21 Aug 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 31 August 2016 সাক্ষাৎকার  (পঠিত : 4216) 

তারুণ্যদীপ্ত শাদা মনের মানুষ সাংবাদিক সংগঠক বশিরুদ্দিন

তারুণ্যদীপ্ত শাদা মনের মানুষ
সাংবাদিক সংগঠক বশিরুদ্দিন
     

তাসলিমা খানম বীথি: সিলেটের প্রবীণ সাংবাদিক, সংগঠক ও সাহিত্যিক মুহম্মদ বশিরুদ্দিন। বয়স ৬৩ হলেও টগবগে তরুণদের মত এখনো তিনি ছুটে বেড়ান। তার ঠোঁটের এক ফালি হাসিই প্রমাণ করে তিনি কতটা প্রাণবন্ত ও সজীব। কারো সাথে দেখা হলেই হাসিমুখে কুশলাদি জিজ্ঞাসা করেন। নবীন প্রবীণ সকল বয়সের মানুষের সাথেই যেন তার বন্ধুসুলভ আচরণ। বাংলাদেশকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন। দেশকে নিয়ে তার অনেক ভাবনা। তিনি স্বপ্ন দেখেন একটি সুখী সুন্দর, দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের। সাংবাদিকতা থেকে অবসর নিলেও তিনি কর্মজীবন থেকে অবসর নেননি। সমাজের বিভিন্ন উন্নয়মূলক কাজের সাথে জড়িয়ে রেখেছেন নিজেকে সবসময়। বর্তমানে তার সময়ের বেশিরভাগই কাটে সাহিত্যচর্চায়। সুযোগ পেলেই কবিতা, গল্প কিংবা নিজের ফেলে আসা দিনগুলো নিয়ে লেখালেখিতে ডুব দেন। অবসর জীবনে এসেও তিনি নিজেকে অবসর দেননি। সামাজিক অথবা সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক কোন অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ পেলে এক মূর্হুতের জন্য সেইসব অনুষ্ঠানে যোগ দেবার সুযোগ হাতছাড়া করেন না তিনি। ছুটে যান সেইসব অনুষ্ঠানে এবং চুটিয়ে উপভোগ করেন সেই সব অনুষ্ঠান। সাদাসিধে সহজ সরল জীবন যাপনেই তিনি অভ্যস্থ। তার সহজ সরল শিশু সুলভ আচরণ সবাইকে মুগ্ধ করে, কাছে টানে।

সাংবাদিক মুহম্মদ বশিরুদ্দিনের জন্ম ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ৩১ মার্চ বিশ্বনাথ উপজেলার সিঙ্গেরকাছ মৌজার শেখের গাঁও গ্রামে। তার বাবা মরহুম মো. আবদুল আজিজ এবং মা মরহুমা মোছাম্মত রইসা বেগম চৌধুরী। তিন ভাই দু বোনের মধ্যে মুহম্মদ বশিরুদ্দিন তৃতীয়।

সাদা শুভ্র দাড়ি হাস্যোজ্জ্বল মুখটি যে কাউকে আপন করে নেবে সহজে। মুহম্মদ বশিরুদ্দিন সাধারণ জীবন যাপন করতে ভালোবাসেন। তার পছন্দের একমাত্র জামা সাফারি। তরুণ বয়স থেকেই তিনি এই সাফারি জামাটি পরতে শুরু করেন। এখনো তিনি তার পছন্দের জামাটি দারুন করে রেখেছেন। সবুজ শাক সবজি আর ডাল ভাত তার সবচেয়ে প্রিয় খাবার। অপছন্দ করেন মিথ্যা কথা বলা, দূর্নীতি ও অনৈতিক আচরণ। জীবনে অনেক কিছুই হতে চেয়েছিলেন তিনি। যা চেয়েছিলেন তা হতে পারেননি বলে তার কোন আফসোস নেই। গ্রামে গিয়ে ক্ষেতকৃষিতে ধান সবজি উৎপাদন করা তার একটি শখ। তিনি আদর্শ হিসেবে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) এর আদর্শকে ফলো করার চেষ্টা করেন। অবসরে তিনি সঙ্গী হিসেবে বেছে নেন বই পড়া আর সাহিত্যচর্চাকে।

