20 Jan 2018 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 24 November 2016 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 2935) 

বতুতা সুরমা নদী ধরেই সোনার গাঁ গিয়েছিলেন

বতুতা সুরমা নদী ধরেই সোনার গাঁ গিয়েছিলেন
     

সেলিম আউয়াল:
সিলেটের প্রধান নদী সুরমা ও কুশিয়ারা জন্ম নিয়েছে একটি নদী ভাগ থেকে। নদীটির নাম বরাক। তীর্থ চিন্তামণিতে বরবক্রের (বরাক) কথা আছে। অমর কোষ অভিধানে বর্ণিত ‘শরাবতী’-কে কেউ কেউ ‘সুরমা’ মনে করেন। এসব নদীর পানি হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে পবিত্র।
মরক্কোর অধিবাসী শেখ আবু আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ইবনে বতুতা হযরত শাহজালালের সাথে মোলাকাতের জন্যে ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে সিলেট আসেন। তিনি বলেছিলেন সিলেট পরিক্রম না হওয়া পর্যন্ত আমার ভারত পরিক্রমা শেষ হলো বলে আমি মনে করি না। ইবনে বতুতা ‘রেহলা’ নামের তার ভ্রমণকাহিনীটি আরবী ভাষায় লিখেছিলেন। ‘রেহলা’ নামের ভ্রমণকাহিনীকে সিলেটে মুসলিম শাসনের প্রাথমিক পর্যায়ের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে গণ্য করা হয়। ইবনে বতুতা ডাকাতদের কবলে পড়ে তার ভারত ভ্রমণকালীন নোট বইটি হারিয়ে ফেলেছিলেন। তাই স্মৃতি হাতড়ে বতুতা লিখেছিলেন তার ‘রেহলা’। পথ চলতে চলতে জমে ওঠা স্মৃতিতে যে সব ঘটনা তাকে নাড়া দিয়েছিলো তিনি সেগুলোর বর্ণনাই দিয়েছিলেন। বর্ষার শেষে ইবনে বতুতা সুরমা নদীর পানি দেখেছিলেন। তিনি সুরমার নাম দিয়েছিলেন নহর-উল-আজরক। আরবী শব্দ আজরক-এর অর্থ নীল রং। নহরে আজরক (সুরমা)। নহর-উল-আজরক বা নীলচক্ষু বিশিষ্ট নদী। তিনি সিলেটকে কামরূপের একটি অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ইতিহাসবিদরা বিশ্বাস করেন ইবনে বতুতা সুরমা নদী ধরেই সিলেট থেকে সোনার গাঁ গিয়েছিলেন। হযরত শাহজালাল (রহ.) ও মুগল সেনাপতি মির্জা নাথানের সুরমা নদী অতিক্রম যুগান্তর সৃষ্টি করেছিলো।


Free Online Accounts Software