29 Jun 2017 : Sylhet, Bangladesh :

নিজাম উদ্দিন সালেহ-এর লেখা ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা একটি তথ্যবহুল গ্রন্থ

     

আজিজুল হক মানিক:
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক নিজাম উদ্দিন সালেহ-এর গ্রন্থ ‘ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা’ একটি তথ্যবহুল গ্রন্থ । প্রকাশক—শব্দকোষ প্রকাশনী, ১১/১ ইসলামী টাওয়ার(৬ষ্ঠতলা) বাংলাবাজার, ঢাকা_১১০০, মোবাইলঃ ০১৯১১৬৯১১৯৭ । প্রকাশকাল--ফেব্রূয়ারী ২০১৬ । মূল্য—১৫০.০০ টাকা ৷ উক্ত গ্রন্থে ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা সম্পর্কে বলা হয়েছে—বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যখন সৎ ও বস্তুনিষ্ট সাংবাদিকতা ভুলুন্ঠিত ও কোণঠাসা এবং সাংবাদিকদের একটি অংশ আত্মবিক্রিত এবং বিভিন্ন মহল ও কর্তৃপক্ষের তাবেদারিতে লিপ্ত, তখন ব্যক্তিগত সাংবাদিকতাই পারে দিশেহারা পাঠক তথা জনগণকে সঠিক তথ্য ও দিক নির্দেশনা দিতে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে ব্যক্তিগত সাংবাদিকতার সুতিকাগার ৷ সে দেশে ব্যক্তিগত তথা নাগরিক সাংবাদিকতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ৷ সমসাময়িককালে নাগরিক সাংবাদিকতা আন্দোলনের উত্থান ঘটে ১৯৮৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কাভারকৃত ঘটনাবলীর ব্যাপারে পূর্বাভাস নিয়ে সাংবাদিকদের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিলে ৷ যেসব সাংবাদিক জনগণের আন্দোলনের অংশ হয়েছিলেন, তারা প্রতিবাদ জানান সংবাদ মাধ্যমসমূহের উপর আস্থা ও বিশ্বাসের অবক্ষয় এবং ব্যাপক রাজনৈতিক ও নাগরিক সংক্রান্ত হেয়ালীর ৷
পরবর্তী সময়ে ২০০৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান উভয় রাজনৈতিক দলই নাগরিক ব্লগারদের কনভেনশন কাভারের জন্য পরিচয়পত্র ইস্যু করে ৷ এর ফলে অপ্রচলিত সাংবাদিকদের প্রভাব ও বিশ্বাসযোগ্যতার একটি নতুন লেভেল চিহ্নিত হয় ৷ কিছু ব্লগার প্রচলিত সাংবাদিকদের তৎপরতা, তাদের পক্ষপাত ও ক্রটির বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেন ৷ অনলাইন সাইটগুলো নিজ নিজ এলাকা থেকে স্থানীয় জনগণকে রিপোর্টিংয়ের আহবান জানায়, যারা সেসব বিষয়ের উপর রিপোর্ট করে যা প্রচলিত সংবাদপত্রগুলো এড়িয়ে যায় ৷ এভাবে তখন নাগরিক বা ব্যক্তিগত সাংবাদিকতার নতুন মাত্রা লাভ করে ৷
২০০৭ সালের ২৩ জানুয়ারি এক পোস্টের মাধ্যমে মার্কিন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হাওয়ার্ড ওয়েন্স ব্যক্তিগত সাংবাদিকতার ধারণা জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন ৷ প্রচলিত সাংবাদিকতায় রিপোর্টের প্রকাশ বা সম্প্রচার নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট মিডিয়ার ওপর, যা তৃতীয় পক্ষের দ্বারা যাচাইকৃত হয় ৷ সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা সংবাদপত্রের দ্বারা কঠোরভাবে সম্পাদনার বিষয়টিকে উপেক্ষা করে এবং অধিকতর ব্যক্তিগত পদক্ষেপকে অবলম্বন করে ৷ এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সাংবাদিক অর্থাৎ ব্যক্তি একটি ঘটনার মতোই গুরুত্বপূর্ণ ৷