গৃহকোণে তার একমাত্র সঙ্গী, সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে কাছের মানুষ তার প্রিয়তমা স্ত্রী জাহান আরা বেগম। সুযোগ পেলে দুজনে ঘুরে বেড়ান দেশে কিংবা বিদেশে। ব্যক্তিগত জীবনে মুহম্মদ বশিরুদ্দিন দুই সন্তানের জনক। আশরাফ সুলতানা কলি তার একমাত্র কন্যা। তিনি যুক্তরাজ্য স্বামী সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন এবং একটি বেসরকারী সংস্থায় চাকরি করছেন। আর তার একমাত্র পুত্র সন্তান নাসিরুদ্দিন রায়হান কানাডায় নিজ পরিবার নিয়ে প্রবাসী জীবন যাপন করছেন। বইপড়া, বই সংগ্রহ মুহম্মদ বশিরুদ্দিনের একটি প্রিয় বিষয়। এজন্যে তিনি গড়ে তুলেছিলেন একটি ব্যক্তিগত পাঠাগার। ২০১৩ সালে পাঠাগারটি ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদকে দান করেন।

সিলেটের প্রথম অনলাইন দৈনিক সিলেট এক্সপ্রেস ডট কম-এর পক্ষ থেকে সাংবাদিক মুহম্মদ বশিরুদ্দিন এর একটি সাক্ষাতকার গ্রহণ করা হয়। ২২ নভেম্বর ২০১৫। সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেন সিলেট এক্সপ্রেস-এর স্টাফ রিপোর্টার তাসলিমা খানম বীথি।

বীথি: সাংবাদিকতা জগতে কিভাবে আসলেন ? কবে থেকে এ পেশার সাথে জড়িত হলেন ?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: বিশ্বনাথ উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান আমার আত্মীয় এবং ঘনিষ্ট বন্ধু। তার শৈশব কৈশোর লন্ডনে কেটেছে। ১৯৮৩ সালে দেশে এসে আমাকে বলল, সে আর লন্ডনে স্থায়ীভাবে ফিরে যাবে না। দেশে থাকতে চায়। দেশে থাকতে হলে সমাজের জন্য কিছু করতে হলে প্রাথমিকভাবে কী করতে হবে আমার কাছে পরামর্শ চায়। এসব আলোচনা পর আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম সিলেট থেকে সাপ্তাহিক একটা পত্রিকা বের করা যাক। যেমন কথা তেমন কাজ। তখন সিলেটে সাপ্তাহিক যুগভেরী, সিলেট সমাচার, সিলেট বাণী, দেশবার্তা বের হতো। আমরা যে পত্রিকা বের করব তার নাম দিলাম ‘সাপ্তাহিক সিলেট সংবাদ’, যথারীতি ডিক্লারেশনও নিলাম। স্বয়ং সম্পূর্ণ প্রেস কিনলাম। জামতলায় পত্রিকার অফিসের জন্যে বাড়ী ভাড়া করি। সাপ্তাহিক সিলেট সংবাদ বের করে ফেলি। ’৮৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে সাপ্তাহিক সিলেট সংবাদ নিয়মিত বের হতে লাগলো। এতে মুহিবুর রহমান সম্পাদক, মহি শীরু প্রধান সম্পাদক, নূরুদ্দিন রেজা নির্বাহী সম্পাদক ও আমি ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করি। পত্রিকা বের করার প্রাথমিক ব্যয়ভার মুহিবুর রহমান দিয়েছিলেন। ’৮৫ সালে মুহিবুর রহমান বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে তার স্থলে আমাকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। এভাবে সেই ১৯৮৪ সাল থেকেই আমি সংবাদ পত্রে কাজ শুরু করি অর্থাৎ সাংবাদিকতা জড়িয়ে পড়ি। তারপর মনিং সান পত্রিকায় ১৯৮৮-১৯৮৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করি। পরবর্তীতে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে গেলে ’৮৯ সাল থেকে আমি ইংলিশ দৈনিক নিউ নেশন-এর সিলেট ব্যুরো চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করি। ১৯৮৯-এর জুলাই থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটির সিলেটের ব্যুরো চিফ হিসেবে কাজ করি। তবে ছাত্রাবস্থা থেকে আমি লেখালেখি করে আসছি।

বীথি: সাংবাদিকতা পেশায় কার উৎসাহ ছিলো বেশী?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: সাংবাদিকতায় আসার জন্য আমি কারো কাছ থেকে উৎসাহ পাইনি। নিজের উৎসাহেই আমি এ পেশায় এসেছি।

