্র লেখালেখির কারণে সম্পর্ক নয়, বরং আত্মার সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্কটা অনেক গভীর। তার যে বিশাল একটা টিম রয়েছে তা আগে জানা ছিলোনা। তার নেতৃত্বে সেই টিম আরো ভালো কাজ করে যাবে সে প্রত্যাশা সকলে করছি।
গল্পকার সেলিম আউয়াল এর ৫৪তম জন্মদিন উপলক্ষে একক বই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।


Free Online Accounts Software