সাংবাদিকতা হলো তথ্য ও সংবাদ সংগ্রহ, সৃষ্টি ও উপস্থাপনের কাজ ৷ এটি এ সমস্ত কাজেরই ফসল ৷ যেকোনো সচেতন মানুষই এটি করতে পারে ৷ কেউ চাইলে সামাজিক মিডিয়া, যেমনঃ ফেইসবুক, ব্লগ ও টুইটার ব্যবহার করে এটি করতে পারে ৷ এটি করার জন্য তাকে কোন পরিচয়পত্র বা চাকরি করার দরকার হয় না ৷ আর এধরণের সাংবাদিকতাকেই ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা বলে ৷ ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা মূলত সনাতন সাংবাদিকতার চেয়ে বেশি পরিমাণে ব্যক্তিগত অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার একটি এ্যাপ্রোচ যা একটি বিচ্ছিন্ন ধরণ এবং উদ্ধৃতি অথবা সত্য ঘটনার উপর নির্ভর করে করা করা হয় ৷ ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা সম্পাদনার বিষয়গুলো কঠোরভাবেই এড়িয়ে চলে যা প্রধানত সনাতন মাধ্যমে বেশ ভালোভাবেই মেনে চলা হয় ৷ সেকারণেই ব্যক্তিগত সাংবাদিকতায় ব্যক্তিত্বই প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয় ৷
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক নিজাম উদ্দিন সালেহ ১৯৫৭ সালের ২২ নভেম্বর সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার রাজাপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন ৷ ১৯৭৭ সালে সিলেট এম.সি কলেজে ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স পড়াকালীন সময়ে তার পূর্ণাঙ্গ কাব্যগ্রন্থ ‘সবুজের আগ্নেয় প্রপাত’ প্রকাশিত হয় ৷ ১৯৭৪ সালে ‘এইদেশ এই মাটি’ নামে তার একটি ছোট পুস্তক প্রকাশিত হয় ৷ মৌলিক ও অনুবাদ মিলিয়ে তার আরো অর্ধ-ডজন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে ৷ তার রচিত অনেক নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে এবং ‘স্বপ্ন পরবাসী’ নামক নাটক এ.টি.এন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হয় ৷ তিনি সিলেটের বিভিন্ন আঞ্চলিক দৈনিকে সাংবাদিকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন বিভিন্ন ইংরেজী মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন ৷ যুক্তরাজ্যের ইংরেজী সাপ্তাহিক ‘বাংলা মিরর’-এ তিনি সিলেট ব্যুরো চীফের দয়িত্ব পালন করেন ৷ বর্তমানে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক অনলাইন পত্রিকা ‘সিলেট মিরর’ এর নির্বাহী সম্পাদক এবং সিলেটের আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক জালালাবাদ-এর সহকারী সম্পাদক ৷ প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি আইন শাস্ত্রেও ডিগ্রি লাভ করেন ৷ বিভিন্ন সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংস্থা কর্তৃক তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন ৷
