23 Aug 2017 : Sylhet, Bangladesh :

ঘুরে এলাম মেঘ পাহাড়ের দেশ শিলং

ঘুরে এলাম মেঘ পাহাড়ের দেশ শিলং
     

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল:
মেঘ পাহাড়ের দেশ শিলং আমাদের কাছে গল্পের মতো। এই শহরকে দেখার শখ আমার অনেক দিনের। ছোটোবেলা শিলংয়ের অনেক গল্প শুনেছি। আমাদের অনেক পূর্বপুরুষের কর্মস্থল ছিল এই শিলং। অনেকের আবার ছাত্রজীবন কেটেছে শিলংয়ের মাটিতে। এক সময়কার আধুনিক শিক্ষাগ্রহণ, সরকারি চাকুরি এবং ব্যবসাবাণিজ্যের জন্য আমাদের অনেক স্বজন শিলংয়ে অবস্থান করতেন। শিলংয়ে সিলেটের অনেকের আত্মীয়তা ও বসতবাড়ি ছিল। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে শিলংয়ের সমাজচিত্র নিয়ে আমাদের পূর্বপুরুষ আবদুল মালিক চৌধুরী রচনা করেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রাচীন উপন্যাস ‘পরদেশী’। পরবর্তীতে আমার সম্পাদনায় ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে এই গ্রন্থের নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়। ‘পরদেশী’ একটি সামাজিক উপন্যাস। ‘পরদেশী’ উপন্যাসে আবদুল মালিক চৌধুরী খাসিয়া জীবনের এক আলেখ্য অঙ্কন করার চেষ্টা করেছেন। খাসিয়াদের সামাজিক অবস্থান, রীতিনীতি, সংস্কৃতি, ধর্ম, নারীর অবস্থান, সংস্কার-কুসংস্কার প্রভৃতি বিবৃত হয়েছে উপন্যাসের সর্বত্র। উল্লেখ্য, প্রথম জীবনে আবদুল মালিক চৌধুরী শিলংয়ে এক খাসিয়া রমণীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। সে সম্পর্কের তিন কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছিল। তারা হলেন এমরিলদা, নসিলদা ও প্লিনিস। এখনও তাদের পরবর্তী প্রজন্ম শিলংয়ে বসবাস করছে এবং শিক্ষা, চাকুরি ও রাজনীতির ক্ষেত্রে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। অবশ্য আবদুল মালিক চৌধুরীর সঙ্গে খাসিয়া সেই রমণীর সম্পর্কচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল।
‘পরদেশী’ একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ‘স্বপ্নের ঘোর’ নামে এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল। এর দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে ‘পরদেশী’ নামে এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। উপন্যাসের নায়ক আফতাব আহমদ মুসলমান এবং নায়িকা কা তিউ খাসিয়া খ্রিস্টান। আফতাব আহমদ শিলংয়ে কেরানির চাকুরি করতো। সেই সুবাদে খাসিয়াদের শস্য সুজন্মার জন্য সাংবৎসরিক উৎসব ‘নংক্রেম নাচ’ দেখতে যায়। সেখানেই কা তিউকে প্রথম দর্শনেই ভালোবেসে ফেলে আফতাব। পথিমধ্যেই তাদের পরিচয় ঘটে এবং বল্গাহীন অশ্ব-শকট থেকে অন্য যাত্রীদের রক্ষার বীরত্বে ও কা তিউসহ সঙ্গীনিদের নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার সহমর্মিতার কল্যাণে নিমন্ত্রণ ঘটে আফতাবের মানসীর নৈকট্যলাভের। কা তিউ আরও অনেকের প্রেমপ্রস্তাব পেলেও কেউ তাকে সে-রকম আকর্ষণ করতে পারে নি; যেমনটি আফতাব তার হৃদয়ে স্থানলাভ করেছিল। তারপর থেকেই আফতাবের যোগাযোগ শুরু কা তিউদের রোগে-সুখে। প্রেমপর্বের অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে আফতাব শেষপর্যন্ত কা তিউদের অন্তর জয়ের মাধ্যমে তার কাক্সিক্ষত ইচ্ছার বাস্তবায়ন করে এবং কা তিউদের সম্পূর্ণ পরিবারকে ইসলামে দীক্ষিত করে তার (কা তিউ) সঙ্গে পরিণয়ে আবদ্ধ হয়। কা তিউ নতুন নাম ধারণ করে আয়েশা। মূলগল্প এটি হলেও উপন্যাসের সমগ্র অঙ্গেই আছে আবেগপূর্ণ প্রেম ও মানবিকতার উচ্ছ¡াস। ঔপন্যাসিকের চিন্তার উর্বর প্রকাশ এবং ভাষাশৈলী উপন্যাসটিকে করেছে সুখপাঠ্য ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।
