16 Aug 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 1 January 2017 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 1421) 

কাঠবিড়ালি সদা চঞ্চল প্রাণ

কাঠবিড়ালি সদা চঞ্চল প্রাণ
     

মোঃ আব্দুল হক:
প্রাণি জগতের চঞ্চলতার জন্যেই আমাদের এই পৃথিবী প্রাণবন্ত ( animated )। কত শত প্রাণি আছে আমাদের চারপাশ ঘিরে। এরই মাঝে কোনো কোনোটি সৃজনশীল মানুষের কাছে বিশেষ ভাবে ধরা দেয়। কখনও কোনো পাখি দোয়েল কিংবা টুনটুনি দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় তার সুন্দর দেহ বর্ণ (colour) দেখে। আবার কোনোটির মিষ্টি সুর আমাদেরকে মুগ্ধ করে। একই ভাবে আমাদের অতি আপন প্রাকৃতিক বন্ধু ঘন বন আর গাছে গাছে ঘনিষ্ট ভাবে জড়িয়ে আছে এক চমৎকার সদা চঞ্চল দ্রুত গতির ছোট্ট প্রাণ, যা ছোট- বড় সকলের মনে দোলা দেয়, তার নাম কাঠবিড়ালি ( Squirrel)। চটুল এই কাঠবিড়ালি আমার মন কেড়েছে। আমি ওদের আপন ভুবনের খুব কাছে থেকে নিজেকে আড়াল করে খেলা দেখি আর মজা পাই।

লেখার ভুমিকায় যে ছোট্ট প্রাণিটির কথা বলা হলো, তা আবার পৃথিবীর সকল মহাদেশে দেখা যায় না। তবে অষ্ট্রেলিয়া এবং এন্টার্কটিকা মহাদেশ ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই এর দেখা মিলে। সকল অঞ্চলের কাঠবিড়ালি এক রকমের নয়। জানা যায়, সারা দুনিয়ায় প্রায় ২৭০ প্রজাতির কাঠবিড়ালি আছে। এরমধ্যে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বাংলাদেশে রয়েছে এর আট প্রজাতি। কাঠবিড়ালি হলো স্তন্যপায়ী শ্রেণি ভুক্ত প্রাণি এবং এরা প্রতিবারে একাধিক বাচ্চা প্রসব করে। চলার গতি ক্ষিপ্র এমন ছোট প্রাণিদের মাঝে কাঠবিড়ালি অন্যতম। এরা খুব সহজে এবং দ্রুত লাফ দিয়ে স্থান পরিবর্তন করতে পারে। এদের সামনের পা দুটি ছোট এবং পিছনের পা দুটি সামনের পা দুটির চেয়ে লম্বা হওয়ায় এরা অতি সহজেই চোখের পলকে লাফিয়ে গাছের এ ডাল থেকে ও ডালে যেতে পারে। অবশ্য আঙ্গুলের নখ এদেরকে তরতরিয়ে উপরে উঠতেও সাহায্য করে। কাঠবিড়ালির চোখ ঝিকিমিকি তারার মতো। তবে সেটা খেয়াল করে দেখতে হবে। সহজে বুঝা যায় না। আমি ওদের ডাক 'টেটেট্ ' শব্দ শুনে যখন জানালা দিয়ে বাহিরে উঁকি দিয়ে গাছের দিকে লক্ষ্য করি, দেখতে পাই চঞ্চলা এক ছোট্ট প্রাণ ডালে ডালে পাতার ফাঁকে ছুটাছুটি করে। আবার কখনও দেখি কোনো এক ডালের রঙের সাথে মিশে গিয়ে বসে আছে চুপটি করে। অথচ এর চোখ যেন মিটিমিটি করে জ্বলা তারা। আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রই। এই প্রাণিটির অনুসন্ধানে এক মজার তথ্য পাওয়া যায়, কাঠবিড়ালির সামনের চারটি দাঁত তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে থাকে। সাধারনত আমাদের দেশীয় এবং বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের কাঠবিড়ালি বাদামি রঙের দেখতে পাওয়া যায়। তবে এরা কালো রঙেরও হয়। বাংলাদেশের খুলনা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, সিলেট, যশোর ইত্যাদি অঞ্চলে এদের বিচরণ। সিলেট শহর ও আশপাশের যে কাঠবিড়ালি সেগুলি দৈর্ঘ্যে লেজসহ ১০ থেকে ১৪ ইঞ্চি অথবা ২৫ থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হবে। এদের সারা শরীর লোমে ঢাকা থাকে, আর লেজ থাকে ঘন পশম দ্বারা আবৃত।

