19 Feb 2018 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 4 August 2016 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 3925) 

রম্য রচনা গল্প হলেও সত্যি


রম্য রচনা
গল্প হলেও সত্যি
     

হারান কান্তি সেন:
গেল শতাব্দীর সাত দশকের শেষের কোন এক বছর। সিলেট শহরে তখন ‘কমিউনিটি সেন্টার’ ব্যবসা শুরু হয়নি। আম্বরখানা কলোনী ৬ নম্বর (৬/ই) বিল্ডিংয়ের এ আর খান সাহেবেরে বড় মেয়ে নীলুর বিয়ে। ৬ নম্বর বিল্ডিংয়ের সামনে পূর্ব কর্ণারে প্যান্ডেল করা হলো। আমরা কলোনীবাসীর আনন্দ আর ধরে না। জকিগঞ্জ থেকে বর এসেছেন বরযাত্রীও সঙ্গে তিন/চার কুড়ি হবে। বরসহ সবাই প্যান্ডেলে বসেছেন। এদিকে চোরের নজর যেমন বোচকা’র (ব্যাগ-বাক্সের) দিকে থাকে তেমনি আমাদের দলের অনেকেরই নজর মিষ্টির বাক্সের দিকে। সিলেটে তখন থেকে মাত্র ক’বছর আগে শুরু হয়েছে বন্দরবাজার আলাইপট্টি আর ভার্থখলা মসজিদ মার্কেটের বাইরেও অমুক মিষ্টিঘর, তমুক মিষ্টিঘর ব্যবসা। কলোনীর বিভিন্ন বাসায় অতিথিরা যেখানে তখনকার জনপ্রিয় পাইনআপেল বিস্কুট নিয়ে আসতেন তারাও বিস্কুট ছেড়ে বেশ সুদৃশ্য বাক্সে মিষ্টি নিয়ে আসতে শুরু করছেন। প্রথম দিকে জিন্দাবাজার এলাকায় আম্বিয়া মিষ্টিঘর, মৌচাক মিষ্টিঘর, মোহনলাল আর আম্বরখানায় ছিল সন্তোষী মিষ্টিঘর।
তো বরপক্ষ সঙ্গে আরও অনেক বক্স-ডালা’র সাথে পৃথক পৃথক পাঁচ বক্স করে ১০ বক্স মৌচাক মিষ্টিঘরের মিষ্টিও এনেছেন। এদিকে বরপর এক মুরুব্বী আমাদের কলোনী ৭ নম্বর বিল্ডিংয়ের আলøা রাখাকে ওই মিষ্টিগুলো উপরে কনের বাসায় পৌঁছিয়ে দিতে বললে সে বেশ আগ্রহে মৌচাক মিষ্টিঘরের পাঁচ বক্স মিষ্টি নিয়ে উপরের দিকে উঠতে থাকে। সে চলে গেলে আমাদের বেশ চালাক এক বন্ধু বাকী পাঁচ প্যাকেট মিষ্টি নিয়ে ৬ নম্বরের তিন তলায় নীলু আপাদের (কনে) বাসায় না গিয়ে প্যান্ডেল থেকে বেরিয়ে গেটের সামনে গিয়ে বা দিকে ঢুকে প্যান্ডেল আড়াল করে ৬ নম্বর বিল্ডিংয়ের পিছন দিয়ে গেরিলা কায়দায় ৭ নম্বর দালানের শেষ মাথায় চলে যায়। ওখানে গিয়ে ওই বন্ধুটি সমবয়সী আরেকজনের সাহায্য নিয়ে খুব সাবধানে রশি বেঁধে পাঁচ প্যাকেট মিষ্টি ৭ নম্বরের ছাদে ওঠানো হয়। তারপর তো আমার ১০/১২ জন প্রথমেই দুই বাক্স মিষ্টি সাবাড় করি। বাকী থেকে গেল তিন বাক্স; শেষে আমাদের সিনিয়রদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ এসেও মিষ্টিতে ভাগ বসান। এবার অধিক মিঠায় যেমন পেট পাকায়, তেমন অবস্থা হলো আমাদের। অগত্যা সুনীল কাকুর বাসা থেকে কাচা মরিচ নিয়ে এলাম এবং ঝাল কাচা মরিচ খেয়ে আবারও মিষ্টি খাবার উৎসব চললো ও দিন বিকেল পর্যন্ত।