প্রতিবেশী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী, রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিধন্য শিলং বাঙালির নস্টালজিয়ায় অনন্য। হাল আমলে এই শহরের আধুনিক চেহারা সকলের নজর কাড়ে। আশেপাশে অসংখ্য মনকাড়া জায়গা দৃশ্যমান। শিলংয়ে বছরভর মনোরম আবহাওয়ার দেখা পাওয়া যায়। তবে এপ্রিল ও অক্টোবর মাস বেড়াতে যাওয়ার আদর্শ মৌসুম। গ্রীষ্মে হাল্কা উলের পোশাক ও শীতে ভারি গরম জামার ব্যবস্থা রাখতে হয়। এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত যখন-তখনই হতে পারে। তাই ছাতা আর বর্ষাতির বন্দোবস্তও রাখা চাই। এই অঞ্চলে বিভিন্ন উপজাতির বসবাস; তাই উৎসবেরও আধিক্য। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা মহাসমারোহে পালন করে বড়োদিন, গুড ফ্রাইডে, ইস্টার সানডে ইত্যাদি। ইংরেজি নববর্ষেও আনন্দমুখর হয়ে ওঠে পাহাড়িরা। খাসি উপজাতির মানুষ পালন করেন শাদ সুকমিনসিয়েম পরব। কা পমব্র্যাং নংক্রেম অথবা নংক্রেম নৃত্যও অতি প্রসিদ্ধ খাসি উৎসব। জয়ন্তীয়া উপজাতীয়দের পার্বণ বেহদিয়েংখলাম পালিত হয় প্রতি বছর জুলাই মাসে। গারোরা পালন করেন ওয়াংগালা উৎসব যা আদতে সূর্যের উপাসনা।
আমরা ২৭শে মার্চ ২০১৫ ভারতের মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করি। সকাল নয়টায় সিলেট নগরীর আম্বরখানাস্থ আলতাফ ভিলা থেকে প্রাইভেট গাড়ি তামাবিলের পথে রওয়ানা হয়। আমার সফরসঙ্গী ছিলেন উপমহাদেশের খ্যাতনামা রাজনীতিবিদ, আসাম মুসলিম লীগের অন্যতম সংগঠক, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর অত্যন্ত ঘনিষ্টজন, আসাম সরকারের সাবেক মন্ত্রী আবদুল মতিন চৌধুরীর পুত্র জুনেদ আহমদ চৌধুরী এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী ও সংগঠক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার।
সিলেট শহর থেকে শাহী ঈদগাহ হয়ে এমসি কলেজের সম্মুখে জৈন্তা সারিঘাট পাড়ি দিয়ে আমরা তিন জন পৌঁছে যাই সীমান্তে যেখানে তামাবিল ইমিগ্রেশন অফিস। ভারতের পাহাড়গুলোর ঠিক পাদদেশে বাংলাদেশের এই প্রান্তে সমতলভূমিতে ইমিগ্রেশন-কাস্টম অফিস। সীমান্ত পার হলেই জায়গাটার নাম ডাউকি। ইমিগ্রেশন-কাস্টমের আনুষ্ঠানিকতা সেরে আমরা একটি প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে শিলংয়ের পথে রওয়ানা হই। আমাদের সফরসঙ্গী ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার তার ব্যক্তিগত কাজের জন্য ডাউকি বাজার থেকে আমাদের সঙ্গে চা-পান করে আবার সিলেট শহরে ফিরে আসেন। আমি আর জুনেদ আহমদ চৌধুরী দুই জন একসঙ্গে শিলংয়ের পথে রওয়ানা হই।
