18 Jan 2018 : Sylhet, Bangladesh :

6 March 2016 অভিজ্ঞতা  (পঠিত : 2419) 

শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ

শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ
   

Riyad Ahmed এর লিখা।   রঙের বাড়ই   পাতা থেকে

 

গাইবান্ধা: জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পলাশবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি সহায়ক পাঠ্যপুস্তকের (গাইড বই) একটি তালিকা করে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণী শিক্ষার্থীদের হাতে ধরিয়ে দেয় চলতি বছরের শুরুর দিকে। এরপর সেই তালিকা অনুযায়ী গাইড বই কিনতে বাধ্য করা হয় তাদের।

বর্তমান সরকার বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ব্যাকরণ, বিজ্ঞানসহ পাঠ্যসূচি অনুযায়ী সব ধরনের বই জানুয়ারি মাসে সরবরাহ করলেও শিক্ষকদের চাপে সেসব বইয়ের সহায়ক বই কিনতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সরবরাহ গাইড বইয়ের তালিকায় দেখা যায়, সহায়ক বইয়ের জন্য পুথিনিলয় ও সংসদ প্রকাশনী ও শহরের ২টি লাইব্রেরির নাম উল্লেখ করে দেয়া আছে, যেখান থেকে ওইসব বই কিনতে বলা হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। এতে হাজার হাজার টাকা গুণতে হচ্ছে অভিভাবকদের।

মোটা অংকের বিনিময়ে ওইসব প্রকাশনী ও লাইব্রেরির নাম বইয়ের তালিকায় সংযোজন করা হয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র নিশ্চিত করেছে। পুস্তক তালিকার নাম অনুযায়ী লাইব্রেরিগুলোতে সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৬ষ্ঠ শ্রেণির একসেট সহায়ক বই ১ হাজার ৫৭০ টাকা, ৭ম শ্রেণির ১ হাজার ৬৭০ টাকা, ৮ম শ্রেণির ১ হাজার ৯৭০ টাকা, ৯ম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার ৩ হাজার ৭শ টাকা ও মানবিক শাখার ৩ হাজার ৪শ টাকা লাগছে।

এদিকে সকল শ্রেণির সব বইয়ের সেট ছাড়া পৃথকভাবে কোন বই বিক্রি করছেন না বিক্রেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায়, সে এবার জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিবে। তাই সহায়ক বইগুলো কিনতে স্কুল থেকে বলা হয়েছে। এতে পরীক্ষায় কমন পাওয়ার কথা জানিয়েছে তার স্কুল শিক্ষক। এজন্যই তাকে বইগুলো কিনতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, সহায়ক বইয়ের নামে শিক্ষার্থীদের গাইড কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব সহায়ক বই আদৌ কোন প্রয়োজন আছে কি না, জানা নেই তার। ৬ষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া ছেলের একসেট বই কিনতে হাজারের উপরে টাকা লাগছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ছেলেকে কিনতে বলেছে, তাই কিনে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি।

অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক চলতি বছরের শুরুর দিকে বই কিনতে ব্যর্থ হলে স্কুলে তাদের ছেলে মেয়েদের নানা ভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গাছে। তারা বাধ্য হয়েই ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই গাইড বই কিনে দিয়েছেন।

তবে শিক্ষকরা এ অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের ভালোর জন্যই এটা করছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।


Free Online Accounts Software