১৯৭৬ বা ৭৭ খ্রিষ্টাব্দের কথা। আমাদের গ্রামের এক লোক বিয়ে করতে গেছেন। বর ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের এবং সঙ্গত কারণেই রাতে বিয়ে। তো বরযাত্রীর দল জৈন্তায় কনের বাড়ির গেটে হাজির হয়েছে যখন-তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে তার উপর আবার শীতকাল। দ্রæত বরসহ সবাইকে অভ্যর্থনা জানিয়ে নির্ধারিত যায়গায় বসানো হলো। বর এমনিতে একজন দূর্বল চিত্তের লোক তার উপর বিয়ে করতে এসে সে একটু বেশি মাত্রায় নার্ভাস হয়ে পড়েছে! বিয়ে হতে আরো ঘণ্টা খানেক বাকী আছে জেনে তার ঘনিষ্ট বন্ধুকে বললো, দোস্ত আমারতো প্রচন্ড নি¤œ চাপ হচ্ছে, আমাকে তাড়াতাড়ি টাট্টিতে (পায়খানা) নিয়ে চল। কিন্তু বন্ধুটি কিছুতেই ভেবে উঠতে পারছে না যে, নতুন জামাইকে কিভাবে সে টাট্টিতে নিয়ে যাবে। এদিকে বর বেচারা ক্রমশঃ তাড়া দিতে লাগলো এবং বন্ধুকে এই বলে হুমকি দিল যে, তুই যদি এÿুনি একটা ব্যবস্থা না করিস তাহলে আমি এখানেই একটা দূর্ঘটনা ঘটায় ফেলতে পারি। অতঃপর বন্ধুটি বরকে নিয়ে বাথরুমের দিকে রওয়ানা হলো কিন্তু বাথরুমের কাছে গিয়ে দেখে ওখানে কে একজন বসে আছে। একে একে তিনটি বাথরুম ঘুরেও যখন কোন সিরিয়েল পাওয়া গেল না তখন বন্ধুটি বাধ্য হয়ে পকুর পাড়ে গাছের আড়ালে বরকে নিয়ে প্রাকৃতিক কাজ করতে বসিয়ে দেয়! এখন বন্ধুটি বরের এক চাচাত শ্যালিকার কাছে তার দুলাভাইয়ের জন্য একটি বদনা চায়। মেয়েটি তাকে একটু দাঁড়াতে বলে খুব দ্রæত এক বদনা পানি এনে দেয়। বন্ধুটি বদনা এনে দেখে বরও শুধু পানি খরচের অপেক্ষায় বসে আছে। এবার বর কোন মনে পানি খরচ করে শৌচকর্ম সেরে দেয় দৌড় এবং ডিসেম্বর মাসের কনকনে শীতে নতুন ধূতি পাঞ্জাবী পরেই পানিতে দেয় ঝাঁপ! এবার এ দৃশ্য দেখে বন্ধুটির তো আক্কেল গুড়–ম! সে বরকে বলে কিরে তুই পাগল হলি নাকি? তখন বর বলে আরে ব্যাটা কোন শ্যালির বেটি বদনার পানিতে মরিচের গুড়া মিশিয়ে দিয়েছে- বন্ধু আমার তো যায় যায় অবস্থা?

রম্য লেখক ও প্রাক্তন ডিস্ট্রিক্ট গভর্ণর-৪, এপেক্স বাংলাদেশ


Free Online Accounts Software