ডাউকি বাজার থেকে শিলংয়ের পথে পাহাড়চূড়ার আঁকাবাঁকা পথে চলতে চলতে মনে হলো এই দূরত্ব আরও বেশি হলেই বোধহয় ভালো ছিল। চলার পথে আমাদের সঙ্গ দেয় চারপাশের অসাধারণ সুন্দর সব পাহাড়-পর্বত। কখনও আমাদের চারপাশ থেকে ঢেকে দেয় কালো মেঘ। প্রকৃতির মধ্যে নিজেকে মনে হলো বিশ্বভ্রমণে বেরিয়ে পড়া এক যাযাবর। কখনও-বা পাহাড়ের ঢালে সরু রাস্তার আরেক পাশেই গভীর খাদ। এ এক ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর দৃশ্য’।
মেঘালয় উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি রাজ্য। এই রাজ্যের উত্তর ও পূর্বদিকে অসম (আসাম) রাজ্য এবং দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত। মেঘালয়ের রাজধানী শিলং। মেঘালয় হচ্ছে মেঘেদের বাড়ি। কবিদের অনুপ্রেরণার স্থল আর চিত্রকরদের এক বিরাট ক্যানভাস এই রাজ্য। এটি বেড়ানোর জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় জায়গা। ২১শে জানুয়ারি ১৯৭২ এটিকে রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। মেঘালয় ছবির মতো সুন্দর একটি রাজ্য। কালচার ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ, মেঘের সমাবেশ, জীবনের কিছু রঙিন মুহূর্ত কাটানোর জন্য এটি এক উপযুক্ত জায়গা। মেঘালয় সেভেন সিস্টার খ্যাত উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে অন্যতম একটি সুন্দর রাজ্য। মেঘালয় পাঁচটি প্রশাসনিক জেলায় ভাগ হয়েছেÑ জয়িন্তা পাহাড়, পূর্ব এবং পশ্চিম গারো পাহাড়, পূর্ব এবং পশ্চিম খাসি পাহাড়। শিলং উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার একটি শহর ও পৌরসভা। এটি মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী। শিলং বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে এবং ভূটান-ভারত সীমান্তের প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এটি খাসি পাহাড়ে প্রায় ১৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এখানে সারা বছর প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। শিলংয়ে রয়েছে পাইন অরণ্য, জলপ্রপাত এবং পার্বত্য জলধারার সমারোহ। এক সময় এটি ‘প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড’ নামে পরিচিত ছিল। ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে এক ভূমিকম্পে এই শহরটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং এরপর এটিকে পুনরায় গড়ে তোলা হয়।
ভারতের স্বাধীনতার আগে ব্রিটিশ পরিবারদের জন্য এটি একটি জনপ্রিয় পাহাড়ি রিজর্ট ছিল। এখানে এখনও প্রচুর ব্রিটিশ ধাঁচে নির্মিত কান্ট্রিহাউজ দেখতে পাওয়া যায়। শিলংয়ে আশপাশের এলাকায় উৎপাদিত কমলা, আনারস, মধু, তুলা, আলু এবং বিভিন্ন জাতের সবজি ইত্যাদি কেনাবেচা হয়। এখানে মাইকা, জিপসাম এবং কয়লার মজুদ থাকার সম্ভাবনা আছে; তবে এগুলো এখনও তেমন করে উত্তোলিত হয়নি। এখানে তেমন কোনো বড়ো শিল্পকারখানা নেই। কিন্তু বনাঞ্চল উজাড়ের প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভারতের ২০০১ খ্রিস্টাব্দের আদম শুমারি অনুসারে শিলং শহরের জনসংখ্যা হলো ১৩২,৮৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫০% এবং নারী ৫০%। এখানে স্বাক্ষরতার হার ৮০%। পুরুষদের মধ্যে স্বাক্ষরতার হার ৮৩% এবং নারীদের মধ্যে এই হার ৭৮%। সারা ভারতের স্বাক্ষরতার হার ৫৯.৫%; তার চাইতে শিলংয়ের স্বাক্ষরতার হার অনেক বেশি। এই শহরের জনসংখ্যার ১১% হলো ৬ বছর বা তার কম বয়সী।
