26 Sep 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 15 December 2016 বিবিধ  (পঠিত : 1297) 

খাদিজার মাথায় কৃত্রিম খুলি

খাদিজার মাথায় কৃত্রিম খুলি
     

গত ৩ অক্টোবর বদরুলের হামলার শিকার হওয়ার পর ওসমানী হাসপাতাল থেকে খাদিজার রক্তক্ষরণ বন্ধ করে ঢাকায় পাঠানো হয়।

স্কয়ার হাসপাতালে সকালে খাদিজাকে যখন গ্রহণ করা হয় তখন তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিলো ৫-৬ ভাগ। অর্থাৎ ক্ষীণ। সব কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা খাদিজাকে বাঁচাতে হলে মাথায় অস্ত্রোপচার ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। মাথার ডান পাশে জমাট রক্ত বের করতে হবে। যদিও এক্ষেত্রে ঝুঁকি শতভাগ।

তারপরও বেলা দেড়টার (৪ অক্টোবর) দিকে খাদিজার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। কৃতিত্বের সঙ্গে অস্ত্রোপচার করেন স্কয়ার হাসপাতালের নিউরোসার্জন ডা. এ কে রেজাউস সাত্তার। অস্ত্রোপচার শেষে তাকে আইসিইউ (নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র)-তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মারাত্মক শঙ্কটাপন্ন খাদিজার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য সর্বোচ্চ সাপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

খাদিজার অবস্থার উন্নতি হতে থাকলে ১৯ অক্টোবর গলায় ছিদ্র করে সেখান দিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়ার ব্যবস্থা করে লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হয়।

খাদিজার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ৭ নভেম্বর বদরুলের চাপাতির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত খাদিজার মাথায় আবার অস্ত্রোপচার করা হয়। এসময় চাপাতির আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ মাথায় কৃত্রিম খুলি প্রতিস্থাপন করা হয়। এ পর্যায়েও কৃতিত্বের সঙ্গে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

খাদিজার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উন্নতি হলে ২৮ নভেম্বর তাকে সাভারের সিআরপিতে পাঠানো হয় অবশ হওয়া বাম পাশে ফিজিওথেরাপি দেওয়ার জন্য।

আজ বৃহস্পতিবার সিলেটের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে খাদিজা হত্যা চেষ্টা মামলার ৩৩তম সাক্ষী স্কয়ার হাসপাতালের নিউরোসার্জন ডা. এ এম রেজাউস সাত্তার এভাবেই তার সাক্ষ্যদানের সময় খাদিজার বেঁচে যাওয়ার কাহিনী বর্ণনা করেন।