25 Nov 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 15 November 2015 সমসাময়ীক লেখা  (পঠিত : 1276) 

মা হারানোর কষ্ট

     

সালেহ রাশেদ

ভোর।হিমেল হাওয়ায় পুরো শহর টইটম্বুর।

সূর্য ও প্রতিদিপনের ন্যায় পুবদিকে উঁকি

দিয়ে হাসার প্রাক্টিস করছে।গাছের

ডালে ডালে বসে সু-মধুর গান শোনাচ্ছে

রং বেরঙের পাখিরা।তারপরও ভালো

লাগছে না একেবারেই ভালো লাগছে না

কোন কিছু।রাতে ঘুমাতে পারি নি

আকাশের গর্জনে বাতাসের

তর্জনে,সকাল শুরু হলো একটু ব্যতিক্রম

অবস্তায়। কে যেনো ব্যথার রশি দিয়ে

বেঁধে দিয়েছে পুরো শরীর।আমাকে আজ

স্কুলেও আসতে হচ্ছে খুব প্রভাতে।নাস্তা

সেরে তাড়াহুড়া করে স্কুলের পথে পা

বাড়ালাম।গাড়ীতে উঠলাম,গড়ীতে

অনেক যাত্রীর মধ্যে একজন ভদ্র মহিলাও

ছিলেন।চোখে তাঁর অশ্রু মুখে বেদনার

চিহ্ন। পুরো শরীর যেনো ক্লান্ত ক্ষেত।

চুপিচুপি কান্নার আওয়াজ ও শোনা

যাচ্ছে।সময় চলছে আপন গতিতে আর ঐ

ভদ্র মহিলার বেদনা বাড়ছে ধাপে ধাপে

বেদনার গভীরতা ছুয়ে গেলো আমাকে।

তাঁর বাস্পরুদ্ধ কান্নায় বাতাস যেন

শহরিত। নীল আকাশে সাদা মেঘের

ভেলাও ব্যথিত হয়েছিলো তাঁর ব্যথায়।

সকালটি যেনো মলিম।

গাড়ীতে ও নেমে এলো শোকের ছায়া।

তাঁর দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে

থাকলেন গাড়ীর সব যাত্রী। আমিও

অপলক! কিছুক্ষণ পর জিগ্যেস করেই

ফেল্লাম আপু আপনার কী হয়েছে?একথা

বলার সাথে সাথেই যেনো ঐ মহিলার

বেদনার বাঁধ ভেঙে গেলো। ব্যাকুলতার

সাগরে হাবুডুবু খেতে লাগলেন তিনি,

অনেক সময় পর ব্যথা মাখা উচ্ছারণে

'আমার মা মারা গেছেন'। তখন আমারও

বেদনার সাগর উতলে উঠলো।পুরো শরীর

ঝিমঝিমিয়ে দু চোখে অশ্রুর ঝরণা

প্রবাহিত হতে লাগলো নিজের

অজান্তেই।নি:শব্দ ও ব্যথিত অবস্তায়

লক্ষ পানে এসে গাড়ী থেকে নামলাম।

তখন আমার বেদনা থেকে রচিত হলো

একটি প্রার্থনা -পৃথিবীতে যেনো আর

কারও মা মৃত্যুবরণ না করেন। কিন্তু

এমনটি কী হয়?

জননীরা মৃত্যুবরণ করেন এবং বারবার

জীবন ডুবে যায় বেদনার পুকুরে।


Free Online Accounts Software