শিলংয়ে খাবার জায়গা দেদার। খাবারের রকমফেরও অঢেল। বার্গার, পিৎজা, মিল্কশেক, স্যান্ডউইচের দোকান রাস্তার মোড়ে হরহামেশাই পাওয়া যায়। চীনের খাবার ও তিব্বতি মোমো-থুকপাও পাওয়া যায় বেশ কিছু রেস্তরাঁয়। স্থানীয় খাবারের দোকান তেমন না থাকায় খোঁজ নিতে হয় ট্যুরিস্ট লজের ক্যান্টিনে। ভারতের এই অংশে সাধারণত আমিষ জাতীয় খাদ্যের প্রচলন বেশি। নিরামিষ খাবারের সন্ধান পাওয়া যাবে মারওয়াড়ি ভোজনালয়ে এবং শিলংয়ের কিছু বাঙালি রেস্তরাঁয়।
ডাউকি থেকে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা রাস্তা শিলং। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে শিলংয়ের উচ্চতা সাড়ে চার হাজার ফুট। গাড়িতে বসে বাইরে তাকিয়ে দেখছি পাহাড়ের কোল ঘেঁষে মনকাড়া পাইন গাছের সারি। মাঝে মাঝে বড়ো বড়ো ড্রেন। গাড়ি থেকে নীচের দিকে তাকালেই মন একেবারে ঠাণ্ডা হয়ে যায়। স্যুৎ করে চোখ চলে যায় কয়েক হাজার ফুট নীচের গহŸরে। আর শরীরটা তখন মৃত্যুর হিম-শীতল পরশ অনুভব করে। আমি কেবল পাহাড়ের ঢালুতে কিংবা নিবিড় অরণ্যের মাঝে নাগা বিদ্রোহীদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করি। কয়েক পরতে পাহাড়গুলো ঘুমিয়ে আছে হিমালয়ের সীমানা পর্যন্ত। মনে হচ্ছে নজরুলের সেই বিখ্যাত গানের কলিÑ‘আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ঐ’... ‘ঐ পাহাড়ের ঝর্ণা আমি ঘরে নহি রই গো’...।
দেখতে দেখতে আমরা শিলংয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম। বেলা সাড়ে তিনটায় আমরা এসে পৌঁছুলাম শিলং শহরের ধানখেতি পয়েন্ট সংলগ্ন হোটেল এলডোরাডোয়। বাংলাদেশ থেকে ফোনে এই গেস্ট হাউসের ডাবল বেডের রুম বুকিং দিয়ে রেখেছিলেন জুনেদ আহমদ চৌধুরী। গেস্ট হাউসের স্টাফরা জুনেদ চৌধুরীর পূর্বপরিচিত। তাই তারা কালবিলম্ব না করে দ্রুত বেরিয়ে এসে গাড়ি থেকে আমাদের জিনিসপত্রগুলো নিয়ে গেল হোটেল রুমে। রুমে গিয়ে আমরা হাত মুখ ধুয়ে শিলং শহরে বেরিয়ে পড়ার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করি। রুমে পৌঁছার পর আমাদের দেখতে আসেন শিলংয়ের স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ববি দেব ও তার স্ত্রী। ববি দেবের মায়ের জন্য রান্না করা শুঁটকির প্যাকেট পাঠিয়েছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক, সিলেটের প্রাচীন পত্রিকা যুগভেরীর সম্পাদক আমীনূর রশিদ চৌধুরীর একমাত্র কন্যা ফাহমিনা নাহাশ লিপি। ফাহমিদা ছোটোবেলা শিলংয়ে পড়াশোনা করেছেন। ববি দেবের পরিবারে সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তারা (ববি দেব ও তার স্ত্রী) আমাদেরকে গেস্ট হাউস থেকে তাদের কারে করে পুলিশ বাজারে পৌঁছে দেন। শহরের ব্যস্ততম এলাকা পুলিশ বাজার; দেখতে অনেকটা সিলেটের বন্দরবাজারের মতো। বাস, ট্যাক্সি, গাড়ির ভিড়ে একাকার। ব্যাস্ত শিলংয়ে দলে দলে মানুষ নতুন পোশাক পরে বেরিয়েছে। অবস্থা এমনই যে পার্কিংয়ের জায়গা পাওয়া দায়। যেকোনো উৎসবের বা সপ্তাহ শেষের সন্ধ্যায় পার্ক স্ট্রিটের রেস্তোরাঁর বাইরে দাঁড়ানো অপেক্ষমান জনতা অতি পরিচিত দৃশ্য। সেই দৃশ্যেরই হুবহু প্রতিলিপি দেখলাম মহানবমীর পুলিশ বাজারে। যে রেস্তোরাঁতেই যাই, ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই। কয়েক ঘণ্টার যাত্রা শেষে পেটে তখন ছুচো ডন দিচ্ছে। শেষে রাস্তার পাশে একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাবারের অর্ডার দেওয়া হলো। খাবার আসতে দেরি হচ্ছিল। তাই আমরা কাচের দেওয়ালের ওপাশে মহানবমীর দুপুরের শিলংকে দেখতে মনোযোগী হলাম।