বীথি: সাংবাদিকতা পেশার জন্য আপনি কাকে ফলো করতেন?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: সাংবাদিকতায় স্থানীয়ভাবে আমি মরহুম কবি মহিউদ্দিন শীরু’র আদর্শকে অনুসরণ করি। তিনি বয়সে আমার অনুজ হলেও সাংবাদিকতা জগতে এসেছিলেন আগে। তাঁর ছিল সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। তিনি আজ পর্যন্ত সিলেটে কর্মরত একমাত্র সাংবাদিক, সাংবাদিকতায় যার উচ্চতর ডিগ্রী রয়েছে। সিলেট সংবাদ’ বের করার পর সংবাদ পরিবেশনের ÿেত্রে আমাদের কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। শীরু ভাই নীতি নির্ধারনসহ সব কিছুর দিক নির্দেশনা দিতেন। এভাবে ৫/৬ মাস চলার পরে আমি নিজে দক্ষ হয়ে উঠি। আমার লেখার হাতও পাকা হয়ে যায়। সম্পাদকীয় উপসম্পাদকীয় ইত্যাদি অন্যান্য পত্রিকার মত মান সম্পন্ন হয়ে উঠে।

বীথি: সাংবাদিকতা পেশাকে আপনি এক কথায় কী বলবেন?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: এই পেশা অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। তবে সবাই টিকতে পারে না। এই পেশার মাধ্যমে জাতি ও সমাজের জন্য কাজ করা যায়। এক কথায় বলব এটি একটি মহান পেশা।

বীথি: সাংবাদিকতা করতে গিয়ে আপনি কী কী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: আমি সাধারনত দূর্নীতি, প্রশাসনে পরিচালিত অন্যায় অসংগতির বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করতাম। ফলে প্রায় সময় হুমকি ধামকির সম্মূখীন হয়েছি। এ সমস্যা নির্ভীক এবং সাহসিকতার সাথে কাটিয়ে উঠেছি।

বীথি: সেই সব সমস্যা সম্মূখীন থেকে কোন বিশেষ ঘটনা আছে কী?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: অনেক ঘটনা আছে। তবে সেগুলো পূর্ণব্যক্ত করে আজ আবার সেগুলোকে জাগিয়ে তুলতে চাই না।

বীথি: আপনার কী কখনো মনে হয়েছে সাংবাদিকতা পেশা এসে ভুল করেছেন?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: না। সাংবাদিকতা পেশায় এসে কোন ভুল করিনি। মহান আলøাহর ইচ্ছায় আমি এ পথে এসেছি। আলøাহ যা করেন মঙ্গলের জন্য করেন। সততার সাথে এ পেশায় কাজ করলে নির্যাতিত মানুষ, সমাজ এবং রাষ্ট্রের উপকার করা যায়। মানুষ হিসেবে মানুষের জন্যে কাজ করা, এটাই তো দায়িত্ব। এ পেশা মর্যাদাশীল এবং সম্মানের। এ পেশায় বহুমাত্রিক কষ্ট আছে। তবে কাজের শেষে এর ভালো ফলাফল দেখলে মনে অপার শান্তি পাওয়া যায়।

বীথি: সাংবাদিকতা পেশার ক্ষেত্রে কোন দায়িত্বটা আপনাকে সব সময় তাড়িত করত?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: কোন সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা গোষ্টির কোন নৈতিক ক্ষতি হচ্ছে কিনা কিংবা এ সংবাদ পরিবশেনের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সমাজ উপকৃত হচ্ছে কিনা এ বিষয়টি আমাকে তাড়িত করত।

বীথি: আপনার পরিবার সর্ম্পকে কিছু বলুন? পরিবারের আর কেউ কী এই পেশার সাথে জড়িত আছে?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: আমরা ছিলাম তিন ভাই, দুই বোন। সবাই মারা গেছেন। এক ভাই এক বোনের কোন উত্তরাধিকার নেই। আরো এক ভাই ও এক বোনের সন্তান আছেন। তারা সবাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী।

বীথি: আপনার শৈশব কৈশোর কোথায় কেটেছে? শৈশবের কোন মজার স্মৃতি আছে কী?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: আমার শৈশব কৈশোর গ্রামে কেটেছে। শৈশব কৈশোর ছিলো খুব আনন্দের। আমাদের পরিবার ছিল গ্রামের আরো ২/১ পরিবারের মতো সুখি ও স্বচ্ছল। এখন কোন মজার স্মৃতি বলব। বুঝতে পারছিনা। তবে মজার ঘটনা না বলে দু:খের ঘটনা বলি। একবার আমি, আমার ছোট ভাই এবং আমার বাবা নৌকাডুবিতে পড়েছিলাম। আমি, বাবা আর আমার ছোট ভাই মিলে ফুফুর বাড়িতে যাচ্ছিলাম। ‘ফাটার হাওর’ নামের এক বিরাট হাওরের মধ্যেখানে হঠাৎ নৌকাটি ঝড়ের কবলে পড়ে। ঝড়ের তান্ডবে দোলতে দোলতে একসময় নৌকাটি উল্টে যায়। আমরা তখন নৌকা থেকে ছিটকে পড়ে যাই। ঢেউয়ের তালে আমরা ডুবছি আর ভাসছি। এক পর্যায়ে সলিল সমাধির দ্বারপ্রান্তে এসে পড়ি। ঠিক এ সময় অলৌকিকভাবে পাশের গ্রামের কয়েক তরুণ একটি নৌকা নিয়ে আমাদের মাঝিসহ ৫জনকে উদ্ধার করে। হাওর পাড়ের এই তরুণদের মহানুভবতার কথা আজো আমাকে নাড়া দেয়।

বীথি: আপনি প্রাইমারী কোন স্কুলে পড়েছেন?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: আমি আমাদের গ্রামের সিঙ্গেরকাছ ২নং প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা করি।

বীথি: আপনার শিক্ষাজীবন সম্পর্কে কিছু বলুন।
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: আমি সিলেট শহরের রাজা জিসি হাই স্কুল থেকে ১৯৬৮ সালে এসএসসি পাশ করি। তখন শহরের হিন্দুয়ানির পার মহলøায় লজিংএ থাকতাম। ১৯৭০ সালে এইচএসসি পাশ করি। তারপর ১৯৭৩ সালে এমসি কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করি। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হলেও নানা কারনে তা শেষ করতে পারিনি।

বীথি: ছাত্র জীবনে কোন ছাত্র সংগঠনে সম্পৃক্ত ছিলেন ?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (ইপসু-ইস্ট পাকিস্তান স্টুডেন্ট ইউনিয়ন) করতাম। আমরা ছিলাম মতিয়া গ্রæপে। তারপর ১৯৮১ সালে যুব ইউনিয়ন সিলেট জেলা শাখার শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে কাজ করি দুই বছর।

বীথি: আপনি কখন কর্মজীবন শুরু করেন?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: শিক্ষকতার মাধ্যমে আমার কর্মজীবন শুরু করি। সিঙ্গেরকাছ বহুমুখি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি ৪ বছর। তারপর স্বদেশ কন্সট্রাকশন নামে একটি কনসালটেন্সী ফার্ম পরিচালনা করি। এর অফিস ছিলো নগরীর সুরমা মার্কেটে।

বীথি: আপনার সাংগঠনিক জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন ‘দূর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলন’ এর সাথে সম্পৃক্ত আছি। আমি এই সংগঠনের সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করছি।

বীথি: এই পর্যন্ত কী কী পুরষ্কার পেয়েছেন?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: আমার কর্মকান্ডের ব্যাপারে লোক চক্ষুর আড়ালে থাকতে পছন্দ করি। ২০০৯ সালে বিশ্বনাথবাসীর পক্ষে থেকে গুনীজন সংবর্ধনা ও ২০১৫ সালে সিলেটের প্রথম অনালাইন দৈনিক সিলেট এক্সপ্রেস এর পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে আমার জীবন ও কর্ম নিয়ে সাংবাদিক-গল্পকার সেলিম আউয়ালের লেখা ‘সাংবাদিক-সংগঠক মো. বশিরুদ্দিন’ বইয়ের প্রকাশনা উপলক্ষে আমাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিলো।

বীথি: একজন সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে কতটুকু সফল ভাবেন?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: একজন সাংবাদিক হিসাবে নিজেকে কিছুটা সফল মনে করি। তবে মানুষ সব সময়ই অপূর্ণতায় ভুগেন। আমিও এর ব্যতিক্রম নই।

বীথি: অতীতের দিকে তাকালে কী কথা মনে পড়ে?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: অতীতে সহজ সরল জীবন যাপনের কথা মনে পড়ে। বর্তমানে চাহিদা বেড়েছে। জটিলতাও বেড়েছে।