জনাব নিজাম উদ্দিন সালেহ এর ‘ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা’ গ্রন্থে অনেক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে ৷ তিনি নিউজ সিন্ডিকেটিং সম্পর্কে বলেন—একটি বিশেষ লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে কোন সংবাদ তৈরী এবং তা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে নিউজ সিন্ডিকেটিং ৷ এটি অনেকটা অর্থাৎ ব্যবসায়ী গ্রূপের সিন্ডিকেট ব্যবসার মতোই ৷ নিউজ সিন্ডিকেটিং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লক্ষ্য করা যায় ৷ অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকেরা পরিকল্পিতভাবে আবার কখনো সরকার বা কর্তৃপক্ষের প্ররোচনা বা প্রলোভনে এটি করা হয় ৷ অনেক ক্ষেত্রে মিডিয়া মালিকেরা সাংবাদিকদের দিয়ে এটি করিয়ে থাকে ৷ সৎ ও তথ্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতিমালার বিরুদ্ধে প্রচলিত সাংবাদিকতার এটি একটি বড়ো ধরনের অনাচার ৷ এ ধরনের সিন্ডিকেটেড নিউজ মিথ্যা হলে তা যে কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে ৷ সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ে এ ধরনের অনেক সিন্ডিকেটেড নিউজ লক্ষ্য করা গেছে ৷ এতে সাধারণ শেয়ার ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ৷ অনেক সময় হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন বড়ো ধরনের অপকর্ম ঢাকতে অনেক সংস্থাকে বানোয়াট বা সাজানো সিন্ডিকেটেড নিউজ প্রকাশ ও প্রচারের ব্যবস্থা করতে দেখা যায় ৷ জজ মিয়ার ঘটনা এবং সাগর-রুনীর নৃশংস হত্যাকান্ড নিয়ে এ ধরনের রিপোর্ট করতে দেখা গেছে ৷ অবশ্য সাগর-রুনীর পরিবার পরিজন ও কিছু নীতিবান সাংবাদিকের অনুরোধে এ ধরনের সংবাদ প্রচার বন্ধ করা হয় ৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, বাংলাদেশে নৃশংস হত্যাকান্ডসহ বহু বড় বড় অন্যায় ও অপকর্মের ঘটনায় এভাবে শেষ পর্যন্ত সিন্ডিকেটেড নিউজ অর্থাৎ সাজানো রিপোর্টের দরুণ প্রকৃত রহস্য ও সত্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়েছে, তালগোল পাকিয়ে হারিয়ে গেছে বিস্মৃতির আড়ালে ৷
যা-ই হোক, পাঠক তথা জনগণকে বিভ্রান্তকারী নিউজ সিন্ডিকেটিংয়ের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হাতিয়ার হচ্ছে ব্যক্তিগত সাংবাদিকতার ৷ কিছু স্বার্থান্বেষী, লোভী ও নীতিহীন সাংবাদিককে একত্রিত করা গেলেও সাধারণ জনগণকে একটি অপকর্মের উদ্দেশ্যে একত্র করা সম্ভব নয় ৷ তাই নাগরিক বা ব্যক্তিগত সাংবাদিকদের একজন ব্যর্থ হলেও অপরজন সত্য ঘটনা উপস্থাপনে সক্ষম হবে ৷ নাগরিক সাংবাদিকদের সবাইকে ভয় দেখিয়ে কিংবা প্রলুব্ধ করে মিথ্যা ও সাজানো স্টোরি বা রিপোর্ট লেখানোর কথা কল্পনাও করা যায় না ৷
সাংবাদিকতার বিকেন্দ্রীকরণ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য হচ্ছে—প্রচলিত মিডিয়াভিত্তিক সাংবাদিকতা এককেন্দ্রিক ৷ একক বা গোষ্ঠী মালিকানাধীন পত্রপত্রিকা বা টিভি চ্যানেলসমূহ একটি স্থান কিংবা নির্দিষ্ট কিছু স্থান থেকে গোটা জনগোষ্ঠীকে উপস্থাপন করে ৷ এতে প্রায়ই তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শসহ বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গী ও পছন্দ-অপছন্দ প্রকাশ পায় ৷ কিন্তু ব্যক্তিগত সাংবাদিকতায় এ ধরণের কেন্দ্রীয় শাসন ভেঙ্গে সাংবাদিকতার দায়িত্ব অর্পিত