উত্তর-পূর্ব ভারতের রানি হিসেবে এই শিলং শহর পরিচিত। দেখলাম বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ছুটে এসেছেন। পাশাপাশি পাহাড়ি ঐতিহ্যের সাজও নজরে পড়ছিল। হলফ করে বলতে পারি, বিখ্যাত ব্র্যান্ডের মধ্যে সেই সাজ শিলংয়ের ফ্যাশন কালচারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। ঠিক যেন পূর্ব-পশ্চিমের ফ্যাশনের মিশেল। মিশেল ছিল ভাষাতেও। জনস্রোত থেকে যেমন ভেসে আসছিল টুকরো টুকরো বাংলা শব্দ; তেমনই খাসি, গারো শব্দও ছুঁয়ে যাচ্ছিল কর্ণকুহর। সেখান থেকে খাবার শেষ করে আমাদের পূর্বপরিচিত শুভাকাক্সক্ষী বরেণ্য শিক্ষাবিদ নর্থ ইস্টার্ন হিল ইউনিভার্সিটি শিলং এবং আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. জয়ন্ত ভূষণ ভট্টাচার্যের বাসা জেল রোড রওয়ানা হলাম। ফোনে তার সঙ্গে আগে যোগাযোগ হয়েছিল; তাই তিনি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ড. জয়ন্ত ভূষণ ভট্টাচার্র্যের পূর্বপুরুষ বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার রাজনগরের বাসিন্দা ছিলেন। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে আমার একটি গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি সিলেটে এসেছিলেন। তখন মৌলভীবাজার গিয়ে তার পূর্বপুরুষের ভিটেমাটিও দেখে যান। জয়ন্ত ভূষণ ভট্টাচার্য আমাদের আপ্যায়ন করান এবং দীর্ঘ আলাপচারিতায় বাংলাদেশের খোঁজখবর নেন। তিনি তার কয়েকটি গ্রন্থও আমাদের উপহার দেন। ড. জয়ন্ত ভূষণ ভট্টাচার্যের বাসা থেকে বের হয়ে দেখা হলো নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন শিলং শাখার সেক্রেটারি শ্রীমতি দেবী গোস্বামী দের সঙ্গে। তিনি আমাদেরকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক ড. নবনিপা ভট্টাচার্য, যিনি সিলেটি ভাষা ও সংস্কৃতির উপর থিসিস করেছিলেন, তার পিতা ঋষি ভট্টাচার্যের ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত আসাম-টাইপ বাড়ি দেখাতে নিয়ে যান। তার পর দেবী তার বোনের বাসায়ও নিয়ে যান। বাসাগুলো জেল রোডের পূঁজামণ্ডবের কাছে এবং তখন সেখানে পূঁজাঅর্চনা চলছিল। দেবী গোস্বামী আমাদের পূঁজামণ্ডব দেখাতেও নিয়ে গেলেন। সেখান থেকে আমরা গ্রেস হোটেলে এসে আপ্যায়ন করলাম। শিলং পৌঁছার পর বার বার আমাদের খোঁজখবর নিয়েছেন ইন্দো-বাংলা মৈত্রী শিলচরের সেক্রেটারি শুভদ্বীপ দত্ত মলয়। রাত্রে পুলিশ বাজার থেকে আমরা প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে ধানখেতিতে আমাদের নির্ধারিত গেস্ট হাউসে এসে খাবার গ্রহণের পর ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরদিন ২৮ মার্চ ভোরে আমরা এলডোরাডো হোটেলের কাছেই জিন্নাত আলী ও তার স্বামী প্রাক্তন টি-প্লান্টার পান্না আলীর বাসা লা চেমেরিতে বেড়াতে গেলাম। জুনেদ আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে ঢাকা থেকে তার (জিন্নাত আলী) কাজিনের দেওয়া উপহারও হস্তান্তর করলাম। এলডোরাডো লরেটো বিহারের ঠিক নীচে এবং সেন্ট এডমুন্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে অবস্থিত। এর কাছে রয়েছে শিলং ক্যাথেড্রাল, ডন বসকো টেকনিক্যাল স্কুল, সেন্ট এন্থনি কলেজ এবং সেইন্ট মেরি গার্লস স্কুল। প্রত্যেকটিই খ্রিস্টান মিশনারিজ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ১০০ বছরেরও পুরোনো প্রতিষ্ঠান।
একই দিন দুপুরে আমরা নর্থ ইস্ট হিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের শিক্ষক ড. বিনায়ক দত্তের সঙ্গে দেখা করি। তার সঙ্গে আমাদের আলোচনা এবং একটি নীরব ক্যাফেতে চা পানে অংশ নেই। ড. বিনায়কের পূর্বপুরুষ ছিলেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণের বিখ্যাত কালিসদয় চৌধুরীর বংশধর। পরে তিনি (বিনায়ক দত্ত) জুনেদ আহমদ চৌধুরীকে নিয়ে যান ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ফেব্র“য়ারিতে অনুষ্ঠেয় সেন্ট এডমুন্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রথম সাধারণ সভায়। এ সময় আমি রুমে গিয়ে মোবাইলে শিলচরের আমার ঘনিষ্ঠ শুভাকাক্সক্ষী আবিদ রাজা মজুমদার, অ্যাডভোকেট মোজাম্মিল আলি লস্কর, অ্যাডভোকেট ইমাদউদ্দিন বুলবুল, লোকসাহিত্যিক মহবুবুল বারী, সাংবাদিক মিলন উদ্দিন লস্কর, ড. বেলা দাস, ড. বরুণ জ্যোতি চৌধুরী, ড. অর্জুন দেব শর্ম্মা প্রমুখের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমরা এলডোরাডোয় লাঞ্চ সারি। বিকেলে শিলং টাইমসের সম্পাদক, আসাম সরকারের সাবেক এমএলএ ও শিক্ষামন্ত্রী মানস চৌধুরীর রিলবং বাসায় দেখা করতে যাই। তাদের পূর্বপুরুষের বাড়ি সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলায় ছিল। মানস চৌধুরী তার বাবার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সম্মাননা গ্রহণ করেছিলেন। রিলবং একটি সিলেটিদের পাড়া, যারা ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের পরেও সেখানে গিয়েছিলেন। আমরা সেখানে নেতাজি লাইব্রেরি ও ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত প্রাইমারি স্কুল পরিদর্শন করি। সেখানে এক বাঙালি জমিদারের হলিডে বাংলো জিতভূমি আছে; যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রায়ই অবস্থান করতেন। আরও দেখা হয় আসামের সাবেক মন্ত্রী আবদুল মতিন চৌধুরীর কেঞ্চ ট্রেসে প্রতিষ্ঠিত সবুজ বাংলো যেখানে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে সিলেট ও আসাম ভ্রমণকালে মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ অবস্থান করেছিলেন। আমার সফরসঙ্গী জুনেদ আহমদ চৌধুরীর শৈশব কেটেছিল এই বাড়িতে। রাস্তা চলতে চলতে তিনি সেই স্মৃতি রোমন্থন করছিলেন। আমরা কেঞ্চ ট্রেসে প্রফেসর লরিস মিরথং-এর সঙ্গে তার কটেজে দেখা করতে যাই। সন্ধ্যায় যাই লাবান এলাকায় মেরিবেল মিরথং-এর সঙ্গে দেখা করতে। রাতে মরহুম আতাউল হকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করি লাবানের কুইনি স্কুলে। এই পরিবার ঊনিশ সালের প্রথম দিকে সেখানকার প্রথম সিলেটি পরিবার। আবদুল মালিক চৌধুরী ও অন্যান্য ব্যাচেলররা সেখানে মেসে থাকতেন। আতাউল হক পূর্বপুরুষ ছিলেন মৌলভীবাজারের বাসিন্দা এবং তিনি বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর আত্মীয়। আতাউল হকের দাদার নামে সেখানকার রোডের নাম আছে আব্দুল হাকিম রোড। শিবসাগরের মিসেস হক স্কুলটি পরিচালনা করেন। লাবান মসজিদ মসজিদ রোডে অবস্থিত। রাতে আমরা সেন্ট এডমুন্ড কলেজের ইংরেজির শিক্ষক ও স্থানীয় রাজনীতিবিদ ম্যালকম তেরিয়াং ও তার স্ত্রী লেরিনা মিরথং-এর সঙ্গে দেখা করি। সেখানে দীর্ঘ সময় পারিবারিক কথাবার্তা ও আড্ডা হয়। উল্লেখ্য, খাসি পুরুষ ও মহিলারা বিবাহের পরও তাদের মায়ের ডাকনাম ধারণ করেন। রাতের আপ্যায়নের পরে ম্যালকম তার গাড়িতে করে আমাদেরকে এলডোরাডোতে পৌঁছে দেন।
২৯ মার্চ সকালে আমরা হেঁটে লাইথামুখরায় অবস্থিত সেন্ট এডমুন্ড ক্যাম্পাসে যাই। এই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন আমার সফরসঙ্গী জুনেদ আহমদ চৌধুরী। এর পর ব্যবসায়ী ব্যারিস মিরথং-এর সঙ্গে দেখা করি। আবার পুলিশ বাজার সিটি সেন্টারে চলে আসি এবং প্রসিদ্ধ ফটোগ্রাফার আহমেদ হোসাইনের সঙ্গে দেখা করি। তিনি কারুজ ফটোস্টুডিও-এর সত্ত¡াধিকারী। তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে মেঘালয় সীমান্তে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যের জন্য স্বাধীনতা সম্মাননা গ্রহণ করেছিলেন। শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের শিলংয়ে কবর দিতে তিনি সহযোগিতা করেছিলেন। তার পরিবার বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে কলকাতা থেকে এখানে এসেছিল এবং গৌহাটি ও শিলংয়ের মধ্যে ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন করেছিল। আমরা এখানে আপ্যায়ন ও আলাপচারিতা শেষ করে সেন্ট এডমুন্ড কলেজের আইটি শিক্ষক সাজিদ নাগি সঙ্গে দেখা করতে যাই। তার পরিবার পুলিশ বাজারের মেগনাম হোটেলের সত্ত¡াধিকারী। তারা ঊনিশ শতকের প্রথম দিকে পাঞ্জাব থেকে শিলংয়ে আসেন এবং মটর ওয়ার্কশপ স্থাপন করেন। তিনি সেন্ট এডমুন্ড-এর শতবর্ষ উদ্যাপন কমিটির একজন সদস্য। জুনেদ আহমদ চৌধুরী তার সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করেন। সেখান থেকে আমরা লাবানের কুইনি স্কুলে নয় বছরের বালক আমিনুল হকের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেই। সেখানে আসামের অনেক মুসলিম পরিবার অংশগ্রহণ করে।
একই দিন আমরা মিস্টার খংলাম ও মিসেস নরিন্দা খংলাম এবং তাদের পরিবারকে দেখতে যাই। মিসেস নরিন্দা খংলাম শত বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠান সরকারি পাইনমাউন্ট স্কুলের একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল হেডমিস্ট্রেস। এই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন আমীনূর রশিদ চৌধুরীর নাতনি রাইয়ান নাহাশ। মিস্টার খংলাম টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। এখান থেকে আমরা স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার অবসরপ্রাপ্ত অফিসার ধ্র“ব চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করি। তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের সিলেট জেলার বালাগঞ্জের করুয়ার অধিবাসী ছিলেন। তিনি তার পুলিশ বাজারের নিকটে কুইনটন রোডের বাসায় গেস্ট হাউজ নির্মাণ করছেন এবং বাংলাদেশি অতিথিদের আগমনের প্রত্যাশা করছেন। এখান থেকে বের হয়ে আমরা কিছু কেনাকাটা সারি এবং আমাদের নির্ধারিত এলডোরাডো হোটেলে চলে যাই।
