26 Sep 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 25 May 2016 মিডিয়া ওয়াচ  (পঠিত : 4211) 

কানাইঘাটে ১৫টি গ্রামবাসীর চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলেছে প্রভাবশালী ব্যক্তি


কানাইঘাটে ১৫টি গ্রামবাসীর চলাচলের 
রাস্তা কেটে ফেলেছে প্রভাবশালী ব্যক্তি
     

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: কানাইঘাটে প্রায় ১৫টি গ্রামবাসীর চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি কেটে ফেলেছে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। ফলে ওই এলাকার লোকজনদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী কানাইঘাট উপজেলার ঝিংগাবাড়ি ইউনিয়নের হরসিংমাটি, দলইমাটি, কোনাগ্রাম, মিরমাটি ও চারিগ্রামের লোকজন গতকাল বুধবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এলাকাবাসীর পক্ষে শিব্বির আহমদ চৌধুরী।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কানাইঘাট বোরহান উদ্দীন সড়ক থেকে সংযোগ হয়ে উপর ঝিঙগাবাড়ি সড়কটি পাকিস্তান আমলে ১৯৪৫ সনে প্রায় ৭০ বছর পূর্বে নির্মিত হয়। ৭৫০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১০/১২ ফুট প্রস্থ এই সড়কটি আমাদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। পরবর্তীতে তৎকালীন সর্বজন মনোনীত চেয়ারম্যান মরহুম সমছুল হক সড়কটি সংস্কারের জন্য সরকারি অনুদান দেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঝিংগাবাড়ি ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুল হক ও মরহুম চেয়ারম্যান বশিরুল হক চৌধুরী রাস্তাটির উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যান। একইভাবে সাবেক চেয়ারম্যান সাবেক চেয়ারম্যান ছইফ উলøাহ উক্ত রাস্তায় সরকারি অনুদানে মাটি কাটার কাজ করান। কিন্তু অতি সম্প্রতি চারিগ্রামের বাসিন্দা মরহুম আব্দুস সালামের পুত্র এলাকার ভ‚মিখেকো হিসেবে পরিচিত ফজলুল বাসিত বিলাল কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি রাতের আঁধারে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে কেটে ফেলেছে।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, গত ১৮ মে এলাকার মানুষ প্রতি দিনের মতো রাতের খাওয়াদাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। ওইদিন ভোরে ফজরের নামাজে যাওয়ার পথে লোকজন দেখতে পান প্রায় তিন থেকে চারশ মানুষ অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সড়কটি কেটে ফেলছে। প্রত্যেকের হাতে কোদাল এবং দেশীয় অস্ত্র ছিল। এমতাবস্থায় খবর পেয়ে এলাকার মানুষ একত্রিত হয়ে প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। কিন্তু বাধা দিতে গেলে নির্ঘাত সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটবে বুঝতে পেরে এলাকার মুরব্বিয়ান যুব সমাজসহ সবাইকে নিভৃত থাকার পরামর্শ দেন। মুরব্বিদের কথা মতো এলাকার মানুষ সংযত থাকেন। ততÿণে বিলালের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা পুরো রাস্তাটি কেটে ফেলে দ্রæত চলে যায়। পরবর্তীতে এলাকার লোকজন উক্ত সড়ক পুননির্মাণ করে জনগণের চলাচলের উপযোগী করে দিতে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেন এবং এলাকাবাসীর পক্ষ নুরুজ্জামান চৌধুরী বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় ঘটনার সাথে জড়িতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ৭। এ নিয়ে আমরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে সড়কটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে দাবি জানিয়ে আসছি।
সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসী জানান, ২০০৮ সালে উক্ত রাস্তায় সরকারি অর্থে মাটি ভরাটের কাজ চলাকালে এই ফজলুল বাসিত বিলাল রাস্তাটি তার নিজস্ব ভ‚মির উপর স্থাপিত দাবি করে উন্নয়ন কাজে বাধা দেয়। পরবর্তীতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিলাল সিলেটের জজ আদালতে একটি স্বত্ব মোকদ্দমা দায়ের করে। মামলায় তৎকালীন সিলেটের জেলা প্রশাসক, কানাইঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এলাকার খয়রুল ইসলাম. তমিজ উদ্দিন চৌধুরী ও মোস্তাক আহমদ চৌধুরী সহ ১৪ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে আসামি করে। আদালত ২০১১ সনে গ্রামবাসীর পক্ষ উক্ত মামলার রায় প্রদান করেন। কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে বিলাল পুনরায় আপিল করলে আদালত ২০১৫ সালের ২৮ অক্টোবর পূর্বের রায় বহাল রাখেন। এই রায়ের বিরুদ্ধেও সে আদালতে আপিল করেছে। বর্তমানে সেটি বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিলাল গত ১৮ মে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে রাস্তাটি কেটে ফেলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। রাস্তাটি কেটে ফেলায় স্কুল পড়–য়া ছাত্রছাত্রীসহ এলাকার লোকজনকে কাদার উপর দিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। এতে মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসী অবিলম্বে এই সড়কটি পুননির্মাণ করে মানুষের চলাচলের উপযোগী করে দেয়ার আহবান জানান এবং বিলালের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশিøষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ সময় এলাকার প্রায় অর্ধশত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।