হয় এক সময়ের পাঠক সমাজের উপর ৷ এ ধরনে সাংবাদিকতায় যুক্ত হন সমাজ বা দেশের অগণিত জনগণ ৷ তাই এ ক্ষেত্রে কারো রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ এর ধরনের সাংবাদিকতার ওপর কোন প্রভাব বা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না ৷ সাংবাদিকতা হয়ে ওঠে এক ধরণের স্বৈরতান্ত্রিকতা ছেড়ে গণতান্ত্রিক ৷ কিছু লোকের হাতে ক্ষমতা পুঞ্জিভূত হলে স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার জন্ম হয় ৷ আর জনগণ ক্ষমতার মালিক হলে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সৃষ্টি হয় ৷
সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটিই ঘটে ৷ একটি এলাকায় দু একজন সাংবাদিক থাকায় সবাই তার দিকে তাকিয়ে থাকেন ৷ আর একটি মিডিয়া একজন বা দুজন বার্তা সম্পাদক বা সম্পাদক থাকায় তাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন সকল সাংবাদিক ৷ এভাবে সংখ্যাল্পতার কারণে গুটি কয়েক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা পুঞ্জিভূত হয়, অনেক ক্ষেত্রে তারা হয়ে ওঠেন স্বৈরাচারী ৷
সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিডব্যাকের ভূমিকা ও গুরুত্ব প্রসঙ্গে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন ৷ এ প্রসঙ্গে তিনি গ্রন্থে লিখেছেন—ফিডব্যাক সম্পর্কে মাইক্রোসফট এর বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্ব বিল গেটস বলেন, We all need people who will give us feed back . that’s how we improve . আমাদের সকলের সেই সব লোক প্রয়োজন যারা আমাদের ফিডব্যাক দেবে অর্থাৎ প্রতিক্রিয়া জানাবে আর এভাবেই আমরা উন্নতি করব ৷ ইয়াহু সোর্সের ব্যাখ্যা অনুসারে ফিডব্যাক হচ্ছে—
Feed back responses to an action or statement, which are collected and used to determine if any changes need to be made .So, helpful information or criticism that is given to say what can be done to improve his/her performance is called feed back .
( ফিডব্যাক বা প্রতিবার্তা হলো একটি কর্ম বা বক্তব্য যা কোন বক্তব্য নির্ধিরণ করতে সংগ্রহ করা হয় ও ব্যবহার করা হয় যদি সেই বক্তব্যে কোন পরিবর্তন দরকার তা বলে দেয় ৷ সুতরাং আশাবাদী কোন তথ্য বা সমালোচনা যা প্রতিবার্তা হিসেবে দেয়া হয় এই উদ্দেশ্যে যে ওই ব্যক্তি তার পারফরমেন্স আরও উন্নত করতে পারেই ৷ )
প্রকৃতপক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে এগুলোতে পোস্টকৃত সকল তথ্য, সংবাদ বা বিবৃতির ব্যাপারে তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন বা ফিডব্যাক পাওয়া যায় ৷ ব্যক্তিগত সাংবাদিক কোন ভুল তথ্য বা সংবাদ দিলে অথবা ভাষাগত ভুল করলে অন্যজন বা যে কোন পাঠক তৎক্ষণাৎ সত্য তথ্য বা সংবাদ তুলে ধরে তার ভুল তিনি শুধরে দিতে পারেন ৷ আর এভাবে সাংবাদিকতার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়, উন্নতি হয় তার কাজে ৷ প্রচলিত মিডিয়ার সাথে সোশ্যাল মিডিয়ার এটা একটি বড় পার্থক্য হচ্ছে প্রচলিত মিডিয়ার তথ্য সংবাদ বা অন্যান্য ক্ষেত্রে