বন- জঙ্গলে আর গাছে গাছে জীবন কাটালেও এরা প্রয়োজনে মাটিতেও নেমে আসে। প্রচুর গাছ গাছালি সমৃদ্ধ শহর এলাকাজুড়ে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে খুঁটিতে টানানো তার বেয়েও এরা নির্বিঘ্নে ছুটতে পারে। সবুজ প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে বসবাসকারী এই নিরীহ প্রাণিটির প্রিয় খাবারের তালিকায় স্বাভাবিক ভাবেই আছে বিভিন্ন গাছের ফল ও বীজ। মাঝে মাঝে গাছের কচি সবুজ পাতা কুটকুট করে খেতে দেখা যায়। তবে বাতাবি লেবু, পেয়ারা, আতাফল, খেজুরের রস ওদের প্রিয়। এখানে কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর লেখা কবিতার লাইন স্মরণীয়, " কাঠবিড়ালি কাঠবিড়ালি পেয়ারা তুমি খাও? "

প্রিয় পাঠক, যুগে যুগে সুন্দর সুর আর স্বাভাবিক ছন্দে অসুন্দরের হানা এসেছে। ঠিক তেমনি করে সুন্দর সবুজ বন ও বন্যপ্রাণীর উপর চলে এক শ্রেণির লোভী মানুষের হামলা। আজও দেখি আমাদের আইন আছে ; কিন্তু কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় যাচ্ছেতাই ভাবে কাটা হচ্ছে বন-জঙ্গল। আর খাদ্য ও আবাস সংকটে পড়ে অস্তিত্বের হুমকিতে আছে টুনটুনি, কাঠবিড়ালি সহ নানান সুন্দর প্রাণি। তবে আমাদের প্রিয় কবির ' খুকি ও কাঠবিড়ালি ' কবিতার কল্যাণে আমাদের সাহিত্যাঙ্গনের সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়ানো কাঠবিড়ালি ও তার আবাস রক্ষায় সৃজনশীল মানুষ জয়ী হবে। আমি যেন ভুলিনা, কাঠবিড়ালি হয়েছে আমাদের সংস্কৃতির অংশ। আমাদের পরিবেশের এক সুন্দর চঞ্চল প্রাণ।
# লেখক _ মোঃ আব্দুল হক
কলামিষ্ট, কবি, প্রাবন্ধিক


   অন্য পত্রিকার সংবাদ  অভিজ্ঞতা  আইন-অপরাধ  আত্মজীবনি  আলোকিত মুখ  ইসলাম ও জীবন  ঈদ কেনাকাটা  উপন্যাস  এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল  কবিতা  খেলাধুলা  গল্প  ছড়া  দিবস  দূর্ঘটনা  নির্বাচন  প্রকৃতি পরিবেশ  প্রবাস  প্রশাসন  বিবিধ  বিশ্ববিদ্যালয়  ব্যক্তিত্ব  ব্যবসা-বাণিজ্য  মনের জানালা  মিডিয়া ওয়াচ  মুক্তিযুদ্ধ  যে কথা হয়নি বলা  রাজনীতি  শিক্ষা  সমসাময়ীক বিষয়  সমসাময়ীক লেখা  সমৃদ্ধ বাংলাদেশ  সাইক্লিং  সাক্ষাৎকার  সাফল্য  সার্ভিস ক্লাব  সাহিত্য-সংস্কৃতি  সিটি কর্পোরেশন  স্বাস্থ্য  স্মৃতি  হ য ব র ল  হরতাল-অবরোধ