“সবুজের শহর সিলেটে সবুজের বাহন সাইকেল চলুক অবিরাম”
   21 Oct 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 5 December 2015 সাইক্লিং  (পঠিত : 2734) 

“সবুজের শহর সিলেটে সবুজের বাহন সাইকেল চলুক অবিরাম”

“সবুজের শহর সিলেটে সবুজের বাহন
 সাইকেল চলুক অবিরাম”
     


রাফিদুল ইসলাম চৌধুরী: সাইক্লিং এর শুরুটা তার অনেকটা হঠাৎ করেই। ২০১২ সালের শেষের দিকে, তার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে উপহার পান একটি এন্ট্রি লেভেল মাউন্টেন বাইক। সাইকেল লাইফ এক্সক্লুসিভ থেকে কেনা সেই কয়োটি র্ব্যান্ডের সাইকেলটি দিয়েই মোটামুটি তার এখনকার আগ্রহ সাইক্লিং এর শুরু।
এরপরে তার পরিচয় হয় কিছু অসাধারণ মানুষের সাথে, Where the trail ends, Life Cycles, Strength in Numbers এর মতন কিছু ডকুমেন্টরি, Premium Rush এর মতন কিছু মুভি দেখে সাইক্লিংয়ের প্রতি আগ্রহটা আরও বেড়ে যায় তার। তবে সাইক্লিংকে সিরিয়াসভাবে নেবার পেছনে সবচাইতে বড় অবদান যদি কারো থাকে তাহলে তা ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ “বিডিসাইক্লিস্টস” এর বলে তার দাবি! সাইকেল সম্পর্কে জানা, বিভিন্ন রাইড, ঢাকা কিংবা সিলেটে যানবাহন হিসেবে সাইকেলকে বেছে নেয়া সর্বপরি কিছু অসাধারণ মানুষের সাথে পরিচয় তার এই গ্রুপ থেকেই! সেজন্যই বিডিসাইক্লিস্টস (সবাই আদর করে ডাকে বিডিসি)এর প্রতি তার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই!
পাঠকরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কার কথা বলছি। হ্যা বলছি সিলেটের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক সাইক্লিং গ্রুপ সাস্টিয়ান সাইক্লিস্টের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং প্রধান উদ্যোক্তা শাহরিয়ার রহমানের কথা। শাহরিয়ার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রকৌশল ও চা প্রযুক্তি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। তিনি ভালবাসেন সাইক্লিং করতে, গান শুনতে, গিটার বাজাতে এবং মুভি দেখতে।
সিলেটে সাইক্লিংয়ের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পেছনে যাদের অবদান তাদের মধ্যে প্রথমেই আসবে শাহরিয়ার রহমানের নাম। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন সিলেটে একটি কমিউনিটি ভিত্তিক সাইক্লিং গ্রুপের। তার সেই স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে। আজ সিলেটে শত শত নয় হাজার হাজার সাইক্লিস্ট। যে স্বপ্ন তিনি একদিন দেখতেন যে তিনি রাইডে যাবেন তার সাথে আসবে আরো অনেকেই। সেটা আজ বাস্তবে রুপ নিয়েছে। তার এই উদ্যোগে আজ সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে সিলেট শহর সাইক্লিং সিটি সিলেট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
সাইকেলে শাহরিয়ার এখন পর্যন্ত অনেক স্থানে ভ্রমণ করেছেন। সাইকেল ভ্রমণে কোন ভ্রমণটি তার কাছে অনেক প্রিয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ গত আড়াই বছরে হাজার হাজার কিলোমিটার সাইক্লিং-এর মাঝে সবচাইতে প্রিয় ভ্রমণটি বেছে নেয়া অসম্ভব। বেশ কিছু রাইডের কথা চলে আসবে তাতে। প্রথমেই আসবে ২০১৪ সালের জানুয়ারির কথা। ঢাকা থেকে চালিয়ে মানিকগঞ্জ, পাবনা হয়ে আমার গ্রামে বাড়ি সিরাজগঞ্জে চলে গিয়েছিলাম, বাবাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে! দুদিনে প্রায় আড়াইশো কিলোমিটারের উপরে চালিয়েছিলাম সেবার! আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ, মশিউর ভাই এই রাইডে আমার সাথে ছিলেন।”
শাহরিয়ার এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ ১৮৬ কিলো চালিয়েছেন। সেই ভ্রমণটি তার কাছে অত্যন্ত আনন্দের। সেই রাইডে তিনি এবং তার সঙ্গীরা সিলেটের চার জেলাকে স্পর্শ করেছিলেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল সিলেটের গোবিন্দগঞ্জ হয়ে চার জেলার কোনো একটা অংশ স্পর্শ করে শেরপুর হয়ে সিলেটে ফিরে আসবেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী দূরত্ব ছিল ১২০ কিলোমিটার। কিন্তু শেরপুর আসার পর সবাই মত পরিবর্তন করে মৌলভীবাজার যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই রাইডে তার অন্য