ভুল হতে পারে এবং প্রায়ই হয় ৷ এর প্রতিবাদ বা ভিন্নমত প্রকাশের পদ্ধতি যেমন জটিল তেমনি সময় সাপেক্ষ ৷ সংবাদপত্র বা টিভি চ্যানেলে কোন রিপোর্টার মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিলে নিয়মমাফিক লিখিতভাবে এ ব্যাপারে প্রতিবাদ বা ভিন্নমত দিতে হয় ৷ এরপর এ ব্যাপারে তদন্ত হয়, যাচাই হয় ৷ আর বার্তা সম্পাদক বা সম্পাদককে কনভিন্স বা সন্তুষ্ট করলে তবেই সেটা প্রকাশিত বা প্রচারিত হয় ৷ অনেক ক্ষেত্রে যখন প্রতিবাদ বা ভিন্ন অথবা সংশোধনী ছাপা বা সম্প্রচার হয়, তখন মূল খবরের কথা পাঠক শ্রোতারা ভুলে যান ৷ অথবা মূল নিউজ যেসব পাঠক পড়েন বা দর্শক-শ্রোতারা দেখেন ও শুনেন, তাদের সংশোধনীর সংশোধিত সঠিক খবরটি পড়ার সুযোগ হয় না ৷ এভাবে ফিডব্যাকের সুফল থেকে বঞ্চিত হয় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও মিডিয়া ৷ হারায় পাঠক ও দর্শক-শ্রোতার আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ৷
কিছুদিন আগে ফেইসবুকের জনৈক জনপ্রিয় ব্যবহারকারী একটি স্ট্যাটাসে লিখেন-‘অনেকে বাড়াবাড়ি করছেন ৷ এতে আমার কোন ক্ষতি হবে না ৷ আপনাদের পরিচয় উন্মোচিত হবে ৷ মনে রাখবেন, আমাদের ভাষা আমাদের পরিচয়বহন করে ৷’ প্রকৃত যারা লিখেন, ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা বা রিপোর্টিং করেন, তাদেরকে নিজ দায়িত্বেই সতর্কতার সাথে তা করতে হবে, কারণ এর সম্পাদনাকারী লেখক বা সাংবাদিক নিজেই ৷ জনসমক্ষে প্রকাশিত বা প্রচারিত হলে এর ভুল ক্রটি ও ব্যর্থতার দায় তাকেই বহন করতে হবে ৷ বলা যায়, ব্যক্তিগত সাংবাদিকতার গতিশীলতা ও গ্রহণযোগ্যতার জন্য ফিডব্যাক অন্যতম চাবিকাঠি ৷ আর এভাবে গঠনমূলক সমালোচনা বা ফিডব্যাক ব্যক্তিগত সাংবাদিকতাকে সব সময় পরিশুদ্ধ ও বস্তুনিষ্ঠ রাখতে সহায়তা করে, সহায়তা করে সঠিক ও সুষ্ঠুপথে পরিচালিত হতে ৷
২০০৭ সালের মে মাসে ফেইসবুক এর ডেভেলপারদের প্লাটফর্ম তৃতীয় পক্ষ ডেভেলপারদের কাছে খুলে দেয় অ্যাপ্লিকেশন তৈরীর জন্য ৷ ২০০৮ সালের মে মাসে ফেইসবুক ইঞ্জিনিয়ারের ফেইসবুক কানেক্ট বা যোগাযোগ ঘোষণা করেন যা একটি ক্রসসাইট উদ্যোগ, যা ব্যবহারকারীদের তৃতীয় পক্ষ পার্টনার সাইটসমূহের তাদের ফেইসবুক নিউজ ফিডে তাদের ইন্টারেকশন বা মিথস্ক্রিয়া প্রকাশের সুযোগ করে দেয় ৷ বর্তমানে ফেইসবুক সাইটটি বিশ্বের ৩৭ টি ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে ৷
জনাব নিজাম উদ্দিন সালেহ তার গ্রন্থে ব্যক্তিগত সাংবাদিকতার কিছু চমৎকার উদাহরণ উপস্থাপন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সাংবাদিকতার ধরন কী হওয়া উচিত, তা ব্যাখ্যা করেছেন ৷
গ্রন্থে যে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে—(১)ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা কী ও কেন ? (২) নাগরিক, জনগণ না ব্যক্তিগত সাংবাদিক ?