বীথি: আপনার সময়কালে সাংবাদিকতা কী রকম ছিলো? এ পেশায় অতীতের সাথে বর্তমানের পার্থক্য সম্পর্কে কিছু বলুন?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: আমাদের সময় কোন কোন ক্ষেত্রে অপসাংবাদিকতা চোখে পড়লে সিলেটের সকল সাংবাদিক একযোগে প্রতিরোধ করতেন। তখন যারাই সাংবাদিকতা করতেন সকলেই সততার সাথে কাজ করতেন। এর ব্যতিক্রম ঘটলে সাংবাদিকরাই একতার বলে হলুদ সাংবাদিকতার বিপক্ষে ব্যবস্থা নিতে পারতেন। ফলে সিলেটে সৎ সাংবাদিকতার একটি আবহ তৈরী হয়ে গিয়েছিল। এতে সর্বমহলে সাংবাদিকরা শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। সর্বস্তরের মানুষ সাংবাদিকদের শ্রদ্ধা করত সমীহ করত। এখন সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতার কলেবর বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা এ পেশায় এসেছে। পারিশ্রমিকও বেড়েছে।

বীথি: দেশের উন্নয়নে সাংবাদিকরা কী ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: সাংবাদিক সমাজ একটি দেশের চতুর্থ রাষ্ট্র। দেশ এবং জাতির সকল উন্নয়নে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম।

বীথি: আপনার জীবনে এমন কোন ঘটনা আছে কী যা সাংবাদিকতায় পেশায় কাজ করতে এখনো আপনাকে উৎসাহ দেয়?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: সকল ঘটনাই আমাকে এ পেশায় উৎসাহ যোগায়।

বীথি: তরুণ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য আপনার পরামর্শ কী?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: তরুণ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য আমার পরামর্শ হল সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে। তাহলে খ্যাতি ও সফলতা দুটোই অর্জিত হবে।

বীথি: একজন সাংবাদিক হিসেবে আপনার স্বপ্নের কথা বলেন?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: সাংবাদিক হিসেবে আমি স্বপ্ন দেখি আমার দেশকে নিয়ে। সুখি, সুন্দর ও দূর্নীতিমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ।

বীথি: সাংবাদিকতা পেশায় এখন নারীরা এগিয়ে এসেছেন এ সর্ম্পকে আপনার অনুভুতি কী?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: সাংবাদিকতায় নারীরা এগিয়ে আসায় সমাজে লিঙ্গ বৈষম্য দূর হচ্ছে। এটি একটি শুভ লক্ষণ। তাদের প্রতি আমার শুভ কামনা থাকলো।

বীথি: একজন সাংবাদিকের কী কী গুন থাকা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: একজন সাংবাদিকের সততা, দায়িত্বশীলতা, কর্মদক্ষতা সময়ানুবর্তিতা, বিবেকবোধ ও দরদী মনোভাব ইত্যাদি গুনাবলী অবশ্যই থাকা উচিত।

বীথি: সিলেটে অতীতের কয়েকজন সাংবাদিকদের কথা বলেন যাদের নিয়ে আপনার গর্ববোধ হয় এবং বর্তমানে কয়েকজন সাংবাদিকদের কথা বলেন যাদের সম্ভবনা রয়েছে?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: সিলেটে অতীতের সাংবাদিকতদের মধ্যে মরহুম মহিউদ্দিন শিরু, মরহুম বোরহান উদ্দিন খান, আব্দুল মালিক চৌধুরী এবং আজিজ আহমদ সেলিমকে নিয়ে গর্ববোধ করি। বর্তমানে অনেকেরই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ আছে। তাদের প্রতি আমার শুভ কামনা।

বীথি: আমরা জানি কৃষিকাজ আপনার একটি প্রিয় বিষয়। কৃষিক্ষেত্রে আর কী পরিবর্তন আনা যায় এই বিষয় কিছু বলুন?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: কৃষিকাজে উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা দরকার। ক্যামিকেল সার পরিহার করে জৈব সার ব্যবহার করা প্রয়োজন। তাহলে কৃষি কাজে উন্নতি হবে। জমির উর্বরতা বাড়বে। এতে দেশ সমৃদ্ধ হবে।

বীথি: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোন স্মৃতি আছে কী?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান একটি অবরুদ্ধ কারাগার ছিলো, এই স্মৃতি আজো তাড়া করে। তাছাড়া একদিন পাকিস্তান সেনা বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা ক্যাপটেন জাবেদের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়ার স্মৃতি আজও মনে পড়ে।

