রাতারগুলঃ এক অনিন্দ্য সুন্দর প্রকৃতি।
   21 Oct 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 31 August 2015 সমসাময়ীক লেখা  (পঠিত : 3474) 

রাতারগুলঃ এক অনিন্দ্য সুন্দর প্রকৃতি।

রাতারগুলঃ
এক অনিন্দ্য সুন্দর প্রকৃতি।
     

মোহাম্মদ রুহুল আমিন
রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট। বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট এবং বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। অনেকের কাছে এটি "সিলেটের সুন্দরবন" নামেও পরিচিত। কেননা Mangrove বনের সাথে বেশ মিল রয়েছে এ বনের। কেউ কেউ আবার এটাকে বাংলাদেশের Amazon ও বলে থাকেন। এই অরণ্য বছরে ৪-৬ মাস পানির নিচে থাকে। তবে জলে কোমর কিংবা গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বনের গাছগুলো দেখতে পর্যটকেরা ভিড় জমায় বেশী বর্ষার মওসুমে। তখন অবশ্য ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় করে চলাফেরা করতে হয়।
সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নে রাতারগুলের অবস্থান হলেও সিলেট শহর থেকে এটি মাত্র ২৬ কিলোমিটার দুরে। শহরের দরগা গেইট হতে বিমান বন্দর সড়ক ধরে এগিয়ে ধোপাগোল পয়েন্ট থেকে পূর্বদিকে কয়েক মাইল এগোলেই নয়নাভিরাম রাতারগুল পৌছা যায়। আবার সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের হরিপুর হয়েও যাওয়া সম্ভব। রাতারগুলের মোট আয়তন ৩৩২৫ একর।এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্য প্রাণী অভয়ারন্য হিসেবে ঘোষনা করা হয়।
বাংলাদেশের সব বন থেকে রাতারগুল একেবারেই আলাদা। ঘন গাছের সারি। কিন্তু গাছগুলোর নিচের অনেকটাই ডুবে আছে পানিতে। গাছের মধ্যে করচ আর হিজলই বেশী। এখানে শত শত গাছ এমনও রয়েছে যেগুলির বয়স শত বছরেরও বেশী। অসংখ্য বিরল প্রজাতির গাছও রয়েছে। তবে রাতারগুলের বেশ বড় একটা অংশে বানিজ্যিকভাবে মুর্তা গাছ লাগিয়েছে বন বিভাগ। এ মুর্তা দিয়েই তৈরী হয় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শীতল পাটি।
অনিন্দ্য সুন্দর বিশাল এ বনের গাছ-গাছালির বেশীরভাগ অংশই বছরের চার থেকে ছয় মাস থাকে পানির নিচে। কোন কোন গাছের অর্ধেক পর্যন্ত ডুবে আছে পানির নিচে। তুলনামূলক ছোট গাছেরা আবার দুই তৃতীয়াংশই পানির নিচে। কোথাও চোখে পড়বে মাছ ধরার জাল পেতেছে জেলেরা। ঘন হয়ে জন্মানো গাছ-পালার কারণে কেমন অন্ধকার লগবে পুরো বনটা। শোন-শান নিরবতার করণে অনেক সময় ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। তাই দলবদ্ধ ভাবেই ভ্রমন করা উচিৎ। মাঝে মধ্যেই গাছের ডাল পালা আটকে দেবে পথ। হাত দিয়ে ঐগুলো সরিয়ে তৈরী করতে হবে পথ। চলতে হবে খুব সাবধানে। কারণ রাতারগুলে রয়েছে বিষাক্ত সাপের আনাগোনা। এ ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পোকামাকড় আর জোঁক, যেগুলি খুবই বিষাক্ত। বনের ভেতর বেড়ায় মেছোবাগ, বানর, বন-বিড়াল, কাঠ-বিড়ালী, বেজি, শিয়াল সহ নানা প্রজাতির বন্য প্রানী। টেংরা, খলিশা, রিটা, পাবদা, আইড়, কাল-বাউস, রুই সহ আরো অনেক জাতের মাছ পাবেন এখানে। এখানে আছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এসবের মধ্যে মাছরাঙা, নানান রঙ্গের বক, ফিঙে, বালি হাঁস, পানকৌড়ি ইত্যাদি।
রাতারগুলের মূল সৌন্দর্য বর্ষাকালেই ফুটে ওঠে। তখনই পর্যটকদের আগমন ঘটে সবচেয়ে বেশী। আবার শীত মওসুমে ভিন্ন রূপ ধারণ করে এ বন। পানি কমার সাথে সাথে জেগে ওঠে মুর্তা ও জালি-বেতের বাগান। সে সৌন্দর্য আবার অন্য রকম। তখন বনের ভেতরের ছোট নালাগুলি পরিণত হয় পায়ে চলার পথে। সে পথ দিয়ে হেঁটে অনায়াসে ঘুরে বেড়ানো যায়।
সম্প্রতি রাতারগুলের মধ্যখানে নির্মাণ করা হয়েছে সু-উচ্চ Watch Tower. যা রাতারগুলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক গুন। টাওয়ারের চুড়ায় উঠে সমগ্র রাতারগলের নৈসর্গিক পরিবেশ উপভোগ করা যায় এক জায়গায় দাঁড়িয়ে।

রাতারগুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য লেখায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই বনের সুধা নিতে হলে যেতে হবে সেখানে। দুর্লভ প্রজাতির গাছ-গাছালি, জীব-জন্তু আর স্বচ্ছ মিষ্টি পানি মিলে রাতারগুলের নৈসর্গিক পরিবেশ মহান স্রস্টা আল্লাহ রাব্বুল আ'লামীন যেন নিজ হাতেই তৈরী করে দিয়েছেন।

আরোও ছবি

রাতারগুলঃ
এক অনিন্দ্য সুন্দর প্রকৃতি।
রাতারগুলঃ
এক অনিন্দ্য সুন্দর প্রকৃতি।

লেখক মেলা  এর অন্যান্য লিখাঃ

21 October 2017  অংকে আমি কাঁচা

20 October 2017  প্রিয়তমা

20 October 2017  আমার মা

12 October 2017  পরপারে তুমি উত্তীর্ণ হও

10 October 2017  কেন তুমি চলে গেলে


Free Online Accounts Software