পরদিন ৩০ মার্চ আমাদের নিজস্ব গন্তব্যে ফেরার পালা। সকাল সাড়ে আটটায় আমরা ডাউকির উদ্দেশে টেক্সি করে শিলং ত্যাগ করি। আমরা হোটেল থেকে বের হয়ে রাস্তায় থামি এবং ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত শিলংয়ের পাইনউড হোটেলে চা পান করি। এখানে দাঁড়িয়ে কিছু সময় বাগান ও লেক সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করি। আসার পথে মেঘালয়ের রাজধানী শিলং শহরের লাবান এলাকার গ্যারিসন গ্রাউন্ড সংলগ্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ভারতের প্রথম কাচের মসজিদ বা গ্লাস মস্ক দেখতে যাই। এটি শুধু ভারতের নয় এশিয়ারও প্রথম কাচের মসজিদ। এর নাম দেওয়া হয়েছে মদিনা মসজিদ। এটি একটি স্থাপত্য বিস্ময়। মসজিদটির বিশেষত্ব হলো এটির গম্বুজ ও মিনার তৈরি হয়েছে কাচ দিয়ে। চারতলা বিশিষ্ট মসজিদটিতে একসঙ্গে চার হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারে। মসজিদটিতে রয়েছে ইসলামি শিক্ষার জন্য ‘মারকায’, অনাথ শিশুদের আশ্রয় ‘মারহাবা’ এবং তুলনামূলক ধর্ম নিয়ে পড়াশোনার জন্য সুবিশাল লাইব্রেরি। এছাড়া নারীদের নামাজ আদায়েরও সুব্যবস্থা আছে মসজিদটিতে। আমাদের টেক্সির ড্রাইভার এবং মালিক হলেন শিলচরের উদারবন্দ এলাকার আব্দুল হক লসকর। আমরা তার সঙ্গে আমরা আবার ডাউকি বর্ডারে এসে ইমিগ্রেশন কাজ শেষ করি। এর পর গাড়ি নিয়ে আবার সিলেট শহরে ফিরে আসি।
শিলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এক অনুপম শহর। এর সঙ্গে এক সময় সিলেটের গভীর সম্পর্ক ছিল। এখনও অনেক আছেন যাদের পূর্বপুরুষ সিলেট থেকে ওখানে গিয়েছিলেন। সাংস্কৃতি ঐতিহ্যেও দুই শহরের মিল বিস্তর। আমাদের যাত্রার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল সিলেটের খ্যাতিমান দুই সহোদর ঔপন্যাসিক আবদুল মালিক চৌধুরী ও রাজনীতিবিদ আবদুল মতিন চৌধুরীর স্মৃতিধন্য শিলং শহরের মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তাদের স্মৃতিময় স্থানগুলো পরিদর্শন করা। আমরা এই সফরে আনেক না দেখা স্থান দেখেছি এবং অনেক না শোনা কথা শুনেছি। নয়নাভিরাম শিলং আমাদের চোখকে প্রশান্তি দিয়েছে এবং আমাদের জ্ঞানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। এ স্মৃতি অনেকদিন জ্বাজল্যমান থাকবে। শিলং শহর আবারও কাছে টেনে নিবে এ প্রত্যাশাই আমাদের।
লেখক : প্রাবন্ধিক, প্রকাশক ও সংগঠক


   অন্য পত্রিকার সংবাদ  অভিজ্ঞতা  আইন-অপরাধ  আত্মজীবনি  আলোকিত মুখ  ইসলাম ও জীবন  ঈদ কেনাকাটা  উপন্যাস  এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল  কবিতা  খেলাধুলা  গল্প  ছড়া  দিবস  দূর্ঘটনা  নির্বাচন  প্রকৃতি পরিবেশ  প্রবাস  প্রশাসন  বিবিধ  বিশ্ববিদ্যালয়  ব্যক্তিত্ব  ব্যবসা-বাণিজ্য  মনের জানালা  মিডিয়া ওয়াচ  মুক্তিযুদ্ধ  যে কথা হয়নি বলা  রাজনীতি  শিক্ষা  সমসাময়ীক বিষয়  সমসাময়ীক লেখা  সমৃদ্ধ বাংলাদেশ  সাইক্লিং  সাক্ষাৎকার  সাফল্য  সার্ভিস ক্লাব  সাহিত্য-সংস্কৃতি  সিটি কর্পোরেশন  স্বাস্থ্য  স্মৃতি  হ য ব র ল  হরতাল-অবরোধ