21 Jan 2018 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 3 May 2015 দিবস  (পঠিত : 786) 

“শ্রমজীবী জনগনের চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে সচেতন জনগোষ্ঠীকে অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে” ...........অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন

“শ্রমজীবী জনগনের চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে সচেতন 
জনগোষ্ঠীকে অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে” ...........অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন
     

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেছেন শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন ব্যাপক জনগনের সচেতনতা, আদর্শিক চেতনা ও গুনগত মানসম্পন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা। দ্রুততর গতিতে এগিয়ে চলা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরকেও এগিয়ে যেতে হবে। সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশের সার্বিক মুক্তি অর্জন এদেশের মানুষের পক্ষেই সম্ভব। যে কোন বিবেচনাতেই আমরা এগিয়ে চলেছি। আমাদের এগিয়ে যাওয়ার গতিকে কেউ রূদ্ধ করতে পারবে না। আমাদের চূড়ান্ত বিজয় অনিবার্য। শ্রমজীবী-কর্মজীবী-পেশাজীবী জনগনের চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে সচেতন জনগোষ্ঠীকে অগ্রনী ভ‚মিকা পালন করতে হবে।
মে দিবস উপলক্ষে জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশ, সিলেট জেলা শাখা আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি একথা বলেন।
সিলেট জেলা শ্রমিক জোটের সমন্বয়ক, জাসদ’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লোকমান আহমদ’র সভাপতিত্বে শ্রমিক জোট সংগঠক, জাসদ নেতা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের পরিচালনায় শুক্রবার রাত ৮টায় সিলেট নজরুল একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বিশ্বপরিমন্ডলে নানান পরিবর্তন সাধনের ফলে শোষকের চেহারার পরিবর্তন হলেও শোষন বন্ধ হয়নি। শোষক আর শোষিতের লড়াই চলছে অবিরাম। শোষকগোষ্ঠীর সকল অপকৌশলের শিকড় উপড়ে ফেলে শোষিতের বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের লড়াই চলছে, চলবে। বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই, সংগ্রাম, যুদ্ধ চলতে থাকবেই। নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তুলতে মে দিবসের শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। মে দিবসের মাধ্যমে যা সূচিত হয়েছে, চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে এ দিনটিকে সফল ও সার্থক করে তুলতে হবে।
আলোচনা সভায় অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, বাঙ্গালী বীরের জাতি। রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে, সশস্ত্র লড়াই, যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন বাঙ্গালী জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। বাঙ্গালী জাতির স্বাধীন ও সার্বভৌম ভ‚মি অবশ্যই হতে হবে কলংকমুক্ত। স্বাধীনতা বিরোধী-যুদ্ধাপরাধী অপশক্তিকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করতেই হবে। বাঙ্গালী জাতির আর্শীবাদ হিসেবে আর্বিভ‚ত বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। বার বার জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও তিনি তাঁর আপোষহীন কর্মপ্রচেষ্টা দৃঢ়তার সাথে অব্যাহত রেখেছেন। সমগ্র জাতিকে একাত্তুরের ন্যায় বজ্রকঠিন শপথে বলীয়ান হয়ে ১৪দল, মহাজোটের ঐক্যের পরিসর আরো বৃদ্ধি করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাঐক্য গড়ে তুলতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম তরান্বিত করতে, বিচারের রায় কার্যকর করতে সুদৃঢ় জাতীয় মহাঐক্যের কোন বিকল্প নেই।
তিনি বলেন বাঙ্গালী জাতি তথা বাংলাদেশের জনগনের ভবিষ্যত অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে নতুন প্রজন্ম অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে এখন অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। প্রগতির পতাকা হাতে তারা এগিয়ে যেতে চায়। সুদৃঢ় আদর্শিক বলিষ্ট নেতৃত্ব জাতির জন্য অনিবার্য। এ শূন্যতা অবশ্যই পূরণ করতে হবে। সকল গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল, দেশপ্রেমিক, রাজনৈতিক, সামাজিক শক্তিসমূহকে এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আজকের মহান মে দিবসে আমাদের সকলের এ লক্ষ্যেই গৃহীত হোক বজ্রশপথ।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, যথাক্রমে গনতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্যারিষ্টার আরশ আলী, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, নারী নেত্রী শামীম আখতার, প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ড. নেসার আহমদ কায়সার, সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রীয় নেতা, জেলা সম্পাদক কমরেড ধীরেন সিংহ, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক কে. এ. কিবরিয়া চৌধুরী, শ্রমিক নেতা এ.বি.সিদ্দিক, ওয়ার্কাস পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা সম্পাদক কমরেড সিকান্দর আলী, মহানগর ন্যাপ সভাপতি মোঃ ইছাক আলী, জেলা বাসদ সমন্বয়ক কমরেড আবু জাফর, জেলা গনতন্ত্রী পার্টির সম্পাদক মোঃ আরিফ মিয়া, অ্যধাপক শামীমা চৌধুরী, নারী নেত্রী সুফিয়া বেগম, নারী নেত্রী বেগম কায়সার, জেলা জাসদ নেতা আলাউদ্দিন আহমদ মুক্তা, আব্দুল হাছিব চৌধুরী, আব্দুদ দাইয়ান, সোলেমান আহমদ, আহমেদুল কিবরিয়া বকুল, হুমায়ুন কবির, কবি আব্দুল বাসিত মোহাম্মদ, সাবেক ব্যাংকার অম্বরীষ দত্ত, নাট্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আমিনুল ইসলাম চৌধুরী লিটন, শামসুল বাসিত শেরো, মাহবুব এলাহী, বজলুর রহমান বাবুল, আরব আলী, প্রমূখ।


Free Online Accounts Software