সঙ্গীরা ছিলেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির লেকাচারার রাজীব হাসান, সাস্টিয়ান সাইক্লিস্টের সাবেক সঞ্চালক সাইফুর রনি, সাস্টিয়ান সাইক্লিস্টের সাবেক সঞ্চালক রাহিকুল ইসলাম। সেই রাইডে তারা মৌলভীবাজার থেকে রাজনগর হয়ে ফেন্সুগঞ্জ হয়ে সিলেটে ফিরে আসেন। সাইফুর রনি ১৮৩ এবং তিনি ১৮৬ কিলো পাড়ি পাড়ি দেন সেদিন। রাজিব এবং রাহিক যথাক্রমে ২০১ এবং ২১৫ কিলো পাড়ি জমান। তাছাড়া তার ২য় সর্বোচ্চ ১৬৫ কিলো ছিলো তার কাছে অনেক রোমাঞ্চকর। ঢাকা থেকে হবিগঞ্জের মাধবপুর পর্যন্ত একাই সাইকেলে করে আসেন। পরে রাহিক এবং হবিগঞ্জ সাইক্লিস্টের সঞ্চালক সোহান তার সঙ্গে মিলিত হন। সেই দিন সাতছড়ি বনেও সাইকেলে ঢু মেরে আসেন। তাছাড়া তার জীবনের প্রথম ১০০ কিলো+ রাইডটিও তার কাছে অনেক স্মরণীয়। উত্তরার সাইক্লিং গ্রুপ ডিএনসির (ঢাকা নর্দান সাইক্লিস্ট) সাথে সেবার মুন্সিগঞ্জের কাছাকাছি গিয়েছিলেন। এছাড়া নিজেদের সাইক্লিং গ্রুপ সাস্টিয়ান সাইক্লিস্টের সাথে সিলেট- জাফলং রাইড, প্রিয় মানুষ অজ ওঋ(মঞ্জুর আহমেদ আরিফ)-এর সাথে সিলেট-মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল-সিলেট রাইড, তন্ময়ের সাথে সিলেট-বিয়ানীবাজার-সিলেট রাইডও ছিল তার কাছে অনেক আনন্দের!
সাস্টিয়ান সাইক্লিস্টের উদ্যোগে আয়োজিত সাইকেল রেস প্রতিযোগিতাটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এজন্য সাস্টিয়ান সাইক্লিস্টের সকল মেম্বারসহ সিলেটের সকলকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
শুরুর দিকের সাইক্লিং এবং বর্তমান সাইক্লিংয়ের প্রেক্ষাপট কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সব নতুন ট্রেন্ডের মতনই শুরুর দিকে সাইক্লিংও অনেক দুঃসাধ্য ছিল। মানুষের নানারকম হাসি ঠাট্টার পাত্র হয়েছি আমিসহ শুরুর দিককার সবাই। যে পরিমাণ গালিগালাজ আর কটুক্তি আমাদের করা হয়েছে, কথা দিয়ে মানুষ খুন করা গেলে আজ কারোই আমাদের বেচে থাকবার কথা নয়! গত আড়াই বছরে সাইক্লিং শুরু করার পরে সবচাইতে বেশি চাওয়া ছিল সিলেটে সাইক্লিস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি। সে উদ্দেশ্যেই সাস্টিয়ান সাইক্লিস্ট গ্রুপের যাত্রা শুরু। অনেক অনেক স্মৃতি জড়িয়ে এই গ্রুপটার সাথে। কত কত বাইক ফ্রাইডে, বিগিনিয়ারস লেসন, কত কত আনঅফিসিয়াল রাইড! আজ যখন শহরের মাঝে কোথাও হেলমেট গ্লাভস পরে অপরিচিত একজন লোককে সাইকেল চালাতে দেখি, গর্বে বুকটা আধহাত ফুলে যায়! যখন আমাদের কাছেই সাইকেল চালাতে শেখা কোন বন্ধু আমার পাশে শত শত কিলোমিটার রাইড দিয়ে ফেলে, আনন্দের কোন সীমা থাকে না। যখন ৬৫০ এরও বেশি মানুষ মিলে, সকল সাইক্লিং গ্রুপ একসাথে হয়ে স্বাধীনতা দিবস রাইড সফলভাবে সম্পন্ন হয়, ভুলে যাই সকল মানুষের সব রকম কটুক্তি!”
সাইক্লিং নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে তিনি ঠোটের কোনে এক চিলতে মুচকি হাসি ফুটিয়ে বলেন, “সাইক্লিং নিয়ে আড়াই বছর আগে যা চিন্তা করতাম বর্তমানে তা ভোগ করছি। একসময় বাইক ফ্রাইডে অথবা আন অফিসিয়াল কোনো রাইডেতে এক আরেকজনকে ফোন করে নিয়ে আসতাম। কিন্তু এখন কাউকে ফোন করে নিয়ে আসতে হয়না। ৬.৪৫ যদি রিপোর্টিং টাইম থাকে অনেকেই রিপোর্টিং টাইমের পূর্বে নির্দিষ্ট স্থানে চলে আসে রাইডে অংশগ্রহণের জন্য। যা দেখে সত্যিই মনটা আনন্দে ভরে যায়।”
শাহরিয়ার বিশ্বাস করেন ভালোর কখনই শেষ নেই। তাইতো তিনি চান সিলেটে আরও অনেক অনেক সাইক্লিস্ট হোক, সবরকমের ব্র্যান্ডের দোকান তাদের বিক্রয়কেন্দ্র খুলুক, সাইকেলের সার্ভিস সেন্টার আরো বাড়ুুক, সাইক্লিস্টদের জন্য নিরাপদ করে তোলা হোক রাস্তাকে, সব যায়গায় সাইকেল পার্কিং এর জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা করা হোক এ সকল সাইক্লিস্টের প্রত্যাশা! তিনি চান সবুজের শহর সিলেটে সবুজের বাহন সাইকেল চলুক অবিরাম!

আরোও ছবি

“সবুজের শহর সিলেটে সবুজের বাহন
 সাইকেল চলুক অবিরাম”
“সবুজের শহর সিলেটে সবুজের বাহন
 সাইকেল চলুক অবিরাম”
“সবুজের শহর সিলেটে সবুজের বাহন
 সাইকেল চলুক অবিরাম”
“সবুজের শহর সিলেটে সবুজের বাহন
 সাইকেল চলুক অবিরাম”
“সবুজের শহর সিলেটে সবুজের বাহন
 সাইকেল চলুক অবিরাম”

Free Online Accounts Software