23 Nov 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 12 January 2016 ব্যক্তিত্ব  (পঠিত : 2366) 

স্মৃতিতে অম্লান -মোঃ আজাদ মিয়া

 
স্মৃতিতে অম্লান -মোঃ আজাদ মিয়া
     

এম. আমিনুল ইসলাম
আজ ১৩ই জানুয়ারী, ২০১৬
আজ থেকে এক বছর আগে এই দিনে আমার বাবা মোঃ আজাদ মিয়া হঠাৎ স্ট্রোক করে চলে যান না ফেরার দেশে। বাবার আদর স্নেহ ভালবাসা থেকে আজ আমি বঞ্চিত। বাবার মতো কেউ আর আমাকে অনেক বড় হয়ে উঠার উৎসাহ দেয় না। কেউ আদর করে জানতে চায় না, “পরীক্ষা ভালা অইছেনি বাবা?” বাবার মতো কেউ আর আমাকে আদর করে কাছে ডাকে না। কেউ আর ফোন করে জিজ্ঞেস করে না, “চলার মতো টাকা পকেটে আছে তো বাবা?”
মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে - যে বাবা এতটা বছর আমাকে কোলের কাছে আগলে রেখেছেন, তিনি আজ বেঁচে নেই। আমাকে ঘিরে কত স্বপ্নই না দেখেছেন বাবা। এই অভাব অনটনের সংসারেও ছেলেটাকে লেখাপড়া শিখিয়ে বড় অফিসার বানানোর বড় স্বাদ ছিল বাবার। তাই রোদ-বৃষ্টি, ঝড় ঝঞ্জা উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করে তাঁর কষ্টার্জিত টাকায় আমাকে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন। রোজ রোজ উৎসাহ দিয়েছেন বড় হয়ে ওঠার। আজ বড় বড় প্রভাষক অধ্যাপকদের ক্লাস করেও যে মোটিভেশন আমি পাইনি তার চেয়েও অনেক বেশি মোটিভেশন পেয়েছি বাবার দেওয়া উৎসাহে। সেই সাথে রেখেছিলেন আমাকে কঠিন শাসনে। ছোট বেলার ঐ কঠিন শাসনের মাঝেও কি ভীষণ ভালবাসা ছিল তখন না বুঝলেও এখন বুঝি।
সেদিন ছোট্ট বোনটি জানিয়েছে বাবা অসুস্থ। অসুখ তেমন কিছু নয়। ঔষধ খেয়েছেন, অসুখ সেরেও গেছে অনেকটা। আর বাবার যে অসুখ, তা মরে যাওয়ার মতো অসুখ নয়! আমি কয়েকদিন আগে মাত্র দেখে এসেছি। সেদিন ও বাড়ী থেকে ফোন আসছে, বাবা সুস্থ্য আছেন আমাকে একনজর দেখতে চান।














বাড়ী ফিরে সুস্থ্য মানুষটাকে দেখতে গিয়ে দেখি ওঠোন ভর্তি মানুষ, বাবা চোখ বুজে শুয়ে আছেন। সারা শরীর সাদা কাপড়ে ঢাকা। দেখি, আমার ঐ প্রিয় মানুষটাকে কেউ আর নাম ধরে আজাদ বা আমিনুলের বাবা বলে ডাকে না। একের পর এক মানুষ আসে, এসে বলে ‘লাশ দেখাও’। আমি বুঝতে পারিনি আমাকে ঘিরে বাবার এত স্বপ্ন এত স্বাদ-অহ্লাদ পূরণ হওয়ার আগেই বাবা আমাকে ছেড়ে চলে যাবেন। আমি গর্বিত এই জন্য যে, এমন আদর্শবান বাবা পেয়েছিলাম। বাবার রেখে যাওয়া আদর্শ আজ আমার চলার পথের পাথেয়। বাবা কে উৎসর্গ করে আমার লেখা ‘বাবা আমার’ কবিতার কিছু অংশ -
“বাবা তুমি প্রেরণা আমার আত্মবিশ্বাসের উৎস
সকলেই করেছে হেয় জ্ঞান, করেছো তোমারই প্রিয় বৎস।
দিয়েছো উপদেশ, “মানুষের মত মানুষ তোকে হতে হবে বাবা”
বুঝিনি এই অমুল্য বাণী, ছিলাম এতই হাবা।
নির্বোধ বলে সবাই যখন নাক ছিট্কাতো পাছে,
কেবল তুমিই জানতে অসীম প্রতিভা আমার মাঝে ও আছে।
তাই, দিয়েছো উৎসাহ ঘুরে দাঁড়াবার, সাহস যুগিয়েছো বুকে,
বলেছো, “বাঁচার মত বাঁচতে চাইলে কে আছে তোকে রুখে?”
নিজে না পড়ে পড়িয়েছো আমায়, খাইয়েছো না খেয়ে,
ভাবিনি কখন ও এমনটি হবে এমন অসময়ে।
বলেছিল সবাই থাকবে পাশে রাখবে হৃদয় জুড়ে,
দেখছি এখন সবাই নিজের স্বার্থেরই পিছু ঘুরে।
খোঁজ খবরটাও নেই গেছে ভুলেই একটু ও রাখেনি মনে,
চাই না থাকতে তাদের আশায় আর অপেক্ষার প্রহর গুণে।
কথা দিয়ে কথায় ফুলঝুড়ি সকলেই ফুটাতে পারে,
সময় এলে হায়! কেহ কাহারই পাশেও থাকে না রে।
আজ বাবা আমি ভীষণ একা, কেউ থাকেনি পাশে,
তোমার প্রেরণাতেই যাব এগিয়ে থাকবো না কারো আশে।
তোমার রেখে যাওয়া দায়িত্বগুলো করবই আমি পালন,
এতে যদি যায় চলে যাক, তুচ্ছ আমার এ জীবন।
স্রষ্টার কাছে করি প্রার্থনা, তুলে এ দু’টি হাত,
দিওনা গো কষ্ট এমন বাবাকে হে খোদা, দান কর জান্নাত।”

- লেখক: প্রভাষক, সিলেট আইডিয়াল কলেজ।


Free Online Accounts Software