22 Nov 2017 : Sylhet, Bangladesh :

20 February 2016 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 3026) 

একজন মাশরাফির ভক্ত

একজন মাশরাফির ভক্ত
     

তাসলিমা খানম বীথি:
১.অনেকক্ষণ থেকে ছেলেটি মাশরাফি বইটি হাতে নিয়ে স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ছে। ছেলেটি মেলায় আসছে তার বড় খালার সাথে। হঠাৎ তাকে পাশে দেখতে না পেয়ে তার বড় খালা খুঁজতে থাকে। অবশেষে পেয়ে গেলো মাশরাফি স্টলের সামনে। ‘কীতাবে তুই ওখানোনি, তরে কুজরাম, তুই দেখি মাশরাফির বইয়ের প্রেমে পড়ে গেছিস’। ছেলেটি তার খালাকে বলে ‘ওবাওগো আরোকটু পড়িলাই। খুব পড়তে ইচ্ছা করের। ছেলেটির পড়ার আগ্রহ দেখে তার খালা তখন স্টলের ছেলেদের সাথে কথা বলে বইটি প্রাইজ কত জিজ্ঞাসা করে। দাম শুনে বলল ‘তাক বই কেনার দরকার নাই।’ ছেলেটি বলল ঠিক আছে মেলা যতক্ষণ আছি বইটা পড়িলাই।
২.ছেলেটি আবার বইটি হাতে নিয়ে আগের জায়গা দাঁড়িয়েই পড়তে লাগলো। ছেলেটির অজান্তেই এর ফাঁকেই স্টলের তরুন ছেলেরা তার ছবি তোলে ‘সিলেট অমর একুশে বইমেলায় ‘মাশরাফি’ লাইক পেইজে আপলোড করে দেয়। পেইজে স্ট্যাটাসটি হলো---লোকটার নাম জানা হয়নি। তৃতীয় ও শেষ দিনের শুরু থেকেই স্টলের সামনে তাঁর আনাগোনা। মন্ত্র জপার মত স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে যাচ্ছেন একটানা। দেখে মনে হয় ছাত্র মানুষ, হয়ত বইয়ের দামটা সাথে নেই। তবে মাশরাফির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পাচ্ছে মশার কামড় খেয়ে দাঁড়িয়ে থেকে মন্ত্রমুগ্ধের মত দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের লেখনী পড়ার মাধ্যমে!
মাশরাফি মানেই, উন্মাদনা!
একটানা আড়াই ঘণ্টা স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছিলেন। কিছুক্ষণ পর জানতে পারি, তাঁর নাম জালাল আবেদিন। পড়ছেন সিলেট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণিতে। নিজ আগ্রহেই জানালেন, স্টলে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে তিনিই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি সময় বইটি ঘেঁটেছেন। মুগ্ধ হয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিলাম আমরা। তাঁর পড়ার ধরণই পরিচয় দেয় তাঁর পড়ুয়া স্বভাবের। জানালেন,
অপ্রস্তুতভাবে মেলায় এসেছেন তাই তিনশো টাকা ঘাটতি, তা না হলে মাশরাফিকে বাসায়ই নিয়ে যেতেন। মাশরাফিকে নিয়ে উন্মাদনা বাড়িয়ে তুলতেই বিসিএসএ-এর সর্বোপরি চেষ্টা।
অতঃপর মাশরাফি আর ক্রিকেট পাগল জালালকে আমরা উপহার দেই মাশরাফি বইটি।
জালালদের এমন দারুণ গল্প সৃষ্টির জন্যই বুঝি পৃথিবীতে আগমন ঘটেছিল মাশরাফির!
পুরো বই পড়া তো যাবে না তাই যতটুকু পড়েছে ততটুকু শেষ করে বইটি ফেরত দিয়ে ছেলেটি স্টলের ছেলেদেরকে ধন্যবাদ জানায়। তখন স্টলের ছেলেরা সবাই মিলে তাকে ঘিরে ধরে ছবি তোলবে বলে, তার নাম জিজ্ঞাসা করে। তখন ছেলেটি বলে তার নাম মো: জালাল আবেদিন। তারা বলে তার মত করে আর কেউ বইটি প্রতি আগ্রহ দেখাইনি। ছবি তোলার পরে জালাল চলে যাবার সময় একজন তাকে ডেকে বলল, জালাল শুন তুমি কী বইটি কিনবে? কীনব তবে দাম বেশি তো আমার কাছে এত টাকা নাই। তুমি কত দিতে পারবে। তখন জালাল বলে আমি ২০০টাকা দিতে পারব। স্টলের সবাই তখন বলে ঠিক আছে। তখন জালাল তার বড় খালার কাছ থেকে ২০০টা নিয়ে বইটি কিনে। বইটির মূল্য ছিলো ৬৭৫ টাকা। তবে ডিসকান্ট করে তারা বইটি বিক্রি করছিল ৫০০ টাকা দিয়ে। জালালের মাশরাফির প্রতি প্রেম দেখে বই পড়া আগ্রহ দেখে। স্টলের ছেলেরা তাকে ২০০ টাকা দিয়ে বাকিটা গিফট বলে বইটি তার হাতে তুলে দিয়ে তখন সবাই ক্যামেরা ক্লিকে বন্দী হয় তাকে নিয়ে।
৩. সেই বই প্রেমিক ছেলেটি হলো আমার বড় আপার বড় ছেলে মো: জালাল আবেদিন। ইন্টার ফাস্টইয়ারে অধ্যয়ন করছে। সিলেটে প্রথম আলো বন্ধুসভা আয়োজিত তিনদিন ব্যাপী বইমেলা সমাপনী সন্ধ্যায় জালালকে নিয়ে আমি যাই শহীদ মিনারে।
স্টল-বিসিএসএ। স্টল নং ০৯। স্টলে ছিলো- দেলোয়ার, সিয়াম, জাহেদ, তায়েফ, আফজাল, রায়হান, আশরাফ, কাওসার ও জুবায়ের। বাংলাদেশ ক্রিকেট সার্পোটার্স এসোসিয়েশন। ইভেন্ট- সিলেট অমর একুশে বইমেলা মাশরাফি।
৪. সিলেটে প্রথম আলো বন্ধুসভা আয়োজিত তিনদিন ব্যাপী বইমেলা বৃহস্পতিবার শেষ হয়। গত মঙ্গলবার সকালে বইমেলা উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত লেখক-সাংবাদিক আনিসুল হক। বইমেলার স্পনসর প্রতিষ্ঠান রোটারিয়ান মিজানুর রহমানের মালিকানাধীন সিলেট মডেল লাইব্রেরি।


Free Online Accounts Software