(৩) সমসাময়িক বিশ্বে ব্যক্তিগত সাংবাদিকতার ভূমিকা (৪) ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা, অনলাইন ও ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা (৫) সাংবাদিকতার সাথে অন্যান্য লেখালেখির তফাত (৬) ‘বিষস্য বিষম ঔষধম’ (৭) প্রচলিত মিডিয়ার সীমাবদ্ধতা, প্রতিবন্ধকতা ও সোশ্যাল মিডিয়া (৮) নিউজ সিন্ডিকেটিং (৯) মতামতের গণতন্ত্রায়ণ (১০) সাবজেক্টিভ—অবজেক্টিভ ফ্যাক্টর (১১) সংবাদের উৎস হিসেবে ব্যক্তিগত সাংবাদিকতার প্রয়োগ (১২) প্রচলিত মিডিয়ার রিপোর্টের উন্নতিতে ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা (১৩)বাংলাদেশের প্রচলিত মিডিয়ায় ব্যক্তিগত সাংবাদিকতার প্রভাব (১৪) ফেইসবুকের ব্যক্তিগত রিপোর্টারেরা কি ইনফরমার বা নিছক তথ্য প্রদানকারী (১৫) ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা কি একটি পেশা ? (১৬) সাংবাদিকদের জন্য ফেইসবুকের নতুন সুবিধা ‘সিগন্যাল’ (১৭) প্রচলিত মিডিয়ার পেশাদার সাংবাদিক বনাম ব্যক্তিগত সাংবাদিক (১৮) সাংবাদিকতার বিকেন্দ্রীকরণ (১৯) ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা (২০) উইকিলিকসঃ সাংবাদিকতায় ভিন্নতার দাবিদার (২১) সাংবাদিকতার জন্য গুগলের নতুন সুবিধা (২২) ফেইসবুকের ব্যবহার—অপব্যবহার (২৩) ফেসবুক না ফেইসবুক ? (২৪)’লাইক’ ও ‘কমেন্ট’ অপশন প্রসঙ্গ (২৫) গঠনমূলক সমালোচনা (২৬) ব্যক্তিগত সাংবাদিকতায় আর্থিক লাভালাভ (২৭) বাংলাদেশে ব্যক্তিগত সাংবাদিকতার শুরু (২৮) ব্যক্তিগত বা নাগরিক সাংবাদিকতা মূলধারার সাংবাদিকতার প্রতিদ্বন্দ্বী ? (২৯) অনলাইন পোর্টালের সংবাদ এখন ফেইসবুকে (৩০) মূলধারার সাংবাদিকতা ও ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা (৩১)ইম্বেডেড বা চুক্তিবদ্ধ সাংবাদিকতা (৩২) ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত সাংবাদিকদের করণীয় (৩৩) তথ্য প্রবাহঃ আদিকাল থেকে বর্তমান যুগ (৩৪) ব্যক্তিগত রিপোর্টিংয়ে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সমন্বয় (৩৫) ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা কি প্রচলিত মিডিয়ার ভুলক্রটি শোধরাতে সক্ষম ? (৩৬) ফরাসী বিপ্লবে বিশ্বকোষের ভূমিকা (৩৭) সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিডব্যাক (৩৮) ব্লগ (৩৯) ব্লগের আদি ইতিহাস (৪০) জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ফেইসবুক (৪১) ব্যক্তিগত সাংবাদিকতার চমৎকার উদাহরণ ৷
যারা সাংবাদিক তাদের জন্য এ গ্রন্থটি পড়া উচিৎ ৷ কারণ এ গ্রন্থ পড়লে সাংবাদিকতার পূর্ণ তথ্য জানা যায় ৷ জনাব নিজাম উদ্দিন সালেহ এর লেখা এ গ্রন্থ সাংবাদিকতার জন্য একটি তথ্যবহুল গ্রন্থ ৷

|

   অন্য পত্রিকার সংবাদ  অভিজ্ঞতা  আইন-অপরাধ  আত্মজীবনি  আলোকিত মুখ  ইসলাম ও জীবন  ঈদ কেনাকাটা  উপন্যাস  এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল  কবিতা  খেলাধুলা  গল্প  ছড়া  দিবস  দূর্ঘটনা  নির্বাচন  প্রকৃতি পরিবেশ  প্রবাস  প্রশাসন  বিবিধ  বিশ্ববিদ্যালয়  ব্যক্তিত্ব  ব্যবসা-বাণিজ্য  মনের জানালা  মিডিয়া ওয়াচ  মুক্তিযুদ্ধ  যে কথা হয়নি বলা  রাজনীতি  শিক্ষা  সমসাময়ীক বিষয়  সমসাময়ীক লেখা  সমৃদ্ধ বাংলাদেশ  সাইক্লিং  সাক্ষাৎকার  সাফল্য  সার্ভিস ক্লাব  সাহিত্য-সংস্কৃতি  সিটি কর্পোরেশন  স্বাস্থ্য  স্মৃতি  হ য ব র ল  হরতাল-অবরোধ