20 Jan 2018 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 19 May 2015 দিবস  (পঠিত : 2247) 

কৈতর সিলেটের উদ্যোগে বরাক উপত্যকার শহীদ ভাষাসৈনিকদের স্মরণে আলোচনাসভা

কৈতর সিলেটের উদ্যোগে বরাক উপত্যকার শহীদ ভাষাসৈনিকদের স্মরণে আলোচনাসভা
     




দিলøীর জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের বিশিষ্ট গবেষক ড. দেবারতি বাগচী বলেছেন, আসামের বরাক উপত্যকার ভাষা আন্দোলন ছিলো বাংলাভাষার মর্যাদা রÿায় একটি ঐতিহাসিক জাগরন। আসাম রাজ্যের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা করতে চেয়েছিলো তৎকালীন আসাম সরকার। আসাম সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিবাদ ছিলো এই আন্দোলনের মূল লÿ্য। এ আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী জনসংখ্যার বেশিরভাগ ছিলেন বাংলাভাষী। বরাক উপত্যকায় বাংলাভাষী জনসংখ্যা খুব বেশি। এজন্য ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় আসামের বাঙ্গালীরা বিশেষ অবদান রেখেছেন এবং এ বিষয়ে বরাক উপত্যকাবাসীদের বিশেষ সচেতনতা রয়েছে। কৈতর সিলেটের উদ্যোগে বরাক উপত্যকার শহীদ ভাষাসৈনিকদের স্মরণে ‘১৯ মে: বাঙ্গালীর গৌরবের এক উজ্জ্বল দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
গতকাল মঙ্গলবার নগরীর দরগাহ গেইটস্থ দেশের অন্যতম প্রাচীন সাহিত্য প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর কÿে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কৈতর সিলেটের চেয়ারম্যান গল্পকার সেলিম আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, সিলেট-এর পরীÿা নিয়ন্ত্রক গবেষক প্রফেসর নন্দলাল শর্মা, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেট-এর সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী।
সাহিত্য সংসদের আজীবন সদস্য কবি মামুন হোসেন বিলালের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক মানিক, ভাষাসৈনিক মতিন উদ্দিন জাদুঘর, সিলেট-এর পরিচালক ডা. মো¯Íফা শাহজামান চৌধুরী বাহার, টেলিভিশন সাংবাদিক ইউনিয়ন, সিলেট-এর সভাপতি ইকরামুল কবির, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব সভাপতি কবি মুহিত চৌধুরী, বিশিষ্ট কলামিস্ট কবি বেলাল আহমদ চৌধুরী, অধ্যÿ কবি বাছিত ইবনে হাবীব। কবি আব্দুল আজিজ জাফরানের পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আহমদ চৌধুরী এবং অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন কবি শায়খ তাজুল ইসলাম আউয়াল মহলী, কবি আমিনা শহীদ চৌধুরী মান্না, কবি উম্মে সুমাইয়া তাজবিন নীলা, কবি কানিজ আমেনা কুদ্দুছ, কবি আব্দুস শহিদ মাটি, কবি জান্নাতুল শুভ্রা মনি, কবি তাসলিমা খানম বীথি, কবি নাঈমা চৌধুরী, কবি জালাল আহমদ জয়, কবি সৈয়দ মুক্তদা হামিদ, কবি আব্দুল কাদির জীবন প্রমুখ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর নন্দলাল শর্মা বলেন, বাংলা ভাষার জন্য বরাক উপত্যকার ভাষা আন্দোলনে যে ১১ জন শহীদ হয়েছিলেন তাদের আত্মার শান্তি কামনা করি। প্রায় ৫০ বছর পরও সেই শহীদদের নিয়ে আমরা আলোচনা করতে বসেছি। আমাদের একুশের ভাষা আন্দোলন ও বরাক উপত্যকার ভাষা আন্দোলনের মধ্যে কিছুটা মিল ও অমিল রয়েছে। পাকি¯Íানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে এবং বরাক উপত্যকায়ও জোরপূর্বক অসমিয়াকে রাজ্যভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার জন্যে উভয় অঞ্চলের বাঙ্গালী আত্মাহুতি দিয়েছিলেন।
সাংবাদিক ইকরামুল কবির বলেন, ১৯ মে আসলেই একটি মহান আত্মত্যাগের দিন। আমরা বছরের ৩৬৫দিনই বিভিন্ন দিবস পালন করি। কিন্তু এই দিনের কথা প্রায় অনেকেই জানেনা। ভাষা আন্দোলনের এই দিনসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিনের কথা আমরা ভুলতে বসেছি। আমরা যদি আমাদের ত্যাগ ও আত্মহুতির দিনগুলিকে সবার সামনে তুলে ধরি তবে একদিন এই দিনগুলিকে জাতীয়ভাবে পালন করা হবে এবং আমরা বারবার উজ্জীবিত হবো।
সভাপতির বক্তব্যে গল্পকার সেলিম আউয়াল বলেন, বরাক উপত্যকার ভাষা আন্দোলনের ১১ জন শহীদের মধ্যে ৯জন বাংলাদেশের এবং এরমধ্যে ৭জনই ছিলেন সিলেটের বাসিন্দা। বাংলা ভাষা আন্দোলনের সুতিকাগার আমাদের সাহিত্য সংসদ। এই সংসদেই ভাষা আন্দোলনের প্রথম সভা হয়েছিলো। বরাক উপত্যকার ভাষা আন্দোলন নিয়ে কথা বললে আমাদের একুশের মর্যাদার কোনভাবেই ¤øান হবেনা। বরাকের ভাষাসৈনিকরাও স্বীকার করেছেন, আসামের বরাক উপত্যকায় বাংলা ভাষার অধিকার রÿার সংগ্রামের মূল প্রেরণা ছিলো বাংলাদেশের একুশের সংগ্রাম।

আরোও ছবি

কৈতর সিলেটের উদ্যোগে বরাক উপত্যকার শহীদ ভাষাসৈনিকদের স্মরণে আলোচনাসভা
কৈতর সিলেটের উদ্যোগে বরাক উপত্যকার শহীদ ভাষাসৈনিকদের স্মরণে আলোচনাসভা
কৈতর সিলেটের উদ্যোগে বরাক উপত্যকার শহীদ ভাষাসৈনিকদের স্মরণে আলোচনাসভা
কৈতর সিলেটের উদ্যোগে বরাক উপত্যকার শহীদ ভাষাসৈনিকদের স্মরণে আলোচনাসভা
কৈতর সিলেটের উদ্যোগে বরাক উপত্যকার শহীদ ভাষাসৈনিকদের স্মরণে আলোচনাসভা

Free Online Accounts Software