বীথি: আমরা জানি আপনি শৈশব থেকেই লেখালেখির সাথে জড়িত ছিলেন। আপনার লেখালেখির সর্ম্পকে কিছু বলুন? প্রথম লেখা কী ছিলো এবং কত সালে?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: এমসি কলেজ থেকে ছাত্ররা ‘উশষী’ নামে একটি লিটল ম্যাগ বের করতো। আমার প্রথম লেখা এমসি কলেজের ‘উশষী’ ম্যাগাজিনে বের হয়েছিল। সেটি ছিলো ‘রূপকথা : আত্মকথা নয়” শিরোনামের একটি গল্প। ১৯৭২ সালে দিকে লেখা। এটি ছিলো আমার জীবনের প্রথম ছাপার অক্ষরের লেখা।

বীথি: লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং স্বপ্নের কথা বলেন?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: আমি বাকী জীবন লেখালেখি নিয়ে কাটাতে চাই। যদি মহান আল্লাহ তালা সুযোগ দেন। আমি ভালো লেখক হতে চাই।

বীথি: সিলেটের সাহিত্যচর্চাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: সিলেটের সাহিত্য চর্চায় উলেøখযোগ্য একটি দিক হচ্ছে এখন অনেক তরুণ তরুনী লেখালেখিতে এগিয়ে আসছে। এটি অনেক আশার কথা। আগের মত বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও সিলেটকে তারা একটি মর্যাদায় আসনে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে আমি ভরসা রাখি।

বীথি: বর্তমান সময়ে কী নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: বর্তমান সময়ে কিছু লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি। আসলে আগে সাংবাদিকতা ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে ভাবতাম না। এখন অবসর মূহুর্তে অনেক কিছু ভাবার সুযোগ হয়েছে।

বীথি: লেখালেখির জন্য কোন সময়টা বেছে নেন?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: লেখালেখির জন্য কোন নির্দিষ্ট সময় এখনও ঠিক করিনি। তবে কিছু লিখতে হলে এখন দিনের ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত সময়কে বেছে নিই।

বীথি: সিলেট এক্সপ্রেসের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ?
মুহম্মদ বশিরুদ্দিন: সিলেটের প্রথম অনলাইন পত্রিকা সিলেট এক্সপ্রেস ডট কমকে অনেক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।









আরোও ছবি

তারুণ্যদীপ্ত শাদা মনের মানুষ
সাংবাদিক সংগঠক বশিরুদ্দিন তারুণ্যদীপ্ত শাদা মনের মানুষ
সাংবাদিক সংগঠক বশিরুদ্দিন তারুণ্যদীপ্ত শাদা মনের মানুষ
সাংবাদিক সংগঠক বশিরুদ্দিন তারুণ্যদীপ্ত শাদা মনের মানুষ
সাংবাদিক সংগঠক বশিরুদ্দিন তারুণ্যদীপ্ত শাদা মনের মানুষ
সাংবাদিক সংগঠক বশিরুদ্দিন তারুণ্যদীপ্ত শাদা মনের মানুষ
সাংবাদিক সংগঠক বশিরুদ্দিন


   অন্য পত্রিকার সংবাদ  অভিজ্ঞতা  আইন-অপরাধ  আত্মজীবনি  আলোকিত মুখ  ইসলাম ও জীবন  ঈদ কেনাকাটা  উপন্যাস  এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল  কবিতা  খেলাধুলা  গল্প  ছড়া  দিবস  দূর্ঘটনা  নির্বাচন  প্রকৃতি পরিবেশ  প্রবাস  প্রশাসন  বিবিধ  বিশ্ববিদ্যালয়  ব্যক্তিত্ব  ব্যবসা-বাণিজ্য  মনের জানালা  মিডিয়া ওয়াচ  মুক্তিযুদ্ধ  যে কথা হয়নি বলা  রাজনীতি  শিক্ষা  সমসাময়ীক বিষয়  সমসাময়ীক লেখা  সমৃদ্ধ বাংলাদেশ  সাইক্লিং  সাক্ষাৎকার  সাফল্য  সার্ভিস ক্লাব  সাহিত্য-সংস্কৃতি  সিটি কর্পোরেশন  স্বাস্থ্য  স্মৃতি  হ য ব র ল  হরতাল-অবরোধ